শিক্ষকতাকে পেশার ব্যপারে আমি যে যে বিষয় গুলো সব থেকে পছন্দ করি, তার মধ্যে একটা নিঃসন্দেহে মনে-প্রানে তরুণ থাকার সুযোগ। ছাত্রছাত্রীদের সাথে মিশতে মিশতে আমি আবার কিছুটা হলেও যেন আমার কলেজ-জীবন কে খুজে পাই; কোন সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান-ই হোক, কিম্বা ওদের হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটিগুলোই হোক। গতকাল ল্যাবে এমন একটা ঘটনা ঘটলো, ভারী আনন্দ হল মনে; মনে হল তরুন প্রজন্ম চিন্তাভাবনায় পিত্রিতন্ত্রের বাঁধা গত থেকে কিছুটা হলেও বেরিয়েছে, এবং এদের হাতেই আমাদের ভবিষ্যতের ভার। খুব সামান্য ঘটনা, হয়ত অতটা চিন্তা করেও করা নয় কাজটা, তবুও আমার ভালো লাগলো কারণ অবচেতন মনেও সম্ভবত আমার বন্ধুবান্ধব্দের মধ্যে এরকম চিন্তা আসবে না, এবং আমার কলেজ জীবনে ঘটেওনি কখনো। তাই সকলের সাথে ভাগ করে নেওয়া।
প্রবীণ লোন্ধে, মোহিত তলোয়ানি, নেহা ভেমুলা এবং অনঘা কোটে – চারজনে বেশ ভালো বন্ধু, সম্ভবত নেহার সাথে প্রবীণের একটু টকমিষ্টি সম্পর্ক আছে। অথবা সত্যি কিছু নেই, কিন্তু বন্ধুরা বিশ্বাস করে আছে, অথবা তারা চায় যে সেরকম সম্পর্ক থাকুক। মাঝে মাঝে ক্লাস চলাকালীন বিশেষত ল্যাব চলাকালীন এই নিয়ে একটু আধটু মন্তব্য কানে এসেছে, কিন্তু অতটা কঠিন শিক্ষক না হওয়ার কারণে এবং ‘ভালোবাসার শক্তি’ তে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে, সে সব মন্তব্য শুনেও কখনো কড়া চোখে তাকাইনি, আর তাই ওরাও হয়ত আমার সামনে অতটা সাবধান হওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। গতকাল একটা assignment ছিল, ‘নাম এবং পদবী আলাদা আলাদা ভাবে user এর থেকে পড়তে হবে এবং একসাথে প্রিন্ট করে দেখাতে হবে। মোহিত এবং প্রবীণ একসাথে প্রোগ্রাম করছিল; আমি চেক করতে যেতেই
মোহিত বলল, “ম্যাম, কনক্যাটিনেশন হয়ে গেছে, রান করে দেখাই?”
আমিঃ আগে কোড দেখাও।
মোহিতঃ ম্যাম, একবার রান করি প্লিস।
আমিঃ তাড়াতাড়ি
মোহিতঃ ওকে। নামঃ “প্রবীন” পদবীঃ “ভেমুলা” (পাঠকের মনে আছে হবে, ভেমুলা আদতে নেহার পদবী!)
প্রবীনঃ কি আজেবাজে উদাহরণ লিখছিস, ম্যাম বুঝতে পারবে না।
মোহিতঃ ম্যাম খুব ভালো বুঝতে পারছে, তাই না ম্যাম?
আমিঃ ঠিক আছে, এবার কোড দেখাও, না হলে আমি কিন্তু গ্রেড করব না!
প্রবীনঃ হ্যা ম্যাম, দেখাছি, আর একবার রান করি। নামঃ “মোহিত” পদবীঃ “কোটে”
আমি আর কিছু বলার আগেই অবশ্য আমাকে কোড দেখালো এবং প্রশ্নের উত্তর দিলো। আদতে দুজনেই ভালো ছাত্র, কথা শোনে, কাজ করে। আমি মনে মনে মোহিত-কে একটু বাহবা দিলাম, পিত্রিতন্ত্রের বাইরে এসে “প্রবীণ ভেমুলা” লিখতে পারার জন্যে, কারণ আমি নিশ্চিত, আমি বা আমার বন্ধুরা লেগপুলিংএর জন্যে এরকম উদাহরণ যখন দিয়েছি, কোনদিন ছেলেদের পদবী পরিবরতন-এর কথা ভাবতে পারিনি, আমরা হলে হয়ত “নেহা লোন্ধে” লিখতাম, “প্রবীণ ভেমুলা” লেখার ধারেকাছেও যেতাম না।

এবং মাতৃতন্ত্র…
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments