জেগে ওঠ – ২১ – অবলোকন

“আনন্দ, আমি তথাগতের গর্ভের ও তথতার উল্লেখ করলাম যাতে তুমি এইসব অতি সাধারণ মামুলি শিক্ষা আর ধ্যানধারণার অতীত যে উজ্জ্বল দুর্জ্ঞেয় জ্ঞান রয়েছে তাতে মন দিতে পার। আমি তথাগতের বিষয়ে বলি বটে, বলে থাকি যে তাঁরা আসা-যাওয়া, শিক্ষা-না-শিক্ষার ঊর্দ্ধে বিচরণ করেন, তথাপি আমার বাক্য কেবল সৎচিতের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে মাত্র, আমার বাক্যকেই সত্য বলে ধরে নেওয়ার কিছু নেই। প্রকৃত সত্যের স্বরূপ কোনদিনই উদ্ঘাটিত হবার নয়, কেননা অস্তিত্ব ব্যাপারটিই যে একটা মিথ্যা কল্পনা।

“পরম সত্যের কথা বুদ্ধগণ প্রচার করেন বটে, কারণ, তাকে ব্যাখ্যা করতে “অস্তিত্ব” নামে ভাষার অলংকারের ধার না ধারলেও উপায় নেই, তবে জেনো যে ব্যাপারটার পুরোটাই আলঙ্কারিক।

“বলতে গেলে, পরম সত্যের ধারণাটি এতটাই বিশাল, অগম্য, যে বলা যায়, প্রকৃত সৎ বলে কিছুই নেই।

“প্রকৃত সৎ বলেও কিছু নেই, অসৎ বলেও কিছু নেই, থাকার মধ্যে কেবলই তন্মাত্রতা। আর সেই তন্মাত্রতার যখন একটা ধারণা হয়, তাকে বলি তন্মাত্র মন।

“ আনন্দ, “অবলোকন” বা অনুভব হচ্ছে ষষ্ঠ মহা উপাদান। আমরা সচরাচর একে দেখার অনুভূতি, শোনার অনুভূতি, ঘ্রাণের অনুভূতি, স্বাদের অনুভূতি, স্পর্শের অনুভূতি, চিন্তার অনুভব — এইরকম নানারকমের অনুভূতির, অনুভবের কথা বলি। আসলে চরিত্রগত ভাবে এ সবই একমেবাদ্বিতীয়ম — এক অবলোকন মাত্র। আপন চরিত্রে সে অভিন্ন।

“আমাদের ষড়েন্দ্রিয় অবলোকনকে ছ ভাগে বিভক্ত করে রাখে, মনে কর একটা রেশমি রুমাল, তাতে ছ ছটা গিঁট, তারপর যেই গিঁটগুলো খুলে ফেলবে দেখবে তখন দেখবে একটাই রুমাল, এও তাই, একটাই অবলোকন, যত ইচ্ছে গিঁট বাঁধোনা কেন।

“যেখানেই চোখ, সেখানেই আলো-আঁধারি-দৃশ্যের ধারণা, সেখানেই দর্শণের অবলোকন অবিশম্ভাবী। চকমকি পাথর ঘষলে যেমন আগুনের ফুলকি বেরোয়।

“নাক যেখানে, নাকের মধ্যে দিয়ে যাওয়া আসার বোধ, গন্ধ, সেখানে ঘ্রাণের অবলোকন হবেই।

“যেখানেই জিহ্বা, পরিবর্তন-অপরিবর্তনের ধারণা, রসগন্ধের সমব্যাহার, সেখানেই স্বাদের অবলোকন।

“যেখানে শরীর, স্পর্শের, দূরে সরে যাওয়ার চেতনা, সেখানেই স্পর্শের অবলোকন।

“যেখানে মস্তিষ্ক, সেখানে অবয়ব-অন্তর্ধান, চিন্তা চেতনার, সেখানে চিন্তার অবলোকন।

“অন্যান্য মহা উপাদানের মত, অবলোকনেরও কোন কার্য কারণে উৎপত্তি নেই, তথাপি সে তাদের প্রতি সংবেদনশীল, তার আপন কোন সত্তাও নেই, সে অতি সীমিত, যেমন ধর চিন্তার অবলোকন, অতি সীমিত, সে ক্ষণস্থায়ী।

“কিন্তু অবলোকনের যে তন্মাত্রতা, সেখানে সে কিন্তু পূর্ণ, সেখানে সে ভূমি, জল, বায়ু, অগ্নি, স্থানের সঙ্গে মিলে তথাগতের গর্ভে একসঙ্গে এক পরম তন্মাত্রতায় এক হয়ে গিয়েছে। সেখানে তার মৃত্যুও নেই, পুনর্জন্মও নেই।

“অবলোকনের সৎ চরিত্রে সে সত্যিকারের শূন্যতা। স্থানের তন্মাত্র চরিত্রেই তার অবলোকনের তন্মাত্রতা।

“অবলোকন কোথা থেকেই বা আসে, কোথায়ই বা সে যায়? যেখানেই দেখ, সর্বত্রই অবলোকন।

“চৈতন্য হল সপ্তম মহা উপাদান। আনন্দ, অনাথপিণ্ডক এই জেতবনে আমাদের যে সমস্ত ঝরণা আর জলাশয় গড়ে দিয়েছেন, সেগুলোর দিকে একবার দেখি। তাদের কাকচক্ষু জলে যে প্রশান্তি, মহাবিশ্বের দশদিকে প্রপঞ্চময় জগতব্যাপী এক চৈতন্য এই জলাশয়ের প্রশান্তিতে যেন মগ্ন হয়ে আছে, আর যেই আমাদের চোখের সঙ্গে এই জলাশয়ের, এই ঝরণার সংস্পর্শ হয়, সাতোরি জেগে ওঠে চৈতন্যরূপে জলাশয়ের আর ঝরণার অবয়বে, আমাদের মনে।

“এর পরেও কেন যে প্রশ্ন কর অস্তিত্ব কোথায় অবস্থিত? কোথায় তাকে খুঁজে পাব? চৈতন্য তো সবকিছুকেই মেনে নিয়েছে, চৈতন্য সর্বত্রগামী, সে সর্বব্যাপী, যখন না থাকে দৃষ্টি, না থাকে চিন্তা, তখন চৈতন্য কোথায় থাকে?

“আনন্দ, খুব স্বাভাবিক ভাবেই, খেয়াল করনি, যে তোমার তথাগতের গর্ভে চৈতন্যের তন্মাত্র চরিত্র নিহিত, না সে ঝর্ণা না সে জলাশয়ের দৃশ্য অবলোকন করে, আবার না সে না-চেতন। সে কেবল অ-বস্তুর ধর্ম সম্বন্ধেই সচেতন। আনন্দ, তুমি কি বলতে চাও যে পাথর আর জলাশয় এই দুটি একে অপরের থেকে পৃথক? তার চেয়ে বরং এ কথা যদি বলতে যে প্রত্যেকটিতেই বুদ্ধের প্রকাশ, আমাদের কেবল একটিমাত্র বুদ্ধেই কাজ, সে এক রকম হত। কারণ প্রতিটি বস্তুই অ-বস্তু, অতএব সব বস্তুই বুদ্ধ। এই যে বোধ, একেই “রত্ন সূত্র” বলা হয়। এ ব্যতীত আর সব, আর সব কিছুই যেন কেবল তরঙ্গের মতন চঞ্চল, আর বেলুনের মতন ফাঁপা। এই যে বোধি, এই তোমাদের পরম সৎ তন্মাত্র চৈতন্য, এ যেন শূন্যের তন্মাত্র চরিত্রের মতন। “

এই কথা শুনে আনন্দ ও সভাস্থিত আর সকলে ভগবান তথাগতের কাছ থেকে এই অপার্থিব গভীর শিক্ষা গ্রহণ করে, সকল প্রকার চিন্তা ও আকাঙ্খা হতে মোক্ষলাভ করলেন, কায়মনে সম্যক মুক্তিপ্রাপ্ত হলেন। তাঁরা প্রত্যেকে অনুধাবন করলেন, মহাবিশ্বের দশদিকে মন যেমন সতত সঞ্চরণশীল, তেমনি তাঁদের দৃশ্য অবলোকনের ক্ষমতাও মহাবিশ্বের দশদিকে গমন করতে পারগ। এ ধারণা তাঁদের কাছে হস্তে ধৃত তৃণবৎ সরল বোধ হল। তাঁরা দেখলেন যে প্রপঞ্চময় জগতব্যাপার তাঁদের অপূর্ব, পূর্ণ মানসজাত আলোক বই আর কিছু নয়। তাঁরা উপলব্ধি করলেন এই যে শরীর তাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন, তা যেন মহাবিশ্বের দশদিকে সতত সঞ্চরমান ধূলিকণাবৎ। কেই বা এই ধূলির খবর রাখে? এক অনন্ত মহাসমুদ্রে ভাসমান ফেনার ন্যায় তাঁদের কায়া, কিছুই জানা যায় না কোথা থেকে এ ফেনা ভেসে এসেছে, কোথায়ই বা সে ভেসে যাবে। শুধু এইটুকু তাঁরা সম্যকরূপে উপলব্ধি করলেন যে দিনের শেষে তাঁরা এক অদ্ভুত মানসের বোধপ্রাপ্ত হয়েছেন, যে মানস অবিচল, যে মানস অবিনশ্বর।

তাই সভাস্থিত সকলে করজোড়ে ভগবান বুদ্ধদেবকে শ্রদ্ধাবনত হয়ে প্রণিপাত করলেন। তারপর সবাই সমবেত স্বরে ভগবান তথাগতের স্তবগান করলেন। বুদ্ধদেব এই কথা বলে শেষ করলেন,

“আনন্দ, আমাদের শরীরের কথা ভেবে দেখলে তোমার হয়ত অবাক লাগবে যে যদিও কার্য-কারণ একত্র হয়ে আছে, তথাপি কারণ কি না-কারণ এসবের কোনটাই যেন কিছু নয়।

“ইহকালে এই যে তোমার শরীর, আনন্দ, তা না কেবল তোমার পিতার ঔরস-প্রাপ্ত, না কেবল তোমার মাতার গর্ভ-সঞ্জাত, না কেবল পুষ্টিবলে তুমি তাকে প্রাপ্ত হয়েছ; আবার এমনও নয় যে এদের কারো কাছে তুমি তা পাও নি, তাহলে তো তোমার অস্তিত্বই থাকে না, আবার এও নয় যে তিনটির একত্রীকরণে তাকে তুমি প্রাপ্ত হয়েছ। পরম পবিত্র শূন্যতায় “যে” এতকাল অপেক্ষা করেছিল, “সে” কোনকালে বীজ, গর্ভ, আর পুষ্টির আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাগরিত হল, “তার” কাছে প্রাপ্ত তোমার শরীর; “সে” যদি সাড়া না দিত, সে যদি বাহির না হত, তবে সে রয়ে যেত উজ্জ্বল পরম তন্মাত্র মনে। তোমার শরীর শুধু এইটুকুই প্রমাণ করে যে বীজ গর্ভে প্রবেশ করে পুষ্টিপ্রাপ্ত হলে তবেই শরীরের প্রকাশ হয়।

কেন বললাম জান এ কথা? পিতার বীজ যদি মাতার গর্ভে প্রবেশপূর্বক পুষ্টিপ্রাপ্ত না হত, তাহলে তো কোন কিছুর প্রকাশ হত না, সব কিছু উজ্জ্বল মানসেই নিহিত রয়ে যেত। তুমি হয়ত বলবে শুধু পিতার বীর্যহেতু তোমার শরীর? তাহলে পুরুষের শরীর থেকে শিশুর উদয় হয় না কেন? বলবে হয়ত শুধু মাতৃগর্ভ-সঞ্জাত শরীর? তাহলে সর্বত্র, সর্বকালে কেবল মাতৃগর্ভ হতে সন্তানের উদয় হত, বীর্য সন্নিধানের অপেক্ষা করতে হত না। তুমি হয়ত বলবে, পুষ্টি হেতু শরীরের উদয়? তাহলে কি সমুদ্রে কি প্রস্তরে পুষ্টি দিয়ে দিলেই মানবশরীরের জন্ম হত। হয়না তো । এদের কারো কাছেই শরীর তাহলে ঋণী নয় বলছ? আবার তাই বা কি করে হবে? বীজ, গর্ভ আর পুষ্টি তিন না থাকলে তোমার শরীরের যে অস্তিত্বই থাকে না। তার মানে কি এই শরীরের হেতু বীজ, গর্ভ, আর পুষ্টি – এই ত্রয়ীর সমষ্টিতে? এই যে তোমার শরীর, তার উৎপত্তি জেনো সাত মহা উপাদান থেকে। জন্ম আর কার্য একে অপরের সঙ্গে মিলেছে, পরিবর্তিত হয়েছে, তথাপি একত্র হয়নি, কারণ এরা যাবতীয় একত্রীকরণের উর্দ্ধে বিচরণ করে, যে যার তাদের আপন তন্মাত্র একতায়। এই যে জগদ্ব্যাপী অলৌকিক উপাদানসমূহ যত্র তত্র ছড়িয়ে আছে, তোমার শরীর তাদের পরিবাহী মাত্র, শরীর তাদের উৎপত্তি ও বিকাশকে গ্রহণ করে বটে, তথাপি সেই সব উপাদান নিজেরা অবিচল, তারা অক্ষয়, অজর, তাদের না জন্ম, না মৃত্যু, শরীর যখন চিতায় পোড়ে, তখনও তাঁরা অবিনশ্বর।

“শরীরের অস্তিত্ব শুধু এইটুকুই প্রমাণ করে যে নারী-পুরুষের মিলন, ইহজগতে শরীরের অবয়বের বহিঃপ্রকাশ হতে সাহায্য করে মাত্র। পুনর্জন্ম।

তবে রহস্য কি জান? শরীর মানস-জাত, শরীর শরীরাতীত। তাই, তোমার শরীর, সে এক বাচ্যালংকার, তার না আছে অস্তিত্ব, না আছে অনস্তিত্ব, না আছে তার কোন কারণ, না আছে তার না-কারণ, কেননা মহা আলোকের তন্মাত্র মহামানস, যে কিনা সমস্ত প্রকার বিভেদবোধের উর্দ্ধে, সেখানে এসব কিছুই নেই। তোমার দেহের অবয়ব যখন দেখি, আমি দেখি শূন্যে যেন পুষ্প প্রস্ফুটিত, বাস্তবতা হতে সে বিযুক্ত। শরীরকে “যে” বা “যা” শরীরত্ব প্রদান করে, সেই উপাদান কোথা থেকে আসে, কোথায়ই বা সে যায়? আনন্দ, তারা সর্বত্রব্যাপী, তারা সব জায়গা থেকে আসে, এ এক অপার রহস্য-সাগর।

“আনন্দ, তোমার শরীর যেন চিন্তা, নিত্য তন্মাত্র মানসে অবস্থান করেও সে ক্ষণে ক্ষণে অনিত্য। চিন্তার আর মহামানসের তন্মাত্রতা একই, স্বাভাবিকভাবেই, কিন্তু অবয়ব ক্ষণিকের মায়ামাত্র, মহামানসের তন্মাত্র সর্বজ্ঞান যাকে আমরা তথাগতের গর্ভ বলে জানি, এ সেই অবয়বকে অগ্রাহ্য করে, না আছে তার অস্তিত্ব, না তার অনস্তিত্ব। কে কাকে দেখে? – অহংকারী এক শিশু যেন আয়নায় মুখ দেখে, আনন্দ?

সেই সমবেত সাধুমণ্ডলীতে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, এই বাণী শ্রবণ করে তাঁদের প্রত্যেকের মনে হল যেন কোন এক ঐশ্বরিক দানশীল রাজার কাছ থেকে তাঁরা এক ভারি সুরম্য প্রাসাদ উপহার পেলেন, কিন্ত হায়! সেই প্রাসাদের মালিকানা পেতে গেলে তাঁদের আলোকিত চেতনার তোরণ দিয়ে, সম্যক বোধির উজ্জ্বল কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। না প্রবেশ করতে পারলে সে দান তাঁরা গ্রহণ করতে পারবেন না, ও সেখানে প্রবেশ করা অতি দুরূহ; তখন তাঁরা মহাপ্রভুর চরণতলে প্রণিপাত করে আনন্দকে দিয়ে, যে কিনা মুখপাত্র, বুদ্ধদেবের কাছে আরো কিছু শিক্ষা প্রদানের নিমিত্ত অনুনয় করলেন। বুদ্ধদেব তাঁদের এমন শিক্ষা যেন দেন, যাতে তাঁদের ব্যবহারিক প্রাত্যহিক জীবনে চর্চা করতে পারবেন, ও করতে করতে, অভ্যাস করতে করতে তাঁরাও যেন কালক্রমে বুদ্ধদেবের প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টি লাভ করতে সক্ষম হন।

আনন্দ এই বলে শেষ করলেন, “ভগবান, আপনার কাছে প্রার্থনা করি, আমাদের পথ দেখান। পথ দেখান যে আমরা কি করে, কি রকম ভাবে, জগৎব্যাপারের এই যে জটিল কুটিল চক্রব্যূহ, তাকে ভেদ করতে সক্ষম হব; আমরা যারা অর্হৎ হবার অনুশীলনে রত, আমাদের মন যাতে ঠিক পথে চলে, একমনে একাগ্র থাকে, কিভাবে তা অর্জন করব।

পরম জন তখন অপার করুণায়, পরম স্নেহে, আনন্দের মাথায় হাত রেখে বললেন, “আনন্দ, তোমার শরীরে ভূমির কঠিন উপাদান রয়েছে; জলের তরল উপাদান রয়েছে; রয়েছে আগুনের তেজোময়তা; রয়েছে শ্বাস প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে বায়বীয় উপাদানের গতিময়তা। আমাদের শরীর এই চার মহা উপাদানের দাস: আবার এই চার মহা উপাদান তোমার অপার, অলৌকিক, গূঢ়, মহা-আলোকিত মানস-কে দেখা, শোনা, আস্বাদন, আঘ্রাণ, স্পর্শ প্রভৃতি বোধ আর অনুভূতিতে বিভক্ত করে রেখেছে। তার ওপর ধারণা আর চিন্তার ভেদবুদ্ধি তোমার মহা-আলোকিত মানসকে দুষ্ট জগতের পঞ্চ-কলুষে নিমজ্জিত করে রেখেছে। জগতের আদিতেও যা ছিল, শেষের সেদিনও তাই হবে।

“কি এই পাঁচটি কলুষ? পাঁচটি অপবিত্রতা? কি বা তাদের প্রকৃতি? মনে কর কোথাও বেশ টলটলে পরিষ্কার ঝরণার জল রাখা আছে আর তারপর তার মধ্যে ছাই, ধুলোময়লা, বালি মিশিয়ে দেওয়া হল। সে জল তখন অপরিষ্কার, নোংরা হবে। পাঁচ কলুষতা আর মনের ব্যাপারটাও অনেকটা সেই রকম।

(চলবে)

জেগে ওঠ – ২১ – অবলোকন
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments