Buddha Enlightenment
জ্যাক কেরুয়াকের আঁকা, ছবির নাম enlightenment ( “দিব্যজ্ঞান” ), ছবিটা পেনসিল দিয়ে স্কেচবইতে এঁকেছিলেন ১৯৫৬ নাগাদ, মূল বইটি থেকে নেওয়া।

আমার এই লেখাটি পরমকারুণিক বুদ্ধদেবের পদতলে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শুরু করছি। বুদ্ধদেবকে ও প্রজ্ঞাপারমিতা হৃদয় সূত্রকে কেন্দ্র করে এই লেখা, তা যেমন বুঝেছি, সেই মত লিখব, যতটা পারি। আশা করব ত্রুটি ধরবেন, জানাবেন, কোনটা ঠিক মনে হয় সেটাও জানাবেন ও আপনারা নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন, তবে, অবশ্যই মন্তব্য করবেন।

এই ব্লগটির সূত্রপাত জ্যাক কেরুয়াকের “wake up” নামে বইটির বাংলা অনুবাদ রূপে, তবে সবটাই যে কেবল ওই বইকে কেন্দ্র করে হবে তার বাইরে কিছু হবে না, তা হয়ত নাও হতে পারে। তবে মূল বইটিকে যথাসম্ভব আশ্রয় করে চলব। সব শব্দ ও বাক্য হয়ত যথাযথ অনুবাদ করতে পারব না, ভুল শোধরানোর হলে নির্দ্বিধায় জানাবেন।
মূল বইটির শুরু Jack Kerouac মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান্টা বারবারায় গ্রথিত একটি বৌদ্ধমন্দিরে গ্রথিত একটি প্রার্থনা, Dwight Goddard এর লেখা, দিয়ে শুরু করেছেন। প্রার্থনাটির ইংরেজী ভাষ্য এই রকম,

Adoration to Jesus Christ
The Messiah of the Christian World
Adoration to Gotama Sakyamuni
The Appearance Body of the Buddha 

খ্রীস্টিয় জগতের আদিপুরুষ
যীশুখ্রীস্টকে প্রণাম,
বুদ্ধের অবতারকল্প
শাক্যমুনি গৌতমকে প্রণাম!

আমার লেখাটি বইটিকে কেন্দ্র করে, বইটি আবার বিভিন্ন সূত্রের ওপর নির্ভর করে লেখা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের শাস্ত্রের উদ্ধৃতি আছে, তার বেশ কিছু সরাসরি, তবে বেশ কিছু নতুন শব্দও হয়ত জুড়ে যেতে পারে। বুদ্ধের জীবন কাহিনি মূলত অশ্বঘোষের বুদ্ধচরিত আর পোকালালক্ষ্মী নরাসুর বুদ্ধের জীবনী থেকে নেওয়া, তবে “আলোর এই মহাসমুদ্রে” এত সহস্র নদী এসে মিশেছে যে একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করা তো সম্ভব নয়। এদের মধ্যে লঙ্কাবতার সূত্র, ধম্মপদ, অঙ্গুত্তরীয় নিকায়, ইতিভুত্তক (itivuttaka), দীঘ্ঘ নিকায়, মঝ্ঝিমা নিকায়, থেরাগাথা, বিনয় পিটক, প্রজ্ঞাপারমিতা হৃদয় সূত্র, সাম্যুত্ত নিকায়, চুয়াংশি, তাও তে চিং, মিলারেপার জীবন, মহাযান সংগ্রহ, এমন অজস্র লেখা।

এই লেখাটির কেন্দ্রে থাকবে এক মহাসূত্র, তার নাম সুরঙ্গমা সূত্র। সুরঙ্গমা সূত্র বিশাল, তাকে সংক্ষিপ্তাকারে পেশ করার চেষ্টা করব। সুরঙ্গমা সূত্র যিনি মূল লিখেছিলেন, তাঁর তো সন্ধান পাওয়া যায় না। তিনি খ্রীষ্টিয় প্রথম শতাব্দীতে লিখেছিলেন, অবশ্য সেই সময়ে অধীত জ্ঞানসূত্রেই লিখেছিলেন নিশ্চয়ই; সেই সুপ্রাচীন ধর্মকে আসুন আরেকবার আমাদের সময়ে ফিরে দেখি।
অশ্বঘোষের কথা দিয়ে শেষ বা শুরু করা যাক,
“শুরু থেকে শেষ সেই মহাতাপসের কীর্তিগাথাই এই লেখার উদ্দেশ্য, যা শাস্ত্রে আছে তাই লেখা হোক, কোন রকম আত্মপ্রচার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়।”

জেগে ওঠ – ১
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments