গুজব সৃষ্টি, প্রকাশ এবং প্রচার হইতে বিরত থাকুন

ইহা সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত একটি কাল্পনিক কাহিনী। ইহার সহিত যদি কেহ কোনও হোয়াটস অ্যাপ কিংবা ফেসবুক গ্রুপ অথবা তাহার পরিচালক / পরিচালকবৃন্দ অথবা সেইসব গ্রুপের কোনও সদস্য / সদস্যার কোনও মিল খুঁজিয়া পান তবে তাহা অনিচ্ছাকৃত

ধূমপান কর্কটরোগের কারণ

মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর

 

তৎপরে প্রধানশিক্ষক মহাশয় যাহা বলিলেন তাহা আপন লেখনীতে ধারণ করিব এ ক্ষমতা হইতে আমাকে ঈশ্বর বঞ্চিত করিয়াছেন কিন্তু একদা আমি শর্টহ্যান্ড (সঙ্কেতে লিখনপদ্ধতি) শিখিয়াছিলাম সেই কারণেই আমি উক্ত মহাত্মার ভাষণ অবিকৃত নিম্নে লিপিবদ্ধ করিতে পারিলাম

“পূর্ব্বেও বলিয়াছি, পুনরায় বলিতেছি এই কাহিনীর কোনও রূপ প্রমাণ আমার নিকট নাই। প্রমাণ ও যুক্তি ব্যতীত কথা বলিতে আমি অস্বাছন্দ্য বোধ করিয়া থাকি সেই বিষয়ে তোমরা সকলেই জ্ঞাত আছো। এই কাহিনী উত্তরপ্রদেশ রাজ্য ক্যাডারের একজন অবসরপ্রাপ্ত আই এ এস অফিসার আমায় বলিয়াছিলেন। উনি বারংবার এই প্রসঙ্গে নেহরুর একমাত্র বিশ্বস্ত অনুচর এম ও মাথাই এর কথা ও তাঁহার আত্মজীবনী ‘রেমিনিসেন্সেস অফ নেহরু এজ’ বইয়ের কথা উল্লেখ করিয়াছেন। কাহিনীটি এইরূপ -

ভারতীয়দের স্বাধীনতা হস্তান্তর করিতে ইংরেজরা ঘোর অরাজি ছিল, তাহাদের agent গান্ধীও ব্যর্থ হইল। বৃটিশদিগের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই লড়িতে ইচ্ছুক সুভাষকে সঙ্কল্পচ্যুত করা গান্ধীর অসাধ্য হইল। অতঃপর বৃটিশ, গান্ধী, জিন্নাহ্ এবং নেহেরু এই চতুর্মূর্তি মিলিয়া এক ষড়যন্ত্রে সামিল হইয়া একটি স্বাধীনতার নাটক রচনা করিয়া ভারত ছাড়ো আন্দোলনের রূপরেখা স্থির করিল। চিত্রনাট্যানুসারে আন্দোলন শুরু হইবার প্রথমদিনেই সব নেতা গ্রেফতার হইল। আজাদও তাঁর পুস্তক ‘ইণ্ডিয়া উইনস্ ফ্রীডম’-এও একই অভিযোগ করিয়াছেন।

ইহার পর বৃটিশ ভারতকে তাঁহাদের অধীনে একটি ডোমিনিয়ন স্টেটাসের মর্যাদা প্রদান করে। ইহা কোনওপ্রকারেই স্বাধীনতা হইতে পারে না। এইরূপে একটি দেশের পার্লিয়ামেন্টের আইন মোতাবেক কোনও দেশ স্বাধীনতা পাইতে পারে না কারণ আইন পরিবর্তনযোগ্য বলিয়া সেই স্বাধীনতা আইনের যুক্তিতে উক্ত পরদেশীয় আইনের পরাধীন হয়।  ফলে আমাদের স্বাধীনতা বৃটিশ পার্লিয়ামেন্টের অধীন। ইহা ব্যতীত বৃটিশ কানাডা বা আমেরিকাকে তো আইন করিয়া  স্বাধীনতা দেয় নাই। কানাডাকে বাল ফোঁড়াইয়া (এই স্থলে প্রকাশ করিয়া রাখা আবশ্যক আমি প্রথমে বাল ফোঁড়াইয়া শুনিলেও পরবর্তীতে জানিয়াছি উহা আসলে বালাফোর) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতা প্রদান করা হইয়াছে। আইন করিয়া স্বাধীনতা হইতেও পারে না এবং হয়ও নাই। এই নিমিত্ত ১৯৪৭ সনের ১৫-ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রথম গভর্ণরের স্থলাভিষিক্ত হন ইংরেজ রাজপুরুষ যিনি বৃটিশ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত। জল, স্থল এবং বায়ু সেনার তিনবিভাগীয় প্রধান হিসেবেও ইংরেজ রাজপুরুষগণ নিযুক্ত হন। ১৯৫৩ সন পর্যন্ত ইহারাই সমস্ত সরকারী কার্য পরিচালনার ভার গ্রহণ করিয়াছিলেন। এবং তোমরা জানো অপরাপর স্বাধীন দেশ বিদেশমন্ত্রী নিয়োগ করিতে পারে, কিন্তু ভারতে কোনও বিদেশমন্ত্রী নাই, কারণ বিদেশমন্ত্রী নিয়োগ করিবার ক্ষমতা শুধুমাত্র স্বাধীন দেশসমূহের এক্তিয়ারভূক্ত। এবং ভারত বৃটিশ রাজা অথবা রাণীর কমনওয়েলথভুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করিবার ক্ষমতাহীন, সেই স্থলে হাইকমিশনার নিয়োগ করে।

নেহেরুদের সাথে বৃটিশের চুক্তি হয় ৪৫৫ পৃষ্ঠার। সেই চুক্তি অনুযায়ী ৫০ বৎসর কাল যাবৎ ভারত বৃটিশাধীন থাকিবে অর্থাৎ ১৯৯৭ সন অবধি এই চুক্তি লাগু থাকিবে। উক্তসময় অতিবাহিত হইয়া গেলে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী উহাতে স্বাক্ষর করিয়া দেশকে স্বাধীন করিতে পারেন কিংবা চুক্তি আরও কিছুকাল বলবৎ রাখিতে পারেন। ১৯৯৭ সনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আরও ২২ বৎসর সময়কালের জন্য উহাকে বর্ধিত করিয়াছিলেন। ২০১৯ সনে যিনি প্রধানমন্ত্রী হইবেন তিনি ইচ্ছা করিলে দেশকে স্বাধীন করিতে পারেন।

 

এইসমস্ত তথ্য গোপনীয় রাখিবার উদ্দেশ্যেই প্রধানমন্ত্রী হইতে গেলে শপথবাক্যের সহিত গোপনীয়তার শপথ লইতে হয়। যাহাতে তিনি এইসমস্ত তথ্য দেশবাসীর মধ্যে প্রকাশ করিতে অসমর্থ হইতে বাধ্য থাকেন।

ইহাই হইল সেই প্রমাণহীন কাহিনী।”

 

কাহিনী সমাপ্ত হইল। প্রধানশিক্ষক আপন বক্তব্য বিস্তারিত জানাইয়া পুনরায় নিজ আসন গ্রহণ করিলেন শ্রেণীকক্ষে এক অদ্ভুত নীরবতা নামিয়া আসিল। আমিও নীরব রহিয়া ভাবিতে থাকিলাম – সূবর্ণসুযোগ উপস্থিত এবং কোনও প্রকারেই যাহাতে ইহা নষ্ট না হইয়া পড়ে তাহার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রতিটি দেশপ্রেমিক ভারতবাসীর কর্ত্তব্য। যে কোনও প্রকারে বর্ত্তমান প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় দৃঢ়চিত্তের লৌহমানবকে পুনরায় ২০১৯ সনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করিতেই হইবে এবং নচেৎ আমাদিগের বহু প্রত্যাশিত স্বাধীনতা অধরা রহিয়া যাইবে। বলা বাহুল্য, সেই স্বাধীনতা কমিউনিস্টকীটদষ্ট মিথ্যা প্রচার হইবে না বরং প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পাইব।

(অন্ত্যপর্বের অপেক্ষায় থাকিলে বাধিত হইব)

আমার ইতিহাস শিক্ষা – মধ্য-অন্ত্য পর্ব (U/A)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments