সহযাত্রী এক আই পি এস অফিসার কে একবার কাল্কা মেইলে সফর করার সময় বলেছিলাম কিছু কথা। তখন কত বয়স ছিল আমার ? হবে ওই বছর তেইশ মতো । কথাগুলো আবেগপ্রবন হয়ে বলেছিলাম কিনা তা এখন আর মনে নেই । ওঁকে বলেছিলাম যে আপনাদের বিভাগে যারা দুর্নীতিপরায়ণ , যারা বিশ্বাসঘাতক সেইসব অফিসার -কর্মী দের দিয়েই স্পেশাল এঙ্কাউন্টার অপারেশন গুলো করান । সশস্ত্র দুষ্কৃতিদের সামনে ঠেলে দিয়ে কাজ করান। অপারেশনে গিয়ে পচা ওয়ার্কফোর্স মরলে আপনার বিভাগের বোঝা হাল্কা হলো । আর তা না হলে কাজের কাজ যদি হয়ে যায় তাহলে তো মিটেই গেল ঝামেলা । আর যদি বোঝেন কোনওরকম গট আপ গেম চলছে, বিশ্বস্ত ব্যাক আপ / ফলো আপ ফোর্স দিয়ে দুষ্কৃতি এবং বাজে পুলিশ দুপক্ষকেই মেরে উড়িয়ে দিন। বিভাগীয় সাইকিতেও একরকম প্রচণ্ড প্রেশার থাকা দরকার দায়িত্ব সম্পর্কে । স্যাবোটাজের শাস্তি হল মৃত্যু , আইনি বিচার প্রক্রিয়া নয় । শুনে ভদ্রলোক হেসেছিলেন । জিজ্ঞেস করেছিলেন যে পুলিশের ফিল্ড অপারেশন সংক্রান্ত ব্লু প্রিন্ট তৈরিতে সাহায্য করতে আমি ইচ্ছুক কিনা, শিক্ষানবিশ হিসেবে । আমি বলেছিলাম- না ! ইচ্ছুক নই । কারণ অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আমি অসম্ভব হিংস্র । সময়ে সময়ে নরঘাতক পর্যায়ে । এর জন্যে আমার মনে কোনও ভয়, অনুশোচনা নেই । অফিসার আমাকে বলেছিলেন যোগ অভ্যাস করতে , কারণ পেশাগত কাজে মননের গভীরের এই আগ্রাসন, হিংস্রতা খরচ না হয়ে গেলে নাকি সামাজিক এবং পারিবারিক জীবনে উপচে পড়ে ।   বলা বাহুল্য যে আমি ওই  উপদেশ শোনার জন্যেই শুনে গেছিলাম  মাত্র, এই পর্যন্তই । এখনো অব্ধি কারও ক্ষতি না করেই তো বেঁচে আছি । পরিস্থিতি তেমন এলে কি করবো সেটা তখনি দেখা যাবে ।
পরবর্তীতে আমেরিকায় ডক্টরেট ডিগ্রির পড়াশোনা করতে গিয়ে ক্রমে বন্দুক চালানো এবং সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক কিছু খুঁটিনাটি শিখে ফেলি। মূল কারণ হল ব্যধিময় এই সময় এবং সমাজে চরম কোনও আক্রমণাত্মক ঘটনার ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি । ব্যক্তিগত ভাবে আমার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্যে আমি ভ্যাসেকটমাইজড আইনরক্ষক পেয়াদাদের ওপরে কোনও ভরসাই করিনা । সমাগত বসন্তে শুধু একটাই খেদ – আমাদের এদেশে দুরপাল্লার অস্ত্র বলতে প্রায় কিছুই আমাদের মতো ছাপোষা লোকেদের হাতে ছেড়ে রাখা হয়নি, একমাত্র গুলতি ছাড়া । এহেন দেশীয় পটভূমিকায় আমার এই উন্নতির কথা জানলে অফিসার ভদ্রলোক কি ভাবে নিতেন কে জানে ! সময়োপযোগী নিজস্ব প্রস্তুতি দেখে হয়তো এক চিলতে গর্ব অনুভব করতেন, অথবা হয়তো ওঁর বিচারে আমার হিংস্রতার পদোন্নতি দেখে চিন্তিত হতেন বেশ খানিকটা । যাই হোক , আমরা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ , অন্যকে নিয়ে কারোরই অনর্থক বেশি ভাববার দরকার নেই সম্ভবত !

যাবতীয় "জেল থেকে বেরোলে ছিঁড়ে খাব"-র উত্তরে দু টুকরো সীসা আমার ভেতরে অনর্গল আমাকে বলে চলে – "দাদা, আমি কিন্তু ছুটতে চেয়েছিলাম ! "। আমাকেই বলে শুধু, অফিসারটিকে কেন বলে না জানি না ।

‘ইথ্যাম যদা যদা বাধা … ‘
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments