দীপক মিত্রের জন্যে মাঝেমধ্যে বেশ খারাপ লাগে ।ওঁর প্রতি শ্রদ্ধা শুধু অত্যন্ত ভালো কায়দায় নিপুণ ভাবে সাপ ধরতে পারতেন বলে নয়। বাবা – কাকা দের কাছেই শোনা – সত্তরের দশকের লক আউট ফেজ কাটিয়ে ওঠার পর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের কল কারখানা গুলি যখন আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শুরু করছে তখন তাদের সবারই গালে ঘন চাপদাড়ি । মানে এক কথায় বলতে গেলে অনেকেরই ক্যাম্পাস জংগলাকীর্ণ । সে জঙ্গলে ততদিনে আশ্রয় নিয়েছে প্রমাণ সাইজের চন্দ্রবোড়া , গোখরো , দাঁড়াশ, বেত-আছড়া । এই সংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কে উদ্ধার করার ব্যাপারে দীপক ও তাঁর শাগরেদ দের একটা সক্রিয়, সদর্থক ভূমিকা ছিল ।
আমরা তখন বেশ ছোট । নব্বই দশকের মাঝামাঝি কোনও একটা সময়ের কথা। ওঁর এক সাগরেদের আমাদের কোয়ার্টারের পিছনের পরিত্যক্ত ঘর থেকে চন্দ্রবোড়া এবং আমাদের শোবার ঘরের লাগোয়া বাথরুমে টিকটিকি খেতে এসে আটকে যাওয়া বেত আছড়া সাপ উদ্ধার করে নিয়ে যাবার সময়ের দৃশ্য আজও আমার স্মৃতিতে অমলিন ।ধরে নিয়ে যাবার সময়ে সাপ দুটির গায়ে হাতও বুলিয়ে দেখেছিলাম। চন্দ্রবোড়া খুব প্রাপ্তবয়স্ক হলে একটু ঘন বাদামি গোছের রং ধরে। কিন্তু এটি জুভেনাইল ছিল । অদ্ভুত সোনালী একটা আভা খেলে যাচ্ছিল গোটা শরীরে । সে সব স্মৃতি সততই সুখের । কোথাও একটা মনে হচ্ছে এই ভালো কাজকর্মের মধ্যেকার একঘেয়েমি এবং ধন্যবাদহীনতা কোনওভাবে ওঁকে নিরুৎসাহিত এবং ডিভিডেন্ড এর খোঁজে ব্যবসামুখী করে তুলেছিল । ইদানীং কালে ওঁকে নিয়ে অনেক অভিযোগ এর কথা শুনছি । এতদসত্তেও আমার কাছে উনি বিশিষ্ট সর্পবিশারদ এবং জনমানসে সর্প ভীতি কাটানোর এক মূর্ত প্রতীক হিসেবেই থেকে যাবেন ।

কতিপয় রোমন্থন (১)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments