তিনটি ঘড়ি । সবগুলিই দেয়ালে আটকানো । একটার পর একটা । পুরোটা দেয়ালের মাঝ বরাবর । মাঝখানের ঘড়িটা গোল । বাকি দুটো চৌকো বা সেরকম আকৃতির কিছু একটা হবে । মাঝখানের ঘড়ির কাঁটা বন্ধ । অনেকদিন ধরেই । তিনটা পঁচিশ —এখন আর মনে নেই কবে ঘটনাটা ঘটেছিল –তবে সেই দিন ই যে বাকি দুটো ঘড়ির মধ্যে একটাকে স্লো আর অন্যটাকে ফাস্ট করে দেওয়া হয়েছিল সেই কথাটা মনে আছে । কিন্তু কোনটা ফাস্ট আর কোনটা স্লো সেটা মনে নেই । এও মনে নেই কতটা সময় বাড়িয়ে –কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু এটা তো ঠিক সেই দিনেও কারোর না কারোর জন্ম হয়েছিল । পৃথিবী সেদিন কোনও ভাবেই সময়ের সাথে আপোষ করে নি । এই ঘরের ভেতরের অনু পৃথিবীতে কিন্তু সময় একদম ওলট পালট হয়ে গিয়েছিলো সেদিন থেকেই । আপাতত নিশ্চিত এই ছোট্ট ঘরটি আঁতুড় ঘর না হোক শেষের ঘর তো হবেই । কিন্তু কবে –কখন ? এই ছোট্ট পৃথিবীতে সময় বলে কিছু আছে কী ? পুরোটাই তো ছন্দ হীন বৈরাগ্য । কোত্থেকে শুরু –শেষই বা কোথায় ? এখন কী শীতকাল ? বিকেল ? একটি দেয়াল ঘড়ি তো ঘুমোচ্ছে । বাকি দুটো ফিচেল, বিচ্ছিরী ভাবে হাসছে । ….. একটা গান …. পুরুষ কণ্ঠ — কাঁপা কাঁপা গলায় ….. ‘ তোমার বীণায় গান ছিলো ……’ । কে এল সায়গল ? ‘……… আকাশ ভরে কিসের সে ঢেউ জানে না …..’ । প্রতিটা অনু সময় নিজের ইচ্ছেতেই বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে । কে – কে তৈরি করেছে সময় ? তুমি যেই হও বাপু , এই ঘরে , এই ‘সময়ে’ তোমার ‘সময়’ কিন্তু পুরোপুরিই দিশাহীন । এভাবে কাউকে হারিয়ে দেবার মজাটাই গ্লেমারাস । আচ্ছা এই বন্ধ ঘড়িটার মতো স-ব ঘড়ি যদি হটাত্‍ থেমে যায় –সব কাউণ্টডাউন কী তখন এলোমেলো হয়ে যাবে ? একদম চুড়ান্ত বিশৃঙ্খলা , তাই না ? আবার কী শুরুতে পিছিয়ে যেতে হবে ? কিরকম একটা ঘোর । সুযোগ পাওয়া যাবে কিন্তু সব ফাঁক ফোকর গুলি ঠিক ঠাক করার । নেত্রকোনার সিরাজ বন্ধুর হারিয়ে যাওয়া চিঠিটা হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে । কনফেসন করতে না পারার ক্ষত চিহ্নগুলিই আর থাকবে না । এই মূহুর্তে সবার জন্য দুটো সুখবর : (এক) এই রাউন্ডে কোনও এলিমিনেশন নেই , (দুই ) সবাই আবার প্রথম থেকে শুরু করবে ।

ছন্দহীন বৈরাগ্য
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments