যেদিন দিল্লিতে ‘আপ’ রানার্স আপ হলো সেদিন নবুদা আপের হয়ে বাজি লড়ে পাঁচ জনের কাছে ২০ টাকা আলাদা আলাদা ভাবে হেরেছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে আবার কংগ্রেস তিন নম্বরে থাকবে এই শর্তে, আট জনের কাছে ১০ টাকার বাজি জিতেও ছিল। আবার দেখা গেল, বিজেপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে না, এই বলে গোটা তিন জন কে ১৫ টাকার বাজি হারিয়ে সে বসে আছে।এরকম গোটা চার পাঁচ রকমের বিভিন্ন বাজির পারমিউটেশন ও কম্বিনেশনের সাথে প্রবাবিলিটির জটিল সূত্রের ককটেল হিসেবে যেটা দাড়ালো, সেটা হলো – নবুদার ১৩৫ টাকার নিট লাভ। তাতে অনাবিল আনন্দ পেয়ে সে তত্ক্ষনাত নিজের জন্যে জোড়া বাংলার বোতল ও মনু আর মমোর জন্যে মুরগির ছাঁট আনিয়ে সেই মাগনা টাকার সৎগতি করেছিল। ও, মনু আর মমো হচ্ছে নবুদার পোষ্য কুকুর দুটির temporary নাম। কেননা প্রত্যেকবার লোকসভা ও বিধানসভা পর দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামের সাথে মিলিয়ে তাদের নাম রাখাটা নবুদার সাবেকি অভ্যাস। অদ্ভূত ব্যাপার এদের নাম এতবার বদলালেও এরা কেন জানি সেই নামেই সাড়া দেয়। আর নবুদা এদের জতু, বুধু, সিধু, ইন্দু, রাজু যাই বলে ডাকুক না কেন এরা তক্ষুনি পায়ের কাছে এসে ল্যাজ নারায়ে !
বাপিদা একবার খোরাক করতে জিগ্যেস করেছিল নবুদাকে , “এদের নাম তো বদলাও বারে বারে , কিন্তু তাতে কি এদের লিঙ্গ বা চরিত্র বদলায় ?”
নবুদা গম্ভীর ভাবে বলেছিল , “এরা পলিটিকাল প্রাণী , এদের চরিত্র বা লিঙ্গ কোনদিনই বদলায়ে না। তাই সুধু নামটা বদলাতে হয় । ”

অনেকদিন অব্দি আমরা ভাবতাম নবুদার ভালো নাম নবীন বা নবনী গোছের কিছু একটা হবে। পদবি বা গোত্র নিয়ে সত্যি বলতে সেরকম ভাবে কোনদিন কিছু ভাবিওনি । একবার ভোটের লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ায়, নবুদা নির্বাচন কমিসন কে একটা লম্বা চিঠি লিখেছিল, সে চিঠিটার ইংরেজি তর্জমা করতে গিয়ে জানলাম নবুদার পুরো নাম নবাঙ্কুর চক্রবর্তী। বোঝো কান্ড, একে ব্রাহ্মণ তার ওপর আবার এরকম জাঁদরেল একটা নাম !! নেহাতই অদৃষ্টের ফেরে লোকটা ওরকম ন্যালা ক্ষ্যাপার মতন রেশন দোকানের পেছনে ওই পায়েরার খোপের মতো ৮ ফুট বাই ৮ ফুট ঘরটাতে দুটো নেড়ি কুত্তা নিয়ে পড়ে আছে । জীবিকা বলতে খদ্দেরদের রেশন তুলে ‘হোম ডেলিভারি’ বা বড়জোর সেই রেশনের গম ভাঙিয়ে তাদের ‘ভ্যালু এডেড সার্ভিস’ দেওয়া। ফুরসতে ক্লাবঘরে ক্যারম পেটানো অথবা পাড়ার মোড়ে বসে গুলতানি মারা। ও হ্যাঁ, ‘মারা ‘ থেকে মনে পড়ল , পাড়ার কেউ মারা গেলে নবুদা, রাত বিরেতে খাট, ফুল,আতর,ধুপকাঠি ইত্যাদি পরিবারের কান্না ফুরোবার আগেই যোগার করে ফেলতো এবং নিন্দুকেরা বলে পার্টি বুঝে চড়া কমিসনও রাখত নিজের ও সাঙ্গপাঙ্গদের মোচ্ছবের জন্যে। এ হেন সামাজিক জীবের নাম কিনা ভোটের লিস্ট থেকে বাদ !! যাই হোক, নবুদা তো আমেঠির দলিত পরিবারের কেউ নন, তাই অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও তার নাম সেইবার আর ভোটার লিস্টে ওঠেনি ও তাই ভোট দেওয়াও হয়নি। তবে নবুদার চিঠিতে সে জানিয়েছিল যে একসময় তার একটা রেশন কার্ড ছিল কিন্তু সেটা হারিয়ে গেছে ও তার জন্যে সে থানাতে ডায়রিও করেছে। আসলে নবুদা রেশন দোকানের চত্বরেই থাকে বলে বা দৈনন্দিন প্রচুর কার্ড হ্যান্ডেল করে বলেই সেরকম ভাবে কোনদিন রেশন কার্ডের মর্ম বুঝতে হয়নি।কার্ডটা হয় ইঁদুরে খেয়েছিল আর না হলে রাতে নেশার ঘোরে গ্লাস ভেঙ্গে কাঁচের টুকরো সাফ করতে কাজে লাগিয়ে ফেলেছিল।
নির্বাচন কমিসন নবুদার চিঠিতে প্রেরকের ঠিকানায়ে ‘রেশন শপ নং AR 43′ ইত্যাদি দেখে বোধহয় সেটাকে খাদ্য মন্ত্রকে পাঠিয়ে দেয় ও আজ পর্যন্ত সে চিঠির উত্তর আসেনি। সবই ঠিক ঠাক চলছিল,হটাত সকাল সকাল কলে দাঁত মাজতে মাজতে ব্যাঙাচি নামক পাড়ার এক উঠতি ছোকরা নবুদাকে taunt করে বলে বসলো , “কি নবুদা , ইলেকশন কমিসন তো পারল না, এবার কোথায়ে যাবে – রাষ্ট্রসংঘ না আনন্দবাজার?”
বোমা ক্ষেরে নবুদা বলল , “তোর বাপকে পাঠা বৌদ্ধসংঘে আর মাকে জানবাজার।”

বাংলায়ে শুনেছি ক্ষেরে গিয়ে ক্ষুদিরাম আর বাড় খেয়ে বাঘাযতীন হয় , নবুদাও এই দুই সংগ্রামীর hybrid গোছের কিছু একটা হয়ে টোয়ে গেল !! সোজা গেল ঘাপলাদার কাছে। ঘাপলাদা তৃনমূল স্তরের (তৃনমূল দলের নয় কিন্তু !! ) কমরেড ছিল এক কালে। মিটিঙে মাইক সেট করত , নেতাদের চা সাপ্লাই দিত এবং ক্রমে ক্রমে পৌরসভার Councillor ও হয়েছিল। এক সময় পাগলের মত দলের সেবা করত বলে ভালোবেসে সিনিয়র কমরেডরা তাকে পাগলা ডাকত আর চ্যালারা পাগলাদা। বিরোধীরা আরে-আবডালে বলত পাগলু ! Councillor হওয়ার পরে পাগলার সেয়ানা টনক অমনি নড়ে বসলো এই ভেবে যে একজন জনপ্রতিনিধির নাম যদি ‘পাগলাবাবু’ হয় তাহলে জনসেবার গোড়াতেই গন্ডগোল হয়ে যাবে। অতয়েব সে তার চ্যালা বাহিনীর সাহায্যে স্ত্যালিনের বই ফই ঘেঁটে বেশ বুদ্ধি খরচ করে নিজের নামটা পাগলা থেকে গাপলা-এ ট্রান্সফর্ম করলো। কিন্তু পরের বারেই পরিবর্তনের ঝড়ে এক ঝাট্কায়ে সেই গাপলাই হয়ে গেল ঘাপলা ! যাই হোক নবুদা গিয়ে ঘাপলাদার পায়ে পরে গেল, যে ভাবে হোক ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে যেন তার রেশন ও ভোটার কার্ডের একটা হিল্লে হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঘাপলাদা নিজের নাম নিয়েই কিছু করতে পারছে না তো আবার নবুর identity! কঙ্কালের বগলে চুল আর কি ! চা আর থিন এরারুট বিসকুট খাইয়ে নিরাশ নবুদাকে বিদায় দিল ঘাপলাবাবু।

ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী মেনিদী হালে চশমা পড়ছে তাই একটু সিরিয়াস গোছের দেখায়ে। যদিও বকলমে ক্ষমতা তার ভাই জগার হাতেই। নবুদা মেনিদির রেশন তুলে দিত এক কালে। তাই সেই রেফেরেন্সের ওপর ভরসা রেখে ,খানিকটা আশা নিয়ে, এবার সে মেনিদির দারস্থ হলো। দুঃখের কথা শুনে মেনিদী জগাকে ডেকে বলল যদি নবুদার ভোটের আগে তার identity কার্ড বা রেশন কার্ড করে দেওয়া যায় । জগার ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক একেবারে টগবগে চাঙ্গা , পিন্টু breaking news দিয়ে দিয়েছে যে নবুদা প্রথমে ঘাপলাদার বাড়ি গিয়েছিল। ব্যাস ,নবুদা সেই ‘আমরা ওরা ‘র ঘুঘুচক্করে পরে গেল ও ২১০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়া বা তাতে দাড়ানোর মতই মরিচিকা হয়েই রয়ে গেল !

রবার্ট ব্রুস যদি একটা মাকড়সার থেকে নাছরবান্দাগিরির ট্রেনিং নিতে পারে নবুদার তাহলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দের থেকে motivation নিতে অসুবিধে কোথায়ে ! একটা ভাইরাস গোটা জাতিকে ধনে প্রাণে মারতে পারে তো নবুদা এই কেষ্টা বিষ্টাদের কাছ থেকে একটা ভোটের অধিকার যোগার করতে পারবে না ?

রেল স্টেশন গা ঘেষে রেলেরই জমিতে বেআইনি ভাবে যে ক্লাবটা আছে সেটা ‘এ পার্টি’ ‘ও পার্টি’ সবার মন যুগিয়ে কোনো ঝঞ্জাট ছাড়াই দিব্য শনি থেকে ষষ্টিপুজো করে, রাম থেকে স্কচ সব রকমের প্রসাদের ব্যবস্থাও থাকে। আবার ফুটবল বা ক্রিকেট বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার লম্বা পতাকা কিম্বা ধোনি বা মেসি ইয়্য়া পেল্লায় ছবিতে চত্বর ঢেকে ফেলে ! পতাকা বা ছবি রোদে পুড়ে জলে ভিজে হাওয়া হয়ে গেলেও এই ল্যাম্পস্ট থেকে উল্টো দিকের ছাদেতে বাঁধা পাটের দড়িগুলো থেকে যায়। সোমবার সকাল সকাল এলাকার সকলে ট্রেন ধরতে গিয়ে এক ঝলক যা দেখল – সেটা হচ্ছে সেই দড়ির এক প্রান্তে একটা লম্বা সাদা ধুতি ঝুলছে যাতে লাল কালীতে বড় বড় করে লেখা আছে ,

যারা বাংলার লোভে ঝান্ডা ধরত
এখন স্কচ ছাড়া কিছু রুচছে না ,
‘ঘাপলা’ করল, ফ্ল্যাট বানালো
তবু মোদের দুখঃ ঘুচছে না।

আবার ঠিক তার উল্টো দিকে একটা কচি কলাপাতা রঙের শাড়ি ঝুলছে যাতে গাড় সবুজ রঙের কালীতে একই ভাবে লেখা

দিদি মেনি ভাই হুলো
দাপটে তে গাঁ উজার
আরশোলা পাখি হলে
বুঝে নিও যা বোঝার

হুলুস্থুল পড়ে গেল গোটা এলাকাতে ! কানাঘুষো শোনা গেল যে ধুতিটা নাকি আগের দিন রাতে ঘাপলাদার ছাদ থেকে চুরি গেছে আর শাড়িটা সত্যি সত্যি মেনিদির ! পুলিশ এলো , শাড়ি ও ধুতি ছিড়ে নামানো হলো , দড়ি কেটে সরিয়ে দেওয়া হলো। দু দলই একে অন্যকে এর জন্যে দায়ি করলো ও এই অভূতপূর্ব ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হলো মিডিয়ার সামনে। পরের রাতে অর্থাত ১৬ই ফেব্রুয়ারী বা ৩রা ফাল্গুন অসময়ে বৃষ্টি হলো। তাই ব্যাপারটাতে পাক দিয়ে রস জমার আগেই যথারীতি ঠান্ডা মেরে গেল , জনগণ লেপের তলায়ে নাক ডাকিয়ে ঘুমালো । তার পরের দিন আবার সবাই দেখল এবারে রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে একটা ইজের ‘দাদু মার্কা’ আন্ডারওয়্যার ও একটা সাদা সায়া কে একটা গামছা দিয়ে জোড়া ও পুরো ব্যাপারটাকে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারের ওপর বোর্ড পিন দিয়ে সাঁটা ! আন্ডারওয়্যারে একটা ডিম আঁকা ও সায়াতে লেখা মুরগি। গামছা যেটা এই দুই অন্তর্বাসের মধ্যে ব্রিজ হিসেবে কাজ করছে তাতে লেখা ‘কোনটা আগে ?’

আবার হুলুস্থুল কান্ড,এবার আরো বেশি মিডিয়া , কে যেন আবার মোবাইলে ফটো তুলে আপলোড করে দিয়েছে মূখেবুকে মানে facebook এ ,আরো বেশি পুলিশ এলো। জরুরি ভিত্তিতে এখানে মিটিং ,ওখানে জমায়েত। স্টার আনন্দ সারাক্ষণ ফ্ল্যাশ দিল , ” এর পেছনে কে? মাওবাদী না সিআইএ – জানতে হলে দেখতে তখুন আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন – অভিশপ্ত অন্তর্বাস!! ‘” অবশেষে অনেক কাঁদা ছোরাছুরির পর সভ্যভাবে সর্ব সম্মতিক্রমে ঠিক হলো যে কয়েকজন ভলান্টিয়ার লাগবে নির্বাচন অব্দি এরকম বিচ্ছিনতাবাদিমূলক কামকাজ ঠেকাতে। ঠিক হলো,ভলান্টিয়ার রা পাবে দৈনিক ৬০ টাকা, রুটি-তরকা বা পাউরুটি ঘুঘনি। কিন্তু ঐযে সবাই পিছিয়ে পড়ার ভয়ে খবর দেখে আর তাই মাওবাদী আর সিআইএ-এর ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে রাজি নয় । পুলিশ কমিসানারেট ঠিক করলো, যে বা যারা এই ‘জনকল্যানকারী ‘ কর্মকান্ডের জন্যে এগিয়ে আসবে তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সরকারী ভাবে সব রকম সাহায্য করা হবে।

নবুদা সব শুনে টুনে , তার দলের মেম্বার মানে স্টেশন চত্তরের যত জুতোর কালী শুঁকে নেশা করে সেই বেওয়ারিশ বুটপালিশওয়ালা বাচ্ছাদের নিয়ে হাজির হলো কমিসানারেটে।
বলল , “স্যার, আমরা মাওবাদী , আমেরিকা কাউকে ডরাই না , আমরা সারারাত পাহাড়া দেবো, সুধু একটা রিকোয়েস্ট আছে। ”
ঘুঘু অফিসার জিগ্যেস আবাহনও দেখালো না বিস্বর্জন ও করলো না , জিগ্যেস করলো , “কি শুনি।”
নবুদা ভরসা পেয়ে বলল , “স্যার আমরা বেওয়ারিশ , কেউ দেখেও না কেউ পোছেও না। আমাদের রেশন কার্ড ও ভোটার কার্ড করে দিলে এবারে ভোটটা দিতে পারি। ”
অফিসার, “হয়ে যাবে ,আর কিছু ?”
নবুদা, “আর হ্যাঁ স্যার , যদি ঘুগনির বদলে ডিমের অমলেট দেওয়া যায়…”
অফিসার, “হুমম , হয়ে যাবে..”
নবুদা, “থ্যাঙ্ক ইউ স্যার, তা হলে আজ লেগে যাই নাকি কাল থেকে?”
অফিসার নবুদার চ্যালাদের ইশারায়ে বাইরে যেতে বলল। নবুদা ততক্ষনাত তাদের সিটি মেরে ভাগিয়ে দিল।
অফিসার আবার শুরু করল , “এই নেশাখরগুলো তো স্টেশন চত্বরেই থাকে তাই না ?”
নবুদা , “হ্যাঁ স্যার , আর কোথায়ে যাবে বলুন। আমি তো তবু কোনরকমে রেশন দোকানের পেছনে একটা ঘর ম্যানেজ করেছি। ”
অফিসার , “হুমম , তা রাতে বৃষ্টি হলে, ঠান্ডা লাগলে , কি তুই স্টেশন ছেড়ে তোর সেই ঘরটাতে পালিয়ে যাবি ?”
নবুদা , “না স্যার, মা কালির দিব্যি , সেদিন রাতে মানে ৩রা ফাল্গুন যখন অসময়ে বৃষ্টি হলো তখন তো আমি স্টেশন চত্বরেই ছিলাম…”

আগামী ২১এ ফেব্রুয়ারী ,২০১৪, শুক্রবার, বারাসাত আদালতে নবাঙ্কুর চক্কতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার, সামাজিক শ্লীলতাহানি সহ ২১টি মামলা হবে। আমি থাকব ,আপনারা থাকবেন কি ?

অভিশপ্ত অন্তর্বাস
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments