অগ্রহায়ণের এই শুকনো ধুলো ওঠা পথে পড়ে আছে আলগোছে পড়ে যাওয়া হ্লুদ ধানের শিষ, ফাঁকা মাঠ জুড়ে হু হু শূন্যতা, সবুজের অপেক্ষাও হতে পারে যদিও। মাঠের একেবারে মাঝটায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা  ক্লান্ত তালগাছটাও চুপ, তারই কিছু দূরে অতসী ফুলের ঝোপ টা ঘিরে কিছু প্রজাপতি ইতস্তত উড়ে বেড়াচ্ছে, আর মাঠের আলের ওপর পড়ে থাকা ধানের শীষ থেকে ধান খুঁটে খেয়ে পাখিগুলো মহানন্দে পাক খাচ্ছে তো খাচ্ছেই……
খুব ভালো করে দেখলে বোঝা যায় এই মাঝবিকেলের কুয়াশাতেই দূরের দৃষ্টি বেশ ঝাপসা। দূরে খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি বেঁধে নেমে আসছে কেউ, আর ধান ছড়িয়ে থাকা আলপথ টা এই কুয়াশার বুকে পথ হারিয়ে হয়তো হারিয়ে যাচ্ছে অজানা কোন তেপান্তরের মাঠে। দূরে রাস্তায় ধুলো উড়িয়ে চলে যাচ্ছে একটা গাড়ী, পেছনে একদল বাচ্চা, ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে তাদের চোখ মুখ, কিন্তু ভ্রূক্ষেপ নেই কোন…… আমি দাঁড়িয়ে থাকি একরাশ উজাড় হওয়া একাকীত্ব নিয়ে, পরের মুহূর্তেই মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে ওদের সাথেই আমি যেন দৌড়চ্ছি ………

হটাৎ কাঁধে একটা হাতের স্পর্শ, পেছন ফিরে তাকিয়ে শিউরে উঠি, তাকিয়ে দেখি আমাকে ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমিই, কেউ নেই আশেপাশে, একটা ক্লান্ত ঘরের ভেতর আয়নার সামনে বসে আমিই, আর আয়নার ওপারে আমার ফেলে আসা ছেলেবেলা, স্মৃতি, গ্রাম সবকিছু।


নিজের মনেই হেসে উঠি, আর আবার ফিরে যাই Laptop-র screen-এর সামনে, অনেক কিছু বাকি রয়ে গেছে কাজ, ইন্টারনেট, ফেসবুক অনেক কিছুতেই ছড়িয়ে রয়েছি আমি, একা আমি… অথচ আমার অস্তিত্ব সত্ত্বা ভাগ হয়ে আছে বহূতে, যারা হয়তো প্রত্যেকেই অন্য অন্য কেউ, অন্য অন্য ভাবে আমার রাগ, দুঃখ, কান্না… যন্ত্রণা সবকিছু ভাগ করে নিচ্ছে…

অগ্রহায়ণের ঘ্রাণ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments