শীতকালে দুপুর গড়ায় ঝপ্ঝপিয়ে , বসে বসে ভাবছিলাম, বছর ঘুরল বটে তবে সালতামামিটা সেরকম ঠিক জমলো না। শেষ লগ্নে কয়েকটা প্লেন হারালো , দস্যু দেশের ইস্কুলে দুম দাম বম্ব ফাটলো, অসম এবং কাশ্মিরে বন্যা হলো ও মদন এ নার্সিং হোম ও হাসপাতাল করে কোত্থাও আরাম না পেয়ে শেষমেশ আলিপুরের জেল হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য ভর্তি হলো । প্লেন যদি বেমালুম হারায় তাহলে সেটা নির্ঘাত ইন্দো মালয় দ্বীপ পুঞ্জ থেকে আকাশে উড়েছিল। ভৌগলিকরা বোধহয় জানেনা যে বারমুডা ত্রিভুজটা তলে তলে কতকটা দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার দিকে সরে এসেছে। আচ্ছা ত্রিভুজ যখন, তখন খামোকা বারমুডা না বলে বিকিনি বললেই তো হয়। বিশেষ বিশেষ সংবাদ, আজকে MH৭৮৬ প্লেনটি বিকিনি ত্রিভুজের ভেতরে শূঊঊঊ করে ঢুকে হারিয়ে গেছে , এঃ বড় অশ্লীল শোনাচ্ছে ! আর না হারিয়ে যদি সে প্লেন কেউ গুলি করে নামায় তাহলে সেটা নিশ্চিত ইউক্রেন থেকে আফগানিস্তানের মাঝামাঝি উড়ছিল। ওই বায়ুপথটা আরব, চেচেন, রুশ, আফগান, তালিবান সবার মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করা আছে। ব্যাপারটার মধ্যে একটা ভাতৃত্ববোধ লুকিয়ে আছে, রুশ জঙ্গি হয়ত একটা বোয়িং টার্গেট করলো ও ভদকা টানতে গিয়ে সেটা মিস করলো। অমনি সে রেডিও মারফত তালিবান গোষ্ঠী কে জানিয়ে দেয় , “কমরেড মোহাম্মদ , একটা বোয়িং ফস্কে গিয়ে আপনাদের এরিয়ায় ঢুকেছে , দয়া করে ওটা আপনারা উড়িয়ে দিন। ” ওদিক থেকে উত্তর এলো , “আরে মিখাইল ভাই হাম প্লেন নেহি উড়াতা , প্লেন সে বিল্ডিং গিরাতা হায়, খুদা হাফিজ। ” হাফিজ বলতে মনে পড়ল , পাকিস্তানে হাফিজ সায়িদের মহা জ্বালা। জেল-বেল -জেল -বেল-জেল -বেল করতে গিয়ে বেচারার লাইফ জেরবার হয়ে গেল , এর চেয়ে ভালো হতো কাসাবের মত ভারতে ধরা পড়লে। কাসাব ৪ বছর আমাদের পয়সায় বহাল তবিয়তে মেহমান হয়ে ছিলেন। হাফিজ ভাই বুজুর্গ মানুষ হেসে খেলে ভারত সরকার কেস গড়িয়ে ৪০ বছর কাটিয়ে দিত কিম্বা আরেকটা প্লেন অপহরণ করে তার ভাই বিরাদররা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেত। আচ্ছা মদনদা কে ছাড়াতে কেউ আবার এয়ার ইন্ডিয়া হাইজ্যাক করবে না তো ? না এই রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটিকে খোদ আল কায়দা থেকে মার্কিন সরকার সক্কলে ভয় পায়। কে জানে কখন উড়বে , কখন নামবে , চাকায় আগুন ধরবে, না ধরবে না। আদৌ পাইলট আছে তো? না নেই, প্লেনের বাসী খাবার খেয়ে পেট খারাপ হয়েছে। বাথরুম থেকে বেরিয়ে ইলেক্ট্রালের জল খেয়ে কিছুক্ষণ বসবে , দেখবে মাথা ঝিম ঝিম করছে কিনা, প্লেনের গিয়ার্ টেনে টুনে স্টিয়ারিং নাড়ানোর জোর আছে কিনা , বয়স হয়েছে তো তার ওপর আবার ৯ মাস ধরে বেতন পাছে না ! ওই ৯ মাসের বেতন বাকি রেখে রেখে এয়ার ইন্ডিয়া এখনো ৯৩ বছরেও এই বুড়ো পাইলটকে দিয়ে বুড়ো প্লেন চালিয়ে নিচ্ছে। কি করবে নতুন পাস করা পাইলটরা সব ফ্লাইট সিমুলেটর দিয়ে শেখে তারাতো আর এই দাদু আমলের যন্ত্রপাতি কিছুই ঠাওর করে উঠতে পারবে না। গেটের সামনে ভুরু কুঁচকে দাড়িয়ে ওটা কে? এয়ারহোস্টেস না বুলুপিসির খিটখিটে ননদ! ধরে নেওয়া যাক হাইজ্যাক করতে এসে বসে থাকা একজন জনৈক জঙ্গি হয়ত জল চাইল , অমনি সে হোস্টেস hostile লুক দিয়ে Pantryতে গিয়ে দেখল খাওয়ার জল এখনো লোড হয়নি। ঠিক উল্টো দিকে টয়লেটে ঢুকে সে দেখল ‘পাইলট দাদু’ ট্যাঙ্কির সব জল ফুড়িয়ে ফেলেছে। শালা মাইনে দিবিনা তো জলে উসুল করব! অগত্যা সে একটা প্লাস্টিকের গ্লাস্এ কমোড থেকে তুলে আনা জল জঙ্গিটাকে দিল। জঙ্গিটা সেটা খেয়ে গলা ভিজিয়ে সবে শুরু করেছে , “সব চুপ করে বসে থাকবে, কেউ নড়বে না। মদনদা যতক্ষণ না ছাড়া পাছে ততক্ষণ কিন্ত…” হটাত মুখ কুঁচকে নিজেই সে নড়ে বেঁকে গেল , “উরি বাবারে ..কি পেট কামড়াচ্ছে রে বাবা…ও মাসীমা , এই যে শুনছেন..” সেই বুলুপিসির ননদ অমনি ঘাড় ধরে জঙ্গিটাকে টেনে বাথরুমে ঢুকিয়ে দরজা লক করে বলল , “”আমি মাসীমা, ঢোক ভেতরে…. গেল কত জল গিলবি। ”

না বছরটা ঘুরতেই আবার কিরকম সব ফুরফুরে ঘটনা ঘটতে লাগলো। ভাইপোকে সাঁটিয়ে চড় মারা হলো, আগে জানলে সে পিকের মতো গালে ভগবানের ছবি সেঁটে রাখত। বিজেপির যা বাজার তাতে আগামী দিনে তৃণমূলের সবাইকে গালে হনুমান লাগিয়েই সভা সমিতি করতে হবে। আচ্ছা, আমির খান এত অঙ্গ থাকতে টেপ রেকর্ডার দিয়ে শুধু মধ্যাঙ্গটাকেই ঢেকে রাখলো কেন? ওদের গ্রহতে তো কেউ জামাকাপড় পড়েনা তা ও কি করে জানলো যে কোন জায়গাটা ঢাকার আর কোনটা খোলার। এই দ্যাখো, কথায় কথায় সেই ঢাকার কথা চলেই এলো। কি বাওয়ালটাই না চলছে! শাস্তিরও বলিহারি যাই বাপু , একজন নেত্রীকে তার বাড়ি যেতে দিচ্ছে না, টানা অফিসে আটকে রেখেছে! গৃহবন্দী শুনেছিলাম কিন্তু দপ্তরবন্দী ! শুনলেই কিরকম ‘ফিশি ফিশি’ লাগে। না ভুল বললাম দপ্তরবন্দী শুনলে কিরকম ‘ভিসি ভিসি’ লাগে। যাদবপুরের ছাত্র ছাত্রীরা বড়ই বেয়াড়া , একজন মাঝখানে সিঁথি করা জব্বর গোঁফওয়ালা চশমা পরা বয়স্ক মানুষকে নিয়ে ফাজলামো করেই চলেছে আবার দুষ্টু লোক বলে চুলে উকুন হওয়ার অভিশাপ দিচ্ছে । রাস্তার বুকে , ফেসবুকে , সর্বত্র কাঁই কাঁই কলরব করে উপাচার্যকে হয়রাণ করে দিল মাইরি । এখন আবার সবাই মিলে অনশন করছে যে লোকটাকে পদত্যাগ করতে হবে । সেও হঠবে না , আমার মনে হয় ভিসির বিরুধ্যে হাসিনার আর্মি বা BDR লাগানো উচিত তাহলে বোঝা যাবে যে এক বাংলার মদদপুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে অন্য একটা বাংলা রাষ্ট্রের বাওয়াল বাধলে তা কুরুক্ষেত্রর থেকে কম কিছু হয় না। হাসিনাও হাসবেনা আর মমতাও কোনো মমতা দেখাবে না , শালা দাঁত নখ বার করে ক্ষমতার জন্যে দুই বাঙালি শ্বেতবসনা ঘিপ-ঘাপ ক্যালাকেলি করবে। ফারাক সুধু একজন বাঙালি মুসলমান যে হিন্দুদের তেলিয়ে চলে আর আরেক বাঙালি হিন্দু যে কিনা পার্ক সার্কাসের মোড়ে রোজা রাখার ছবি ছাপায়। ঘটনাক্রমে দমদমে একবার জ্যোতি বাবু অনুকুল ঠাকুরের ছবি নিয়ে তপন সিকদারের বিরুদ্ধে প্রচার করেছিল। আমি চাইনি তবু লেখাটা সেই ধর্মের কল ঠেলতে লাগলো। শীতের হাওয়ায় এমনিতেই ত্বক শুষ্ক করে দিচ্ছে তারপর আবার প্রাক পুরানিক বিমানের গপ্পো বলতে গেলে গলা শুকিয়ে যাবে , দানিকেনের “ঈশ্বর কি গ্রহান্তরের মানুষ ?” মার্কা controversy নতুন করে তৈরী করতে হবে। বিজ্ঞান কন্গ্রেসের বৈমানিক পুরান কি আর আকাশে ওড়ার গপ্প জানে ? মহ্হমদ কি জানতো মোহ এবং মদের নেশায় যারা চুর তাদের দুটো লম্বা বাড়িকে তার চেলারা দুমদাম দুমড়ে দেবে ? আজকের এই সময়ে দানিকেন সাহেব দারিও ফো’র থেকে বেশি বিপণনযোগ্য। ফো সাহেবের satire অনেকে বোঝেনা, তাই উনি আজও অক্ষত , মৃত না হয়েও বোধহয় চিন্তিত ! আর যারা বেমালুম তুলি পেন্সিল ঘষে ব্যাঙাচির মতো ব্যঙ্গ করতে গিয়ে bang bang গুলি খেলো , সালতামামির পরে তাদের আঁকা গুলো আবার না দেখতে পাওয়াটা এই বছরের শুরুতে একটা বড় না পাওয়া হয়ে থাকবে। শার্লি এব্দ ,ফরাসী উচ্চারণটা হয়ত বাংলা হরফে কোনদিনই বাগে আসবেনা কিন্ত ২১এ ফেব্রুয়ারির ভাষা দিবসে যতদিন রফিক জব্বারের নাম মনে রাখবো ততদিন সুদুরে বারুদের তোড়ে বয়ে যাওয়া ১১টা ফরাসী মুক্তিযোদ্ধার নাম রোজ মনে পড়বে।

আনসোশ্যালি ইওরস
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments