ইউনিভার্সাল ব্লগস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইগেশন (ইউবেসকো)-এর উদ্যোগে পৃথিবীর বেশকিছু দীর্ঘজীবী ব্লগের প্রত্নতাত্বিক নির্দশন খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে এক বিপুল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। ইউবেসকোর গবেষকদের অন্তর্বতীকালীন রিপোর্ট থেকে আমাদের ব্লগ সম্বন্ধে জানা গেল এখানেও প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গেছে। সেই নিদর্শনের নাম – ‘শাউটবক্স’। অত্যন্ত অতিরিক্ত গোপনীয় (ভেরি এক্সট্রা কনফিডেনশিয়াল) এই রিপোর্টটি পড়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম ‘শাউটবক্স’-এর ব্যাপারে বর্তমান প্রজন্মের কোনও ধারণা আছে কিনা। বুঝতে পারলাম নবীন এবং প্রবীণ সদস্য / সদস্যারা এই বিষয়ে অজ্ঞ।

অতএব আসুন একবার ফিরে দেখি সেই ভুলে যাওয়া ইতিহাসকে

১. শাউটবক্স কি – খেয়াল করে দেখবেন অনেক মানুষ জন্মানোর সময় শরীরে একটা কি দুটো অদ্ভুত স্পট নিয়েই জন্মায়। ডঃ হেমাঙ্গ হাজরার মত বিশিষ্ট জাতিস্মরবিশারদগণের মতে এই দাগ নাকি আসলে পূর্বজন্মের কোনও আঘাত বা ঐ জাতীয় কিছু থেকে সৃষ্টি। পরিভাষায় অনেকেই একে ‘জন্মদাগ’ বলে থাকেন। ‘শাউটবক্স’-টিও সেইরকম এই ব্লগের জন্মদাগ। আজকের চর্যাপদ আজকের অবস্থাতে জন্মগ্রহণ করলেও এর জন্মকাহিনী অনেকটা প্রজাপতির মত। অর্থাৎ সরাসরি জন্ম না নিয়ে মাঝখানে আরও দুটি অন্যান্য রূপে পৃথিবীতে সাময়িক বিরাজ করে চর্যাপদ রূপ ধারণ করে। অত বিস্তারিত ইতিহাসে যাওয়া অপ্রয়োজনীয়। খালি এইটুকু জানিয়ে রাখা ভাল যে এই ব্লগটির জন্মদাতাদের অন্য একটি সাইটে শাউটবক্সের অত্যন্ত সক্রিয় ভুমিকা ছিল।

৩. চর্যাপদে শাউটবক্সের অবস্থান – এক অতি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রত্নতাত্বিক খননকার্যের মাধ্যমে জানা গেছে যে শাউটবক্সের অবস্থান ছিল ডানদিকের সাইডবারে। এখন যেখানে ক্যলেন্ডার রয়েছে তার ঠিক নিচেই এটি অবস্থিত ছিল বলে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

 

শাউটবক্সের অবস্থান সংক্রান্ত প্রমাণ

 

 

২. শাউটবক্সের জীবন – শাউটবক্স একটি অত্যন্ত মনোরম স্থান ছিল। একটা সুবিধে ছিল। সদস্য / সদস্যারা তাঁদের পছন্দমত রূপ ধারণ করে ঢুকতে পারতেন এবং ঢুকে পড়ার পরে ইচ্ছেমত নিজেদের এক বা একাধিকবার বদলে নিতে পারতেন। একেবারে শুরুতেই শাউটবক্সের অন্দরমহলের এই কেরামতি অজানা থাকায় প্রাথমিকভাবে সবাই নিজেদের ইউজারনেম ব্যবহার করে শাউটবক্সের ভেতরে বসে গল্পগুজব করে তাঁদের অলসসময় অতিবাহিত করতেন। কোনও এক দুঃসাহসী সদস্য কিংবা সদস্যা প্রথম পূর্বোল্লিখিত কেরামতি আবিষ্কার করে জনসমক্ষে প্রচার করেন এবং মানুষের বয়স বাড়লে যেমন বার্ধক্য এবং জরা এসে তার হাত ধরে, অন্যথায় মৃত্যুর কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন হত ঠিক সেইরকমই শাউটবক্সের প্রয়াণের পেছনে তার এই কেরামতির অধিকারী হওয়াই দায়ী বলে অধিকাংশ চর্যাপদবিশেষজ্ঞের ধারণা। অধিকাংশ ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে ‘আপনা মাসে হরিণা বৈরি’ এই তত্ত্বের অন্য একটি সংস্করণ বলে মেনে নিয়েছেন। 

৩. শাউটবক্সের মহাপ্রয়াণ – যখন জানা গেল শাউটবক্সের ভেতরে সবাই প্রবেশ করতে পারে এবং ঠাকুমার ঝুলির রাক্ষস-খোক্কশদের মতই নিজের আসল রূপ লুকিয়ে রাখতে পারে সেইসময় বেশকিছু প্যাঁচা, বাদুড়, চামচিকে, মনে হয় না, কেউ, কেউ কেউ (চন্দ্রবিন্দু বর্জিত), কেউ না (অশরীরী দুষ্ট আত্মা), আমি কে (নিজেই ভুলে গেছেন উনি কে) ইত্যাদিরা সেখানে আস্তানা গেড়ে বসল। খুব স্বাভাবিকভাবেই সদস্য / সদস্যারা প্রাণভয়ে শাউটবক্স ত্যাগ করে বাইরে চলে এলেন। কিন্তু সময় কারও একা থাকে না। চক্রবৎ পরিবর্তন্তে। সকাল হল, সূর্য উঠল, শাউটবক্স দিনের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আর আপনারা সবাই জানেন যে দিনের আলো তৎকালীন বাসিন্দাদের দু’চক্ষের বিষ। অতএব তারাও বেরিয়ে এসে যেদিকে দু’চোখ যায় সেদিকে চলে গেল। ফল কি হল – সদস্য / সদস্যারা বেরিয়ে এলেন প্রাণভয়ে এবং যাদের ভয়ে বেরিয়ে এলেন তারাও দিনের আলো সহ্য না করতে পেরে অকুস্থল ত্যাগ করল। অব্যবহৃত শাউটবক্স ধীরে ধীরে ব্লগের শরীর থেকে খসে পড়ে গেল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নৃত্তত্ববিদেরা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন যে শুধুমাত্র প্রাণীজগত নয়, যোগ্যতমের উদ্বর্তন অপ্রাণীদের মধ্যেও একইরকম বাস্তব। যদিও ঠিক কোন সময়ে এই ঘটনা ঘটে সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মতানৈক্য রয়েছে।   

৪. শাউটবক্সের স্বর্গযোনিপ্রাপ্তি – টেনিদার পেটে গিয়ে যেমন পাঁঠাদের স্বর্গযোনিপ্রাপ্তি ঘটত, শাত্রজ্ঞরা মনে করেন সেইরকমই শাউটবক্স চর্যাপদে জন্মগ্রহণ করে একই কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছিল। ফলত তার আর পুনর্জন্ম ঘটেনি। শাউটবক্সের সর্বশেষ অবতারের নাম ছিল – আড্ডা ঘর

৫. শাউটবক্সের বর্তমান চিহ্ন – বর্তমানে দুটি ব্যতীত শাউটবক্সের অন্য কোনও প্রত্যক্ষ চিহ্ন পাওয়া যায় না। কিন্তু এখনও শাউটবক্স ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়মাবলীতে রয়েছে এবং ‘সাহায্য’ ট্যাবে ২৩ নং বিষয় হিসেবে ‘শাউটবক্স’-এর উল্লেখ রয়েছে। এসব থেকেই বোঝা যায় শাউটবক্স ছিল। এছাড়াও ৬-ই মার্চ ২০১৩ তারিখে ৫-০৯ পূর্বাহ্নে নবকলম রচিত ‘চর্যাপদের অসুখ করল নাকি?’ শীর্ষক একটি কবিতায় ‘আড্ডা ঘর’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। মূলত এই কবিতাটিকে ভিত্তি করে উন্নতমানের বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা যায় শাউটবক্স ‘আড্ডা ঘর’ নামেই ব্লগে বিরাজমান ছিল। এই কবিতাটি সম্বন্ধে শাক্যমুনির মত ঐতিহাসিকদের ধারণা দূরদ্রষ্টা কবি শাউটবক্সের মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে এবং প্রয়াণপরবর্তী সময়ে তাঁর সময়াভাব ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় আগেই ‘আড্ডা ঘর’-কে তাঁর কবিতায় অমর করে রেখেছিলেন।

 

 

শাউটবক্স ব্যবহারের নিয়মাবলী

গত জন্মের মনে পড়া স্মৃতি, বিস্মৃত ইতিহাস
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments