[ অনেকদিন ধরেই ব্লগের জন্য কয়েকটা লেখা তৈরি করছিলাম। কিছুতেই তাদের আর শেষ করে উঠতে পারিনা। শেষপর্যন্ত ভাবলাম এই লেখাটাই দিয়ে দিই প্রথমে। এটা ডায়েরি তে লিখেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে, মাস্টার্স চলাকালীন। একটা গল্প-জাতীয় লেখা এবং তারপরে কিছুটা নিজের কথা। তাই ভাবলাম এটা প্রথমে দিয়ে ব্লগের অচেনা বন্ধুদের সাথে একটু পরিচয় করে নিলে মন্দ হয়না। সাহিত্য আমার দ্বারা হবেনা সেই ছোট্টবেলা থেকেই জানি। লেখার মাধ্যমে যদি বন্ধুদের সাথে কিছুটা হলেও যোগাযোগস্থাপন করতে পারি তাহলেই আনন্দ পাব। ]

 

বহরমপুরে পৌঁছে সোজা চলে এসেছি বিপ্লব বর্ণিত সেই জায়গাটায়। এই মাত্র সূর্য ডুবেছে, সন্ধ্যার অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। আধো অন্ধকারে ওখানে দাঁড়িয়ে আছে… বিদিশা? ও কি আজও অপেক্ষা করে বিপ্লবের জন্য?

হঠাৎ করেই বহরমপুরে চলে এসেছি, কালকের ঘটনার পর। কাল রাত্রে একটা দুস্বপ্নে ঘুমটা ভেঙ্গে গিয়েছিল। বিপ্লব আমায় কি যেন বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছেনা। নাকি আমিই শুনতে পাচ্ছিনা ওর কথা? ওর ঠোঁট নড়ছে, অথচ ওর কোন কথা আমার কানে আসছেনা। ছটফট করতে করতে ঘুম থেকে উঠে বসলাম। দু-বছর হল বিপ্লব বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। এতদিন পরে হঠাৎ ওকে স্বপ্নে দেখার কারন কি হতে পারে? হয়তো ওর বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার খবর শুনে আমার অবচেতন মনে যে অপরাধবোধের সৃষ্টি হয়েছিল তার জন্যই…

অপরাধ আমার হয়েছিল ঠিকই, দু-বছর আগে। সেদিন অবশ্য তা মনে হয়নি একেবারেই। বিপ্লবের বাবা আমাকে ধরেছিলেন ওর মানসিক চিকিৎসার জন্য… ও নাকি পাগলের মত আচরণ করছে। আমি ওর বাল্যবন্ধু এবং উঠতি সাইকোলজিস্ট। আমি নিশ্চয়ই পারব ওর সঙ্গে কথা বলে ওকে স্বাভাবিক করে তুলতে। বিপ্লব আমায় বারে বারে বোঝানোর চেষ্টা করছিল ও পাগল হয়নি, সবাই ভুল বুঝছে ওকে। ওর আশা ছিল অন্তত আমি বুঝতে পারব ওর আবেগ টা। কিন্তু আমি শুধু হতাশই করেছিলাম ওকে। এখন বুঝি, সেদিন আমি না করেছিলাম একজন বন্ধুর কর্তব্য, না একজন সাইকোলজিস্টের।
বিপ্লব ছোট থেকেই লাজুক স্বভাবের।ওর সবচেয়ে বড় দোষ ও নিজেকে প্রকাশ করতে পারেনা। সেদিন কিন্তু মন খুলে অনেক কথাই বলেছিল আমায়। অনেক আশা নিয়ে ছেলেটা এসেছিল আমার কাছে। অথচ আমার মনে হয়েছিল পুরো ব্যাপারটাই ওর পাগলামি… জীবনের নানারকম হতাশা থেকে সৃষ্টি হওয়া মানসিক বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। ওকে পইপই করে বোঝাতে চেয়েছিলাম এইরকম অবাস্তব চিন্তার মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসতে। কিছু ওষুধ-ও prescribe করেছিলাম। সব শুনে ওর মুখটা কেমন যেন হয়ে গেল, বুঝলাম প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছে। কিন্তু আমিও ওকে বুঝতে না পারার ফল যে এরকম হবে তা কি বুঝেছিলাম? ও বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল তার পরেরদিনই।

সেদিনই বিপ্লব আমায় বলেছিল বিদিশার কথা। বিদিশার সঙ্গে ওর প্রেম কে ঘিরেই যত গণ্ডগোল। আমি ওকে বলেছিলাম সব খুলে বলতে। ও বলল - "বিদিশাকে ছেড়ে চলে আসতে হল…হয়তো চিরদিনের মত"
- "কেন?”
- "কি জানি কেন এমন হল", কেমন যেন উদাস হয়ে গেল ও।তারপর বলতে শুরু করল -
- “ বিদিশা কে সেবার বলেছিলাম – আচ্ছা বিদিশা, আমি যদি ওই অন্ধকার আকাশের তারা হয়ে যাই… তাহলে তোমার কেমন লাগবে? হলে বেশ হয়, না? মিটমিট করে চেয়ে থাকব তোমার দিকে। অনেক দূরে চলে যাব ঠিকই, রোজ দেখা তো হবে। জানো আমি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখি ওই নীল আকাশে সাঁতার কাটব, মেঘেদের আড়ালে লুকোচুরি খেলব। বিদিশার দিকে তাকিয়ে দেখলাম,অন্ধকারে মনে হল ওর মুখে একটা ম্লান হাসি। ওর সঙ্গে এতগুলো সন্ধ্যে কাটিয়েও বুঝতে পারিনি ওর মনের কথা… ও কি সত্যিই আমায় ভালোবাসে? বললাম, বিদিশা, কাল ওরা আমায় এখান থেকে নিয়ে যাবে। আমি তোমায় ছেড়ে যেতে চাইনা, কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার কিচ্ছু করার নেই। ওরা আমায় বোঝে না, আমায় ভালবাসেনা, কেউ না! ওরা হয়তো আমায় কখনো এখানে আসতে দেবেনা। কিন্তু তোমার সঙ্গে আমি দেখা করবই। একদিন একটা তারা হয়ে যাব, মাথার উপরে তাকালেই দেখতে পাবে আমায়…আবার আমরা সন্ধ্যেগুলো কাটাবো একসাথে। দেখলাম ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।ওর চোখের কোণে কি জল? আমি ধীরে ধীরে উঠে এলাম। ওর চেহারাটা ক্রমশ অন্ধকারের অস্পষ্টতার মধ্যে মিলিয়ে গেল।"
- “ কিন্তু ওরা তোকে কলকাতায় জোর করে নিয়ে এল কেন?” সবটাই কেমন অস্পষ্ট লাগছিল আমার।
- “ আমার অপরাধ, আমি বিদিশাকে ভালবেসেছিলাম" ,বলে চলে বিপ্লব, "যেদিনের কথা বললাম, তার ঠিক এক সপ্তাহ আগের ঘটনা।সেদিন ছিল পূর্ণিমা। জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। সেদিনও আমরা গল্প করছি নিজেদের মধ্যে। আমি বলছিলাম বিদিশা, যদি কখনো ছেড়ে চলে যাই তোমায়, তোমার কষ্ট হবে? তখন কি জানতাম, এক সপ্তাহ পর সত্যিই… আমার কথা শুনে সে আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল। ওর চোখের দৃষ্টিতে এমন কিছু ছিল যা দুর্নিবার আকর্ষণে আমায় টানতে লাগল।আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে এলাম দুজনে।পাশের পুকুরটার জলে চাঁদের আলো পড়ে চিকচিক করছে, ওর গায়ের মিষ্টি গন্ধে আমার মধ্যে কি যেন হতে লাগল। আরও ঘনিয়ে এলাম, চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলাম ওকে। নেশার ঘোর কাটলো পিছন থেকে একটা বিস্ময়সূচক শব্দে। আমার কাকা যে এতক্ষণ পিছনে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছেন, তা লক্ষই করিনি।
- “ তারপর?”
- “তারপর আর কি, বাড়িতে খবর গেল। আমার এই ভয়ঙ্কর অপরাধের শাস্তিস্বরূপ আমাকে কলকাতায় নির্বাসিত করল ওরা। কিন্তু ওরা এটা বুঝলনা যে বিদিশাই ছিল আমার একমাত্র বন্ধু,ওকে ছেড়ে এই ইঁট-কাঠ-পাথর আর বিষাক্ত ধোঁয়ার শহরে আমি বাঁচব কিকরে?”
- “সারা বহরমপুর শহরে তোর আর কোন বন্ধু ছিলনা?”
- “ ছিল একসময়। যখন থেকে আমি বিদিশাকে ভালবাসতে শুরু করলাম ওরা দূরে সরে গেল একে একে…কেন জানিনা…হয়তো ওরাও ভাবত আমি পাগল।আমি যখন বিদিশার সঙ্গে গল্প করতাম,ওরা হাসাহাসি করত। খুব খারাপ লাগত আমার। আরো বেশি করে যেন আঁকড়ে ধরতাম বিদিশাকে। ওর মধ্যে কি যেন একটা ছিল যা আমায় প্রচণ্ড টানত। যেদিন ওকে প্রথম দেখি, সেদিনকার কথা মনে পড়ে…সেই আমার প্রথম যাওয়া ওই পুকুরপাড়ে, তারপর থেকে যেখানে ছাড়া একটা বিকেলও অন্য কোথাও কাটাতাম না। কি মিষ্টি লাগছিল সেদিন ওকে, সেদিনই মনে হয়েছিল ও সবার থেকে আলাদা…সত্যি কথা বলতে প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে গেছিলাম ওই দেবদারু গাছটার।”

সন্ধ্যা নেমে আসছে। আর একটু এগিয়ে গিয়ে বুঝলাম…হ্যাঁ বিদিশাই…পুকুরের ধারে সটান দাঁড়িয়ে আছে। ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। গাছটাকে দেখে মনে হল ও সত্যিই সুন্দর। সবুজ পাতাগুলো আবছা আলোতেও চকচক করছে, প্রাণোচ্ছলতায় পূর্ণ ওর প্রতিটি শাখাপ্রশাখা। বিপ্লবের সঙ্গে বিচ্ছেদ যেন কোন প্রভাবই ফেলেনি ওর ওপর! মনটা খারাপ হয়ে গেল। কেন জানি আমার ধারণা হয়েছিল বিদিশাও সমান কাতর বিপ্লবের জন্য। ওকে দেখে একটা ধাক্কা খেলাম। দু-বছর আগে হলে আমার মনে হত এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আজ বিপ্লবের অনুভূতি আমার উপর এক অদ্ভুত প্রভাব বিস্তার করেছে। একরাশ বিষণ্ণতা নিয়ে ফিরে আসার জন্য পা বাড়াতেই আমার চোখ টা চলে গেল আকাশের দিকে। বিদিশার মাথার ঠিক উপরে একটা তারা…আগে কখনও দেখিনি তো!…ঝিকমিক করছে,যেন মনের আনন্দে সাঁতার কাটছে ক্রমশ কালচে হয়ে আসা নীল আকাশের জলে…
আমার মনটা শান্ত হয়ে এল। ধীরে ধীরে হাঁটা দিলাম বহরমপুর স্টেশনের দিকে। সাতটা চল্লিশের লোকাল টা ধরতে হবে।

 

**************************************

 

উপরের লেখাটা সম্পর্কে কিছু কথা বলি। লেখাই বললাম, গল্প নয়। এটাকে ঠিক গল্প বলা চলেনা,বড়জোর বলা চলে একটা গল্পের plot. কিন্তু আমার কাছে এটা একটা বিশেষ অনুভূতি। বেশ কিছুদিন আগের কথা। তখন আমি সবে শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতায় পড়তে এসেছি। আমার ভাগ্য ভাল যে আমি নরেন্দ্রপুরকেই বেছেছিলাম কলেজ হিসেবে, Saint Xaviers এর statistics department এর প্রচুর সুখ্যাতি শোনা সত্বেও।শান্তিনিকেতনের পর নরেন্দ্রপুরের পরিবেশ আমার কাছে খুব জরুরি ছিল। ঘটনাচক্রে তারপর পেলাম ISI campus. সেটাও অনেকাংশেই গাছপালায় ভরা ছিমছাম একটা campus. আমাদের কলেজের শিক্ষকদের শত 'প্ররোচনা' সত্ত্বেওCalcutta University তে ভর্তি হইনি একমাত্র ওই কারনেই। ছোট থেকে গাছপালার মধ্যে মানুষ, মফঃস্বলের ফাঁকা ফাঁকা পরিবেশে বেড়ে উঠেছি, কলকাতা শহরটা এককথায় অসহ্য লাগত তখন…এত গাড়িঘোড়া,এত শব্দ,ধোঁয়া আর শান্তির অভাব…মানুষ যে কিকরে ওখানে বসবাস করে তাই ভাবতাম। এইরকম একটা সময়েই ওই অনুভূতি টার জন্ম। কিভাবে যে নিজেকে ওই গল্পের নায়ক বিপ্লবের সাথে মিলিয়ে ফেলেছিলাম জানিনা। ওর মত 'পাগলামো' আমার কোনদিনই ছিলনা,তবুও ওরকম 'পাগলামো' কারো থাকাটা অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তাই সেদিন লিখতে বসেছিলাম বিপ্লবের কথা।
ব্যাপারটা খুব একটা পরিষ্কার হলনা, তাই না? আসলে আমিও যে অনেকটা ওরই মত…পরিষ্কার করে নিজেকে প্রকাশ করতে পারিনা। আরেকটা এক্সপেরিমেন্ট করার ইচ্ছেও ছিল…গল্পের শুরু থেকে ক্রমশ অতীতের পথে যাওয়া…ফ্ল্যাশব্যাক, তার ভিতর আরো ফ্ল্যাশব্যাক…অনেকটা এইরকমের। স্বীকার করি, সে এক্সপেরিমেন্ট ঠিক সফল হয়নি।

নায়কের নাম বিপ্লব হওয়ার একটা ইতিহাস আছে। নরেন্দ্রপুরের বন্ধু এবং রুমমেট বিপ্লব সরকার আর আমি দুজনে মিলে ঠিক করেছিলাম দুজনে দুটো গল্প লিখব। আমার গল্পের নায়কের নাম হবে বিপ্লব,আর ওরটায় প্রত্যয়। ওর গল্পটা বোধহয় শেষ হয়নি, আর আমি এটা শেষ করলাম তিন বছর পর। খুব সম্ভবত ওর সেই অর্ধসমাপ্ত গল্পটার শেষ লাইন ছিল "এই বলে প্রত্যয় একটা বিড়ি ধরালো"। লাইনটা পড়ে মজা পেয়েছিলাম, তাই আজও মনে আছে।
গল্প আমি ঠিক লিখতে পারিনা, কবিতা তো আরোই না। প্রেমে পড়লে নাকি মানুষের কলম দিয়ে গজগজ করে কবিতা বেরিয়ে আসে। কিন্তু আমি ওই ব্যাপারটিতে পড়া সত্ত্বেও কখনো সেরকমটা হয়নি। তবে এই ধরনের গল্পের plot জাতীয় লেখা আগেও বেশ কিছু লিখেছি, স্রেফ এক্সপেরিমেন্ট করব ভেবেই। তার মধ্যে একটা ছিল 'মাটির প্রদীপ'…রহস্য রোমাঞ্চ! সেটা আমার অত্যন্ত পছন্দের লেখা ছিল। আমার ধারণা কোন ভাল লেখকের হাতে পড়লে ওটা থেকে একটা দারুণ গল্প হতে পারত।এখন লিখতে গিয়ে ওটার কথা মনে পড়ে খুব পড়তে ইচ্ছে করছে। সে ডায়েরি টা কোথায় আছে কে জানে?
মাটির প্রদীপ অবশ্য একশো শতাংশ মৌলিক রচনা বলা চলেনা। অন্তত ৫% শরদিন্দুর মৃৎপ্রদীপ আর সত্যজিতের বাতিকবাবু দ্বারা অনুপ্রাণিত। তাতে কিই বা এসে যায়? সত্যজিৎ যখন আমার গল্প থেকে হুবহু টুকে দেন তার বেলা? সে এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা। ক্লাস ফাইভ নাগাদ গোভূত নামে একটা গল্প লিখেছিলাম। কিছুদিন বাদে সত্যজিতের একটা গল্প পড়তে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। নামধাম আলাদা হলেও গল্পের প্রধাণ বিষয়বস্তু হুবহু গোভূতের সাথে এক! অথচ আমি কোনভাবেই ওই গল্পটা তার আগে পড়িনি। খুব অবাক হয়েছিলাম এই ঘটনায়। সত্যজিৎ আমার গল্প ঝেড়ে দেওয়াতে আহতও হয়েছিলাম একটু। অবশ্য মৃত্যুর পাঁচ বছর পর কিকরে উনি আমার গল্প থেকে টুকতে পারেন সে প্রশ্ন মাথায় আসেনি।
এরকম আরেকটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছিল আরেকবার। নরেন্দ্রপুরে থাকতেই প্রতিভা নিয়ে একটাstatistical লেখা লিখেছিলাম। তার মূল বিষয়বস্তু ছিল এই যে প্রতিভা জিনিস টা মানুষের চরিত্রগঠনের সাথে সাথেই গঠিত হয়…কেবল কিভাবে হয় তা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারিনা,কারন তার পিছনে আছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারন যারা প্রত্যেকে individually insignificant, কিন্তু তাদের সমষ্টিগত ফলই হল প্রতিভা। এককথায় statistics এ যাকে experimental error বলে সেই ধরনের ব্যাপার। মোটকথা আমি কোনভাবেই প্রতিভা কে ঈশ্বরদত্ত বা জন্মগত গুণ বলে মেনে নিতে পারিনি। প্রায় একবছর পরের কথা…হাতে এল মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা প্রবন্ধের বই, আর তাতে একটা প্রবন্ধ : প্রতিভা। পড়ে আমি তো অবাক!লেখার মূল বক্তব্য হুবহু এক। উনি বিজ্ঞানের ছাত্র, কিন্তু statistics এর তো নন। তাই ওই শব্দগুলো উনি ব্যাবহার করেননি, কিন্তু যুক্তিগুলো একদম এক। এবার অবশ্য আমি দুঃখ পাইনি,বরং খুশিই হয়েছিলাম মাণিকবাবু আমার সাথে একমত হয়েছেন দেখে।

এতসব গল্প বলার কারন আর কিছুই নয়, নিজের ঢাক পেটানোর একটা মঞ্চ তৈরি করা। সে মঞ্চ তৈরি হওয়ার পর এখন বলি, দেখচেন তো? প্রতিভার দৌড়ে এ বান্দা নেহাত কম যায়না! "বঙ্গসাহিত্যের দুই মাণিক অনেকটা আমার মত করেই লেখেন"…এই কথাটা ভাবার মধ্যে যে তৃপ্তি আছে, তা আপনারা কখনই অনুভব করতে পারবেন না।

অনেক বাজে বকা আর দুষ্টুমি হল। উপরোক্ত গল্প-জাতীর লেখাটির সমসাময়িক একটা ছড়া/কবিতা দিয়ে শেষ করি।

রিমিল,
ওদের শিখিয়ে দিবি
পথের ধুলো?
সবুজ আলোর ভোরবেলাটা?
গাঁয়ের আকাশ দেখতে কেমন?
কি রঙা ফুল অশোক গাছে?
মনখারাপের গানটা নাহয় নাই শেখালি…
সে শুধু থাক
তোর আর আমার…

রিমিল,
ওদের চিনিয়ে দিবি
পুকুরপাড়ের দুপুরবেলা?
জলপোকাদের তিড়িংবিড়িং?
বটগাছ-টা ছায়ার মায়ায়
কেমন করে শহরের সব কান্নাগুলো ভুলিয়ে দেয়?
নীল আকাশের পথ-টা নাহয় নাই চেনালি…
যেখান দিয়ে চলতে চলতে
চলতে চলতে
একদিন ঠিক হারিয়ে যাব…

ছোট্ট রিমিল,
ভাল থাকিস
ভালবাসিস…

আমার লেখা আর লেখার আমি
  • 4.00 / 5 5
2 votes, 4.00 avg. rating (80% score)

Comments

comments