শুনলাম এদ্দিন শুধু "নিষিদ্ধ" মাংসের রান্না দিয়েছিলাম বলে অনেকের নাপসন্দ হয়েছে। এদিকে একজন আবার বলল রেড মিট খাওয়া বন্ধ ডাক্তারের নির্দেশে। সব মিলে ভাবলুম এবারে একটু হাল্কা রান্না দেওয়া যাক, যাতে করে ডাক্তার বা ধর্মানুভূতি, কেউই বাধ না সাধে। (শুনেছি এখনো অনেক গোঁড়া বামুনের হেঁসেলে চিকেন ঢোকেনা, সেরকম হলে আমি নাচার!)

ভয় পাবেন না, এই রান্নার জন্য আপনাকে বাজারে গিয়ে লিকলিকে রোগা মুর্গি কিনে আনতে হবেনা। রান্নাটা শুধু হোয়াইট মীট বলেই না, মশলাপাতির দিক থেকে ভাবলেও বেশ হাল্কা আর স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এটা খেয়ে স্লিম থাকতে পারবেন, সেই ভেবেও লিকলিকে চিকেন নামটা দেওয়া নয়। আসলে এই রান্নায় চিকেন ছাড়া থাকবে প্রচুর পরিমাণে লিক (Leek)। বিচিত্র সবজির ভাণ্ডারে চাইভ এর কথা বলেছিলাম। সেই চাইভ যদি পেঁয়াজকলির ছোটোভাই হয়, তবে এই লিক হল গিয়ে পেঁয়াজকলির বড়দা। অত্যন্ত উপকারী, হাল্কা মিষ্টি ভাব আছে, আর আছে দুর্দান্ত একটা ফ্লেভার।

মার্কিন দেশে লিক প্রচুর চলে। আমাদের দেশে অত না চললেও একটু খোঁজ করলে পাওয়া যায়। একান্ত না পেলে এই রান্নাটা পেঁয়াজশাকের গোড়ার সাদা অংশটা দিয়ে করা যেতে পারে, তবে ফ্লেভারটা তাতে অন্যরকম হবে।

রান্নার জন্য লাগবে -

বোনলেস চিকেন (ব্রেস্ট বা থাই), খুব ছোটো ছোটো পিস করা – ৫০০ গ্রাম
লিক – ৪-৫টি
গোটা গোলমরিচ – ১০-১২টা, হামানদিস্তা বা গ্রাইন্ডারে থেঁতলে নেওয়া (কোর্স গ্রাইন্ড)
মাখন – পরিমাণ মত
নুন – পরিমাণ মত
চিনি – দু চা চামচ
লেবুর রস – এক চা চামচ

উপাদান দেখেই হয়তো বুঝতে পারছেন, রান্নার প্রণালী খুব সহজ। কিন্তু তার আগে যাঁরা আগে কখনো লিক ব্যবহার করেননি তাঁদের জন্য বলি কিভাবে এটা ধুতে এবং কাটতে হয়। লিক কেনার পর তার সাদা রঙের গোড়া আর সবুজ রঙের পাতা আলাদা করে চিনতে পারবেন। আমরা এই রান্নাটা করব শুধু সাদা অংশটা দিয়ে, কিন্তু তা বলে পাতাগুলো ফেলবেন না। ওগুলো দিয়ে অসাধারণ স্যুপ বানানো যায়। চাই কি, চিকেন একটু বেশি করে কিনে ওই লিকের সবুজ অংশ আর কিছুটা চিকেন দিয়ে সাধারণ ক্লিয়ার স্যুপ বানিয়ে নিতে পারেন। এছাড়াও নানারকম স্যুপে লিকের পাতা দেওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে না বানাতে চাইলে কুচি করে ডিপ ফ্রিজে তুলেও রাখতে পারেন।

সাদা অংশটা আলাদা করে কেটে নেবার পর সেটাকে লম্বালম্বি অর্ধেক করতে হবে। এবার সামান্য গরম জলে মিনিট দশেক ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ভাল করে ধুয়ে নিন ওই জলের মধ্যেই। এতে করে লিকের মধ্যে কোনো মাটি থাকলে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। লম্বালম্বি কাটাটাই ট্রিক। ধোয়া হলে এবার আরো একটু ছোটো করে কুচিয়ে নিন। কুচানোর পর নিচের ছবির মত দেখতে হবে।

এবার প্যানে এক কিউব মাখন দিয়ে সেটা গলে গেলে তার মধ্যে লিকের কুচিগুলো দিয়ে দিন। চিকেনের পিসগুলোর থেকে জল একদম ঝরিয়ে রাখলে ভাল হয়। লিক একটু ভাজাভাজা হলে চিকেন দিয়ে দিন। সেটাকেও নেড়েচেড়ে ভাজতে হবে, যতক্ষণ না একটু লালচে হয়। পিস ছোটো হবার দরুণ সিদ্ধ হতেও বেশিক্ষণ লাগবেনা। মিনিট পনেরোর মধ্যে পুরো ব্যাপারটা ভাজা ভাজা হয়ে এলে তার মধ্যে নুন চিনি আর লেবুর রস দিয়ে অল্প আঁচে পাঁচ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। রান্না করতে করতে কোনো সময় ভীষণ শুকিয়ে যাচ্ছে মনে হলে সামান্য জল দিতে পারেন, তবে রান্নাটা শুকনো শুকনোই হবে। নামানোর পর ছড়িয়ে দিন থেঁতলে গোলমরিচ।

ভাতের সঙ্গে খাওয়া যায়, শুধু মুখে খেতেও দারুণ লাগে। আমি সাধারণত স্টার্টার হিসেবেই ব্যবহার করি। এবার বানিয়ে ফেলুন চটজলদি, আর কেমন লাগল জানিয়ে ফেলুন কমেন্ট করে।


 

 

আমিষের মজা (৩) – লিকলিকে চিকেন
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments