প্রত্যয় এখানে খোদার ওপর খোদকারী শীর্ষক একটি ভারি মনোজ্ঞ লেখা লিখেছেন, তার কমেন্টে অতনু কিছু প্রশ্ন রেখেছেন। এখানে দেখুন,

http://chorjapod.com/খোদার-ওপর-খোদকারি/#comment-3821

লিখতে গিয়ে দেখলাম, অনেকটঅ লেখা যায় না। তাই একটা নতুন পোস্ট করলাম ।

অতনু: "জিনে কাটাকুটি করে জিনগত রোগ উড়িয়ে দেওয়া বা অন্য প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থান করা এগুলো সম্ভব হলে বৈপ্লবিক ব্যাপার হবে।"

বৈপ্লবিক ব্যাপার হবে তো বটেই, তবে বেশীর ভাগ “সাধারণ অসুখবিসুখ” (যাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় common disease variants linked to common genes বলে অভিহিত করা হয়) ঐভাবে কোনদিনই সারানো যাবে না, তার কারণ, কেবল একটা জিন তো নয়, অজস্র জিনের অল্প অল্প অবদান থেকে রোগ বা রোগের উপসর্গের কারণ যে শারীরিক পদার্থের পরিমাণ তা নিয়ন্ত্রিত হয়। এবং সেটা করতে গেলে একেবারে গোড়া থেকে, মানে যেভাবে ডাক্তারিতে রোগ নির্ণয় পড়ানো হয় (“হয় রোগ হয়েছে”, নয়তো নয়), এই ব্যাপারটারই আমূল পরিবর্তন করে শেখাতে হবে liabrlity threshold ভিত্তিক রোগনির্ণয়, থাক সে কথা। :-)

তো, ব্যাপারটা দাঁড়াবে বা দাঁড়াতে পারে কোথায় গিয়ে?

হিউম্যান জিনোম প্রোজেক্টের উত্তরপর্বে একাধিক অসাধারণ ডাটাবেস বেরিয়ে এসেছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের দিক থেকে দেখলে দুটো (আমার মতে, এবং এর তালিকা ক্রমশ বাড়ছে), অনবদ্য — একটা হ্যাপম্যাপ (যেখানে বিভিন্ন জাতের মানুষের যাবতীয় জিনের বিভিন্ন “রূপ” রাখা আছে), আর দ্বিতীয়টা, dbGap (database of genotype and phenotypes, এখন এটা দেশ ও জাতি ভিত্তিক), যাতে করে কিনা মানুষের জিনের কি রূপ আর তা থেকে তার শারীরিক/মানসিক (হয়তবা সামাজিক, ওপথে এখন না যাওয়াই ভাল, :-) ), তার এক বা একাধিক গবেষণা বেরিয়ে আসছে (প্রতিদিন, দিন দিন)।

তো এই যে হ্যাপম্যাপ বা একক নিউক্লিওটাইডের নানারূপ (;-), single nucleotide polymorphism (SNP) এর বাংলা অনুবাদের প্রয়াস), শুধু তাকে নিয়েই বিস্তর গবেষণার জায়গা, যার জন্য কিসে যে কি হয়, তা পুরোপুরি জেনে ওঠা হয়ত কোনদিনই সম্ভব হবে না। বহু জিন আর তাদের সম্পর্কিত অসুখ নিয়ে অঙ্ক/রাশিবিজ্ঞানের ব্যাপারটা এখানে আরো গোলমেলে। কিন্তু যেটা হতে পারে, সেটা পুরোপুরি মেন্ডেলীয় নীতি মেনে যে সমস্ত জিন কাজ করে, একটা বা অল্পকয়েকটা জিন, যাদের সঙ্গে অসুখের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক, তাদের কিছুটা এডিট করে ‘সারানো’ গেলেও যেতে পারে। শুধু সেটাই একটা বিরাট ব্যাপার। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অসুখের ব্যক্তিগত চিকিৎসারও বন্দোবস্ত করা যেতে পারে (personalised medicine, বিজ্ঞানের/খবরের কাগজের পরিভাষায়, যত দিন যাচ্ছে জিন চিপ এর দাম পড়ছে, এটা ভারি আশার ব্যাপার, অনেকটা কম্পিউটারের দাম পড়ার মতন)।

কিন্তু,

অতনু: “ জিন এডিট করে আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া নবজাতক কি হবে, খেলোয়াড় না কবি এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে।”

মানতে কষ্ট হওয়ার কথাই, অত্যন্ত সঙ্গত কতগুলো কারণে। দুটো উল্লেখ করছি।

এক, এরকমটা হওয়ার প্রায় কোন বাস্তব সম্ভাবনা নেই, কারণ আমি আপনি কি, সেটা তো কেবল জিনের ওপর নির্ভর করে না, তার অন্যান্য অজস্র কার্যকারণ যোগ থাকে। শিব গড়তে বাঁদর গড়ার ব্যাপারটা এক্ষেত্রে যারপরনাই বাস্তব। জিন তো একা কাজ করে না, তার ওপর পরিবেশের মস্ত প্রভাব। সেটা কি কেউ জানে না। দুই, একক ভাবে একেকটি জিনের প্রভাব খুব কম কম, তাতে করে আপনি প্রায় কিছুই ঠিক করে বলতে পারবেন না। তার ওপর ৩০-৪০,০০০ জিন, এখনো অবধি ১০ মিলিয়ন SNP 2005 সালের হিসেব অনুযায়ী), এতে করে অমুক জিন এডিট করে বিজ্ঞানী হবে কি খেলোয়াড় হবে, :-), ইয়ে, অবাস্তব।

তবে যেটা হতে পারে, যা এখনো হয়নি, তার কথা ভাবলে হাড় হিম হয়ে যায়, সে কথা না বলাই ভাল।

খোদার ওপর কতটা খোদকারী সত্যি সত্যি জিনোম এডিট করে করা যাবে? (অতনু’র প্রশ্নের উত্তরে)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments