'আলাস্যাং হি মনুশ্যানাং শরীরস্থ মহারিপুঃ
নাস্ত্যদ্যাম সমবন্ধুঃ কৃত্বা ইয়ং নায়সিদতি '

'উদ্যমেন হি সিদ্ধ্যন্তি কার্যানি না মনরথেই
ন হি সুপ্তস্য সিংহস্যঃ প্রবিসন্তি মুখেঃ মৃগা '

আলস্য কি সুধু শরীরের নাকি কঠোর পরিশ্রম মনের করতে মানা ? ভেবে টেবে মাথা চুলকে এত যে মানসিক পরিশ্রম করে এসব ঘেঁটে ঘুঁটে বার করলাম ,এগুলো তাহলে শাস্ত্র মেনে আমার শরীরে খামোখা রিপু রেটিং বাড়িয়ে দিল । হবেই বা, শাস্ত্রে লেখা আছে যখন তখন আলবাত হবে ,গ্যারান্টি দিয়ে বারে বারে হবে !! তবে অলস না হয়ে যদি just ল্যাদ খাই , তাহলে যা হবে তাও কি শাস্ত্রে বাতলানো আছে? আছে বৈকি,যেরকম অলস সিংহের মুখে হরিন ছানা হেঁটে হেঁটে এন্ট্রি মারেনা সেরকম জঙ্গলে গিয়ে সিংহের গুহার সামনে 'ল্যাদ' খেয়ে পড়ে থাকলে সেই সিংহও অলস হয়ে থাকবে এরকম কোনো গ্যারান্টি শাস্ত্র দেয় না !! কিন্তু সেদিন আবার ন্যাটজিও তে দেখালো গুহা টুহা নেই, ফাঁকা মাঠে অলস সিংহটা গ্যাট মেরে বসে আছে , মধ্য আফ্রিকার হাওয়ায়ে ঘাসের সাথে তাল মিলিয়ে তার কেশর দুলছে আর ওদিকে proactive সিংহীটা এদিক সেদিক হরিনের পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল যে সেই সিংহীটা হাফ মরা হরিন শাবক এনে সিংহের হাই তোলা মুখের সামনে পেশ করছে। আজব ব্যাপার তবু ব্যাটা সিংহ খাচ্ছে না, হাইট অফ আলসেমি মাইরি ! প্রবিসন্তি তথাপি না খাদন্তি ! তবে কি শাস্ত্র-রচয়িতারা ন্যাট-জিও-টিও দেখেন নি বলে এরকম নাকি তখনও সিংহদের জেন্ডার নিয়ে বিশেষ একটা গবেষণা ইত্যাদি হয়নি আর্যাবর্তে ।

আলস্য নিয়ে এত confusion পোষায়ে না মাইরি তবু অলস হওয়ার একটা দায়বদ্ধতা থেকেই যায় ! ছোটবেলায়ে চার আনার চানাচুরে কিনে ঠোঙ্গা চাইলে মুদি যেরকম মুখ করত , অলস কে অলসতা নিয়ে কিছু বলতে বললে সে কিন্তু সেটুকুও করে না। ভীষণ চেয়েও সেই পিপুফিসু কেন পিঠ ফেরায়নি তার উত্তর গুগল-এ সার্চ করুন, বুঝবেন অলসরা কেন এতটা অলস ! আবার খেয়াল করে সামলে সুমলে দেখলে আলস্য ব্যাপারটা কিন্তু ভারী আপেক্ষিক। যারা ঘন্টার পর ঘন্টা ইন্টারভিউ-এর কিউ তে দাড়িয়ে থাকে বা লেক-এর ধরে তাদের কাউন্টারপার্টের জন্য অপেক্ষা করে ,তারা কি আদপে অলস? যারা নড়ছেও না, চড়ছেও না ,খামোকা কাউকে খিমচাচ্ছে না , সুধু দাড়িয়ে অক্টারলোনি মনুমেন্টের ধারে দড়ির খেলা দেখছে , তারাও কি অলস? কেউ 'ওটা একটু এগিয়ে দিন না ' বললে তার প্রত্যুত্তরে 'ওটা তো একটু এগিয়েও নিয়ে নেওয়া যায়' বলাটা আমাদের আলস্য বিরোধী সংগ্রামের ক্লাসিক কেস স্টাডি। 'আমার দ্বারা হবে না ' – এটা আলস্য না কি ইন-confidence? আর 'আমি পারি কিন্তু করবনা' টাও তাহলে আলস্য নয়, মায় overconfidence ! তাহলে 'আমি করছি কিন্তু হচ্ছে কই' – এটা কি?

আলস্য কি তাহলে ফালতু একটা মৌলিক অধিকার যেটা কিনা কোনো শাস্ত্রে বোঝানো যায় নি। কোনোভাবেই যেতেও পারেনা কেননা তাহলে শাস্ত্র-রচয়িতাকে আলস্য কি তা বুঝতে গিয়ে নিজেকে পরম আলস্যপ্রাপ্তি করতে হত । সে প্রজেক্ট হাতে নিত বৈকি কিন্তু যেহেতু সে সয়ং আলোস্যশাস্ত্রর সার বুঝে ফেলত, তাই তার উপলব্ধি আর তালপাতার খরখরে সারফেসে খাগের কলম দিয়ে লেখা হয়ে উঠত না । তাই জন্য আজও কর্ম সুত্রে তিন দিন ব্যাপী ট্রেন যাত্রার সময় উদ্যমী কেউ একজন দেখবেন, আলস্য ও একঘেয়েমি দূর করতে প্রথম প্রথম shuffle-এর নামে তাসের গাদা জোরে জোরে পেটায় । তার পরের বার লোকাল ট্রেনে সে টু ক্লাবস কল হাঁকে। কয়েক মাস পরে ট্রেন থেমে গিয়ে car-shade-এ ঢুকে গেলেও, সে কিন্তু তিন ইস্কাবনের দেশে দুই রুইতনকে খুঁজে বেড়াচ্ছে অন্ধের মতন । সেই ল্যাদচুরামনিকে যখন তিন বছর পর আপনি দেখবেন , সে আর তখন কোনো কাম কাজ করছে না, ট্রেন ফ্রেনও ধরছে না। সারা দিন ব্যাপী KMC-এর তৈরী করা ঝাঁ চকচকে ফুটপাথে নিল প্লাস্টিকে বসে লুঙ্গি তুলে বিড়িতে টান মেরে 'থ্রী নো ট্রাম্প' কলে নিজেকে পূর্ণ নিম্মজ্জিত করেছে, সেও বুঝি অলস না কি অক্ষম ?

মধ্য রাতে অভ্যেসের বসে যখন তেষ্টা পায় তখন অলস রাতে কেই বা গ্লাস ভরা জল বাড়িয়ে দেয় বলুন ? অবুঝ মনে প্রশ্ন জাগে, অলসতা তো আমার নয় তাহলে কার? গ্লাসের, জলের, রাতের না পিপাসার? বললাম না পুরোটাই আপেক্ষিক, চোখ বুজলেই মুশকিল আসান। নিথর দেহে এক ছুটে তখন ডানকুনির বিস্লেরির ফ্যাক্টরি তে গেলেই মিনারেল ওয়াটার-এর বড় বড় হোস পাইপে মুখ লাগিয়ে অলস দেহের প্রাচীন তেষ্টা বিনা শ্রমে কয়েক সেকন্ডে মেটানো যায় । নাহ, ভাবের ঘোরে হোস পাইপের তোড়ে ছিটকে গেলে কে ওঠাবে , তার চেয়ে বরঞ্চ শুকনো গলায় শুয়েই পড়ি। সেরকম হলে বাথরুমের কল আমাকে টেনে হিঁচরে এমনিতেই নিয়ে যাবে। মাঝরাতে, যখন অলস সময়ে বৃষ্টি হবে, তখন না হয় জানলা দিয়ে মুখ বাড়াব। আর যদি হিসু পায়, চেপে চুপে আউরে যাব …

বাথরুমে ছিল অলস শ্যাওলা
পিছলে দিল অলস পা-কে
আলসেমিতে ঘিরলো শরীর
এই অসময়ে ডাকব কাকে?

শেষ বিচারের আশায় আশায়
চলল সে যে দেহের আগে
শরীরের কানে বলল যে মন
আলসেমি নয়, ক্লান্ত লাগে!!!

আলস্য না ক্লান্তি ? এই পুরো গল্পটাই জানেন তো নিছক একটা বেল্লেলা ছক। কেউ বোঝে তো কেউ বোঝে না, বলা ভালো বুঝেও বুঝতে পারে না কেউ কেউ আর বাকিরা না বুঝেই সব বোঝার ভান করে। যাকে পাতি বাংলায়ে বলে chaos , খুলে ফেলে বললে critical happening অফ সিস্টেম। এর জন্য কত গোল যে মিস করেছে স্ট্রাইকাররা , কত প্রেম যে ভেস্তে গেছে , কত রাজা ভিখারী হয়েছে আর উদ্যম বেচে অলস হয়েছে যে কত তার ইয়ত্তা করতে গেলে প্রশান্ত মহালনবিশ কে প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে আরও দের কোটি আই এস আই খুলতে হবে ! ওদিকে বেশি লিখলে আমার আলোস্যকাতর আঙ্গুল গুলো দারুন দুঃখ পায়, তাই আলসেমির দোহাই দিয়ে এর পর যা লিখব তা আলসেমির জন্যই হুট করে থেমে যাবে !

আলস্যের ক্লান্তি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments