অতি কম বয়সে প্রতিভাবান নশ্বর শরীর নিথর হয়ে গেলেই বোধ হয় স্বত্বা অবিনশ্বর হয়, এবং সাথেসাথে আরও বহু প্রাণের প্রেরণা হয়ে ওঠে। বছর ছাব্বিশ আগে সাফদার হাশ্মি যখন মারমুখী গুণ্ডাদের আক্রমণে মারা গেলেন , "হাল্লাবোল" করতে গিয়ে এবং করতে করতে , তখন তাঁর মুখ দেখে নাকি চেনার উপায় ছিলনা ওটা সাফদার । তখন তিনি শত্রুপক্ষের হাতে উঠে যাওয়া ট্রফি ।
শত্রুপক্ষের বিকৃত রুচির আনন্দ, সন্তুষ্টি বলে দেয় যে একজন মানুষ আসলে কতোখানি প্রতাপশালী ছিলেন, তাঁর প্রভাব কতোটা সুদূরপ্রসারী ছিল । কি অদ্ভুত মজার ব্যাপার – যেসব ঠ্যাঙ্গারে রা সাফদার কে পিটিয়ে খুন করেছিল , কালের নিয়মে তাদের বংশ বেড়েছে , পরিবারে লোক জন্মেছে- মরেছে, এই আমাদের মহল্লায় জন্মানো হিসেব না থাকা লাওয়ারিশ – বেওয়ারিশ কুকুর-বেড়ালের মতোই । আমরা সে খবর রাখিনি, রাখতে চাইও নি । সাফদার "ফ্রিজড ফ্রেম" হয়ে থেকে গেছেন । বলিষ্ঠতায় , সাহসে, প্রতিবাদে , আদর্শে ।

ওঁর জন্মদিনে বা মৃত্যুদিনে সাফদার কে আরও বেশি করে মনে পড়ে এটা ভেবে যে নিজের তলায় একটা কার্বন পেপার রেখে জীবনটা কাটালে পারতেন , অন্ততঃ আমাদের মতো মাঝারি দুনিয়ার কথা ভেবে। বুকে একগাদা ভয় নিয়ে, শঙ্কা নিয়ে বেঁচে থাকা আমাদের কিছু সাহসের যোগান হতো । আমাদের দুর্ভাগ্য যে উনি তা করেননি । বা হয়তো তিনি তা পকেটে নিয়েই ঘুরতেন সর্বক্ষণ, উপযুক্ত বাহক পেলে তল্পি দেবেন বলে। আমরা ব্যর্থ হওয়ায় ,ব্যথিত উনি সেই দাগ-আঁকা বিদগ্ধ কার্বন পেপার নিয়ে চলে গেছেন অনেক দূরে । পার্থিব নাগালের অনেকটা বাইরে, স্মৃতির নাগালের কাছাকাছি । 

কতিপয় রোমন্থন (২) /সাফদার হাশমি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments