ছবি। এটা ওর আসল নাম নয়। অঞ্জন ওকে আদর করে ডাকে এই নামে। না, আর ডাকেনা। ডাকত এক সময়। সেই দিনগুলো আর নেই। ছ-মাস আগেও… কি সুন্দরই না ছিল দিনগুলো – ছবি ভাবে, মাত্র দুমাসের মধ্যেই অঞ্জনকে কিভাবে ও আপন করে নিয়েছিল।

-“ছবি! ছবি!”

চমকে উঠল ও। কে ডাকছে বাইরে? অঞ্জন ছাড়া আর কে-ই বা ডাকবে এই নামে? তাড়াতাড়ি ছুট্টে গিয়ে দরজাটা খুলল ও। বাইরের ভয়ঙ্কর রোদের মধ্যে হুমদো কুকুরটা শুয়ে আছে, জিভ বার করে হাঁপাচ্ছে। আর বাকি সব শুনশান। বাড়ির সামনের ছোট্ট এক চিলতে মাঠের মত জায়গাটায় একদল ফড়িং উড়ে বেড়াচ্ছে… বৃষ্টি হবে বোধহয়। আর কেউ কোত্থাও নেই।
    দরজাটা বন্ধ করে দেবার পর হঠাৎ ছবির মনে হল যেন পাশের ঘরে মোবাইলটা বাজছে… Blowing in the wind! ছুট্টে যেতেই সুরটা উধাও হয়ে গেল। নাঃ, কোনও মিসড কল তো আসেনি। কতদিন শোনেনি ওই রিংটোনটা। মনে মনে হিসাব করল ছবি… ১৬৭ দিন…না, ১৬৮।
    সম্প্রতি ওর পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। ৮৩% মার্কস পেয়েছে বিএসসি তে, ইউনিভারসিটিতে থার্ড! সুখবরটা জানিয়ে একটা এসএমএস করেছিল অঞ্জনকে। কোনও উত্তর আসেনি। কেন এরকম করে অঞ্জন? কে জানে। হয়তো আবেগের বশে অঞ্জনকে ও যে কথাগুলো বলে ফেলেছিল, তার জন্যই… কিছুতেই বুঝতে পারেনা ও কেন অঞ্জন এখন আর ওকে ভালোবাসেনা আগের মত। না,একটু ভুল হল। সেভাবে অঞ্জন ওকে কোনদিনই ভালোবাসেনি হয়তো। তবু একটা সময় ও অঞ্জনের কম আদরের ছিল না। সেসব দিনগুলোর কথা না ভাবতেই চেষ্টা করে ও, কিন্তু ভাবনাচিন্তা কি আর সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে? খুব জানতে ইচ্ছে করে ওর… খুব! কেন অঞ্জন ওকে এমন শাস্তি দিল! কিন্তু জানার কোনও উপায় নেই।

*********************

বসে বসে একটা বই পড়ছিল অঞ্জন – Godel, Escher, Bach । খুব প্রিয় বই ওর। এই নিয়ে বোধহয় চারবার পড়া চলছে। পাশে ফোন টা বেজে উঠতেই ওর প্রথম যে অনুভূতিটা হল, সেটাকে এককথায় বললে বলতে হয় বিরক্তি। যাই হোক, বইটা উপুড় করে রেখে ঝুঁকে পড়ে টেবিল থেকে ও হাতে তুলে নিল মোবাইলটা… একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন। না, আননোন তো নয়! নম্বরটা ফোন বুক থেকে ডিলিট করে দিলে কি হবে, শেষ চারটে সংখ্যা ১৩৯৩… কোনো কোনো জিনিস ভুলতে চাইলেও ভোলা যায়না। নম্বর টা চিনতে পারা মাত্র ওর আগের অনুভূতিটা দ্বিগুণ হয়ে গেল। যাই হোক, ফোনটা সাইলেন্ট করে দিয়ে আবার বইটা খুলল ও। Godel, Escher, Bach… কিন্তু মেজাজটাই বিগড়ে গেছে! ধুর ধুর! বইটা আবার বন্ধ করে দিল ও। তারপর ধপাস করে শুয়ে পড়ল মেঝেতে। ঠাণ্ডা মেঝে। দারুণ আরাম।

কেন বারবার ওকে ফোন করে জ্বালায় মেয়েটা! এখন অন্য কথা ভাবতে চাইলেও ওই অপ্রিয় কথাগুলো মনে পড়বে। বহু মেয়ের সঙ্গে মিশেছে অঞ্জন। ও তেমন কিছু স্পেশাল বলে কখনও মনে হয়নি। অবশ্য দুমাসের বন্ধুত্বেই ওকে বেশ কাছের করে নিয়েছিল। তখন মনে হত মেয়েটা বেশ মিষ্টি স্বভাবের। গায়ের রঙ কালো, কিন্তু দেখতেও বেশ মিষ্টি… বিশেষ করে হাসিটা। তখন তো জানত না ওর মধ্যে অদ্ভুত কিছু কমপ্লেক্স আছে। অঞ্জন অন্য মেয়েদের সাথে মিশলে হিংসে করত, বাজে অভিমান করত। এ আবার কি? শেষমেশ বলে বসল ও নাকি ভালবাসে অঞ্জনকে। কি মুশকিল! অঞ্জন তো কখনও ওকে এই চোখে দেখেইনি। সেরকম ইঙ্গিতও দেয়নি। কাজেই এই প্রোপোসাল কে সরাসরি রিজেক্ট করার মধ্যে কোনও অন্যায় আছে কি?

তবু বারবার ফোন আর এসএমএস করে ঘ্যানঘ্যান করত মেয়েটা। অঞ্জনকে দোষারোপও করেছিল একবার… যদি ভাল না-ই বাসবে তাহলে এত ঘনিষ্ঠতা কেন করেছিল ও? কি মুশকিল! এ আবার কি কথা? ধুর! এই কথার উত্তর দেবারও কোনো মানে হয়না। তারপর থেকে আর ওর সঙ্গে কথা বলে না অঞ্জন। স্থানগত দূরত্বটা ওকে সাহায্যই করেছে। চেষ্টা করলেও ছবি ওর সাথে এতদূর এসে দেখা করতে পারবেনা। শুধু মাঝে মাঝে ফোনটা সাইলেন্ট করে দিলেই যথেষ্ট।

মেঝে থেকে উঠে এক গ্লাস জল খেল অঞ্জন। মনে পড়ল আজকের কাগজটাই তো পড়া হয়নি ভাল করে। আবার নাকি সন্ত্রাসবাদীরা আক্রমণ করেছে লাহোরে।

*********************

 

এদ্দুর পড়ে নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে এ একটা জোলো প্রেমকাহিনী। কিন্তু এই দুটো দৃশ্য আসল কাহিনীর ভূমিকা ছাড়া আর কিছু নয়। আসল ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত। অন্তত আমি তো একেবারেই এরকম এক্সপেক্ট করিনি। যাই হোক, দেখুন, আপনাদের কি মনে হয়।

*********************

 

কাল রাতে একটা বিশ্রী ব্যাপার হয়েছে। অনেকক্ষণ ঘুম আসছিল না ছবির। শেষপর্যন্ত কাফ সিরাপ টা খেতেই হল। Viscodyne। সুমিত গিরি ওকে বলেছিল এটার কথা। সত্যিই ঘুম না আসার অব্যার্থ ওষুধ। ওটাই একছিপি খেয়ে শুয়ে পড়েছিল ছবি। তারপর একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখল ও। দেখল অঞ্জন খুব বিপদে পড়েছে। ভয়ঙ্কর কষ্ট পাচ্ছে, আর ছবিকে ডাকছে। অসহ্য যন্ত্রনায়, শারীরিক না মানসিক কে জানে, অঞ্জনের মুখটা বিকৃত হয়ে উঠেছে। আর দেখল ও নিজেই এই দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে, অঞ্জনকে সাহায্য করার কোনো চেষ্টাও করছে না! ঘুম ভেঙ্গে যেতে দেখল ভোরের আলো ফুটছে। ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়! ঘুম ভাঙ্গার পরেও স্বপ্নটা ওর স্পষ্ট মনে ছিল। একটা অদ্ভুত অনুভূতি হতে লাগল ছবির। নিজের প্রতি এক তীব্র ঘৃণা। কেন… কেন ও এরকম দেখল? তাহলে কি এই ইচ্ছাই লুকিয়ে আছে ওর অবচেতন মনে? না! এটা হতেই পারেনা! ছবি খুব ভালবাসত অঞ্জন কে। এখনও বাসে… সে অঞ্জন যতই দুর্ব্যাবহার করুক না কেন।

তাহলে? শুয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ ভাবল ছবি। নাঃ, অনেক ভেবেও কোনো উত্তর পেলনা ও।

*********************

 

সারাদিন ছবি শুধু ওই স্বপ্নের কথাই ভেবেছে। কেন? কেন? কেন? বারবার প্রশ্ন করেছে নিজেকে। ও একদম চায়না অঞ্জন কষ্ট পাক। চাইতেই পারেনা! তবু এরকম দেখল কেন? খুব খারাপ লাগছিল ছবির। কেমন যেন একটা অপরাধবোধে ভুগছিল। সারাদিন কোনো কাজ করেনি, খাওয়া দাওয়াও বিশেষ নয়। মা বারবার জিজ্ঞেস করেছেন কি হয়েছে। ও প্রতিবারই বলেছে “কিছু না”।

“নাঃ বড্ড বেশি ভাবি আমি” – নিজেকেই নিজে একসময় বলল ও, “এটা তেমন কোনো ব্যাপারই না”… আর কিছুতেই এই নিয়ে ভেবে মাথা খারাপ করবেনা এই প্রতিজ্ঞা করে ছবি ডিনার করতে গেল। কিন্তু কিছুতেই পারল না চিন্তাটা দূর করতে। খাওয়ার পর একটা গল্পের বই নিয়ে বসেছিল। বেশিক্ষণ মন টিকল না। আবার সেই একই প্রশ্ন ফিরে এল মনের মধ্যে। কেমন একটা ক্লান্ত লাগছিল ওর… এইভাবে একই প্রশ্নের ধাক্কা খেতে খেতে। “নাঃ, এবার ঘুমোতে যাই”, ভাবল ও। হায়! কে যেন ঘুম কেড়ে নিয়েছে চোখ থেকে। প্রচণ্ড ক্লান্তি সারা শরীরে, মনে। অথচ ঘুম আসছেনা কিছুতেই। বিছানায় শুয়ে ছটফট করতে করতে চোখে পড়ল Viscodyne এর শিশিটা। বেশ কিছুটা ঢকঢক করে সাবাড় করে দিল ও… ঘুমোতেই হবে যে করে হোক। তারপর বালিশে মাথা দিতেই একটু একটু করে ঘুম নেমে এল চোখে।

না এলেই বোধহয় ভাল হত! আবার স্বপ্ন! ছবি দেখল অঞ্জন ওর হাতটা ধরে কাতরভাবে বলছে “প্লীজ ছবি! আমায় ক্ষমা করে দাও”, আর ও হাতটা ছাড়িয়ে নিচ্ছে জোর করে। ছটফট করে উঠে বসল ও। বাকি রাতটা বসেই কাটিয়ে দিল। আর বারে বারে ভর্ৎসনা করতে লাগল নিজেকে।

*********************

 

কি মনে হচ্ছে? আমার তো খুব খারাপ লেগেছিল মেয়েটার জন্য। অঞ্জন আমার পুরোনো বন্ধু, ওর বন্ধু হিসেবেই আলাপ ছবির সাথে। তেমন ভাল ভাবে চিনিও না ওকে। তবুও যখন চোখের সামনে দেখি হাসিখুশি মেয়েটা এরকম অদ্ভুত সমস্যায় ভুগে উদ্ভ্রান্তের মত হয়ে যাচ্ছে, খুব খারাপ লাগে।

আচ্ছা আপনাদের ও কি কখনও এরকম কিছু হয়েছে যখন একটা সত্তা নিজের আরেকটা সত্তা কে ধিক্কার তীব্র দিয়েছে… ইন ফ্যাক্ট ঘৃণা করেছে? এটা হলে যে কি অস্থির লাগে আমি অনুভব করেছি। তাই বারবার মনে হয়েছে ছবির মত মিষ্টি একটা মেয়ের এরকম হওয়াটা একদমই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু দুর্ভাগ্যের তখনও কিছু বাকি ছিল।

*********************

 

আজ সাতদিন হল একই অবস্থার মধ্যেই আছে ছবি। চোখের পাতা বুজলেই ওই দুস্বপ্ন এসে ঘিরে ধরছে ওকে। যত দিন যাচ্ছে স্বপ্নগুলো আরও স্পষ্ট, আরও ঘটনাবহুল হয়ে উঠছে। কোনোদিন দেখে ডুবন্ত একটা মানুষের হাত উঠে ছবির নাম ধরে ডাকছে, কোনোদিন দেখে ভয়ঙ্কর মানসিক চাপের মধ্যে থাকা অঞ্জন কাতর মুখে ওকে অনুরোধ জানাচ্ছে ওর কাছে ফিরে যেতে, কখনও বা দেখে অঞ্জন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত… একটু সাহচর্য চায় ছবির কাছ থেকে। প্রতি ক্ষেত্রেই ছবি কোনো উত্তর না দিয়ে ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। আর ঘুম থেকে ওঠার পর ওর কি যে কষ্ট হয়, সে ও-ই কেবল জানে। “আমি কি খারাপ!”…ভাবে ছবি… “অঞ্জন আমার সঙ্গে দু-একটা খারাপ ব্যাবহার করেছে বলে আমি এইভাবে অবচেতনে ওর ক্ষতি কামনা করেছি। আর এতটাই বেশি করেছি যে রোজ এই স্বপ্ন দেখছি!” ভাবে আর বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদে। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না, খুব অসহায় লাগে নিজেকে।

একদিন মা ওকে কাঁদতে দেখে ফেলেছিলেন। অনেক সাধাসাধির পর ও আসল ঘটনাটা বলে ফেলেছে। মা ওকে অনেক বোঝালেন, “দেখ তুই এটা নিয়ে এত চিন্তা করছিস আর দুঃখ পাচ্ছিস বলে এটা আরও চেপে বসছে, vicious circle এর মত। ভুলে যেতে চেষ্টা কর, পাত্তা দিসনা স্বপ্নগুলোকে, দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু ও পারেনা, কিছুতেই পারেনা স্বপ্নগুলোকে অগ্রাহ্য করতে। ও যে খুব ভালবাসে অঞ্জনকে। কেবল ভাবে, “আমি কি খারাপ!”

*********************

 

বালিশের ওপর কনুই রেখে আধশোয়া হয়ে অঞ্জন ভাবছিল সদ্যসমাপ্ত বইটার কথা। একসপ্তাহ পড়ে এইমাত্র শেষ করেছে… Godel, Escher, Bach। অসাধারণ বই। সব জায়গা বুঝতে পারেনি অবশ্য। কিন্তু তাতে কি আসে যায়? একটু আধটু না বুঝতে পারাই ভাল…আঁতলামিটা ওতে খোলে ভাল!

একটা এসএমএস এসেছে… উফ! সেই ১৩৯৩! অলসভাবে এসএমএসটা পড়ে দেখল অঞ্জন… “Anjan please phone ta dhor… tui thik achis to? Plz plz reply”।

“এসব ন্যাকামো নতুন কিছু নয়”, ভাবল অঞ্জন, “তবে গত কয়েকদিন ধরে একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছে! একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে এসএমএসটা ডিলিট করে দিল অঞ্জন।

*********************

 

আপনারা হয়তো অঞ্জনের ওপর রেগে যাচ্ছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, ওকে আপনারা যেরকম ভাবছেন, সেরকমটি ও নয়, একদমই নয়। আমি তো ওকে অনেকদিন থেকে চিনি, আমি জানি ও খুব ভাল ছেলে। ছবির মনের সেনসিটিভ দিকগুলোকে ও বুঝতে পারেনি ঠিকই… কিন্তু সেটা ওর ভুলই… অন্যায় তো নয়…

*********************

 

আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেরই কেমন একটা লাগে ছবির। চোখের কোণে কালি পড়েছে রাত্রে না ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। ওর মায়ের শত চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। কাল মা বলেছেন একজন কাউন্সেলরের কাছে নিয়ে যাবেন। কোনো লাভ হবে? বিশ্বাস হয়না ছবির। উনি নিশ্চয়ই ওকে বোঝাবেন তোমার কোনো দোষ নেই। কিন্তু দোষটা যে ওরই, সেটা নিশ্চিত জানে ছবি।

পরপর দুরাত না ঘুমিয়ে গত পরশু রাত্রে চোখের পাতাদুটো বুজে এসেছিল। আর সঙ্গে সঙ্গেই… “অঞ্জন বিশ্বাস কর আমি তোর এই অবস্থা চাইনা। আমি কি চাইতে পারি? আমি তো সত্যিই তোকে ভালবাসি। তুই আমায় বিশ্বাস করছিস তো অঞ্জন?… নিজের মনেই বিড়বিড় করে ছবি। মানসিক অবসাদ ওকে ঘিরে ধরেছে। শরীরটাও খারাপ লাগছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। ওর ঘুম দরকার… গভীর ঘুম… শান্তি। হ্যাঁ মনে পড়েছে! মায়ের ব্যাগে ঘুমের ওষুধ আছে। চুপিচুপি নিয়ে আসতে অসুবিধে হল না। ১৬টা বড়ি আছে… তাতে যথেষ্ট গভীর ঘুম হবে তো? নিশ্চয়ই হবে। চট করে কাচের গ্লাসে জল নিয়ে ঘুমের বড়িগুলো সবকটা গুলে ফেলল ছবি। খাওয়া হয়ে গেলে আলোটা নিভিয়ে বালিশে মাথা দিল। পাশের ঘরে মা ঘুমোচ্ছেন। ছবি যে একদিনও ঘুমোয়না, সেটা বোধহয় উনি জানেননা… অতটাও বলেনি ছবি মা কে। যাই হোক, আজ ও ঘুমোবে… গভীর ঘুম!

ওষুধ কাজ করতে শুরু করেছে। চোখ ঢুলে আসছে ছবির। বালিশে মাথাটা রেখেই দু-হাত জোড় করে অনুরোধ করল অঞ্জনকে…মনে মনে… “প্লীজ আজ আর তুই দেখা দিসনা ঘুমের মধ্যে। আমি তোর কাছে ভালবাসা চাইনা, শুধু একটু শান্তি…”

হঠাৎ দরজায় মৃদু কড়া নাড়ার শব্দ!

-“ছবি! ছবি!”… কে যেন ডাকছে ওকে!

-“আমি আসছি অঞ্জন, তোর কাছে… আমি তোর পাশেই আছি, তোকে ছেড়ে যাবনা, তুই চিন্তা করিস না…”

বালিশ থেকে মাথাটা তুলে বিছানা ছেড়ে নামার চেষ্টা করল ছবি… পারল না, ঘুমে ঢলে পড়ল। দক্ষিণ দিক থেকে আসা দমকা হাওয়াটা তখনও দরজার কড়াটা নাড়িয়েই চলেছে।

*********************

 

যা বলতে চেয়েছিলাম, লিখতে চেয়েছিলাম, পারলাম না। ছবির অনুভূতিগুলোকে আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম, কিন্তু লিখতে গিয়ে কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেল। না লিখলেই হয়তো ভাল করতাম। সবকিছু তো কথায় বোঝানো যায়না। এখন অঞ্জন, ছবি এসে যদি আমায় বলে “এ তুমি কি করলে? আমাদের আসল ভাবনাচিন্তা, অনুভূতিগুলোকে পালটে এরকম মেলোড্রামাটিক কি একটা লিখে বসলে!”… যদি কৈফিয়ত চায়, কি জবাব দেব ওদের?

 

 

(অনেকদিন আগে লেখা গল্পটি আবার এখানে দিলাম। প্রথম পাতায় অপ্রকাশিত ব্যাপারটা কাজ করছেনা, অনেকদিনই হল। যাহোক, তাতে বিশেষ ক্ষতি নেই। যাঁরা আগে পড়েননি, তাঁদের জন্য রইল…)

ছবি
  • 3.00 / 5 5
1 vote, 3.00 avg. rating (71% score)

Comments

comments