মেয়েটার সাথে আমার কখনও পরিচয় হয়নি,
সামনাসামনি দেখিনি কখনও তাকে ,
আমি জানিনা কোথায় ছিল তার বাড়ি,
কি ধরনের ডাকনাম বা ভালনাম ছিল তার ;

ওর আর আমার মধ্যে যে দূরতম সম্পর্কের সূত্র ছিল,
তা হল আমি এক তরুণ , আর সে তরুণী ;
দুজনেই আমরা সাধারন মানব-সন্তান ।।

মানব-প্রবৃত্তি কিছুটা হলেও জানি,বুঝি ;
এই ক’টা বছরে অভিজ্ঞতাও কুড়িয়েছি খানিক ;
তা-ই বেশ বুঝি যে মেয়েটা বাঁচতে চেয়েছিল ভীষণ ভাবে ।।
আর বাকি পাঁচটা ছেলেমেয়ের মতো ওর মধ্যেও সম্ভাবনা ছিল বিপুল ,
ওর নিজের মতো করে পুরো প্রস্ফুটিত হবার ।।

ওর জন্মকালে ওর গর্ভধারিণী মায়ের প্রসবব্যাথা ছাড়া
আর তো কেউ ওর থেকে কোনও যন্ত্রণা পায়নি একফোঁটা ..!
ওর পবিত্র জীবাত্মায় জীবনহননের মতো ঘৃন্য নারকীয়তার দাগও ছিল না ।

তবে পাশবিক অত্যাচার করে , শক্ত হাতের লালসাময় মুঠির পেষণে ওর জীবন-দীপশিখা
নিভিয়ে দেবার অধিকার বা প্রয়োজন ছিল কি কারো ??

 

তবু ওকে হত্যা করা হল,
পৃথিবীর বুকে নিরন্তর ঘটে চলা অকারণ অঘটনের তালিকা দীর্ঘ হল আরো ।।
বিবর্তন – উদ্বর্তনের সমস্ত অহঙ্কারকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে রেখে চলে গেল মেয়েটা ।

মহান পৃথিবীর কাছে রেখে গেল অনেকটা জীবন ,
বলে গেল ভাগ করে দিতে ,
ওরই মতো অজান্তে অল্প জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা চেনা- অচেনা অগুন্তি ছেলেমেয়েদের মাঝে ।।

অল্প জীবন
  • 5.00 / 5 5
1 vote, 5.00 avg. rating (91% score)

Comments

comments