জেগে ওঠ – ১৮ – অবলোকন দ্বিতীয় অধ্যায়-মায়া

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

কেন?

কারণ শব্দের উৎস যদি কান হত, তাহলে স্বভাবত শব্দের উৎস ঘন্টা নয়, সেক্ষেত্রে কানে সদাসর্বদা ঘন্টাধ্বনি শুনতে পেতে, তার জন্য ঘন্টা বাজানোর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন হত না। বা যদি ধর শব্দ যদি ঘন্টারই অংশ হত, শব্দ যদি ঘন্টার ওপর নির্ভর করে থাকত কি ঘন্টাতেই শব্দের উৎস হত, ঘন্টা হতে শব্দতরঙ্গ প্রবাহিত হত, তাহলে কান ঘন্টার শব্দ বা ঘন্টায় কাঠি পড়া, এদের একের থেকে অন্যটাকে পৃথক করত কি? শব্দ যদি না কান না ঘন্টা কারো থেকেই না আসত, সে তবে আকাশে কল্পনার কুসুম হত, খামখেয়ালী শূন্যতায় তার অস্তিত্ব, এ হল সেই তরঙ্গ যাকে সচেতন প্রাণীগণ শব্দ নামে প্রকার বিভেদ করে। যাঁরা পরম জ্ঞানী তাঁরা আপাত অবয়ব আর দেওয়া নামকে সত্য বলে কখনো মনে করেন না। যেইমাত্র আপাতদৃশ্যমান অবয়ব আর নামকে সরিয়ে ফেলা যায়, যখন আর কোন বিভেদবোধ থাকে না, যেটুকু, যা পড়ে থাকে, সেইটাই বস্তুর সৎ, তন্মাত্রিক অবস্থা। অতএব সেই তন্মাত্রিক অবস্থার যেহেতু আপন গুণ বা বিধেয় বলে আর কিছুই নেই, থাকে না, থাকা সম্ভব নয়, থাকার কথা নয়, এই নির্যাসই তথতা, তার প্রকৃত রূপ। এই সর্বব্যাপী, অদ্ভুত, অভেদ, অভেদ্য, তথতাই একমাত্র সারসত্য, যদিচ তাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হয় – পরমসৎ, সদসৎ, তন্মাত্র মন, তূরীয় বোধ, মহতী প্রজ্ঞা এই রকম বিবিধ প্রকার ধারণা। এই যে অরূপ, অশব্দ কি শব্দাতীত, সৎচিৎ এর যে ধর্ম, এই ধর্মকেই বুদ্ধগণ কালান্তরে প্রচার করে চলেছেন। যেইমাত্র পার্থিব উন্মাদ কলরোল ঝনঝনানি স্তব্ধ হবে, তখন শব্দের কল্পনাবোধটুকু আর থাকবে না, তবু, তখনো, শ্রবণচেতনা জেগে থাকবে এক পরম শূন্যতায়। একটা ব্যাপার স্থির জেনো আনন্দ, এ শূন্য, আর আমার ঘন্টা বাজানো মাত্রই তন্মাত্র মনের গভীরে স্বপ্নহীন সুপ্তি হতে চেতনা জেগে উঠল, আর তখনই শব্দের শ্রবণের প্রকাশ হল।

“শব্দ, যা কিনা তরঙ্গ, তুমি বলতেই পার এ তরঙ্গ সত্য, আর ঠিক , যেহেতু এ তরঙ্গ, এও এখনি নিস্তরঙ্গ হবে, আর তাই সারসত্যে এখন তরঙ্গ অস্তিত্ব বিহীন।

“আনন্দ, শব্দ শুনতে পাওয়া এক অসুস্থ ধোঁয়াশার চিহ্নমাত্র যাকে আমরা সুস্থ কান বলি, যার হেতু অনাদি অনন্তকাল হতে সচেতন প্রাণিকূল শব্দের মিথ্যা মায়ার ছলনায় ভুলে চলেছে।

“তোমার আঘ্রাণচেতনারও ওই একই অবস্থা, এও নাসিকার মিথ্যা বোধ।

“কি করে প্রভু?”

“আনন্দ, নাক ভুল করে, মনের অন্তর্নিহিত চেতনায় কোন ভুল বা মায়ার ছলনা হয় না। নাকের অসুস্থতায় মানুষ দুর্গন্ধ পায়, এ কিন্তু তার অবিচল তন্মাত্র মন সঞ্জাত নয়, এ বোধ তার অসুস্থ নাক হেতু মস্তিষ্ক-মনের। একই রকম ভাবে সুস্থ নাক গন্ধ পায়, যে গন্ধ কাল্পনিক, যে গন্ধ শূন্যে অবস্থিত। অতএব জেনো নাক যেহেতু তার স্বভাব অনুযায়ী ঘ্রাণের মিথ্যাবোধে বিভূষিত, তোমার নাক দিয়ে যা যা আঘ্রাণ পাও, তার সবটাই মিথ্যা মায়া। নাকের সঙ্গে অনাদি অনন্তকাল ধরে এইটাই হয়ে আসছে। তোমার যে নাক আছে, এই গোটা ব্যাপারটাই তোমার কর্মের অংশ; অন্যত্র তোমার অজ্ঞানতাবশত কর্মের উত্তরাধিকার।

“তব আনন্দ এতে উতলা হয়ো না, আর কদিন পরে তোমার নাক বিসর্জন দেবে, তখন তো নাক বিসর্জন দিয়েই দিয়েছ।

“ফুল যখন ফোটে, এই প্রস্ফুটন তার ক্ষণমাত্র জীবনের মুহূর্তের বিস্ফোরণ। এই পুষ্পদল যখন তোমার কাছে কেউ রাখে, প্রস্ফুটনের সেই সূক্ষ্ম কণাগুলি শূন্যপথে তোমার নাকে এসে আঘাত করে, তুমি সুগন্ধ আঘ্রাণ কর। তথাপি, এই সুগন্ধের উৎপত্তি কোথায় আনন্দ? আনন্দ, সহজ কথায়, এ এক মিথ্যা কাল্পনিক আঘ্রাণ। কেন? কারণ, এই গন্ধের উৎপত্তি যদি নাকেই হবে, তাহলে ফুলের গন্ধ পাবার জন্য নাককে ফুল ফোটার জন্য অপেক্ষা করতে হয় কেন? তবে নাক তো সদাসর্বদা ফুলের গন্ধ পেত, গন্ধের এই প্রপঞ্চের নিমিত্ত তাকে ফুল সাজানোর অপেক্ষায় থাকতে হত না। তাহলে গন্ধের উৎস নিশ্চযই ফুলের মধ্যে, তাহলে গন্ধের জন্য নাক থাকার দরকার কি? কেনই বা নাক কে নানান রকম গন্ধের প্রভেদ করতে হয়? বা চোখ কেন গন্ধ পায় না? কান কেন গন্ধ পায় না? আবার যদি ফুল আর গন্ধের সত্তা তাদের আপন হত, তবে চরাচর জুড়ে শুধু একই গন্ধ থাকত। আবার যদি গন্ধের উৎস নাকে না হয়ে, ফুলে না হয়ে, তোমার নাক আর ফুলের মাঝখানের শূন্যস্থানে কোথাও হত আনন্দ, তোমাকে স্বীকার করতেই হত যে গন্ধ কোথাও থেকে আসছে যাচ্ছে, সে আসে যায়, শূন্যে কোথাও বা হারিয়ে যায়। তখন তো আর শূন্য স্থান বলে কিছু থাকত না। শূন্যস্থান যে আছে, এ নিয়ে তো স্থির জানো, আর ফুলের গন্ধ পাওয়া মাত্র, তন্মাত্র মনের গভীরে স্বপনহীন সুপ্তি হতে নিখিল চেতনা জেগে উঠলেন, আর নাকের নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী ঘ্রাণের বোধ জাগ্রত হল।

“আনন্দ, গন্ধ পাওয়া, আমরা যাকে সুস্থ নাক নামে জানি, সেই অসুস্থ ধোঁয়াশার চিহ্ন মাত্র, যার প্রভাবে চেতন প্রাণীগণ অনাদি অনন্ত কাল ধরে মিথ্যা মায়ার ছলনায ভুলে আসছেন, যা হওয়া উচিৎ তার উল্টো পথে সব কিছু চলতে থাকে।

“তোমার স্বাদেরও সেই এক অবস্থা, জিহ্বার মিথ্যা অবলোকন।

“কেমন করে, প্রভু?”

“আনন্দ, বলতে পার ব্যঞ্জনের স্বাদ ওই কাঠের পাত্রটির কাছে কেমন লাগে? আনন্দ, মহামানসের অন্তর্নিহিত চেতনা নয়, আমাদের জিভই কেবল মিথ্যা মায়ার ফাঁদে পড়ে। যে মানুষের জিভ রুগ্ন, তার কাছে সব কিছু বিস্বদ লাগে, খাবার তুলোর মতন লাগে, এ স্বাদ কিন্তু তার অবিচলিত তন্মাত্র মনের কারণে নয়, এ বোধ তার অসুস্থ জিভের হেতু মস্তিষ্ক-মনের ভেদগত বোধ। একই রকম ভাবে সুস্থ জিভ স্বাদ গন্ধ পায়, যে স্বাদ গন্ধ প্রকৃতপক্ষে কাল্পনিক, শূন্যে অবস্থিত। অতএব একটা ব্যাপার জেনো যে জিভের স্বাভাবিক ক্ষমতাবলে সে স্বাদের মায়ায় ভোলে, তাই জিভ দিয়ে যা কিছুর তুমি স্বাদ পাও সবটাই মায়া, মায়াতরঙ্গ। অনাদি অনন্তকাল ধরে জিভের সঙ্গে এইটাই হয়ে আসছে; জিভ যে তোমার আছে, এটাই জেনো তোমার কর্মের অংশ, অন্যত্র অজ্ঞানবশতঃ কৃতকর্মের ফল।

“তবে আনন্দ, এ নিয়ে বিচলিত হয়োনা, এতো শুধু সময়ের অপেক্ষা, তোমার জিভ তুমি ত্যাগ করবে, আর তখন তো জিভ ত্যাগ করেই দিয়েছ।

“ব্যঞ্জনের রস যখন তোমার রন্ধ্রের সংস্পর্শে আসে, সে তোমার কি আমার, ঝাল ঝাল মশলার স্বাদ পাই, জিভের স্বাদ বয়ে নিয়ে যাওয়া নালিগুলো সে স্বাদ যখন চালাতে থাকে, যখন স্বাদের বোধ জাগে, আমরা অভ্যাসবশতঃ বলি খেতে ভাল লাগছে, নয়ত খেতে তত ভাল লাগছে না, কিন্তু এই স্বাদগন্ধের উৎপত্তি কোথায়? আনন্দ সহজ করে বললে, স্বাদের গোটা ব্যাপারটা একটা উদ্ভট কল্পনা; কিন্তু কেন বলতো? কারণ স্বাদের উৎস যদি জিভ হত, স্বভাবতই, স্বাদ জাগানোর জন্য তো ব্যঞ্জনের প্রয়োজন হত না, কিন্তু আমরা এও দেখি যে খাবার মুখে দেবার পরই স্বাদ গ্রহণ করি। বা ধর, স্বাদ যদি ব্যঞ্জনরসের অংশ হত, তাহলে কাঠের ওই পাত্র অপেক্ষা জিহ্বার স্বাদ গ্রহণের আর কিই বা পার্থক্য হত? আনন্দ, স্বাদ, শূন্যে একটি কল্পনা বই কিছু নয়, আর স্বাদ গ্রহণ করা মাত্র, নিখিল বোধি তাঁর তন্মাত্র মনের গভীরে স্বপ্নহীন নিদ্রা হতে জাগ্রত হলেন, অমনি জিহ্বার অবস্থানুযায়ী স্বাদ প্রকাশ পেল।

“আনন্দ, স্বাদ যে আছে, এ এক অসুস্থ ধোঁয়াশাকে নির্দেশ করে, যাকে আমরা “সুস্থ জিহ্বা” বলি, যে অনাদি অনন্তকাল ধরে চেতন প্রাণীকূলকে স্বাদের মিথ্যা মায়ায় ভুলিয়ে দুঃখ দিয়ে চলেছে।

“একই ব্যাপার তোমার চিন্তার অবলোকন নিয়েও, মস্তিষ্কের ভ্রান্ত অবলোকন”

“সে আবার কি, প্রভু?”

“আনন্দ, মহামানসের অন্তর্নিহিত বোধিতে কোন ভুল নেই, আমাদের মস্তিষ্ক মিথ্যা মায়ার ফাঁদে পড়ে। অসুস্থ মস্তিষ্কে মানুষ কল্পনা করে তাকে ভূতে পেয়েছে, এ কিন্তু তার অচঞ্চল, স্ফটিক-স্বচ্ছ তন্মাত্র মনের ধারণা নয়, এ তার অসুস্থ মস্তিষ্কের মস্তিষ্ক-মনের বিভেদবোধ। একই ভাবে, সুস্থ মস্তিষ্কে মানুষ নানারকমের চিন্তাভাবনা করে, যার সবটাই শূন্যে কাল্পনিক। তাই একটা ব্যাপার জেনো আনন্দ, মস্তিষ্কের যেহেতু ভেদবুদ্ধিগত চিন্তার আর মিথ্যা অবলোকনের ক্ষমতা আছে, তোমার তাবৎ মস্তিষ্কগত ধারণা অলীক তরঙ্গ বই কিছু নয়। আবার এও দেখ আনন্দ, মহতী প্রজ্ঞার যে সজ্ঞাত আত্মবোধ, যার উৎস তূরীয় জ্ঞান, যে জ্ঞান সৎ চিৎ কে প্রকাশ করে, কাল হতে কালান্তরে যে ধারণাতীত বুদ্ধ-রূপের ক্রিয়া, যে পরম পরিপূর্ণতা সদাসর্বদাসর্বব্যাপী, অপিচ, যখন তোমার চেতনবোধ সেই আলোকের দর্শণলাভ করে, সেই আলোক যা অদ্যাবধি মেঘাবৃত চন্দ্রের ন্যায় তোমার মস্তিষ্ক আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, সে কিন্তু আনন্দ নামের বুদ্বুদে আবৃত মস্তিষ্কসঞ্জাত নিছক ব্যক্তিগত বিভেদবুদ্ধির চিন্তা নয়। মিথ্যা মায়ার ব্যস্ত চিন্তা মানুষকে অজ্ঞতা আর কর্মের বাঁধনে গ্রথিত করে, মস্তিষ্কের অবলোকন, অনাদি অনন্তকাল ধরে এইটাই হয়ে আসছে। তোমার যে মস্তিষ্ক আছে ও জন্ম হতে এততকাল ধরে তার বৃদ্ধি ও বিকাশ হয়েছে, এ জানবে তোমার কর্মহেতু, অজ্ঞানবশতঃ অন্যকালে অন্যত্র কৃতকর্মের ফল।

“তবে আনন্দ, এতে বিচলিত হয়ো না। কারণ, শুধু সময়ের অপেক্ষা, তার পর একে তুমি ত্যাগ করবে, তখন তো সে ত্যক্ত।

“আবির্ভাব অন্তর্ধানের এই যে পরস্পরবিরোধী, দ্বৈত, অতএব অলীক ধারণা, এই ধারণার বশবর্তী হয়েই মস্তিষ্ক চিন্তাভাবনার জন্ম দেয়। সুস্থ চোখ যেমন আকাশে কুসুম দেখে, যে কুসুমের অস্তিত্ব না তার চোখে, না সে আকাশে অবস্থিত, সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মস্তিষ্কও সেই রকম নানান চিন্তার উদ্গাতা। সেই সব চিন্তা আসে যায়, কিন্তু না তারা মস্তিষ্কের অংশ, না অন্য কিছুর, পুরোটাই কাল্পনিক। আমাদের মনের অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে সপ্তপথে এই শতসহস্র নিয়ত প্রবহমান চিন্তার উৎস কোথায় বলতে পার আনন্দ? এই যে মহামানসজাত তন্মাত্র মনের অযুতসহস্র বুদ্বুদ, এর প্রত্যেকটি একেকটি মায়া বই কিছু নয়। এবং কেন? যদি এই বয়ে চলা চিন্তাতরঙ্গের উৎস মস্তিষ্কে হত, চিন্তা যদি মস্তিষ্কের অঙ্গ হত, তাহলে কেনই বা সে ক্ষণমাত্র জাত হয়েই মিলিয়ে যাবে, এমন শতসহস্র চিন্তার আগমন নির্গমনের জায়গা করে দিয়ে সরে যাবে? যেমন এই ধর ভাবছ কোথাও বেড়াতে যাবে, তার ক্ষণমাত্র পরেই ভাবছ রাত্রে কি খাবে । এ নিশ্চয়ই স্বপ্ন, আনন্দ, এ সমস্ত স্বপ্নই। বা ধর, চিন্তার উৎস যদি মস্তিষ্কের বাইরে অন্য কোথাও হত, তখন, মস্তিষ্ক বলে যদি কিছু না থাকত, তাহলে চিন্তাও থাকত না। তার মানে চিন্তা ব্যাপারটা পুরোটাই অলীক।

“তবে জেনো, এ সব শূন্যে বিরাজমান অশরীরী অস্তিত্ব, মস্তিষ্কে তাদের উদয় অস্ত অনুধাবন করে, তন্মাত্র মনের গভীরে স্বপ্নহীন নিদ্রা হতে নিখিল অবলোকন জেগে উঠলেন, আর তন্মাত্র মনের অরূপ আনন্দে চিন্তা-চেতনার আবির্ভাব হল।

“আনন্দ, চিন্তার চিন্তায় সেই অসুস্থ ধোঁয়াশার অবস্থামাত্র, যাকে আমরা সুস্থ মন বলি, অনাদি অনন্তকাল ধরে যে চেতন প্রাণিকূলকে মিথ্যা মায়ায় ভুলিয়ে রেখেছে, জন্ম-মৃত্যু-অস্তিত্বের ক্রমাগত বয়ে চলা দাসত্বের ফাঁদে।

“যাঁরা প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন, যাঁরা অনস্তিত্বকে (অর্থাৎ অস্তিত্ব) আর অবলোকন করেন না, অস্তিত্বকে যাঁরা বুদ্বুদতুল্য জ্ঞান করেন, যেন নিদ্রা হতে জাগরিত হলেন, তাঁদের পূর্বজন্ম যেন কেবলই স্বপ্ন।

ষড়েন্দ্রিয় যে কেবলই মায়া, এ শিক্ষা আনন্দের মজ্জায় মজ্জায় গ্রথিত হয়ে যাবার কথা। তবু তাঁর চিন্তন মনে ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোম-এর যে আপাত বস্তুশীলতা আর তাদের পরিবর্তনশীলতা, এই নিয়ে তাঁর নিজের মনে একটা দ্বিধাবোধ ছিল। বুদ্ধদেবের শিক্ষায় এ সমস্ত অনন্ত তন্মাত্র মনের প্রকাশ বই আর কিছু নয়।

শ্রদ্ধার সঙ্গে তাই তিনি আবার বুদ্ধদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন। শান্ত মনে, চুপ করে মন দিয়ে বসে রইলেন, মহৎ জনের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন, এতে উন্মুখ হয়ে রইলেন।

(চলবে)

জেগে ওঠ – ১৮ – অবলোকন দ্বিতীয় অধ্যায়-মায়া
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments