অভিবাদন করার ভঙ্গীতে ঝুঁকে রয়েছে শুকনো বুড়ো গাছটা। ডালপালাগুলো অজানা জ্যামিতির প্রমাণ। চিকচিকে রুপোমাখা নদী। সূর্যের আলো গাছপালার ফাঁক দিয়ে সিঁধেল চোরের মত ঢুকে অভ্রর কনাগুলো নতুন করে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। নদীর ধারটা দিয়েই হাঁটা। হাতে একখানা চোরাই লাঠি। আরে না বলে নেওয়া তো চুরিই। আসবার সময় একটা বস্তীর বেড়া থেকে ঝেঁপে এনেছি যে। তা সেই লাঠি দিয়ে ঝোপঝাড় সরাতে সরাতে যাওয়া। সাপ খোপ থেকে বাঁচা যাবে। তাছাড়া চা বাগানের আড়াল থেকে ছুটকো ছাটকা চিতাবাঘ এলেও থাবার টক্করে লাঠিখানা এগিয়ে দেওয়া যাবে। একটু বিলম্ব কিন্তু বীরের মৃত্যু। আসলে অন্তিম শ্বাস তো সাহিত্য-সুন্দর।
ঝুলে থাকা খাদের গায়ে ঝুরো মাটিতে বসন্তের দাগের মত গর্ত। তাদের মধ্যে দিয়ে লালসবুজ ডানাওয়ালা শরীর আর ঠোঁট উঁকি দিচ্ছে। আর একটু , আর একটু ভাবতে ভাবতেই অন্তত তিন ঘণ্টা হাঁটা হয়ে গেছে। ভাবনা বাস্তবের সঙ্গে না মিললে প্রথমে অবাক লাগে, তারপর নিজের ওপর ভুল করার জন্য বিষম রাগ হয়। কুণ্ডুর পর যেমন অবধারিত মুণ্ডুর মিল, নন্দীর পর যেমন ফন্দি র অন্তমিল ; তেমনি নদীর সাথে মানুষের দিল্লাগি। বেয়ার গ্রাইলসের কল্যাণে বাড়ির কাজের মাসি পর্যন্ত জানে যে নদীর সাথে সভ্যতার এঁটুলি সম্পর্ক। তাহলে ? আমি তো অপুর মত রেল লাইন দেখব বলে বেড়িয়েছি। কিন্তু “পায়ে পায়ে পথচলা”র সে আনন্দ কই ? ডেসটিনেশন যদি উবে যায় কারই বা ভালো লাগে ।
নদীর ধারে পাথরের ফলকে আঁকিবুঁকি । কোন আদিবাসী শিল্পী অ্যাডভেঞ্চারারের আঁকা এবং বাস্তবিকই আঁকাবাঁকা । একটা সূর্য, তিনটে খামচানো নদীর ঢেউ, দুটো রেল লাইন। পাক্কা ডেনিমের বিজ্ঞাপন। এখুনি ছিপছিপে কাউ গার্ল মডেল ধুলো পায়ে রেল লাইনের উল্টো এক্সিসে গিয়ে দাঁড়াবে। তারপর…( মুড নেই; পুরোটা বলব না )
পা বোধহয় কেটে গেছে। আধখানা চাঁদের শেপে রক্তবিন্দুর জমাট রূপ। কয়েক ফোঁটা এখনো দোদুল্যমান। ইতস্তত নদীর স্রোতের বারবার ধাক্কায় চিরে যাওয়া , ফেটে যাওয়া পাথরের টুকরো ব্লেডের মত ধারালো। নিয়ানডারথালরা এগুলো ঘষেই বর্শা টরসা বানাত মনে হয়। কে জানে ? দুম করে নদীতে হাত ঢুকিয়ে ঝটকায় এক আঁজলা জল তুলে নি। হাত মিনি আকুয়ারিয়াম। ব্যাঙ্গাচি আর গেঁড়ি মাছে মিলেমিশে দুরন্ত ব্রাউনিয়ান। ছপ করে সেই প্যাকেজ আবার নদীকে ফেরত দিয়ে দু চার মিনিট সবুজে বসে জিরিয়ে নীল রঙা ঘাস ফড়িঙে চোখ। হাত দিয়ে ধরতে না পারায় মন খারাপ। অগত্যা ক্যামেরার ফ্রেমে পাকড়াও।
আবার উঠে এগারো নম্বর এবং লাঠি। ধারালো সিটরোনিলার ঝোপঝাড়। আঙুলে চেপে ঘষলেই সলিড ঘ্রান আর হাত বোলালেই ছুরি। ইলেকট্রিকের তারে নাম না জানা পাখী। ন্যাচারাল। আমার এমনিও সেলিম আলীটা দেখাই হয় না। জানব কি আকাশ থেকে ?
অনেক হয়েছে। কিছু মনে করবেন না। আমার আপাতত কাজ নেই তাই এসব হাফসার্কেল অভিজ্ঞতা লিখছি। কি আর করা যাবে ! ছেলেমানুষির ভাইরাসগুলো মাঝে মাঝে চেপে ধরে।

মাইরি বলছি। এটা ডাইরি।
  • 4.00 / 5 5
1 vote, 4.00 avg. rating (81% score)

Comments

comments