লোকটার শিশু পুত্র কোনদিন দরিয়াবান্ধা খেলবে না । সুপুরী গাছের খোল দিয়েগাড়ি বানিয়ে খেলবে না । হাফ প্যাডেল সাইকেল চালাবে না । কোনদিন জুই ফুলের মালা গাথবে না । গোবর-মাটি-জল মিশিয়ে ঘর লেপা দেখবে না । গঙ্গা ফড়িং ধরবে না কোনদিন । যদি হাত চুলকোয় …অ্যালার্জি হয় ? কোনদিন দুধের হলুদ সর চুরি করে খাবে না । কাঁচা করমচা দাঁতে কেটে দুই ঠোঁটে করমচার কশ লাগিয়ে ঠোঁট বন্ধ করে পরীক্ষা করে দেখবে না সত্যি সত্যি আর মুখ খোলা যায় কিনা। রাস্তার ধারের শ্বেতদ্রোণ গাছের ফুল থেকে মধু খাবে না । কাঁচা তেতুলের স্বাদ কোনদিন বুঝবে না । লজ্জাবতী গাছের পাতা চিবিয়ে খেলে তেতো নাকি টক —জানতেই পারবে না । সেগুন গাছের পাতা হাতে ঘষলে যে লাল হয়ে যায় —কপালে লাল তিলক কাটা যায় জানতেই পারবে না । কোনদিন ঘুড়ি উড়াতে শিখবে না । ঘুড়ির মাঞ্জা দিতে গিয়ে কোনদিন কাঁচ দিয়ে হাত কাটবে না । বাছুরের পিঠে ওঠে ঘোড় দৌড় দেওয়া যায় কিনা পরখ করেও দেখবে না । পাতা দিয়ে মাউথ অর্গান বাজাতে শিখবে না । নাগেশ্বর ফুলের গন্ধ কেমন হয় জানতেই পারবে না । কদম ফুল থেকে একটা একটা করে পাপড়ি খুলে ন্যাড়া ফুল বানাবেই না —গুণে দেখবেই না কয়টা পাপড়ি ছিল । শিশির ভেজা ঘাসে—মাঠে কোনদিন খালি পায়ে দৌড়বেই না যদি ঠান্ডা লেগে যায় । এইসব না অভিজ্ঞতা কিন্তু অন্য অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ শিশুপুত্র কিছুটা বড় হয়ে একদিন লোকটাকে প্রশ্ন করবে , ‘বাবা তুমি কেন এইরকম’ ……লোকটি হয়ত শুনতে পাবে । মাথার কোষ গুলি হয়ত উত্তরও তৈরি করবে । কিন্তু শরীরে অনেকগুলি ‘জীবন রক্ষক’ যন্ত্রপাতি –নল ইত্যাদি নিয়ে লোকটি তো এখন আর কথা বলতে পারে না । জিভে খুব কষ্ট –কথা না বলতে পারার যন্ত্রনায়। ঠোঁট দুটি বোধহয় একটু কেঁপে উঠল । রিফ্লেক্স । কোনও যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই চোখ থেকে কয়েক বিন্দু জল বেরিয়ে এল । দুঃখের অনু কান্না নয়। হতাশারও নয় । ব্যর্থতারও নয় । অনুশোচনারও নয় । লোকটি যে প্রকৃতিবিরুদ্ধ । ‘হি ইজ রানিং অন লাস্ট ল্যাপ অব দ্য কাউন্টডাউন’ ।

অনেকদিন (কিন্তু বেশিদিন না ) পরে
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments