প্রতিটা বিশ্বাসের একটা দর্শন থাকে । অবিশ্বাসের ও দর্শন থাকে । বিপরীত দর্শন । এই সন্ধেবেলায় হটাত্‍ করে খুঁজে পাওয়া এই সময়টা নিজেই তো দার্শনিক । মাত্র এক ঘণ্টা আগেও তো কোনও আভাষ ছিল না যে এমনটা হবে । চলার গতি খুব ধীর । —– স্লোয়ার দ্যান দ্য স্লোয়েস্ট । ভাবতে খুব ভাল লাগছে যে আপাতত হাতে অফুরন্ত সময় । অনেকটাই শুন শান রাস্তা । হটাত্‍ হটাত্‍ এক দুইটা বাদ দিলে সব গুলি ল্যাম্প পোস্টই আলো দিচ্ছে । সোজা সরল রেখায় অনেকটা দূর দেখা যাচ্ছে । অল্প সময়ের জন্য হলেও , পুরো রাস্তাকে ভিজিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল বৃষ্টি । আকাশ গুমোট । পুর্ণিমা আসতে বোধহয় দেরী আছে। কোনও দিন চাঁদের হিসেব রাখার দরকার হয় নি । কিন্তু এই মূহুর্তে খুব জানতে ইচ্ছে করছে । একদিকে ভালই হয়েছে যে চাঁদের উপস্থিতি নেই । এমন একটা সন্ধেবেলা অনেকদিন আগে ভাল লাগার বেশ কিছু অনুভূতিকে সামনে এনে দিয়েছিল। সেদিন ও হাঁটতে হচ্ছিল । পার্থক্য একটাই । আজকের এই সন্ধেবেলা ভীষনভাবে বাস্তব — প্রত্যয়ী । শিথিল স্নায়ু কোষ অনেকটাই বিপর্যস্ত । কিছু অনুভুতি ভেতর থেকে তৈরি হয়েও অবয়ব পাচ্ছে না । ক্ষণিকের পুরোনো অতিথি । বেশ কিছু হিসেব —-কিন্তু এখন তো অন্য কিছুই ভাবতে ইচ্ছে করছে না । শুধু যেন রাস্তাটা তাড়াতাড়ি শেষ না হয় । এখন আর ইচ্ছে করে জোরে শ্বাস নিতে হয় না । অসুস্থ কোষ গুলির জন্য বাতাসের চাহিদা আজকাল বেড়ে গেছে । জোরে শ্বাস নেওয়াটাই এখন স্বাভাবিক । টুক করে এক ফোঁটা জল পড়ল । গাছের পাতা কি জমিয়ে রেখেছিল । অন্ধকারে বোঝা যাচ্ছে না কী গাছ । একটু একটু করে ছুঁয়ে গেল জলের ফোঁটা — নাক, নিচের ঠোঁট , চিবুক।

ক্ষণিকের পুরোনো অতিথি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments