আলুর আকৃতিটা গোল বলেই সম্ভবত সবজিটা এত গোলমেলে। আলুর দোষের প্রতি মানুষের আকর্ষণটা বেশী হলেও গুনের পল্লাই কিন্তু ভারি। আলু হল আরামপ্রিয় (কুঁড়ে শব্দটা বড়ই শ্রুতিকটু লাগে) বাঙালীর চরম বিপদে ত্রাতা মধুসূদন দাদা। এইতো দিন দুয়েক আগের কথা, গিন্নি হেঁসেল থেকে জি সার্প স্কেলে হাঁক পারলেন,
- “বলি ঠ্যাঙের ওপর ঠ্যাঙ তুলে ফেসবুক কল্লেই হবে? ভাঁড়ারে যে খালি খানকতক আলু আর দুটো পেয়াজ পড়ে আছে, বলি, পিণ্ডি রাঁধবো কিসে?”
বাইরে প্রবল বৃষ্টির ঝমাঝম। তাকেও ছাপিয়ে গিন্নির নরম সুরের ধমকিতে মেজাজটা এক্কেরে চটকে চচ্চড়ি। কোথায় ছুটির দিনে সোহাগ করে দুটো পেঁয়াজী ভেজে এনে দেবে চায়ের সঙ্গে, তা না এখন হুকুম থলি হাতে বাজারে যাও। মনে মনে বলি,
- “চোখে কি ন্যাবা হয়েছে? বৃষ্টিটা নজরে পাচ্ছে না?”
কিন্তু ছাপোষা মেনিমুখো বাঙালীর গিন্নির সামনে মনের কথা মুখে আনার হিম্মত কবেই বা হয়েছে। তাই মনের গনগনে রাগের আগুনে ঝপাং করে একঘটি জল ঢেলে মিনমিন করে বললুম,
- “বৃষ্টি পাচ্ছে যে, বাজারে যাই কেমন করে, আলু, পেঁয়াজ, কিচ্ছু নেই……”
আমার মুখের কথা শেষ করতে না দিয়েই সবজির ঝুড়িটা হেঁসেল থেকে নিয়ে এসে ঝপাৎ করে টেবিলে উল্টে দিয়ে গিন্নি বলল,
- “বল, এই দিয়ে কি পিণ্ডি রাঁধবো?”
চোরের মত জুলজুল করে তাকিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলুম মোট পাঁচটা আলু, তার মধ্যে একটা পিংপং বলের সাইজের গোল আলু লাফাতে লাফাতে আমার ল্যাপটপের কিবোর্ডে উঠে দোল খাচ্ছে। দুটো প্রাপ্তবয়স্ক পেঁয়াজের মাঝে একটা নাবালিকা পেঁয়াজ এমনভাবে উঁকি মারছে, ঠিক যেন আমার কন্যা আড়াল থেকে আমাদের কত্তা গিন্নির মধুর বাক্যালাপের মজা নিচ্ছে। দু’টুকরো আদা আর একটা অর্ধেক ছাড়ানো রসুন টেবিলে রাখা এ্যাশট্রের ভেতর ছিটকে পরে ঠিক যেন পরিত্যক্ত সন্তানের মত ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে আশ্রয় খুঁজছে। খালি ঝুড়িটা উল্টিয়ে আমার মাথায় ঝপাৎ করে রেখে গিন্নি বললেন,
- “হাড়মাস ভাজাভাজা করে দিল গা! গেলো এখন তোমার ওই কাঁচা আলু!”
আমার পুরো মাথাটা ঝুড়িতে ঢাকা। ঝুড়ির ফাঁক দিয়ে দেখতে পাচ্ছি সোফায় বসে গিন্নি টিভিটা চালিয়ে দিয়ে রিমোট ঘোরাতে ঘোরাতে ‘ওয়াই বাংলা’ চ্যানেলে থামতেই ‘চিচিং ফাঁক’! খুলে গেল গুপ্তধনের দরজা। চলছে ‘পদিপিসির রান্নাঘর’ অনুষ্ঠানটা। আজকের বিশেষ অতিথি বিখ্যাত তেলেভাজা চেইন সপের সি.ই.ও হলধর নাগ। বাপের আমলের চপ ফুলুরির ব্যবসাকে আজ কোথায় পৌঁছে দিয়েছেন, উফ্! ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। তা এহেন হলধর বাবুরও যে আমার মতই আলুপ্রীতি তা কেই বা জানতো। হলধর বাবু ঘোষণা করলেন যেহেতু আবাল্য বাবার আলুসেদ্ধ চটকানো দেখেই বড় হয়েছেন তাই তার আলুর প্রতি অনুরাগ ছোট থেকেই আর তার সেই আলুর প্রতি নিটোল প্রেমই তার আজকের এই উত্থানের কারণ। তার তৈরি ক্যানড্ আলুর চপ আজ হোয়াইট হাউসের চা চক্রেরও অপরিহার্য অঙ্গ। তিনি নিজের আলু, অর্থাৎ নিজের ফার্মের আলুতে তৈরি চপে মুগ্ধ করেছেন, জার্মানির চ্যান্সেলর, ব্রুনেই সম্রাজ্ঞী এমনকি মার্কিন ফার্স্ট লেডিকেও। তার আলুর, মানে আলুর চপের গুণমুগ্ধ দুনিয়ার তাবড় তাবড় সেলিব্রিটি। তা এ হেন হলধর বাবুও যে আজকের ‘পদিপিসির রান্নাঘর’ অনুষ্ঠানেও আলুর মহিমাই প্রচার করবেন তাতে আমার আর কোনও রকম সন্দেহই রইল না। অবশেষে ঝুড়ির ফাঁক দিয়ে দেখলুম, হলধর নাগ ঘোষণা করলেন দর্শকদের তিনি আজ আলুর ‘বেগম বাহার’ তৈরি করা শেখাবেন। মনে মনে হলধর বাবুকে বললুম,
- “ঢ্যামনামি হচ্ছে? বেগমেরও আবার আলু তারও আবার বাহার?”
কিন্তু একথা মুখে বলে নিজের ন্যাজেই কুড়ুল মারি আর কি। তাই ভয়ে ভয়ে মাথা থেকে ঝুড়িটা একটু উঠিয়ে বুকে একরাশ সাহস সঞ্চয় করে মিনমিন করে গিন্নিকে বললুম,
- “শিখে নাও গিন্নি শিখে নাও। আহাঃ!আলুর বেগম বাহার! অমৃত অমৃত….”
অতি উৎসাহে আমার উথলে ওঠা দেখে গিন্নি কটমট করে আমার দিকে তাকাতেই আবার ঝুড়িটা মাথায় সেট করে নিলুম, হাতে রিমোটটা ধরে আছে, কে জানে রাগের মাথায় কি করে বসে। হলধর বাবু রেসিপি বলে চলেছেন আর পদিপিসি খুন্তি নেড়ে রান্না করে চলেছেন। ঝুড়ির ফাঁক দিয়ে পদিপসিকে দেখতে দেখতে গিন্নিকে একটু তৈল মর্দনের সুযোগ পেয়ে আহ্লাদী কুকুরের কুঁই কুঁই সুরে বলে ফেললুম,
- “আহা! দেখেছো ভদ্রমহিলাকে? তোমার মতই খুন্তি নাড়ছে, রাঁধুনি অথচ সেলিব্রিটি, শুধু মুখে একটু মেকাপ মেরে নিয়েছে। কি কদাকার দেখতে। এখানে তুমি যদি থাকতে না…..”
এবারও গিন্নি আমার দিকে তাকাল। কেমন যেন মনে হল চোখের লালচে ভাবটা আগের থেকে কম। অবশেষে পদিপিসি কড়াই খানা ওভেন থেকে নামাতেই গিন্নি বলে উঠলো,
- “মরণ! রাঁধল নিরিমিসি আলুরদম আর নাম বলছে ‘বেগম বাহার’। যাই দেরি হচ্ছে পিণ্ডি রান্না করি..”
অবশেষে ঝুড়িটা মাথা থেকে নামিয়ে টেবিলে রেখে একে একে আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ঝুড়িতে তুলে গিন্নির হাতে দিয়ে একটু গদগদ স্বরে বললুম,
- “এ্যাই শোনো না, আলুর দমটা তো নিরিমিসি হবে। তা, আড়াই খানা পেঁয়াজ দিয়ে খান কতক পেঁয়াজী বনালে হত না? দুটো করে চায়ের সাথে আর বাকিগুলো গরম গরম ভেজে ভাতের সাথে…”
- “ওঃ! বয়েসের সাথে সাথে নোলাও বাড়ছে। চায়ের সাথে পেঁয়াজী….”
বলেই ঝুড়ি হাতে গিন্নি সোফা থেকে উঠতেই মিনমিন করে বললুম,
- “পেঁয়াজীতে লঙ্কাকুচোটা এট্টু বেশী করে দিও। বাদলা দিনে, ঝালঝাল হলে ভালো লাগবে..”
আমার কথার উত্তর না দিয়ে হনহন করে গিন্নি হেঁসেলে ঢুকলেন। বাইরের বৃষ্টিটা যেন একটু কম মনে হচ্ছে। তবে এখনও কিছুক্ষণ চলবে মনে হচ্ছে। বর্ষার বৃষ্টি কখন শুরু আর কখনই বা শেষ তার কি আর কোনও ঠিক ঠিকানা আছে। গিন্নির মেজাজটা চড়ে আছে সকাল থেকেই। মনে মনে ঠিক করলুম আকাশের না পারি অন্তত গিন্নির মনের মেঘটা কাটাতে পারি কিনা দেখি। তাই বেশ একটু উচ্চ স্বরেই বললুম,
- “হ্যাঁগো শুনছো? এট্টু কষ্ট করে এবেলাটা চালিয়ে নাও রাত্তিরে বাইরে খেতে যাব, তোমার নো রান্না..”
বুঝতে পারলুম না খুন্তি কড়াইয়ের টুংটাং কনসার্টে আমার কথাগুলো গিন্নির কান পর্যন্ত পৌঁছল কিনা। আমি আবার মন দিলুম ফেসবুকে। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই আমাকে চমকে দিয়ে আমার টেবিলে হাজির হল চা আর একটা প্লেটে খান চারেক গরম ধোঁয়া ওঠা পেঁয়াজী। চায়ে চুমুক দিয়ে গিন্নির দিকে তাকাতেই আদুরে গলায় উনি জিজ্ঞেস করলেন,
- “রাত্তিরে আমি কি পরে যাব?”
- “হাফ প্যান্ট আর টি-শার্ট….
একটা পেঁয়াজীতে কামড় বসিয়ে খ্যাঁক খ্যাঁক করে শেয়ালের মত হাসতে হাসতে আমি উত্তর দিতেই পিঠে একটা দুম করে কিল মেরে গিন্নি পা বাড়ালেন হেঁসেল। ততক্ষণে আকাশের মেঘও কাটতে শুরু করেছে।

******

মুসুর ডাল, গরম গরম পেঁয়াজী আর নিরিমিসি আলুরদম দিয়ে এক থালা ভাত সাঁটিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের একটা ক্ষণস্থায়ী দিবানিদ্রা সেরে গিন্নির কাছে এক কাপ চায়ের আবদার করতেই অব্যর্থভাবে ভেসে এলো মধুর সম্ভাষণ,
- “দেখছ না মেকাপ কচ্ছি, চা নিজে করে খাও। পাল্লে আমার জন্যেও একটু লেবু দিয়ে লিকার চা করে আনো…”
শুয়ে শুয়েই পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখতে পাচ্ছি মেঘের ফাঁক দিয়ে সুয্যিদেব তখনও উঁকি দিচ্ছেন। আড়মোড়া ভেঙে গিন্নিকে বললুম,
- “আমরা কিন্তু ডিনারে যাব, সন্ধে বেলার চপ ফুলুরি খেতে নয়। বেরতে এখনও ঘণ্টা দুয়েক আছে….”
- “সে চিন্তা তোমাকে করতে হবে না। রেডি হতে হতে সময় হয়ে যাবে। যাও তো, মটকা মেরে শুয়ে না থেকে গতরটা একটু নাড়িয়ে একটু লিকার চা করে আনো..”
গিন্নির ঝাঁঝালো আদেশ শুনে তড়াক করে উঠে হেঁসেলের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে দেখলুম মায়ে ঝিয়ে মুখে কি যেন সব ঘষছে।

সন্ধে নামলো, গিন্নি আর কন্যা পাশের ঘরে মেকাপে ব্যস্ত বলে টিভির রিমোটটা অনাদরে পড়ে আছে টেবিলের এক কোনে। টিভিটা চলিয়ে এলোপাথাড়ি চ্যানেল ঘোরাতে ঘোরাতে দেওয়াল ঘড়ির দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলুম সাতটা বেজে গেছে। ঘণ্টা খানেক ধরে চলছে সাজুগুজু। একটু গলা চড়িয়ে জিজ্ঞেস করলুম,
- “কি গো! তোমাদের হল? সেই তো দুপুর থেকে সাজছ। যাবে তো খেতে তা সেখানে তোমাদের লিপিস্টিক আর মেকাপ কে দেখবে শুনি?”
- “ফালতু বকবক করো না তো! এখনও বলে চুলই বাঁধিনি শুধু মুখটুকুই হল। ষাঁড়ের মত না চিল্লিয়ে টিভিতে ওয়াই বাংলার বধূহরনটা চালিয়ে ভল্যুমটা বাড়িয়ে দাও দিকি, দেখতে তো আর পাচ্ছি না ডায়লগগুলোই শুনি…”
অগত্যা টিভিতে ফুল ভল্যুমে বধুহরন চালিয়ে টিভির দিকে পেছন করে সোফায় বসে কানে গুঁজে দিলুম মোবাইলের হেডফোন। ফুল ভল্যুমে মোবাইলে রিপিটেডলি বেজে চলেছে আমার বিবাহ পরবর্তী একমাত্র ফেভারিট গান হেমন্ত মুখুজ্জের গলায়,
-”চরণ ধরিতে দিও গো আমারে…….”

কতক্ষণ গান শুনছিলুম কে জানে, সম্বিত ফিরল আমার কন্যা কান থেকে হেডফোনটা খুলে দিতেই। তৎক্ষণাৎ গিন্নির মধুর সম্ভাষণ,
- “আমরা মেয়ে মহিলা রেডি হয়ে গেলুম আর তুমি এখনও বসে বসে ঝিমচ্ছ? যাও চটপট রেডি হও, ওঘরের ডিভানে তোমার জন্যে প্যান্ট আর পাঞ্জাবি রেখে দিয়েছি।”
গিন্নির কথা কানে যেতেই তড়াক করে উঠে ওঘরের দিকে পা বাড়াতেই নজরে এলো বধুহরন সিরিয়ালের নায়িকার মেজ খুড় শ্বশুরের ছোট ছেলের সাথে পাশের বাড়ির কাজের মাসি পালিয়েছে শুনে প্রবল হৈচৈ হচ্ছে আর গিন্নি সেই আকস্মিক ঘটনায় ভীষণ বিচলিত হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন টিভির দিকে। আমি আর এই রকম গুরুত্বপূর্ণ সিনের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে প্যান্টের ওপর পাঞ্জাবি চড়িয়ে রেডি হয়ে ফিরে এসে দেখলুম তখনও কাজের মাসির খোজ পাওয়া যায় নি। ইচ্ছে না থাকলেও গিন্নির মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতেই হল। মৃদু স্বরে বললুম,
- “আটটা তো বাজে, এবার বেরোলে হত না?”
- “হ্যাঁ হ্যাঁ, তুমি গাড়ি বের কর আমরা আসছি….”
গিন্নির অমোঘ আদেশে আর কাল বিলম্ব না করে পা বাড়ালুম গ্যারেজের দিকে।

হোটেল গোল্ডেন এ্যাঙ্কারের ফ্যামিলি রেস্তোরায় গিয়ে পাঁপড় আর স্যুপ সাঁটিয়ে মেইন কোর্সের অর্ডারের দায়িত্ব তুলে নিলেন আমার চতুর্দশী কন্যা। অর্ডার দেওয়া শেষ হতেই মিনমিন করে আমার মনোবাসনা প্রকট করলুম,
- “এক প্লেট আলুরদম নিলে হত না? আলু ছাড়া কি খাওয়া যায়? তাছাড়া এরা ওই ছোট গোল গোল আলুর দমটা যা বানায় না…”
আমার দিকে একবার কটমট করে তাকিয়ে গিন্নি ওয়েটারের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
- “একটা আলুরদমও দিও..”

একে একে আসতে শুরু করল রুটি, চিকেন ভর্তা, গর্লিক চিকেন, এবং সব শেষে আলুরদম আর স্যালাড। আলুরদমের প্লেটটা আসতেই লোভ সামলাতে না পেরে হাত বাড়ালুম আর সঙ্গে সঙ্গে আমার হাতটা খপাৎ করে চেপে ধরে আমার ইংরেজি কেতাদুরস্ত কন্যা চাপা স্বরে ধমকাল,
- “ড্যাড! ডোন্ট টাচ! টেক ইয়োর স্পুন। সবাই দেখছে, হাতে করে খাবে না…”
কি আর করি, যস্মিন দেশে যদাচার! পিড়িতে উবু হয়ে বসে পান্তাভাত সাঁটানো লোকের হাতে উঠে এলো কাঁটা চামচ। ছোট ছোট গোল গোল আলুর দম। যা লালচে রগরগে চেহারা! আঃ! দেখেই জিভে জল আসছে। স্বাস্থ্য সচেতন গিন্নি বা মেয়ে তো আলু মুখেও তুলবে না। তাই আলুরদমের পুরো প্লেটটাই নিজের দিকে টেনে নিলুম। তারপর খেতে গিয়েই ঘটলো বিপত্তি। সবে মুখে তুলবো বলে প্রথম আলুটা কাঁটা দিয়ে গাঁথতে গেলুম ওমনি সেটা ফসকে গিয়ে টুকুস করে গিয়ে পরলেন একেবারে পাশের টেবিলের যুবতীর মিনি স্কার্টের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে কানে এলো ইংরেজিতে মধুর সম্ভাষণ,
- “ওহঃ শিট! ননসেন্স……”
ভরকে গিয়ে আলুরদমের প্লেট আমার কনুইয়ের গুঁতো খেতেই আরও দুটি আলুর একটি গোঁত খেয়ে ঢুকে গেল আমার নিজেরই পাঞ্জাবির পকেটে আর অন্যটি মসৃণ মার্বেলের মেঝে পেয়ে নিউটন সাহেবের গতিসূত্রের সত্যতা প্রমাণের সমস্ত দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এর ওর টেবিল চেয়ার কিম্বা পায়ের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে গড়াচ্ছেন তো গড়াচ্ছেনই, থামার কোনও লক্ষণই নেই। ততক্ষণে ওয়েটারও এসে হাজির। গিন্নি আমার ভেবলে যাওয়া মুখে একবার নজর বুলিয়েই ওয়েটারকে বললেন,
- “আলুরদম খাওয়া হয়ে গেছে, প্লেটটা তুলে নাও।”
ওয়েটার খানিক ইতস্তত করে আলুরদমের প্লেটটা তুলে নিয়ে চলে গেল। তারপর কোনও মতে লাজলজ্জার মাথা খেয়ে দেড়খানা রুটি, দুপিস চিকেন আর গোটাকতক শসার টুকরো চিবিয়ে ক্ষুন্নিবৃত্তি করলুম। ডিনার শেষে নতমস্তকে ড্রাইভারের সিটে গিয়ে বসলুম পাশে কন্যা। পেছনের সিটে গিন্নি। সবাই চুপচাপ যেন শ্রাদ্ধের ভোজ খেয়ে ফিরছি। কিছুক্ষণ পর গিন্নিই নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করলেন। রেগে যাওয়া বুলডগের মত ঘরঘরে গলায় বললেন,
- “অপদার্থ লোক বটে। যেখানেই নিয়ে যাব সেখানেই প্রেস্টিজ একেবারে পাংচার করে ছাড়বে….”
আত্মপক্ষ রক্ষার্থে মিনমিন করে বললুম,
- “আমার কি দোষ? আলুটাই তো…..”
- “হ্যাঁ সেটাই তো, তোমার কেন আলুরই তো দোষ…”
বলেই গিন্নি কি মনে করে কে জানে নিজের মনেই খুক খুক করে হেসে উঠলেন আর আমিও বোকাসোকা মানুষ, গিন্নির হাসিতে তাল মিলিয়ে বলে উঠলুম,
- “আমার কেন? ওটা তো আলুর দোষ…..”

আলুর দোষ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments