এটি একটি প্রাগৈতিহাসিক কালের আংশিক রুপকথার কিস্সা মাত্র – গোদা ইংরেজিতে বলতে গেলে, বলা যায় এটা একটা Partial Prehistoric Fable কিম্বা semi folklore । সেই সময়কার মানুষ এখনকার মানুষদের থেকে বেজায় ভিন্ন ছিল, কিন্ত এতটাও আলাদা নয় যে তাদেরকে নিয়ে আমরা এখন লিখতে পারি না ! কিন্ত সময়টা দাড়িপাল্লা দিয়ে মাপার আগেই জানিয়ে রাখি, যে তখন কেউ সময় মাপতো না। সুতরাং আমি খালি ঘটনাগুলো শব্দে ফেলে সাজাচ্ছি , সময় মেপে ইতিহাসের বৃতান্তের ব্যাখ্যান করছি না। ছাত্রাবস্থায় H.G. Wells সাহেবের ‘A Short History অফ the ওয়ার্ল্ড’ পড়ার পরে মনে হয়েছিল কোথাও একটা বেজায় তাড়াহুড়ো করেছেন ভদ্রলোক। মামার জন্মদিনে উপহার দেওয়া বুক অফ(বইটা তে অব ছাপা ছিল) নলেজ পড়ে প্রথম মনে হলো সবাই কেন জানি আদি মানব থেকে রোমান সভ্যতা অব্দি হাই মাই করে টেনে হিঁচরে ইতিহাসের নামে গোজামিল মার্কা লেখা লিখে আমাদের উল্লু বানাচ্ছে। আর অমনি রাম, রহিম,যিশু,বুদ্ধ ইত্যাদির নামে নয়া নয়া scripture মার্কেটে ছেয়ে গেলো। মজার ব্যাপার এই যে, যেখানে ঐতিহাসিকরা গাফিলতি দেখালো সেখানেই ঠিক ‘টুক’ করে ধর্মীয় দালালরা তাদের ব্যবসা খুলে বসলো। কেউ ম্যাজিক দেখালো তো কেউ পাথরে চকমকি – নিট ফল দাড়ালো , সামাজিক বুজরুকির সাথে সাংস্কৃতিক ভন্ডামির সহবাস।
ফিরে আসি গপ্পে। সেই সময়ে দেশটার কোনো নাম ছিল না, মানে দেশটায় কোনো রাজা ছিল না, মন্ত্রী ছিল না। মায় কোনো পুলিশ বা মিলিটারিও ছিল না । মিশরীয়রা ওই অঞ্চলটাকে বলত বেলান্চুস, আসিরিয়ানরা বলত পেলান্গেশ ও সুদুর গ্রিক দেশে তার নাম ছিল সেট্রাপলিস। ইরাম ও খামুর একই সময় ঐখানেই জন্মায় , নাহ তারা নাগরিক ছিলেন না ! কেননা ওই দেশে তখন কোনো নগর ছিল না….বোধহয় গ্রামও ছিল না।মোটের ওপর কোনো শহর বা গ্রামের নাম দিয়ে মানুষদের কে কেউ চিহ্নিত করত না। প্রত্যেক অঞ্চলেই মানুষ থাকত , তারা অন্য অঞ্চলে আসা যাওয়া করত কিন্ত কেউ কোনো আইডেন্টিটি কার্ড বা পাসপোর্ট চেক করত না। ইরাম দেখতে বেজায় বদখত ছিল , ছোটবেলা থেকেই তার মা বাবা তাকে দূর দূর ছাই ছাই করে সাবেকি কামকাজে লাগিয়ে দিতো । ইরাম সকালবেলায় ঘরের কুটনো কাটা কাটত, ফলমূল বাছতো ও বিকেলবেলায় এক মনে নদীর ধরে বসে সব্বাইকে জলে ঝাঁপ দিতে দেখতো। সুন্দর সুন্দর ছেলে মেয়েগুলোদের সাঁতার কাটত , ও সে ভাবত একদিন নিশ্চই কেউ একজন এমন আসবে যে ওকে হাত ধরে জলে নিয়ে যাবে । কিন্ত কোনদিন সে নিজের থেকে জলে ঝাপায়নি, পাছে নদীটাও তার মত বদখত হয়ে যায় ।
খামুর বেজায় ডানপিটে , যেরকম চেহারা সেরকম ‘ফস্সা’ রং , তার ওপর আবার ওরকম কাকাতুয়ার মতন টিকলো নাক। খামুরের বৈশিষ্ট হলো যে ও স্বেচ্ছায় ওর সবকটা ইন্দ্রিয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । নিজের এই caliber যাতে অক্ষয় থাকে , সেই জন্যে সে রোজ তার ওই ক্ষমতা নদীতে এসে সকাল সকাল ঝালিয়ে নিত। জলের তলায় থেকে নাক বন্ধ করে, চোখ খুলে রেখে, নানা রকম কথা শুনে ও সেগুলোর জবাব দিয়ে সে বুঝত যে ইন্দ্রিয়গুলো তার দখলে বহাল তবিয়তেই আছে । এমনকি সে মাঝে মাঝে ডুব দিয়ে মাছের গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে তাকে কাছে টেনে এনে তার চোখ টেনে খুবলে নিয়ে, কপাকপ খেয়েও ফেলত। অনেকক্ষণ পরে জলের ওপরে এসে সে জিভের আগায় মাছের চোখের সাদা অংশটা লেগে থাকা অবস্থায় সব্বাইকে দেখিয়ে বোঝাত যে তার স্বাদ-ইন্দ্রিয় জলের তলাতেও বেজায় সক্রিয়।
এক মাঘী পূর্নিমায় অঞ্চলের সব্বাই ঠিক করলো তারা নদীতে রাতের বেলায় সবাই মিলে আনন্দস্নান করবে। সেই রাতে বিভিন্ন রকম শব্দ,রং,বস্ত্র ,টুকি টাকি অনেক কিছু নিয়ে সবাই নদীর ধারে এসে জুটেছিল। এসেছিল ইরাম , এলো খামুরও। দুজনেই ছুটে নদীর দিকে যাচ্ছিল হটাত, খামুর ইরাম কে প্রথম এত কাছ থেকে দেখল ! বাহ্ কি ভিন্ন এই মেয়েটি। ওদিকে ইরাম খামুরকে এত সামনে থেকে দেখেই কিরকম অস্বস্তি বোধ করতে লাগলো।
খামুর বলল , “কখনো রাতে জলে নেমেছো ?”
ইরাম , “দিনেই নামিনি তো রাতে..হাঃ। ”
খামুর , “”তাহলে চলনা একসাথে জলে নামি , আমি রাতে কোনদিন নামিনি আর তুমি দিনে…. ”
ইরামের দেহ মন কিরকম জানি গুলিয়ে যাচ্ছিলো , প্রথমবার সে নদীতে নামবে তাও আবার একজন সুদর্শন পুরুষের সাথে।
সে তবু সোজাসুজি-ই বলল , ” খামুর তুমি নামো, আমি পরে আসছি। ”
খামুর নাছোরবান্দা , ইরাম না নামলে সে নামবে না। অগত্যা ইরাম রাজি হলো, খামুর তার হাত ধরে নদীর এক কোনে নিয়ে গিয়ে বলল, “কি, তুমি তৈরী তো?”
দুজনেই ঝপাত করে লাফালো চাঁদের আলোয় কভার করা নদীর জলে।
জানিনা জলের তলায় কি হয়েছিল, তবে ইরাম বা খামুর দুজনের কেউই আর জীবিত অবস্থায় জলের ওপরে ওঠেনি। উঠেছিল তাদের দেহগুলো ও একজনের মুখে পাওয়া গেছিল সাদা সাদা কি সব আর অন্যজনের হাতে….

ইরাম খামুরের প্রাগৈতিহাসিক কিসসা….
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments