শাক দিয়ে মাছ সত্যিই ঢাকা যায় কিনা সেই গভীর দার্শনিক প্রশ্নটা অনেক দিন ধরে ভাবাচ্ছিল। কোনো গুরুতর প্রশ্নের সম্মুখীন হলে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখে নাও, আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষেরা বলে গেছেন। তাই কোনো এক শুভ সকালে শাক আর মাছ নিয়ে বসা গেল।

বাড়িতে ছিল কিছু ডাইনোসর কেল (Dinosaur kale)। নাম শুনে হয়তো ভাবছেন এই কেলো করেচে! অত ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কোনো ভয়ঙ্কর জন্তু না, স্রেফ এক সাদামাটা সবুজ শাক। সায়েবরা কাঁচাই খায় (কি করে খায় কে জানে), কিন্তু আমি রেঁধেই খাওয়ার কথা বলব। কদিন আগে চীনা দোকান থেকে কিছু পাঁকাল মাছ কেনা ছিল। কিভাবে রাঁধব ভাবতে ল্যাদ লাগছিল বলে এদ্দিন পড়ে ছিল ফ্রিজারের কোনায়। গভীর দার্শনিক রহস্য সমাধানের তাড়নায় সে বেরিয়ে এল ফ্রিজ থেকে। তারপর কি হল জানতে নীচে দেখুন।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে যা যা দরকার -
(১) বেশি করে শাক। আমি কেল দিয়ে করেছি, সুইস চার্ড (Swiss chard) দিয়েও ভাল লাগে। অন্য শাকও চেষ্টা করা যায়। তবে শাকটা একটু শক্ত গোছের হলে ভাল হয়, পালং এর মত নরম ক্যাতক্যাতে শাক দিয়ে ভাল লাগবেনা।
(২) শাকের তুলনায় কম পরিমাণ মাছ। এই পরিমাণের অনুপাত নিজেই ঠিক করুন, সবই আমি বলে দেব নাকি? তবে মনে রাখবেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গেলে কম শাক নিলে কোনোভাবেই হবেনা। বেশ শাক নিলেও হবে কিনা তার কোনো গ্যারান্টি নেই অবশ্য।
(৩) পাঁচ ফোড়ন, একটু বেশি করে। ৪০০ গ্রাম মাছের জন্য ২ টেবিল চামচ মত। 
(৪) চার পাঁচটা কাঁচা লঙ্কা, বা কতটা ঝাল খেতে চান সেই অনুযায়ী।
(৫) পরিমাণ মত নুন, তেল, হলুদ আর সামান্য শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো।

উপাদান দেখে ভাবছেন বেসিক কয়েকটা জিনিস নিয়ে এসে জগাখিচুড়ি বানিয়ে আবার রেসিপি লিখে পোস্ট করছি? একবার বানিয়ে খেয়ে দেখুন…

উপাদানগুলো হাতের কাছে জড়ো হলে মাছটা ছোটো ছোটো পিস করে ভেজে রাখতে হবে। ভাজার সময় হলুদ, অল্প নুন আর শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো মাখিয়ে নিতে হবে। এরপর প্যানে তেল দিয়ে পাঁচফোড়ন আর কাঁচালঙ্কা দিন। তারপরে কুচো করে কাটা শাকটা দিয়ে ভাজতে থাকুন। শাক একটু ভাজা ভাজা হলে নুন দিন, নুন মিশে গেলে ভাজা মাছের টুকরো গুলো দিয়ে ভাল করে শাকের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। কিছুক্ষণ ঢাকা দিয়ে অল্প আঁচে রান্না করলেই রান্না শেষ। এরপর শাকের পাতাগুলো হাতা দিয়ে টেনে টেনে এনে মাছের পিস গুলো ঢেকে দিন। ভাত আর মুসুর ডাল দিয়ে মেখে খেতে বেশ লাগে।

ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে আমি ব্যর্থ হয়েছি। আসল শাক কাঁচা অবস্থায় যতটা মনে হয়, ভাজলে পরে এতটাই কমে যায়, সব আন্দাজ গুলিয়ে যায়। সে যা হোক, আমি ঢাকতে পারিনি মানে এমন না যে ঢাকা যায়না। একটা কাউন্টার এক্সাম্পল দিয়ে ডিসপ্রুফ করা যায়, কিন্তু একটা এক্সাম্পল দিয়ে প্রমাণ তো হয়না। তাই, শেষপর্যন্ত গভীর দার্শনিক প্রশ্নটা আনসল্ভডই রইল। কি বলছেন? তাহলে রেসিপির নামকরণটা অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে? মরুক গে! রান্নাটা করুন, প্রাণভরে খান, আর তারপরে এখানে কমেন্ট করে জানান কেমন লাগল। তাহলেই আমি খুশি।

 

আমিষের মজা (৪) – শাক দিয়ে মাছ ঢাকা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments