ঠিক সাড়ে দশটায় দুরন্ত এসে দাঁড়ালো ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসে। হাতে এখন বারো ঘন্টা সময়। রাত সাড়ে দশটায় আবার গোয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ী ধরব। এই সময়টুকু মুম্বাইতেই কাটাতে হবে। এদিকে ঘাড়ে একটা জাম্বো ব্যাগ, দিনদশেকের সাজসরঞ্জাম। তাই প্রথমেই ক্লোক রুমে গিয়ে ভারমুক্ত হয়ে পিঠে একটা ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। গন্তব্য আপাতত গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া। সেখান থেকে যাব এলিফ্যান্টা দ্বীপে। মুম্বাইয়ে বারো ঘন্টা কাটাতে হবে শুনে ইনস্টিটিউটের এক বন্ধু এই পরামর্শ দিয়েছিল, টিআইএফআর এ নিয়মিত যাতায়াতের সূত্রে সে বলতে গেলে বম্বে বিশারদ হয়ে গেছে।

Photo0540

ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস

স্টেশন থেকে বেরিয়ে এক পুলিসকর্মীর কাছে পথনির্দেশ চাইতে তিনি বাসস্ট্যান্ডটা দেখিয়ে দিয়ে বললেন ওখানে দাঁড়াতে, এক্ষুনি বাস এসে যাবে। আমি যখন বললাম আমি হেঁটেই যেতে চাই, তিনি এমন ভাবে তাকালেন যেন এমন আহাম্মক তিনি জীবনে দেখেননি যে বাস থাকতে হেঁটে যেতে চায়। ভাবলাম তাঁকে বুঝিয়ে বলি আমার হাতে এখন অঢেল সময় আর গুগল ম্যাপে দেখে নিয়েছি গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া সিএসটি থেকে খুব দূরে নয়। ফেলুদার সেই উপদেশটা, "কোন শহর ঘুরে দেখতে চাইলে হাঁটার চেয়ে ভালো কিছু হয়না", শুনিয়ে দেওয়া যায় কি না তাও ভাবছিলাম। কিন্তু আমার বিপুল হিন্দীজ্ঞানের কথা ভেবে আর সাহস পেলামনা। যাই হোক আমি নাছোড়বান্দা বুঝে তিনি রাস্তাটা দেখিয়ে দিলেন।

Photo0543

বিন্দাস হাঁটতে লাগলাম, হাতে মোবাইল দিয়ে ফটাফট ছবি তুলছি। (মোবাইল আসার আগে কি জানতাম আমি এতবড় ফটোগ্রাফার!!) চারপাশের বাড়িগুলো সব যেন একই ধাঁচের। পরে জেনেছি একে বলে ভিক্টোরিয়ান আর্কিটেকচার। সেরকমই একটা বাড়ির সামনে কয়েকজন সাদা ইউনিফর্ম পরা পুলিস মোটরবাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি ছবি তুলতেই তাঁরা শিরদাঁড়া টান করে সরু চোখ করে আমার আগাপাশতলা জরিপ করতে শুরু করলেন । ততক্ষণে আমিও দেখে নিয়েছি, বাড়িটার সামনে দেশ বড় করেই লেখা "মহারাষ্ট্র পুলিস হেডকোয়ার্টার্স"। বেশী কিছু না ভেবে সোজা ওনাদের দিকেই এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া টা কোনদিকে?" কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে একজন তেড়িয়া হয়ে বললেন, "গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া তো ওইদিকে, এখানে দাঁড়িয়ে কিসের ছবি তুলছো?!!" আমি দাঁত বার করে ওনাদের ধন্যবাদ জানিয়ে এগিয়ে গেলাম।

Photo0547

মহারাষ্ট্র পুলিস হেডকোয়ার্টার্সের সামনে কর্তব্যরত পুলিসকর্মীরা

খানিকদূর গিয়ে পিছন ফিরে দেখি তখনো ওনারা আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি কাসবের কোন ভাই কিনা, পরবর্তী কর্মসূচীর ছক কষার জন্য মুম্বাইয়ের ছবি তুলতে এসেছি কি না সে বিষয়ে বোধহয় তখনো নিঃসংশয় হতে পারেননি।

Photo0552

গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া

Photo0556

তাজ হোটেল

Photo0566

আরব সাগর থেকে মুম্বাই

Photo0788

মেরিন ড্রাইভ

Photo0794

মেরিন ড্রাইভ

Photo0795

নরিম্যান পয়েন্ট

কাসবের ভাই
  • 3.00 / 5 5
1 vote, 3.00 avg. rating (71% score)

Comments

comments