আইনের ভাষার যতো বেশি মারপ্যাঁচ , ততো বেশি দুর্নীতির সম্ভাবনা । মারপ্যাঁচ বেশি মানেই কাউকে না কাউকে টুপি পরাবার মতলব প্রকাশ পায়। অতএব এক স্বচ্ছতার অভাব থেকেই আরেক অস্বচ্ছতার জন্ম । আমাদের আইন কানুনের কিতাব গুলো দেখে তো আমার তাই মনে হয়েছে ( যে দু একটা দেখেছি আর কি) । আইনের বই গুলোয় তামাম রিপু কর্ম হয়েছে অ্যাডেনডাম এর মাধ্যমে। কখনোই বই গুলোর সামগ্রিক ভালো এডিটিং এবং পুনর্লিখন হয়নি। সময়ে সময়ে বেশি প্রচলিত বইগুলির পুনর্মুদ্রণ হয়েছে মাত্র। এর ফলে কখনো কানুনি নিদানে চূড়ান্ত পরস্পর বিরোধ দেখা গেছে, কখনো অকারণ আঁটুনি এসেছে , কখনো বা ফাঁস ঢিলে হয়ে হাতির কোমর সমান বেড় । গোটা ব্যাপারটা জুড়ে একটা রিকারসিভ জট পাকিয়েছে। ঘাসের শিকড়ের মতো সে জটের বংশবিস্তার ঘটেছে । আইনের বইয়ের মধ্যে অনেকগুলিকে দেখেই বোঝা যায় যে শুরুর দিকে এসব সমাজের কিছু তাকতওয়ালা লোকের খেয়ালে বানানো , এবং প্রাথমিক ভাবে বই গুলি খুবই কেস স্পেসিপিক ভাবে লেখা হয়েছিল । আর তা আবার এমন ভাষায় যে সীমিত কিছু লোকে বুঝবে -জানবে। বাকিরা তৌবা তৌবা করবে এবং দরকারে-অদরকারে বুঝদার জনগোষ্ঠীর উপরে নির্ভরশীল হবে । এই ব্যাপারটা বুঝে গেল মাঝের একটা গোষ্ঠী । তারা বেশিরভাগের অজ্ঞানতাকে টার্গেট করলো । নিজেরা আইন যা বুঝল তা বুঝল , কিন্তু তার চেয়ে বেশি বুঝল আওতা। মানে ঠিক কোথায় গেলে আইনের ফাঁসটা নেই হয়ে যায়, সেটুকু দেখে নিল । তারপর ? সভ্যতার গাড়ি স্টারট নিলো ।এবং সময়ের ঢাল বেয়ে গড়াতে থাকল । তস্য পিতা – ঠাকুরদা – বাবা- হয়ে আমাতে- আপনাতে এসে দাঁড়িয়েছে ।

আবার মাঝেমধ্যে মনে হয় নিয়মনীতি কে লাথি দেখানোর ব্যাপারটা প্রথম শুরু হয়েছিল নির্ঘাত কোনও কাউনটার স্ত্র্যাটিজি হিসেবে । কেউ অহেতুক বাঁশ খেয়েছিল বদমতলবি কোনও আইন প্রণেতার কাছে , এবং নির্ঘাত জাল কাটার টেকনিক খুঁজে বেড়িয়েছিল। সেই "বদবুদ্ধি"কে ট্যাকল করতে গিয়ে আইনের বইতে বাড়তি দু লাইন লেখা হয় । তারপর তারও তোড় বেরোয় । সেই তোড় এর আবার টোটকা । তারপর আবার…… এইভাবে চলতে থাকে ইঁদুর- বিড়াল খেলা । প্রথম দিকে ঘটনার ঘনঘটা খানিক সিরিয়াস ছিল, কিন্তু পরে ব্যাপারটার মধ্যেকার মধুরস অনুধাবিত হবার পরে পুরোপুরি খেলাতেই রূপান্তরিত হয় । দাবা বা তাস বা পাশার মতোই । মধুর স্বাদের মাদক ক্রমশ মজ্জায় মিশে গিয়ে সমাজশরীরে ব্লাড সুগারের প্রচলন হয়। সেখান থেকে ডাক্তার , ওষুধ , ওষুধের দোকান, হাসপাতাল , দালাল – এভাবেই চলতে থাকে । …
দাঁড়ান খেলা চলছে । সাহারা চাল দিয়েছে । স্কোর দেখে আসি ।

খানিক সময় নষ্ট (৪)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments