রান্না করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বরাবর করে এলেও খুব কমবারই নিজের উদ্দেশ্যে সফল হয়েছি। আমার বাজে রান্নার শিকার সবসময় হত আমার বাবা। তবে বাবার সেই করুন মুখ দেখে আমি কোনোদিনও নিজের রান্না করার ইচ্ছেকে দমিয়ে রাখিনি, বরং প্রতিবারই একটু নতুন কিছু ট্রাই করতে চেয়েছি। এর জন্য পরিশ্রম ও করেছি প্রচুর – রান্নার বই থেকে টিভির বিভিন্ন রান্নার এপিসোড যেখানে যা রান্না দেখেছি পরের দিনই সেটা বাড়িতে ট্রাই করেছি। অনেক অসফল রান্নার পর এটাই আমার এবং আমার দিদির যৌথ প্রচেষ্টায় করা প্রথম রান্না যেটা খেয়ে সবাই খুব তারিফ করেছিল এবং ভবিষ্যতে আবার খাবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। তাই মায়ের রান্নার ডায়রি থেকে পাওয়া এই রান্নার রেসিপি সবার সাথে ভাগ করে নিলাম।

উপকরণ :
মুরগীর মাংস ঃ ৫০০ গ্রাম
পেঁয়াজ ঃ দুটো বড়, রিং করে কাটা
গোটা গরম মশলা
ছোটো এলাচ ঃ চারটে
লবঙ্গ ঃ চারটে
দারুচিনি ঃ ইঞ্চিখানেক লম্বা এমন খান দুয়েক
কাজু বাদাম ঃ পাঁচ-ছটা
কিশমিশ ঃ পাঁচ-ছটা
আদা বাটা ঃ এক চামচ
রসুন বাটা ঃ দেড় চামচ
ধনে গুড়ো ঃ এক চা চামচ
লঙ্কা গুড়ো ঃ এক চামচ (স্বাদ মতন, আমি আবার একটু বেশী ঝাল খাই কিনা)
কাশ্মীরি লঙ্কা গুড়ো ঃ দুই চামচ (রং হবে ভালো)
টক দই ঃ ১৫০ গ্রাম
ঘি ঃ চার-পাঁচ চামচ
(জায়ফল + জয়িত্রী + ছোট এলাচ + দারুচিনি) গুঁড়ো ঃ সব মিলিয়ে এক চামচ
নুন ঃ স্বাদ মতন
চিনি ঃ স্বাদ মতন
সাদা তেল

প্রণালী ঃ

প্রথমে সাদা তেলে গোটা গরমমশলা ফোড়ন দিন। তারপর তাতে একে একে চিকেন, রিং করে কেটে রাখা পেঁয়াজ, আদা বাটা, রসুন বাটা, আস্ত কাজু বাদাম, কিশমিশ, ধনে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, ভালো করে ফেটানো টক দই, নুন, মিষ্টি আর ঘি নিভু আঁচে দিয়ে ঢেকে রাখুন। এরপর মিনিট দশেক বাদে একটু করে নাড়িয়ে আবার ঢাকা দিন যতক্ষণ না মশলা থেকে তেল বেরোতে শুরু করে। মশলা কষানো হলে, বাকি ঘি আর এক সাথে গুঁড়ো করে রাখা জায়ফল, জয়িত্রী, ছোট এলাচ, দারুচিনি গুঁড়ো এক চামচ দিয়ে আঁচ বন্ধ করে মিনিট পাঁচেক ঢাকা দিয়ে রাখুন। অতঃপর হাতে গরম পরিবেশন করুন। মাছের কচুরীর সাথে চিকেন কোর্মা জমে ভালো (ইয়ে মানে, আমার ক্ষেত্রে অন্তত জমেছিল কিনা)।

আজ এই পর্যন্ত বন্ধুরা। খেয়ে যেন জানাতে ভুলবেন না কেমন লাগলো। অপেক্ষায় থাকলাম।

চটজলদি চিকেন কোর্মা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments