নিজের কথা কিছু বলেছিলাম প্রথম ব্লগে। এবার সেই লেখার সূত্র ধরেই বলি আমি যেখানে থাকি সেই জায়গাটার কথা। নর্থ ক্যারোলিনার ছোট্ট শহর চ্যাপেলহিল। City নয়, town। অদ্ভুত একটা শান্তি ছেয়ে আছে শহর জুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শহর, মানুষজন ও বেশিরভাগই শিক্ষিত, ভদ্র। প্রথম প্রথম এসে ভদ্রতাটা একটু অস্বস্তিকরই লাগত। সময়ের সাথে সাথে অভ্যেস হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে শহরটাকে আপন করে নিয়েছি অনেকটাই। এমন নয় যে অনেকের সাথে আলাপ হয়েছে, খুব socialize করেছি, তবু নিজের একটা জায়গা আমায় ছেড়ে দিয়েছে সে। একাকিত্ব আছে… আছে কাজের চাপ… কিন্তু সব কিছুর পরও আছে দিনের শেষে শান্তি পাওয়ার মত একটুকরো ঝাউবন… প্রচুর চাপের মধ্যেও ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটানোর জন্য জুলজুলে চোখ-ওলা কাঠবেড়ালীর দল… আর আছে… জঙ্গল!

 

যখন আমার প্রচণ্ড রাগ হয়, এই জঙ্গলের কাছে যাই, কান্না পেলেও ওর কাছে, আবার প্রচণ্ড আনন্দ হলেও খবরটা প্রথম দিতে যাই ওকেই… জঙ্গল আমার কাছে একটা চরিত্র, প্রাণবন্ত একজন সঙ্গী। প্রথম প্রথম এখানে এসে একা চলে যেতাম এদিক ওদিক, বিভিন্ন trail-এ। ঘুরে বেড়াতাম উদ্দেশ্যহীন ভাবে। অনেকেই সাবধান করেছে, অনেক trail-ই সেরকম সুবিধের নয়, অপরাধী দের আনাগোনা আছে নাকি সেখানে। কে শোনে কার কথা। যারা বলত তারা শেষপর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়েছে। তবু কেউ কেউ মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে, “কি পাস জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে?”।

 

সত্যিই তো, কিসের জন্য ছুটে যাই বারবার? ঘাসফুলেদের দলের পাগলামো, সারি সারি "আদিম মহা দ্রুম" দের নীরবতা, নাকি সূর্যাস্তের আলোয় ঝলমলে পাতাগুলো? বেশি কথা বলা অর্থহীন। কি পাই আপনারা নিজেরাই দেখে নিন বরং। গতসপ্তাহে একদিন বিকেলে trail-এ গিয়ে তোলা কিছু ছবি তুলে দিলাম এখানে। আমি যে দৃষ্টিতে দেখেছি দৃশ্যগুলো, সেইভাবেই আপনাদের দেখতে হবে এমন জবরদস্তি আমি করবনা। কবিতার সার্থকতা যেমন পাঠকের উপলব্ধিতে, সেরকমই আমি মনে করি ক্যামেরাবন্দী ছবিও বিভিন্ন দর্শকের চোখে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে দৃশ্যমান হওয়ার দাবি রাখে। নিজের দৃষ্টি দিয়েই দেখুন, কেমন লাগে আমার এই প্রেয়সীকে।

 

 

 

*** সমস্ত ছবি আমার নোকিয়া ৬৭০০ ক্লাসিক ফোনে তোলা।

একটা জংলি বিকেল
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments