আমার আকাশ ঘুড়ি , তোমার পাড়ার নীলে ; ব্যাটম্যান লুকোচুরি , নোলানের সিনে-রিলে
তোফা নাটুকে ক্যারিশমা। ফিরে আসা কাপুর কন্যা নয় , উত্তরবঙ্গের বন্যা নয়। সিনেমার পর্দা জুড়ে বাদুড়-মানুষের দুদ্দাড় হুংকার। ঝাড়া ঘণ্টা আড়াই গোথামের বনে , পপকর্ন অনুপানে অ্যাড্রিনালিন মিকচার। উত্তেজনার লোডে অসভ্য মোবাইলগুলো সটাসট লুমিয়ের মোডে । গ্যাজেট ফ্রিকরা এবং সিনেমা-টিকরা নিজস্ব মতামত গুলোর নোট নিতে মিস করছেন অবিরত। বাতাসখেকো বিদেশী মোগ্যাম্বো “বেন” গোথামের দখল নেবেন নেবেন করছেন। দর্শক কুংফু সম্রাট “ব্রুস লি”র “ইন” মার্কা দৃঢ়তায় স্থির। সিট-এর ককপিট আঁকড়ে ধরছে আঙুল। পার্ক খ্যাদানো প্রেম-কারকরাও ফিসফিস ছেড়ে নির্বিষ। কন্টাক্ট-চোখের ছাউনি মাইনাসে ফ্রিজ। তখনি ফিরে আসে “ইয়ং”।

বাঁধ ভাঙে ধৈর্যের মন্ত্র। তুমুল ঝাড়পিটের পর মহাকাব্যিক অন্ত। সমুদ্রে থেমে যায় ফিউশন বোমা। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নাচে এয়ারক্রাফট। সবাই ভাবছে নায়ক বুঝি ড্রাফ্‌ট হল স্বর্গে। এদিকে হঠাৎ কখন ব্যাটমোবাইলের সঙ্গে পায়ে পায়ে পাল্লা না দিতে পেরে , সময় থমকে গেছে। মনের ভেতর অন্য কেউ একটা প্রবল শক্তির উৎসে আত্মসমর্পনে মগ্ন। চিন্তার গ্যালাক্সি একের পর এক সুপারনোভার বিস্ফোরণে দাহ। মস্তিষ্কে গলে যাচ্ছে জমাট হিমবাহ। পর্দা থেকে লাফিয়ে নেমে আসে আরও একটা “আমি”র ক্লোন। আমিও পারি। এই ভাঙচুর , এই দর্শন , এই প্রতিবাদের মোড়কে যেন আমরা বেগুনী মুখোশ ছাড়াই আস্ত এক একটা সাইক্লোন।

রাইজের শেষে হাসিখুশি ব্রুস ওয়েনের মানুষের সাইজে রেজারেক্সন হলে নিভে যায় প্রোজেক্টর। আবার সেই পুরনো ঘর ,  চার দেওয়ালের কংক্রিট খাঁচা। কল্পনার নখের আঁচড়ে , ক্যালেন্ডারের লাল কালিতে ধুঁকতে ধুঁকতে বাঁচা। কোকা কোলার অন্তরাল থেকে এমিল জোলার জার্মিনাল। বাস্তবের সাথে সহবাস। খুব অসহায় লাগে টলসটয়ের সেই বৃদ্ধ কবির মত , শুধু বাঁচার মন্ত্র লিখতে চেয়ে যার কারাগার-বাস। একলা চাপা রাগের কলমে “ব্রেসোনিয়ান” যান্ত্রিক উচ্ছাস ।

ফুতপাথে পা বাঁচিয়ে হাঁটতে থাকি প্রানপনে। ফুসফুসে ধুলোর মেঘে সয়ে থাকা পাপ ; নারসিসিসট ঘোরে একা একা জীবিত হয় সংলাপ। নিকোটিনে কাঁপা কাঁপা হলদে হাতের তর্জনী তুলি। ওই তো ভণ্ডামি। অ্যানটিম্যাটার নই ; নই কল্পনা দ্রুতগামী। সাদাকালো আয়নায় নিখুঁত আমি।

আমি সেই নির্ভীক চিত্রসাংবাদিক। হায়নার দলের মাঝে এক অসহায়কে দেখি জঘন্য তীব্রতায় বারবার ক্ষতবিক্ষত হতে। তবু ভিড়ের মাঝে আমি কেমন নিভৃতে। পুরুষ হয়ে নিজের ছায়ারও লজ্জা আসে , তবে গ্লানি ঝেড়ে ফেলি অক্লেশে। তার চেয়ে বরং ওয়েট করি , দেখি কি হয় শেষে। বেশ দেখল আমার ডিজিটাল ক্যামেরা। আমি শুধু হাততালি দিয়ে অথর্ব সাজতে পারি , ভাঁজতে পারি কোন মোডে দিলে আসবে বেটার রেজোলিউশন। নাকি এক্সপোজারে অদল বদল ! জুম করলে কি হবে স্পষ্ট আরও… ? গোল্লায় যাক সেই মেয়ে , এবার দেখবে পুরো দুনিয়া চেয়ে চেয়ে। ধেয়ে আসি বাড়িতে। সাংবাদিক লেভেলে আমি এখন প্রথম সারিতে। এ টু জেড নামাই ল্যাপটপে বসে। ইয়ার-দোস্ত দের পাঠাই উল্লাসে। ঘুমনোর আগে কনসোল সাজিয়ে খেলতে বসি কিছুক্ষন। বাগিয়ে ধরি জমানার নতুন খেলনা অ্যামুনিশন। ঝরুক রক্ত;আমার তো আর লাগছে না খোঁচা।

ধসছে পীলার,বাড়ছে খিদে অন্ধকারের খাতা।গভীর রাতে জাবর কাটে হেরিটেজ কলকাতা

আমার গোপন শিরায় শিরায় অতৃপ্ত লালসার নেশা। গভীর রাতে পার্ক সার্কাসের কোন নির্জন প্ল্যাটফর্ম , রাজারহাটের শীতল অজগর রাস্তা , বারাসাতের চেনা গলির আঁধার ঘুরে , কত কিই তো হয়ে যায় চট করে। সত্যিই কি কেউ কিছুই দেখতে পায় না? সত্যিই কেউ কি কিছু দ্যাখে নি ? আমি কিন্তু দেখেছি ওই আড়াল রেখে। কিভাবে নেকড়ের দল ছিঁড়ে খুঁড়ে খায় মৃত খরগোস চেখে। অসহ্য দৃশ্যপাত। হাইপার টেনশনের বড়ি গিলে নি আনমনে। পায়ে পায়ে মন্দনে পিছু ফেরা মুনওয়াক। কিছু পরে ধীরে ধীরে চিৎকারের ডেসিবেল প্রায় নিভু নিভু। একটা গোঙ্গানি বাতাসে ভাসছে তবু। ফ্ল্যাটে ফিরে স্নান সারি। ডিসকাউনটে কেনা নতুন সাদা পাঞ্জাবি গায়ে , তীরন্দাজের লক্ষ্যে  চোখ রেখেছি টিভি পর্দায়। পরদিন সকালে গরম চায়ের ধোঁয়ায় অপেক্ষা করে থেকেছি খবরের কাগজটার। লটারির রেসালটের মত কোন কলামে কত পাতায় আমার দ্যাখা মুহূর্ত ছাপা হয়ে এলো সেটাই খেলা। মিলিয়ে দেখি। আপসোস করি। ব্যাটা সাংবাদিক কোথাকার। না জেনেই দিয়েছে মেরে। আমি লিখলে হত বেস্টসেলার নয়ত মিলত বুকার। আমি কিন্তু পারি না আমার ভেতরের ধর্ষকটাকে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে ধুলোর মাটিতে নামাতে। নিজের হাতে কেটে দিতে একে একে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। দাঁড়িয়ে দেখতে যতক্ষণ না সবটুকু রক্ত মেঝের রঙ বদলে দেয়। ইজিচেয়ার থেকে উঠে হেঁটে যাই। বুকশেলফ থেকে টেনে বের করি প্রিয় কবির রোম্যান্টিক বই। তেলেভাজা খেতে খেতে ঝেড়েঝুড়ে পাতা উল্টে দেখি বইমেলা-চকচকে লেখকের সই।

নাড়তে ভালো লাগে আমার , চাড়তে ভালো লাগে ; হাটটিমাটিমটিম, ডিম পাড়তে ভালো লাগে

খাকি হোক বা সাদা; উর্দি আমার ভীষণ প্রিয়,দাদা। রাস্তার মোড়ে হাত পেতে ছিঁচকেমি, ট্র্যাফিক লাইটে ঘুষ, মগজধোলাই, চোর-পুলিসে ভাই ভাই …এসব তো ইতিহাস। বর্তমানে স্পেশাল কেস গুরু। কাজটাকে শিল্পিত করলে আমি “লিঙ্গ খোঁজারু”। বড়কত্তারা যেভাবে ভজান,মহামান্য হাইকোর্ট যেভাবে আদেশে মজান, তত্ত্বতালাশ সেই ইস্তক। সঙ্গে থাকেন কিছু বিশেষ-অজ্ঞ চিকিৎসক। কেন জানিনা বারবার, সত্যিটাকে জেনেও আশ মেটে না মোটেও। অজানাকে জানবার,অচেনাকে চেনবার আর্তি কি কেবল কবিদের বা হোবোদের ? নাকি বিটলস,লোবো দের ? ওয়ান সাটার ঝুলিয়ে , দাঁত কেলিয়ে আমরাও থাকি লালবাজারি। একটা জঘন্য , বন্য তাগিদে আদিম দরজায় করাঘাত করি। সাধারনে কয়েক মুহূর্তের গপ্পো হলেও আমার প্রাইডের খনি , আমার ইচ্ছের “অবনী” মাসখানেক না হলে ড্রিমি ড্রিমি চোখে দরজা খোলেন না। এতদিন চলেছে রোজ রোজ টিভিতে মুখ,নতুন জমানো গোঁফ , ইন্টার্ভিউ ছোঁকছোঁক। গিন্নীর আদর আর আজকাল ঝাঁটায় বা পাখাপেটায় নয় ; রিভিউ করি বাৎস্যায়নের নোটবুক। নজরিয়া বদলে গেছে , বদলে গেছে লুক। এখন আমি দাবাং , আর নই বুড়ো ভাম। সেলেবের সাথে থেকে পাই সেলেবিয়ানার দাম।

নিজেকে না জানার যে এত আনন্দ কে জানত। পায়ের খাঁজে খাঁজে , নেশাতুর শরীরে পোড়া ঘাস। আঙুল রাখি মাটিতে। বৃষ্টির যুবভারতীর মত ডুবে যায় হাত। আমি দার্শনিক নই , স্পুটনিকও নই ; নাসার লুকোনো এলিয়েন নই , পোয়ারো-ধূসর ব্রেইন নই , জমাট বরফে তাজানো সফেন শ্যাম্পেনও নই। আমি তো আসলে কেউ নই, যাকে আপনি  চেনেন। সেই অফিস নই , কালো ছাতা নই। সেই লেজার খাতাও নই যেগুলো আপনি চিনতেন অক্লেশে। আমি তো আসলে কোন কোচিং ক্লাস নই , স্কুল বাস নই , রঙ চটা হলদে পড়ার টেবিলটাও নই , যাকে সবাই চিনতো একসময়। ফোটো-শুটে নেই কোনো ,ম্যাগাজিনের লাল-নীল প্রচ্ছদ মুখে মাখি নি কখনো। যাকে তুমি ভালোবাসো ; যাকে তুমি ভালবাসতে।

আমি অমৃত হতে পারি , বিষ হতে পারি। আমি নরম বালিশ হতে পারি , অথবা ধারালো নখ। আমি তো আসলে নিছক একটা … প্র্যাকটিক্যাল জোক।

আমি ও ব্যাটম্যান
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments