যে বহুমূল্য সোফাতে এতোক্ষণের মহামূল্য আধশোয়া আড্ডা  ,  পপকর্ণ হাতে তার কোলে মাথা রেখে চুপিচুপি ঘুমিয়ে গেলে জরিমানা অবশ্যম্ভাবী । সাঁতার বা ডুবসাঁতার না জানলেও নিজের অজান্তেই ডুবুরি হতে হয় । যেমন কমজোরি বুদ্বুদের  মলিন অ্যাকোয়ারিয়ামের  প্রায়স্থবির বিচিত্র কোলয়েডে ছত্রিশ ঘণ্টা ধরে ভেসে থাকা ড্রাই ফুডের  দানা ভিজে ভারী হয়ে একরাশ অযোগ্যতার নিরাশা , অপারগতার আফসোস নিয়ে ধীরে ধীরে ডুবে যেতে থাকে , ঠিক সেই গতিতে বা আরও ধীরে ঘুমন্ত শরণার্থীকে বিন্দুমাত্র আলোড়িত না করে এক কাঁচস্বচ্ছ মহাসাগরের নিস্তব্ধ গভীরে নেমে যেতে থাকে সোফা । যতো গভীরে যাওয়া হয় , ততোই ক্রমশ মগজে ক্ষীণ হয়ে আসে  ড্রয়িং রুমের সোডিয়াম ভেপার বাল্ব । রঙের যেমন শেলফ লাইফ আছে , তেমনি বোধহয় রঙের স্মৃতিরও । শুধু ঔজ্জ্বল্যটুকুই হয়তো চিরকালীন  !  চিরকালের দৈর্ঘ্যও  এখন মাপের হিসেবে বেশ গোলমেলে ।  এ নিয়েও অন্তহীন বিতর্কে বসাই যায় , তবে অন্যের খরচে ।   

স্থূলদাগে একবার লেখা এবং তার নীচ থেকে শুরু হয়ে পেট পার করা  পেটচেরা  সইগুলো  হয়ে গেলে সে খাতা আর বাতিল হবে না বলেই ধরে নিই , কারণ ধরে নেওয়া যায় ।  বীজগণিতের অঙ্কেও তো না বলেকয়ে এক্স ধরতেই শিখেছি  । তখন কোনও বারণ ছিল না যখন এখনো নেই। এও আরেক ধরে নেওয়া । যদিও ভালোখাতা গুলোও  শেষ  হবে একদিন, তবুও নিশ্চিন্ত; তার পরের দিনেই আর্কাইভ । কোথাও একটা  রাখা থাকবে , থেকেই যাবে  সবকিছু , কেউ একজন থাকবেই  যে  সব ঠিক করে রাখবে  -  এ বিশ্বাস এখনো রয়ে গেছে । কুসংস্কার বিজ্ঞান দিয়ে তাড়ানো যায়না । আদর যত্নে ? যায় হয়তো !  ঠিক যেমন ভূত নেই, তবু ভূতে বিশ্বাস করে চলেছি । বিশ্বাস করি কারণ এখনো মাঝেসাঝে ভয় পেতে ভালো লাগে।  মানুষ আসলে ভয় পেতে ভালোই বাসে । কিন্তু ভেতরের কথাটা খুলে বলতে ভালবাসেনা । ভয়টা একটা বেশ সুন্দর প্রকৃতির আমোদ । কারণ ভয়ের পরে আশ্রয় পাওয়া টা আরও ঢের বড় আমোদ ।   এ বিষয়ে বিস্তারে যাবার আগে বিস্তারিত আলাপ আবশ্যিক ।   

 গভীরে  ধীরগতিতে তলিয়ে যেতে থাকলে  হাঙরেরা  ভিড় করে আসে । খুব কাছে আসে , তবু খানিকটা দূর অব্ধিএসে  থেকে যায় । দেখে , ভাবে  । এতো নিশ্চিত কাউকে ওরা আগে দেখেনি বোধহয় , এতো নিশ্চিন্ত যাত্রার কথা ওরা আগের প্রজন্মের কাছে শোনেনি । ওরা ভরসা পায়না , কারণ ওরা ভালো শিকারী। প্রকৃত শিকারী জানে যে সেও কোন না কোনও দুর্বল মুহূর্তে আরও অন্য কারোর শিকার । সুতীক্ষ্ণ দাঁতের অপব্যবহারও তাই আপাতত স্থগিত ।  এটুকু সম্মান তো আগেও প্রাপ্য ছিল ! পাওয়া যায়নি কেন ? আমি  জানি না । কে জানে তা জেনে আর লাভ নেই , কারণ এখন আমি জেনে গেছি ।   নতুন শিক্ষা হল তবে ? বসার ঘরের  নৈশভোজে  হাঙরদের কনফারেন্স এবং ফিরে যাবার মাত্র একটু আগে দুর্বলচেতা দলছুট একটা হাঙরের  সাক্ষাতকার অবধি  ঢাকাচাপা থাক সবই । যেমন ছিল , যেমন চলছিল চলুক । 

এই ঘুমেও কি একসপ্লয়টেশনের  গন্ধ পাওয়া গেল তবে ? সমুদ্রে সে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আগে ফিরে যাওয়া যাক । হাঙরের পরের প্রজন্মের হাত থেকেও ছাড় পাওয়া বাকি যে !  

কালঘুমসমগ্র (শুরুর ঠিক পরে)
  • 3.50 / 5 5
2 votes, 3.50 avg. rating (74% score)

Comments

comments