নববর্ষে বঙ্গলক্ষী সুপারের বাম্পার প্রাইজ ছিল পাঁচ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ! স্টেশন চত্তরের লাকি লটারী সেন্টার চোঙ্গা ফুঁকে সেটা দশ দিন ধরে অন্তত কয়েক হাজার বার ঘোষণা করেছিল । পরের প্রাইজ গুলো যথাক্রমে ৫১ লক্ষ, ৫ লক্ষ ১০ হাজার , ৫১ হাজার ও ৫ হাজার ১০০ টাকা। সান্তনা পুরস্কারও আছে ও টিকেটের দাম মাত্র ২০ টাকা। পচার অনেক দিনের সখ বাম্পার লটারী কেনার। নবুদা যদিও এসব ফাটকায়ে বিশ্বাস করে না , তবুও পচার সুপ্ত ইচ্ছের কথা ভেবে ১০০ টাকা দিয়ে বিভিন্ন বান্ডিল থেকে ৫টা সিরিজের আলাদা আলাদা টিকেট কিনেই ফেলল। শনিবার ছিল তাই হুলো এক ফাঁকে টিকেট গুলো রিকশা স্টান্ডের শনি ঠাকুরের থানে ঠেকিয়ে নিয়ে এলো। ভোটার কার্ড পাওয়ার পর থেকে নবুদারও নিজের প্রতি আস্থা খানিকটা বেড়েই গেছে, ভাগ্যের জোরে এই ভোটের বাজারে কে জানে যদি কিছু জুটে যায় ! খেলা পয়লা বৈশাখ মানে মঙ্গলবার তাই রবিবার ও সোমবার নবুদা পচা আর হুলো কে নিয়ে প্রাইজমানি পেলে কি করা হবে তা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করলো। বাম্পারের পাঁচ কোটি পেলে ‘বাংলা ফ্যাক্টরি’ থেকে রামকৃষ্ণের নামে চিট ফান্ডের ব্যবসা কিছুই বাদ পড়ল না। আসলে এত টাকা পেলে কি করা হবে এ নিয়ে ভাবনা চিন্তা তর্ক বাওয়াল করতে করতেই ঝুপ করে মঙ্গলবার এসে গেল। বাকি প্রাইজে গুলোর জন্যে প্ল্যান আর তাই ঠিক করা হয়ে উঠলো না। এক নম্বর – লাগেনি ! দু নম্বর – আবার নাহ। পচা লাকি লটারী সেন্টারের উত্তম পারুইকে বলল উল্টো দিক থেকে মেলাতে। পাঁচ নম্বর – ধুস শালা এবারেও না । তিন নম্বর – এই তো লেগেছে, সান্তনা পুরস্কার ৫০১ টাকা। যাক নববর্ষে বাংলা আর পাঠার মাংস ভাতটা হয়ে যাবে। শেষ মানে চার নম্বর টিকেটটা নবুদা নিজেই মেলাতে গিয়ে দেখল ৫১ হাজারের লিস্টে নম্বরটা আন্না হাজারের মতন জ্বলজ্বল করছে ! কিন্তু ওই যে খরচের হিসেব পাঁচ কোটি ধরে করা হয়েছিল তাই সেটাকে হাফ লাখে স্কেল ডাউন করতে গিয়ে বেজায় মুশকিলে পড়ল নবুদা ও কোং ! তার ওপর আবার tds কেটে কুটে টাকাটা আরো কমে যাবে। ওদিকে নবুদা পাঁচ কোটি টাকার লটারী পেয়েছে এই খবরটা কে যেন সুকৌশলে রটিয়ে দিল। ভিখারী এসোসিয়েশনের এক্টিং প্রেসিডেন্ট ভুলো সর্দার নবুদাকে স্টেশন চত্তরে একটা শেডের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আর্জি জানালো। নবুদা পাল্টা জানিয়ে দিল রেলের জমিতে শেড তুললে পরের দিনই কতৃপক্ষ এসে তা ভেঙ্গে দিয়ে তাকে শ্রীঘরে চালান করবে। ৫ লাখ পেলেও নয় একটা ৪০৭ কিনে ভিখারীর দের জন্য মোবাইল পরিসেবা চালু করা যেত। ব্যাচ করে করে আলাদা ভাবে বিভিন্ন ভিক্ষাক্ষেত্র গুলোতে পৌছে দেওয়া যেত তাদেরকে – আজ ফেরি ঘাট , কাল অন্নপূর্ণা মন্দির , পরশু রথতলা। এরকম একটা অর্গানাইজড ভাবে ক্লায়েন্টদের মাঝে প্রায়োরিটি অনুযায়ী ভিখারীদের ভাগ বাটোয়ারা করে দেওয়া গেলে সবার জন্যে সেটা বিশেষ একটা সভ্য ব্যাপার হত। যাক সে যখন হওয়ার নয় তখন আর কথা বাড়িয়ে লাভ কি ?

পচা অনেক সাহস করে বলল, “নবুদা, তুমি বরঞ্চ একটা ল্যাপটপ কেন। সিনেমা, গান সব হবে আবার নিয়ে নিয়ে ঘোরাও যাবে ! ” হুলো কিঞ্চিত বিরক্ত হয়ে বলল, “তাহলে তো ট্যাব কিনলেই হয় ,আরো সস্তায় হয়ে যাবে !” পচা এখনো ট্যাব বস্তুটি কি তা কনফিডেন্টলি ঠাওর করে উঠতে পারেনি তাই এ লাইনে আর কথা বাড়ালোনা সে। নবুদা একেই এই সব গ্যাজেটের মাথা মুন্ডু কিছু বোঝে না, বিয়ারের বোতল ওপেনারের চেয়ে দাঁত দিয়ে খোলায় বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে। তার কাছে ট্যাবলেট মানে বড়জোর এল্জোলাম কিম্বা ক্রোসিন তাই সে তার দুই চ্যালার উদ্দেশ্যে ক্ষেপে গিয়ে বলল , “পোঁদে নেই চাম তবু চাই বাকার্ডি রাম! দেখছিস চোখের সামনে দিয়ে কোটি টাকার কত বড় বড় প্রজেক্ট ভেস্তে গেল আর ওনারা এই গরমে আল বাল বকেই চলেছে ! ” পচা বকা খেয়ে মেকআপ মারার জন্য আবার প্রস্তাব দিল , “আচ্ছা এই পেছন ফাটা গরমে ছাতা, টুপি,কালো চশমা,ফলের রস,সরবত আর লস্সির দোকান দিলে কেমন হয় ? ভোটের বাজার আর এক দোকানেই গরম মোকাবিলা করার সব সরঞ্জাম , বাম্পার সেল হবে কিন্তু ! ” নবুদা তাতে আরো ক্ষেপে গিয়ে বলল , “হাতপাখা,শীতল পাটি,কুঁজো এসব বাদ দিলি কেন?” হুলোও সুযোগ বুঝে জুড়ে দিল,”ইলেকট্রিক পাখা , ফ্রিজ , এসি এরাও কি দোষ করলো ?” পচা দমে গিয়ে বিড়ি ধরিয়ে এমনভাবে বিড়বিড় করতে লাগলো যেন এই গরমে কেউ তার মাথা কামিয়ে তাতে গলন্ত পিচ ঢেলে উল্টো উঁটে বসিয়ে সাহারা মরুভূমিতে নির্বাসিত করেছে । হুলো দেখল ফোকাসটা এই ফাঁকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নবুদার কাছে নিজের পয়েন্ট টয়েন্টগুলো একটু বাড়িয়ে নিলে হয়। সে ঠান্ডা অথচ গম্ভীর গলায় বলল “কোটি টাকার গাদা গাদা প্রজেক্ট যখন মাথায়ে ঢুকিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়িত তো করবই , শনি ঠাকুরের দিব্যি। নবুদা আমি বলি কি আপাতত এই টাকা দিয়ে তুমি নির্দল হিসেবে ভোটে দাড়াও। আমি খোঁজ নিয়েছি লোকসভায় দাড়াতে দশ হাজার টাকা লাগে জামানত হিসেবে। ২৫ বছরের ওপর বয়স হওয়া চাই, ভোটের অধিকার মানে ভোটার কার্ড থাকা চাই আর গত দু বছরের বেশি হাজতে রেকর্ড না থাকলেই হলো।” নবুদা এতক্ষণে কিছু মতলবের কথা শুনতে পেয়ে একটু নড়ে চরে বসলো। মনে মনে হুলোর বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারল না যদিও সামনে তা প্রকাশ করলো না পাছে ব্যাটার মাথায় সিং গজায়। স্লাইট একটা উত্সাহ দেখিয়ে নবুদা জিজ্ঞেস করলো , “হুমম , আর কি লাগে রে ?”
এবারে পচা তরিঘড়ি করে বলে উঠলো , “একটা সিম্বল লাগবে আর দশ জন নাগরিকের নির্দল প্রার্থীর সমর্থনে লিখিত প্রস্তাব। ”
নবুদা , “আর হেরে গেলে ? ”
হুলো , “টোটাল ভোটের ৬ ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম পেলে জামানত বাজায়প্ত হবে। আর হারলেই বা কি, তোমার নামে প্রচার তো হবে। আগামী কালে সেটাই বিধানসভা বা পৌরসভা ভোটে দাড়ালে কাজে লাগবে। আমরা সকলে মিলে বাম্পার লেবার দেবো ,এ কি লটারী নাকি যে কপাল না হলে হবে না ?”
নবুদা মাথা চুলকে বলল , ” মন্দ বলিসনি। এত কিছুই করলুম যখন তা ইলেকশন টাই বা বাদ যায় কেন? চল কাল থেকে লেগে পড়া যাক। ”

ব্যাস নবুদা লেগে পড়তেই সবাই কিরকম নতুন বছরে একটা নতুন উদ্দম খুঁজে পেলো। প্রার্থীর সমর্থনে শিব দূর্গা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক হরিপদ ঘোষ , দে caterer এর গোবিন্দ দে , পোলপারের কানু সর্দার, মডার্ন সেলুনের বিল্লো পাসওয়ান, ফুল বিক্রেতা বিলাসিবালা মাঝি ও আরো এরকম দশজন পরিচিত নাগরিকদের সই সাবুদ নিয়ে নেওয়া হলো। ক্যাঁচাল বাধলো নির্বাচনী প্রতিক নিয়ে। নবুদার খুব ইচ্ছে ছিল গাঁজার কলকে কিম্বা বাংলার বোতলের মতন জোরালো কিছু একটা সিম্বলে দাড়ানোর। কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের সময় ওই দুই সিম্বল লিস্টে না থাকায় নবুদা ভোটে না দাড়ানোর চরম সিদ্ধান্তটা প্রায় নিয়েই ফেলেছিল। নির্দলীয় প্রার্থীদের দাবি দাওয়া গুলোকে নির্বাচন কমিসন বিশেষ পাত্তা দেয় না। তাই পরবর্তী কালে ‘বেওয়ারিশ পার্টি ‘ তৈরী করা হলে নিজের মর্জি মাফিক সিম্বলে নবুদাকে দাড় করানো হবে এই আশ্বাস দিয়ে পচা আর হুলো কোনরকমে পরিস্থিতি সামাল দেয়। শেষমেষ নবুদার কপালে যে সিম্বল জুটল, সেটা হলো হ্যান্ডেল ওঠানো লোহার ‘বালতি’ ! তাই সই ট্র্যাক্টর কিম্বা স্টোভ পড়লে দেওয়াল আঁকতে আঁকতে ভোট কাবার হয়ে যেত। টাকা পয়সা কাগজ পত্র নিয়ে যথাসময়ে ডি এম অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হলো। এখন থেকে স্রেফ লাগাতার প্রচার।বিল্লোর সেলুনটা আপাতত নবুদার নির্বাচনী কার্যালয়। নিয়মিত সাঙ্গ পাঙ্গ দের সাথে মিটিং চলে সেখানে। দেখা যাচ্ছে যা ফান্ড তাতে বড়জোর কুড়ি থেকে তিরিশটা ঘুটে লাগানো দেওয়াল, লেখার জন্য পাওয়া যাবে। বেশিরভাগ দেওয়ালই তো এখন এ-পার্টি ও-পার্টির দখলে। কিছু দেওয়ালে আবার NOTA-এর সমর্থনে এক সেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রচার করেছে। নাহ অন্য কৌশল প্রয়োজন। হুলো বলল ,”আচ্ছা আমরা যদি বস্তিতে বস্তিতে বালতি বিলি করি….” নবুদা কিছু বলার আগেই পচা বলে উঠলো , “না না বালতি বিলোলে নির্বাচনী আইনে আটকাবে , বরঞ্চ এই গরমে মাটির কলসি বিলি করলে সবাই খুশি হবে।” আবার নবুদা কি যেন একটা বলতে যাচ্ছিল হুলো তার আগেই বলল , “মাটির কলসিতে বঞ্চিত বেনিয়া পার্টির বেচারাম বন্চু দাড়িয়েছে। আমরা কলসি বিলোই আর ওদিকে মাগনার ভোট উনি পান আর কি ! ” নবুদা এবার সবাইকে থামিয়ে বলল , “আরে বস্তিতে সবার কাছেই কলসি কিম্বা বালতি আছে। মানুষের পাওয়ার চাহিদা এখন অনেক ! দিতে গেলে মোবাইল ফোন কিম্বা ওই ট্যাব ফ্যাবও চেয়ে বসতে পারে। তার চেয়ে বরং এই গরমে আমরা হাতেটানা প্রচার ভ্যান নিয়ে রোড শো করব, দেখিস না যেরকম নেতারা করে থাকে! আর বড় বড় বালতিতে করে পান্তা ভাত থাকবে প্রচার ভ্যানে , নারকোলের মালা করে সবার জন্য সেই শীতল পান্তা বিতরণ করা হবে সাথে প্রচার লিফলেট। কি, কেমন আইডিয়াটা ? ”
পচা আনন্দের সাথে সিটি মেরে উঠলো , “জিও গুরু , থ্রী চিয়ার্স ফর নবুদা ” বাকিরা চিত্কার করে উঠলো , “হিপ হিপ হুররে !!” হুল্লোর থামলে হুলো এবারে ক্রিটিকাল প্রশ্নে ফিরে এলো , “এত ভাত, নারকোলের মালা আসবে কোত্থেকে ? লিফলেটে কি লেখা থাকবে? ভ্যান কোথায় পাবো ? মাত্র ক’দিন বাকি, প্রচার কোথায় কোথায় করা হবে?”
গোবিন্দ দে বলল , ” বিয়ের সিজেন , তা অনুষ্ঠান বাড়িতে ধরেন গিয়ে আমার প্রচুর ভাত বাঁচে , তার সাথে আরেকটু চাল বেশি নিয়ে নেবখন। বাঁচা ভাতে ঠান্ডা জল দিয়ে রেখে দিলেই সকালে ফার্স্ট ক্লাস পান্তা। বড় বড় বালতিতে ভরে আমি রেখে দেবো, সকালে তোমরা তুলে নিও। আর সেরকম কাজ থাকলে সাথে আলুসেদ্ধ মাখা,পেয়াঁজ ,লেবু আর পোড়া লঙ্কাও দেওয়া যাবে। কোনো অসুবিধে হবে না ! ”
বিশু খুড়োর তিনটে ভ্যান আছে যা সে খুশি হয়ে নবুদার প্রচারে লাগাতে চায়। সে এও বলল যে জয়া নারকোল তেল ফ্যাক্টরী তে সে নারকোল সাপ্লাই দেয় , সেখান থেকে সে হাজার পাঁচেক বড় দেখে মালা তুলে আনবে। এবার নবুদা বলল,” তাহলে কালকে থেকে তিন দফায়ে প্রচার শুরু হবে। সকালে পশ্চিম দিকে গঙ্গার ধার থেকে শুরু। দুপুরে রোদ বাড়লে স্টেশন চত্তর কিম্বা বটতলাতে প্রচার চলবে। ও দিনের শেষে পুবদিকে গিয়ে প্রচার শেষ হবে। লিফলেটে একটা প্রচারমূলক গান থাকবে যেটা একটা বিখ্যাত বাংলা গানের প্যারডি। নিচের দিকে সিম্বলের সাথে সাবেকি ভাবে এও লেখা থাকবে ‘আগামী লোকসভা নির্বাচনে বালতি চিহ্নে বিশিষ্ট সমাজকর্মী শ্রী নবাঙ্কুর চক্রবর্তী (নবুদা) কে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন ‘ “। সব শুনে বেঙ্গল রেডিও হাউসের ঝন্টু মিত্তির বলল , “তুমি একবার গানটা শোনাও তো নবু। আমি রকেটকে (এলাকারউঠতি সেল্ফ স্টাইলড মান্না কন্ঠি ) দিয়ে গাইয়ে , রেকর্ড করিয়ে সিডি করে দেব। সাথে প্লেয়ার,দুটো বড় স্পিকার,ব্যাটারী ,এম্প্লিফায়য়ার ও এক জোড়া কর্ডলেস মাইকও দিয়ে দেব। আজকাল এসব ছাড়া প্রচার হয় নাকি?” সব শুনে টুনে এই গরমেও নবুদা ও কোং এর মনে হলো কে যেন তাদের মাথায় বরফ কুচি বর্ষণ করছে ! নবুদা গলা ছেড়ে গান ধরল ,

ও আমার এই ছোট্ট বালতি
এতে ভাই পান্তা আছে
গরমে করবে ঠান্ডা
নিয়ে যাও এসে কাছে

দেশটা গেলো চোরের হাতে
তাই আমরা ক’জন লড়ছি সাথে
ভোট দেবে গো….ভোট
ভোট দেবে গো….ভোট

যে দল বলে সবই দেব
তার কাছে তো আশ্বাস পাবে
নিজের আখের গুটিয়ে সেতো
তোমায় রেখে পালিয়ে যাবে

এ ভুল তুমি কোরো না আর
চলো ভাই মোদের সাথে
ভোট দেবে গো….ভোট
ভোট দেবে গো….ভোট

সবার জন্যে গণতন্ত্র
খায় না কি তা গায় মাখে
নিজের বাড়ির পান্তা ফুরায়
দেশের খবর কেই বা রাখে

বুঝে ভোট দিও এবার
নিও না ধার নেশার ঝোঁকে
ভোট দেবে গো….ভোট
ভোট দেবে গো….ভোট

স্বাধীন দেশের উন্নয়ন ভাই
বুক ফুলে যায় গরবেতেই
টিপ সই আর ম্যালেরিয়া
আছে যে সেইখানেতেই

লোভে পরে ডাবল টাকা
করতে গেলেই পরবে ফাঁকে
ভোট দেবে গো….ভোট
ভোট দেবে গো….ভোট

শেষে বলি আমার কথা
সামান্য বেওয়ারিশ ছেলে
জিতলে পরে দেখিয়ে দেবো
উন্নয়ন যে কারে বলে

এ সুযোগ পাবে না আর
বলো ভাই এবার কাকে
ভোট দেবে গো….ভোট
ভোট দেবে গো….ভোট

বেড়ে রেকর্ডিং হলো গানের, লাইনগুলি লোকমুখে ফিরতে থাকলো সকাল বিকাল । রোডশো ও নবুদার নির্বাচনী প্রচার প্রোগ্রাম যাকে বলে পান্তা ভাতে ফুল সাকসেস। অন্যান্য দলগুলোও নড়ে চরে বসলো হিসেব করতে যে নবুদা কাটলে আসলে কার ভোট কাটবে কাটবে। ইতিমধ্যে মার্কিন দেশের এক লালমুখো গাম্বাট সাংবাদিক এসে হাজির নবুদার রোড শোতে। সব দেখে শুনে সে অবাক , তার প্রচুর প্রশ্ন তাই নবুদা তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হুলোকে ইন্সট্রাকশন দিলো সাহেবকে সামলানোর। হুলোও কলার উঁচিয়ে এগিয়ে গিয়ে বলল , “হ্যালো স্যার , হাউ আর ইউ ?”
মা: সা: আই’ম ফাইন, থ্যাঙ্ক ইউ। টেল মি সামথিং এবাউট নবুডা।
হুলো: নবুদা গ্রেট পারসন এন্ড অলসো গ্রেটার পার্সোনালিটি। নবুদা অরফান , নো ফ্যামিলি সো হি ওনলি লাভ পিপল এন্ড পিপল অলসো ব্যাকলাভ হিম।
মা: সা: গ্রেট ইন্ডিড ! হোয়াট আর অল অফ them drinking by the way ?
হুলো: ওহ ইট ইজ রাইস ড্রিংক…কোল্ড ড্রিংক। সামার আউটসাইড ভেরি হট সো দিস ড্রিংক কোল্ড ইনসাইড।
মা: সা: আই’ম সী , ok লাস্ট question , হোয়াট do ইউ কল this ড্রিংক ?
হুলো দেখলো শেষ প্রশ্নের উত্তরটা মার্কিন কেতায় না দিলেই নয়। সে বলল , “ফ্যানটা..ফ্যানটা ”
সাহেব ফিরে গিয়ে জব্বর এক স্টোরি লিখে বসলো ‘Cool campaign with FANTA in hot summer’ । ইন্ডিয়ান ইলেকশন ইন ২১স্ট সেঞ্চুরি শীর্ষক এক সিরিজে খবরটা হইচই ফেলে দিল। কোকা কোলা কোম্পানির সেলস টীম এদিকে নির্বাচনে ফ্যান্টার ব্যবহার হচ্ছে পড়ে যারপরনাই আনন্দিত হলেও ক্রমশ বিক্রির ফিগার নিম্নগামী দেখে বেজায় ঘেঁটে গেলো। চাকরি বাচাতে তারা দাবি করলো যে আদপে ওটা মিরিন্ডা, যা ফ্যান্টা বলে প্রচার করা হচ্ছে !
দেশী সাংবাদিকরা সেই খবর যাচাই করতে এসে আসল তথ্য বার করলো বটে কিন্তু তাতে কেউ কেউ বাজারি স্বাদ আনতে আরো দু লাইন জুড়ে দিল – “ভোট প্রচারে নির্দলীয় প্রার্থীর ফ্যান্টার নামে অবাধ হাঁড়িয়া বন্টন !!” নির্বাচন কমিসনের অফিসাররা অনান্য দলের কাছে চর থাপ্পড় খেয়ে বেড়ালেও এ ক্ষেত্রে নবুদার ওপর একতরফা হুজ্জুতি চালালো। পান্তার মত মাদকদ্রব্যকে কায়দা করে ফ্যান্টা নাম দিয়ে ভোটার দের মধ্যে বিলি করার অপরাধে নবুদা এন্ড কোং কে গ্রেফতার করা হলো। একই অভিযোগে তাদের ভ্যান গাড়ি, স্পিকার সহ যাবতীয় প্রচার সরঞ্জাম বাজায়েপ্ত হলো। জামিনযোগ্য অপরাধে নবুদা ও বাকিদের পুলিশ লকাপে তোলা হয়েছে। লকাপে পচা সেলের লোহার রড গুলো ধরেই চমকে উঠে বলল , “উঃ, তাপ কি মাইরি!” পান খাওয়া এক পাটি দাঁত বের করে ইন-চার্জ সাহেব হেসে বললেন , “ছেঁকা লাগলো নাকি , আহা রে ! এসি নেই তো ,একটু তাপ তো লাগবেই। এ একেবারে নির্বাচনী উত্তাপ যে , হেঃ হেঃ হেঃ !”
১২ মে নির্বাচনের আগে নবুদা এন্ড কোং কি ছাড়া পাবে? আচ্ছা নবুদার প্রার্থীপদ বাতিল হয়ে যাবে না তো? কাল কোর্ট-এ কেস উঠছে, ফারদার জানতে হলে চলে আসুন না সেখানেই !

২৪এ এপ্রিল ২০১৪

উত্তাপ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments