সাধারণ মানুষ জানতে চায়না যে র' এর নতুন চিফ কে হবেন , বা আই বি -র নতুন হেড কে হতে চলেছেন। সাধারণ মানুষ কোনোদিন জানতে চায়নি যে শিব ঠাকুরের সন্ন্যাসী মূর্তির কেন দাড়ি – গোঁফ আছে, কেষ্ট ঠাকুরের কেন এই ফিচার গুলো নেই । চাঁদে এবং অন্যান্য গ্রহাণুপুঞ্জে যে বিপুল খনিজ সম্পদ ছড়িয়ে পড়ে আছে, বিশ্বের মাথা রা সেসব যদি নিয়ে আসতে না পারেন তাহলে কোনোদিন কোনও সাধারণ মানুষ গাল পাড়বেন না । বাজী রইল । কিন্তু অপুষ্টিতে মেয়ে- বৌ এর গর্ভপাত হয়ে গেলে , দুষ্টবলে বহুকষ্টে চষা পাকা ফসলের খেতে হঠাৎ এক সন্ধ্যেয় আগুন ধরে গেলে , তিন দিনে পুকুরের সব মাছ বেমালুম মরে গেলে মানুষ জিজ্ঞাসা করবেই , যে -" কেন হল ? কিভাবে হল ?" ! যেসব বিষয় সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষার জন্যে তৈরি হবার বইগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেই যথেষ্ট , সেগুলিকে ক্যাপসুলের মতো করে গিলিয়ে দিচ্ছে পত্র , পত্রিকা, সোশ্যাল সাইট গুলি । সোশ্যাল সাইট কে তবু ছাড় দেওয়া যায় । কারণ আমরা যারা এসব ব্যবহার করি, তাঁদের অনেকেরই বিলাসিতার দেদার সময় ও সুযোগ আছে । কিন্তু খবরের কাগজ আর ন্যাশনাল এবং আরও বেসরকারি দায়িত্বশীল টি ভি চ্যানেল গুলো ? তারা তো আবর্জনা কমিয়ে বিভিন্ন বাইরের দেশের ভালো কৃষি এবং পশুপালনের তথ্যচিত্র সাবটাইটেল বা স্থানীয় ভাষার ভয়েস ওভার সমেত দেখাতে পারে । রাস্তার কলের জল অঝোরে নষ্ট করলে তা যে বিদ্যুৎ নষ্ট এবং ঘুরে ফিরে যে শেষমেশ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরেই জোরালো কোপ সেসব তো প্রচার করতে পারে। নদীর মাছ অসময়ে ধরলে তা মাছের প্রজন্ম কে কিভাবে শেষ করে দেয় এবং ধীবরের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে তা কতোটা খারাপ তা নিয়ে তো সচেতন করাই যায় মানুষ কে । শুধু রেডিও তে কিছু হবে না । অডিও ভিস্যুয়াল চাই । মানুষকে ঘেটি ধরে শুধু ডেবিট কার্ড ইউজ করতে বললে হবে? সামগ্রিক জনব্যক্তিত্ব কে তো সুয়েভ করতে হবে তার আগে । বেশি না হোক, অন্ততঃ পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীতে সম্পৃক্ত হতে হবে মানুষগুলিকে । মানুষকে পিছিয়ে থাকার জন্যে অসম্মান না করাটা দারুণ ভাল গুণ । কিন্তু ভারতের সাধারণ মানুষ কষ্ট বইতে পারে, রেসিলিয়েন্ট অতএব যে কোনও সময় যে মোট বওয়াতে চাও চাপিয়ে দাও – এমন ভাবটাও তো খুব বড় একটা মহাজাগতিক সুবুদ্ধির পরিচয় দেয় না । বাস্তবটাকে তো নিদেনপক্ষে আড় চোখে হলেও দেখে নেওয়া যায় এক আধবার । আর বিজ্ঞানের লব্জ কপচে ডারউইনের থিওরি লাগালেও তো একটিবারের ফেয়ার গেম চাই একখানা । পেটে খিদে নিয়ে, মনে ক্ষোভ -বিরক্তি- জিজ্ঞাসা আর ধোঁয়াশা নিয়ে যে মানুষ গুলো বেঁচে আছেন তাঁদের স্নায়ু, পেশি সবই কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী । অল্প পুষ্টিতেও প্রমাণ মাপের কঙ্কাল গুলিকে ঢেকে রেখেছে, কাঠামোকে ধরে রেখেছে। নিরন্তর কঠিন এবং কঠোর জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা অনুশীলনে যে পেশী ভাঙছে, গড়ছে ( কি ভাবে যে সেরে ওঠে তার ব্যাখ্যা স্বয়ং ঈশ্বরই জানেন – জংলী জানোয়ার দের মতোই দ্রুত ন্যাচারাল হিলিং হয় বোধহয়) এবং আরও পোক্ত হচ্ছে। প্রযুক্তি এবং প্রসাধনের সাহায্য না নিয়ে সেয়ানে সেয়ানে হাতে-পায়ের সৎ যুদ্ধ হলে ঠুনকো জিনের ফুলোবাবুদের প্রজাতি উবে যেতে যে সময় লাগবে তার দৈর্ঘ্য বড় জোর আড়াই দশক বা এক প্রজন্ম । অতএব যে প্রশ্নটা ফাঁকা পাত্রের মধ্যেকার বায়ুস্তম্ভের একদম তলায় পড়ে থাকে এবং সব চাইতে জোরে অনুরণিত হয় , তা হল – এই কল্পসভ্যতার বুদ্বুদ , এক কানামাছির রুমাল ও ভেকবাজি – আর কদিন?

কদিন আর…?
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments