দেবী দুগ্গা মত্তে আসছেন , এদিকে শরতের আকাশ আর মহানগরীর বাতাস এক্কেবারে ডেঙ্গি জ্বরে ঝালাপালা। তাই পন্ডিতেরা অনেক ঠাউরে বললেন, দেবী এবারে মশায় চেপে আসছেন! নন্দহাটের পত্তিকেতে সেই খবর ছাপতেই ওদিকে জ্বরের ঘোরে গোসাঁইপুরের বেঁটে বাউন ফচাৎ করে জিজ্ঞেস করে বসলো, ” দেবী তো এমনিতেই গঙ্গাপাড়ে উচ্চতলে বিরাজে তা নিচে নামতে লিফ্ট করলেই তো হয়, মশায় ভর করা কেন?” অমনি হারেরেরেরে বলে একদল সিন্ডিকেট বললো,”নামনামী হবে যখন সিঁড়ি নেই কেন? বিদ্যুৎখেকো লিফ্ট বানিয়ে চুন সুড়কি ফাঁকি দেওয়া চলতো না, চলছে না, চলবে না ! ” গঙ্গার ধাড়ে হৈ হল্লা শুনতে পেয়ে প্রাজ্ঞ ও প্রাক্তন বিরোধী নেতারা অমনি সাদা ধুতি গুটিয়ে মঈনুদ্দিন ভবনের ছাতের ওপর সটান ছুটে গিয়ে সিঁড়ি ভাঙার অঙ্ক কষতে লাগলো এবং তাদের অমোঘ হিসেব বাতলে দিলো যে এই কঠোর লিফ্ট বনাম সিন্ডিকেটের যুদ্ধে আখেরে কে জিতবে আর কে হারবে? ল্যাংটো ছাদে চড়া রোদে এসি বর্জিত আবহাওয়ায় পাওয়া গেলো গোড়ার হিসেবে বেজায় গড়মিল। তাই পলিটবুরিও প্রলয়কাল বুঝে ধুতির খুটে লুকিয়ে রাখা মুড়ি বাদাম তেলোর মাঝে নিয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে চশমা পরিহিত কমরেড তার দাড়িওয়ালা কাউন্টারপার্টকে জিজ্ঞেস করলো ” হ্যাগো বিপিন, ঝাঁপালে পরে, পড়েই মরবো না মরেই পড়বো ?”
তা কমরেডের পড়ে মরা কিংবা মরে পড়া কোনোটাই আর হয়ে ওঠেনি, আর তাতে কেউ সেরকম মাথাও ঘামায়না। মাঝখান থেকে বেকুব সিবিআই কে পুচুমনু বলে জজ হাকিমের পোঁদে চুমু খেয়ে চোদন মিত্র এখন জেলের বাইরে।শোষক চুদিপ্তের চুরির টাকায় এককালে যে তার চ্যালা চামুন্ডা নিয়ে চুইচোটেলে প্রচুর বিলিতি চুল্লু চুষে মেরে দিতো শেষমেশ এখন সে এলগিন রোডে হোটেলে বসে দেবী দুগ্গার চরণামৃত না পেয়ে বেজায় চিন্তিত। পিজি থাকতে হোটেল, বহুত না-ইনসাফী ভাই ! সিঙ্গুরের চাষীরা জানলে কি বলবে? অসুস্থ দাদাকে সিস্টারের হাতে বয়ে আনা স্যালাইনের বোতলে দিশি বাংলুর ডোস না দিয়ে বেয়াড়ার হাতে হুইস্কির গেলাস, পোবল চকান্ত। এবার আসি এদিকপানে, দিল্লিতে চিকুনগুনিয়াতে খালপাড় থুড়ি যমুনাপাড়ের বস্তিবাসীরা যখন একে একে টুপ্ টাপ করে জ্বরের ঘায় ‘রাম রাম সত্য ‘ হয়ে যাচ্ছে তখন দেশের প্রিমিয়ার নরেন মোদী নিজের জম্মদিনে নিজেই বাড়িতে বসে ওবিসি বেবি কে কোলে তুলে নিয়ে দাঁত ক্যালাচ্ছে আর তখন রাজধানীর মুখ্যমন্ত্রী ব্যাঙ্গালোরে বসে আলজিভ কাটিয়ে নিজের কাশি সারাচ্ছেন। মন থেকে চাইবো অরবিন্দের কাশি ঠিকঠাক সারুক যাতে আগামী দিনে নির্বাচনপ্রাক্কালে ‘উড়তা পাঞ্জাবে’ ওর কথাগুলো বার্তার মতো করে মানুষের কাছে পৌঁছয়। যদিও অরবিন্দের জিভের প্রব্লেম সারলেও সমগ্র উত্তর ভারতীয়দের মানসিকতার সাথে সাথে অন্য কোনো অঙ্গের সমস্যা সারবে কিনা সেটা কেউ হলফ করে বলতে পারে না !
গঙ্গাপাড়ের দেবীর মনে কি আছে তা মহাদেব কেন রাষ্ট্রপতি বা তার খাস সচিবও জানেননা। আর জেনেও বা কি হবে, নতুন কোনো ব্রিজ বা কারখানা কি খুলবে তাতে? তার চেয়েও বড় কথা এই সৎসন্তানসম সিন্ডিকেটিয়ারদের স্বর্গে ঠাইঁ কি করা যাবে তাতে? আলবাত যাবে , ওখানেও তো শুনেছি বিপ্লব বিদ্রোহ ভাঙ্গচুর হয় ও তারপরে চুনকাম প্লাস্টারও হয়ে থাকে। কিংবা শুঁটকো নারদের পরামর্শে মুটি মেনকা বয়স ভুলে ধাঁই ধাঁই করে ইন্দ্রের সভায় নাচার পরে ডান্স ফ্লোরে ফাটল ধরলে বেচারা বুড়ো বিশ্বকর্মাকে হাঁক ডাক পেড়ে সুক্ষ মেরামতির জন্য টেন্ডার আনতে হয়। অতয়েব স্বর্গ মর্ত কিংবা পাতাল, সিন্ডিকেট সর্বত্র বিরাজময় ! এতো সেনসিটিভ হলে তো আর রাজ্য চলে না , রাষ্ট্র তো অনেক দূরের মোয়া। তবে আবার বলছি ওই বেঁটে বামুনটাকে দেখতে পেলেই আমাকে খবর দেবেন। কি দরকার ছিল তোর্ ওই লিফ্ট আর ইঁটের মধ্যে বাওয়াল বাঁধিয়ে দিয়ে আঙ্গুল চুষে চুষে মজা দেখতে? আবার দেখুন কাশ্মীর ,উরি বাবা রে! দেবীপক্ষ পড়ার আগেই উরি তে মাইরি ৪ জন সুইসাইড অসুর মিলে ১৭ জন দৈব জওয়ানকে উড়িয়ে দিলো ? এর জন্য কে দায়ী?আমি বলি চীনের কৈলাসে বসা দেবী দুগ্গা দায়ী। ওখানে থাকলে তুমি সালা চিনে পাসপোর্টে আছো বলে কোনো পতিবাদ করছো না ওদিকে রক্তে রাঙ্গানো অক্টোবর এলেই পতি কে বাদ দিয়ে তুমি সেই সুদূর কৈলাস থেকে বাংলায় আসার তোড়জোড় করছো? বহুত বেইমানি, পুরা গঙ্গাপাড়ওয়ালা দেবীর মতো ! একদম লিফ্ট সিঁড়ির ধান্দাবাজি ! আসলে আমি দেবী দেবতাদের নিয়ে একটু লিখতে ভয় পাই, মুখে বরফট্টাই মারলেও আদপে তো বহুত ভীতু ! আমি কাউকে ঘাঁটাই না , সে শুক্কুরবারে স্যন্তোষীমাতা হোক কি সোমবারে গঙ্গাপাড়ের মাতা। তবু শেষ করার আগে ফের আসি দেবী দুগ্গার গপ্পে….লিখি আগমনীর আনন্দে , নিজের ভাষায় মুক্ত ছন্দে…
মাইয়া দুখান পোলাও দুখান, গাঁজাখোর মোর পতি
কৈলাস থেকে অটাম ব্রেকে বাংলায় আইল সতী।
নামতে মর্তে নেই কো বাহন , সিংহীর ডেঙ্গি হইলো
ইঁদুর ময়ূর হাঁস প্যাঁচাগুলা ওলা উবেরে খাইলো
যজ্ঞে ঢালা হয় পুষ্টির দুধ , হোমে গুষ্টির ঘৃত
সন্তানহারা মায়ে খায় যে নোংরা চরণ অমৃত
রোল বিরিয়ানি সন্তানে খাক এটাই যে উৎসব
ওসব খাবার হজম হলেই আবার হোক না ‘কলরব’
মহালয়া রেডিয়োয় বাজে, শোনায় আকাশবাণী
অক্টবরের বিপ্লবীদের হাড়ে হাড়ে জানি
ঢ্যামনামোতে হস্তসিদ্ধ মুখে হাহাকার?
ষষ্ঠী থেকে দশমী অব্দি, উমা তুমি কার?
বেতাল সময় অকালবোধন, থু ফ্যালাও সন্ধিপুজো,
বাংলাদেশে চির অকাল তাই চিনেই বোধন খুঁজো…

অংনাহছিঃষ্টি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments