সতর্কীকরণ :আদ্যন্ত ছ্যাবলা পোস্ট,ফেবুর স্টেটাসের থেকেও খারাপ

(আমি একটা ছেলেকে ভালবাসতাম।বাসতাম বলব না,এখনও বাসি।শুধু হাতে কলমে সম্পর্কটা নেই।ঝড়বৃষ্টির মুখে বিড়ির আগুনের মত যেভাবে আমাদের সম্পর্কটা তৈরী হয় তাতে শুরু থেকেই সেটা না টেঁকার সম্ভাবনা ছিল,অতঃপর টেঁকেনি।আমি তাকে আর কোনো দোষ দিতে চাই না,সে এটার পরও আমার একটা অনুরোধ রেখেছে-নিজের নতুন অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেট করে নিয়ে।যাই হোক এখানে তাকে নিয়ে অর্থাৎ প্রেমের মত সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কোনো কথা হবে না।আলোচনাটা সীমাবদ্ধ থাক ক্রাশেই।)
চোখ রোমান্সে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।আমার আই কন্টাক্ট ইস্যু আছে।দৃষ্টি বিনিময়ের ব্যাপারটায় আমি স্বচ্ছন্দ নই।মানে খুব পরিচিত,অনেকবছরের পরিচিত কেউ না হলে আমি হয় সোজা তার দিকে তাকাতে পারি না,নয় তো এত তীব্রভাবে তাকিয়ে ফেলি যে সে অস্বস্তি বোধ করে বা আনন্দিত হয়ে ওঠে(বন্য ছেলেরা আগ্রহ ভেবে,বন্য মেয়েরা নিজেকে সৌন্দর্যের পরাকাষ্ঠা ভেবে)।বলাই বাহুল্য এটা সব জেন্ডারের মানুষের ক্ষেত্রেই হয়।তো এই আই কন্টাক্ট সংক্রান্ত ব্যাপারটা আমার কোনোদিন কোনো ক্রাশের ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা পালন করেনি।এটা নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্হিতি হয়েছে এক বুড়ো প্রোফেসরের সাথে,এবং আমাদের কাউন্সিলর কাকুর সাথে,একাধিকবার।চোখ সরিয়ে বা নামিয়ে নেওয়ার কারণে।কাউন্সিলর কাকু ভোটের দিন ঠিকঠাক ভোট দিয়েছি কিনা জানতে এসেছিলেন,আমি, আমার এই মানসিক রোগের কারণেই চোখ সরিয়ে নিয়ে চলে যাই।পরে আতঙ্কে ছিলাম আমাকে সিপিএম ভেবে বসলেন কিনা।যাই হোক দ্বিতীয়জন,মানে কাউন্সিলার,হয়ত বাবার বন্ধু বলেই তেমন কিছু মনে করেননি,পরেও ভাল ভাবেই কথা বলেছেন।কিন্তু প্রথমজন খচে গিয়ে নানাবিধ উদ্ভট কাণ্ড করেছেন।আমাকে ইচ্ছা করে নম্বর কম দেওয়ার কারণে আমি মাঝে মাঝেই তাঁকে সোশাল মিডিয়ায় নাম না করে গালি দিই।
যাই হোক, ক্রাশের প্রসঙ্গে আসা যাক।আমি আমার ক্রাশের একটা লিস্ট বানাব।তার আগে পুরুষ জাতির একটা মহত্বের কথা স্বীকার না করলেই নয়।ভারতবর্ষে ক্রমবর্ধমান অ্যাসিড হানা ও প্রতিশোধমূলক পর্নের ঘটনা থেকে একটা কথা বোঝা যায় যে (নর্থ ইস্ট বাদে) এখানকার পুরুষদের একটা বড় অংশ প্রত্যাখ্যান নিতে পারে না,এবং তার উত্তরে যাকে ভালবাসে বলে দাবী করে তাকে মেরে ফেলতে বা ততোধিক ভয়ানক শারীরিক আঘাত করতে পিছপা হয় না।মেয়েদের মধ্যে এই প্রবণতা অনেক কম,যদিও কিছুদিন আগে একটা মেয়ে প্রেমিককে অ্যাসিড মেরেছে,কিন্তু পুরুষের তুলনায় সে সংখ্যা নগণ্য।কারণ মেয়েরা প্রেমিকের বদলে অন্য মেয়েদের উপর খচে বেশী।তো যা বলছিলাম,প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর হলেও এই ক্রাশ সংক্রান্ত ব্যাপারে পুরুষরা কিন্তু মেয়েদের তুলনায় অনেকগুণ বেশী কোমলমতি ও উদারতার পরিচয় দেয়।

ক্রাশ (১)আমার প্রথম ক্রাশ ছিলেন আমাদের স্কুলের এক অঙ্কের শিক্ষিকা,দুর্দান্ত অঙ্ক জানতেন,তার চেয়েও বেশী জানতেন ভয় দেখাতে।আমার ওঁর উপর দৈত্যাকার ব্যথা ছিল এবং তখনই আমি অঙ্কে খারাপ ফল করতে শুরু করি।উনি ব্যাপারটা টের পেয়ে নিয়ম করে আমার উপর মানসিক অত্যাচার চালিয়েছেন।পরে যখন ক্রাশ কেটে যায় ও আমি যখন প্রিটেস্টে বা এবিটিএর টেস্টে অঙ্কে ভাল নম্বর পাই,বা ক্লাসে পড়া পারতাম তখন আমার দড়াম করে ব্যাগ ফেলে দেওয়ার মত,বা গলার আওয়াজ সরু করে এক বান্ধবীর সাথে কথা বলার মত ছোটখাট বাঁদরামিগুলোতে চোখ বুজে থেকেছেন।
ক্রাশ (২)এই ভদ্রলোক প্রায় আমাদের পুরো ব্যাচের ক্রাশ ছিলেন।ইংরাজীর স্যর।যদিও পরে ওঁর টাক পড়ে যাওয়ায় সেই মেয়েগুলো অনেকেই আর ব্যাপারটা স্বীকার করতে চায় না,তাও বলব কারো উপর ব্যথা থাকলে সেটা অস্বীকার করা মহাপাপ।উনি উত্তর কলকাতার কাছে শহরতলিতে একটা স্কুলে পড়াতেন,বাড়ি ছিল বালিগঞ্জে।এই ভদ্রলোকের সাথে অভিমানগত কারণে আমার একটা ঝামেলা হয়েছিল,মানে বেশী প্রেম পেলে আমরা আশাহত হয়ে যেমন খেঁচিয়ে ফেলি তেমন আর কি।উনি তাতে আমাকে হুমকি টুমকি দেন,ভদ্রলোক একটু ফাটাকেষ্ট টাইপ একটা প্রতিমূর্তি নিয়ে চলতে পছন্দ করতেন,তাঁর হাত চালানোর প্রবণতার কারণে তাঁর চেয়ারের নীচে কেউ বসতে চাইত না।পরে উনি যখন এই ব্যাপারটা জানতে পারেন(ওঁকে ঝামেলার দিন রাতে ফোন করে জানানো হয়েছিল আমি ওঁকে ‘অসম্ভব’ রেসপেক্ট করি ও ‘ভীষণ’ ভালবাসি),তারপর থেকেই উনি আমার প্রতি যারপরনাই স্নেহশীল হয়ে ওঠেন।এমনকি ওঁর সামনে যে জায়গাটায় আমি বসতাম,আর সেটা নিয়ে মেয়েদের মধ্যে কাড়াকাড়ি হত,আমি মুখ ফোলানোয় উনি ওখানে আমি ছাড়া আর কাউকে বসতে বারণ করে দিয়েছিলেন।ওঁর সাথে ঝামেলার পর থেকে এইভাবে সম্পর্কটা মারাত্মক মধুর হয়ে যায়।
ক্রাশ (৩) আমাদের কলেজের একটি ছেলে আমাকে এবং আরো অনেককে বামপন্থি আদর্শে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করত।পরে ওকে দেখলে সবাই পালিয়ে যেত। আমি স্কুলের শেষদিকে ও কলেজের প্রথম দিকে সিপিএমকে সমর্থন করতাম (পরে কিছু মানসিকতার বদল হওয়ায় আর করিনি),ফলে সেই ছেলেটিকে আমার ভাল লাগে।আর তাছাড়া আমাকে প্রথমবার কেউ কমরেড বলে উদাহরণ দিয়েছিল।এই ছেলেটিও আমার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছিল।কিন্তু ও সবসময় ওর প্রথম প্রেমিকাকে(বিজেপি) নিয়ে দুঃখ করত বলে আমি এগোইনি।তাছাড়া ওর একটা বাজে প্রবণতা ছিল তৃণমূলদের সাথে বন্ধুত্ব করা,গোলমাল দেখলেই পালানো এবং আমাদেরও ভাগিয়ে কলেজ থেকে দূরে নিয়ে যাওয়ার।আমাদের কলেজে মাঝেমধ্যেই রাজনৈতিক গোলমাল হয়,সেবার পুলিশও এসেছিল।সেই ঝামেলা থেকে এইচ ও ডি স্যর আমাদের উদ্ধার করেন,তার আগে ও ভাগিয়ে ভাগিয়ে বাসস্টপের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।তাই না এগিয়ে ভালই হয়েছে কারণ পরে ওর কোনো প্রেমই টিঁকত না, ও প্রেমিকাদের সাত টাকার সোডা ছাড়া কিছুই খাওয়াত না বলে।আমি টিফিনে নিজের টাকায় মাংসল মোমো বা ফ্রায়েড রাইস-চিলিচিকেন খেতাম,তারপর আইসক্রিম।তাই অসম্ভব নয় যে ও সেটা খাওয়ার লোভে আমার সাথে ঘুরতে টুরতে যেতে চাইত।কিন্তু তাও ঐ মহিলা ক্রাশ(১) এর মত নিষ্ঠুরতা কখনই দেখায়নি।কিছুদিন আগে সে আমাকে টেক্সট করে তার সাথে যোগাযোগ না রাখার ব্যাপারে অভিযোগ করতে শুরু করে,এরপর তার একটা গ্রামারের ভুল ধরায় সে রেগে গিয়ে কথা বন্ধ করে দেয়।আমি কিন্তু আমার বানান বা গ্রামারে ভুল ধরলে এরকম করি না।

ক্রাশ(৪):এই ভদ্রলোকের প্রতি আমার শুধু ব্যথা নয়,মাত্র দশ ভাগ খাদ মেশানো শ্রদ্ধাও রয়েছে।খাদটা কেন পরে বলছি।আমি কানে একটা ভয়ানক ইনফেকশন নিয়ে তাঁকে দেখাতে গেছিলাম।তিনি যেমনি দক্ষ চিকিৎসক ছিলেন,তেমনি মিষ্টি,শুধু মিষ্টি না ফাদারলি ব্যবহার ছিল।এখানকার এক ডাক্তার চিমটে ব্যবহার করায় আমার কানে ফুটো হয়ে পরিস্হিতি ভয়াবহ করে তোলে।পরে মেডিকেল কলেজে যাওয়ায় উনি অসম্ভব দক্ষতায় আমাকে সুস্হ করে তোলেন।এর কিছুদিন পর কানে জল জমায় ওঁর কাছে যেতে হয়,উনি তখন ওটা পরিষ্কার করার পর একটা ভয়ানক ছত্রাক মারার ড্রপ দিয়ে তিন সপ্তাহ বাদে আসতে বলেন।এছাড়া ভদ্রলোক আমাদের বিনা পয়সার ওষুধের লাইনে পাঠিয়েছিলেন সেটা আরেক বীভৎস অভিজ্ঞতা।ঐ ছত্রাক মারার ড্রপটা নিলে আমি প্রায় ঘন্টা খানেক কাটা ছাগলের মত ছটফট করতাম,তারপরের দুঘন্টা নেতিয়ে পড়ে থাকতে হত।বীভৎস যন্ত্রণা হত কানে ও গলায়।ঐ ড্রপ দিনে তিনবার দিতে বলেছিলেন।ওটার ভয়েই ওঁর আশেপাশে আর যাবার সাহস করিনি।ঐ দশ ভাগ খাদের এটাই কারণ আর কি!বর্ষাকালটা আমাকে এজন্য খুব ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় কারণ সব ডাক্তারই ঐ ওষুধটা দিয়ে দেন কানে ছত্রাক হলে।অপারেশন টেবিলে উঠতেও ভয় করে,কানটা বিশ্রীভাবে কাটবে।ওঁর হাতে করালে আমার আপত্তি ছিল না কিন্তু বাড়িতে সরকারী হাসপাতালে করাতে কিছুতেই রাজী নয়।

নীতিকথা:(১) ক্রাশ ভক্ষণের সময়টা যারপরনাই মিষ্টি হলেও এটার অস্তিত্ব তিন মাস থেকে ছ’মাস।
(২)আমি নিজের জীবনে,ক্রাশকে প্রেমে উত্তরণ বিষয়টা মোটেই পছন্দ করি না।কারণ ‘সব পেলে নষ্ট জীবন’।
(৩) ক্রাশ জিনিসটা প্রেমের থেকে অনেক ভাল,কারণ দীর্ঘস্হায়ী ইনসমনিয়া,অ্যাঙ্গার আউটবার্স্ট বা অন্য কোনোরকম মানসিক সমস্যার কারণ হয় না।এবং এটার সবচেয়ে ভাল দুটো দিকই হচ্ছে,(ক)প্রাথমিক তীব্রতা,যা সাহিত্য সৃষ্টির কাজে লাগে।(খ)বেশী ভোগায় না,জলদি কেটে যায়।ফলে পুরোনো ফুরফুরে ভাব ফিরে পেতে সময় লাগে না।
(৪)কারো প্রতি ক্রাশ থাকলে সেটা পরবর্তীকালে অস্বীকার করা পাপ,এর শাস্তি আমার লেখা একতা কাপুরের সিরিয়ালের মত দীর্ঘায়িত গল্প/আত্মবকম পড়তে বাধ্য হওয়া।

ক্রাশ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments