গুজব সৃষ্টি, প্রকাশ এবং প্রচার হইতে বিরত থাকুন

ইহা সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত একটি কাল্পনিক কাহিনী। ইহার সহিত যদি কেহ কোনও হোয়াটস অ্যাপ কিংবা ফেসবুক গ্রুপ অথবা তাহার পরিচালক / পরিচালকবৃন্দ অথবা সেইসব গ্রুপের কোনও সদস্য / সদস্যার কোনও মিল খুঁজিয়া পান তবে তাহা অনিচ্ছাকৃত

ধূমপান কর্কটরোগের কারণ

মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর

 

অতঃপর পূর্ব্ব প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই কাহিনীভিত্তিক আলোচনা শুরু হইল। আলোচনায় অংশগ্রহণ হইতে নিজেকে বিরত রাখিয়াছিলাম কারণ প্রথমত, আমি একজন মূর্খ, দ্বিতীয়ত, প্রথমোক্ত কারণে আমি শিখিতে চাহিয়াছিলাম, অল্পবিদ্যার অধিকারী হইয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করিলে সেই শিক্ষা হইতে নিজেকে বঞ্চিত করিতাম। যাহা হউক, এই আলোচনায় যাঁহারা অংশ লইয়াছিলেন তাঁহারা প্রত্যেকেই যে সদুদ্দেশ্যে অংশ লইয়াছিলেন এমন নহে, কাহারো কাহারো বাক্য শুনিয়া তাঁহারা যে দেশদ্রোহীমনোভাবাপন্ন তাহা স্পষ্ট প্রতীয়মান হইয়াছিল। এতদসত্ত্বেও সেই মহাত্মা তাহাদিগের সহিত যেরূপ সহিষ্ণু ব্যবহার করিয়াছিলেন তাহা নিঃসন্দেহে প্রত্যেকের নিকট শিক্ষণীয়।

পূর্ব্বেই কহিয়াছি আলোচনার এই অংশ আমি শ্রোতা হিসেবে শুনিয়াছিলাম এবং পূর্ব্ববৎ শর্টহ্যান্ডে লিখিয়া লইয়াছিলাম।

নীরবতা ভঙ্গ হইল এক ছাত্রীর হতাশাজনিত মন্তব্যে। চোখে দুই হাতে চাপিয়া ধরিয়া তিনি কহিলেন –“oh my god (অহো আমার ভগবান, এইরূপে ইংলন্ডদেশীয়গণ আপন বিস্ময় প্রকাশ করিয়া থাকেন)। আমি জানিতাম আমাদের দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রীই মূলত বিদেশমন্ত্রীর কর্ম সম্পাদন করিয়া থাকেন। কিন্তু এক্ষণে যাহা জানিলাম তাহা হইতে স্পষ্ট বুঝিতে পারিতেছি সামান্য শব্দের হেরফের করিয়া দেশদ্রোহীগণ দেশভক্তের রূপ ধরিয়া আমাদিগকে কিরূপে মূর্খ বানাইয়া রাখিয়াছে।” আমারও মস্তক ঘর্মাক্ত হইতেছিল। কিন্তু আরেকটি মন্তব্য শুনিয়া সর্বাঙ্গ জ্বলিয়া উঠিল (ইহাকে আমরা অবশিষ্ট অংশে ফক্কর বলিয়া সম্বোধন করিব, এই নামকরণের যৌক্তিকতা পাঠক সহজেই বুঝিতে পারিবেন)। সেই বক্তব্যটি হল এইরূপ – এক, Ambassador (বিদেশে একপ্রকার রাষ্ট্রপ্রতিনিধি) এবং high commissioner (বিদেশে আরেকপ্রকার রাষ্ট্রপ্রতিনিধি) -এর পার্থক্য কি, আপনি বলিয়াছেন রাষ্ট্রদূত নাই, হাইকমিশনার বর্ত্তমান, বাংলা ও ইংরিজি মিলাইয়া বিভ্রান্ত। দুই, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী এই দুইয়ের ইংরাজি অর্থ কি”। প্রধানশিক্ষক মহাশয় ইহার উত্তর দিবার পূর্ব্বেই একজন একজন কহিল – “আরও একটি উদাহরণ, যাহার দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে ভারত পরাধীন। খেয়াল করিয়া দেখিলে দেখিতে পাইবেন নির্ব্বাচনের ফল ঘোষিত হইলে মোট ৫৪৩-টি লোকসভা আসনের ফল জানা যায়। অবশিষ্ট দুইটি ইংলন্ডের পার্লিয়ামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রতিনিধিদিগের কারণে সংরক্ষিত।” এই মন্তব্য শুনিয়া ফক্কর বলিয়া উঠিলে – “উক্ত আসন দুটি কোনও ইংলন্ড নাগরিকের কারণে নহে, দেশীয় অ্যাংলো ইন্ডিয়ান নাগরিকগণ উক্ত আসনে রাষ্ট্রপতি কর্ত্তৃক মনোনীত হইয়া থাকেন”।

- আমি উহা জানি, কিন্তু আমি তাহা বলি নাই, আমি স্পষ্ট কহিয়াছি, ইংলন্ডের পার্লিয়ামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্য প্রতিনিধিদিগের কারণে দুটি আসন সংরক্ষিত

- আপনার বক্তব্য মানিয়া লইলে হয় মানিয়া লইতে হয় বাংলা ছবির চরিত্রাভিনেতা জর্জ বেকর ইংলন্ড পার্লিয়ামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্য অথবা লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৭

এই প্রসঙ্গ সমাপ্ত হইবার পূর্ব্বেই ফক্কর সম্পূর্ণ রবাহূত হইয়া “কেন ১৯৪৭ সনের ১৫-ই আগস্টের পরেও ইংলন্ড রাজপুরুষগণ দেশীয় প্রশাসনিক কান্ডে অংশ লইয়াছিল” অন্য এক ছাত্রের এই প্রশ্নের উত্তরে বলিয়া উঠিল – “হইতে পারে তৎকালীন দেশীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা বিষয়ে অনভিজ্ঞ ছিল”। এহেন দেশদ্রোহীভাবাপন্ন বক্তব্য শুনিয়া প্রধানশিক্ষক অতিশয় ক্রুদ্ধ হইয়া কহিলেন – What a bogus logic. Nehru fooled us with this rubbish logic. (কিরূপ অপ্রাসঙ্গিক যুক্তি, নেহেরু এইরূপ আবর্জ্জনাপূর্ণ যুক্তিসহকারে আমাদিগকে বোকা বানাইয়াছে)। প্রধানশিক্ষকের কন্ঠস্বর শুনিয়া ফক্কর পুনরায় তাহার পূর্ব্বপ্রসঙ্গে ফিরিয়া গিয়া বলিল যে সে মানিয়া লইতেছে যে নেহেরু অত্যন্ত ধুরন্ধর দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ ছিল। কিন্তু তাহাতে কিরূপে প্রমাণ হয় যে এক, ভারতে বিদেশমন্ত্রী নাই, দুই, ভারত রাষ্ট্রদূত নিয়োগে অক্ষম এবং তিন, দেশীয় সংসদের নিম্নকক্ষে দুইটি আসন বৃটিশ রাজপ্রতিনিধিদিগের জন্যে সংরক্ষিত। এমতাবস্থায় যে কোনও অতি স্থিরচিত্তের দ্বারাও নিজেকে সংযত রাখা কঠিন, প্রধানশিক্ষকও তাহার ব্যতিক্রম হইলেন না। তিনি ইংরাজিতে কহিয়া উঠিলেন – What is the necessity of proof ? All these are bare facts. (প্রমাণের কি প্রয়োজন, এই সমস্ত নগ্নসত্য মাত্র)। প্রধানশিক্ষকের এইরূপ রুদ্রমূর্তি দেখিয়া প্রত্যেকেই নীরব হইলেও ফক্কর দমিবার পাত্র নহে। সে নিজেকে মহাত্মা প্রধানশিক্ষকের ঊর্ধ্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করিবার দিবাস্বপ্নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বলিল – আপনার বক্তব্যের কি ইহাই অর্থ যে ভারতের কোনও বিদেশমন্ত্রী নাই, আইনগত উপায়ে আমরা রাষ্ট্রদূত নিয়োগে অপারগ এবং ভারতীয় সংসদে নিম্নকক্ষে সদস্যসংখ্যা ৫৪৭ ?

আমি অধীরআগ্রহে অপেক্ষা করিতেছি প্রধানশিক্ষক মহাশয় কি উত্তর দেন, এমনসময় বাহিরে কি নজর করিয়া “ওরে অ ক্যাবলা, দেখ দেখ বিড়েলে সবডা ছাগলাদ্য ঘ্রেত খেয়ে গেল” বলিতে বলিতে সবেগে শ্রেণীকক্ষ হইতে প্রস্থান করিলেন। হতভম্ব হইয়া সেই পথের দিকে চাহিয়া রহিয়াছি, এমন সময় ‘ঢং’ করিয়া একটি শব্দে সম্বিৎ ফিরিল। বুঝিলাম রাতের মত পঠনপাঠন সমাপ্ত হইয়াছে। 

 

 

(পুনরায় অপেক্ষায় না থাকিয়া আমাকে বাধিত করিবেন)

 

আমার ইতিহাস শিক্ষা – অন্ত্য পর্ব (U/A)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments