সেই মধ্যরাতে নিদ্রামগ্ন ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নারীদেহের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে উদায়ীকে দেখালেন, তাদের তখন আর সেই মায়াবী সৌন্দর্য নেই; নাসিকা গর্জন করছে কেউ কেউ, নানরকমের কিম্ভুতকিমাকার ভঙ্গিতে শুয়ে ঘুমে অচেতন, যেন বিশ্বগ্রাসী-দহনে খাক হয়ে যাওয়া মরমে কাতর ভগ্নীসমা একেক জন নারী , তারা এখন ক্লান্ত-নিদ্রার্ত।

পুত্রের গৃহত্যাগ ও তপস্বীর জীবনধারণের প্রতিজ্ঞার কথা মহারাজের কানে পৌঁছল। অশ্রুসজল নয়নে মহারাজ ফরিয়াদ করলেন পুত্রের কাছে। যুবরাজ তার উত্তরে বললেন, “ওগো! আমার যাত্রাপথ আর দুর্গম কোর না! তোমার সন্তান যে এক দগ্ধ, জ্বলন্ত গৃহে বসবাস করছে, সেখান থেকে সে বেরোতে চায়, তুমি কি সত্যিই তার পথরোধ করবে! মানুষের মনে কোন বিষয়ে সন্দেহ উৎপন্ন হলে সে সন্দেহ নিরসনই যেকালে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত কাজ, সেখানে যে মানুষটা জানতে চাইছে, বুঝতে চায়, তাকে নিষেধ করবে?”

এরপর সিদ্ধার্থ সাফ জানিয়ে দিলেন যে এই ঘনঘোর অজ্ঞানতার তিমিরে কেবল পুত্রের কর্তব্য করে যাওয়ার খাতিরে যদি আটকে থাকতে হয়, তার চেয়ে তিনি বরং নিজের প্রাণ নিজেই হনন করবেন।

বাবা শোকসন্তপ্ত। তা দেখে যুবরাজ স্থির করলেন রাত্রে বেরোবেন। শুধু মহারাজ শুদ্ধোদন নন, যুবরাণী যশোধরাও বার বার তাঁর কাছে ভিক্ষা চাইছিলেন যেন তিনি বৈবাহিক জীবন আর রাজকার্যের দায়িত্ব হেলায় ফেলে চলে না যান। যশোধরার কোলে মাথা রেখে সিদ্ধার্থ শুয়ে মনে মনে আপন অন্তরে রোদন করলেন, তাঁর সংসারত্যাগের যে যন্ত্রণা যশোধরাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে, জানতেন! তখন ভাবলেন, “এই যে আমার স্নেহময়ী মা, সেই মানুষটা যখন আমাকে ধারণ করল, কত না গভীর মমতায়, কত না কষ্ট সয়ে আমায় বয়ে বেড়ালো মাসের পর মাস, তারপর যেই জন্মালাম সে মারা গেল, কই, তাকে তো কেউ সুযোগ দিল না আমাকে সুপুষ্ট করার, আমাকে লালন করার! একজন জীবিত, একজন মৃত, দুজনে দুপথে গেছে, কোথায় কাকে পাব? এ যেন অরণ্যে, সুউচ্চ ঘন বৃক্ষে, কত না পাখির দল সাঁঝে এসে মেশে তাদের সখা-সখীদের সঙ্গে, আবার রজনী প্রভাত হলে তারা কোথায় উড়ে যায়, কে জানে, এ জগতের মিলন বিরহ হয়তো এমনই!”

বছর তিনেকের ঘুমন্ত শিশু, রাহুলের, মুখের দিকে তাকালেন। এর বহুকাল পরে তাঁর সেই সময়ের মনের ভাব ব্যক্ত করবেন তিনি, “রাহুলও যে এক বন্ধন, এই আরেক বন্ধন আমায় ছিন্ন করতেই হবে।”

মধ্যরাতে সব কিছু প্রস্তুত হবার পর ভৃত্য কন্দককে ডেকে সিদ্ধার্থ বললেন, “ঘোড়ায় জিন লাগিয়ে নিয়ে এস কন্দক; অমৃতনগরে যেতে আমার তর সইছে না। যে পবিত্র ব্রত আমি গ্রহণ করেছি, তাতে আমার মন এখন সমস্ত পরিবর্তনের ঊর্দ্ধে লক্ষ্যে স্থির।”
নিঃশব্দে তাঁরা দুজন রাজদ্বার পেরিয়ে গেলেন। তারপর একবার, শুধু একটিবার রাজপুত্র পিছন পানে চাইলেন। শিহরণ জাগলো দেহে মনে। রাজপুত্র ঘোষণা করলেন, “যদি জন্ম, জরা, মৃত্যু জয় না করতে পারি, এপথে আর ফিরব না!”

সে রাতে অরণ্যপথে প্রভু ভৃত্য দুজনে চললেন। রাত ভোর হয়ে এল। প্রত্যূষে একজায়গায় এসে দুজনে ঘোড়া থেকে নেমে বিশ্রাম নিলেন। ঘোড়ার পিঠ চাপড়ে রাজপুত্র তাকে বললেন, “খুব সেবা করলি রে, অনেকক্ষণ, অনেকদিন ধরে আমাকে বয়েছিস।” পরে কন্দকের উদ্দেশ্যে বললেন, “যতক্ষণ ঘোড়ায় চড়ে এলাম, ততক্ষণই তুমি আমার পিছু পিছু এলে কন্দক, তোমার কাছে আমি ঋণী – আমি শুধু তোমায় এতদিন বিশ্বস্ত মানুষ বলেই জেনেছি – আজ তো আর শুধু কথার কথায় তোমায় বেঁধে রাখতে পারব না, তাই তোমায় বলি, আজ থেকে আমাদের প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল; এই নাও আমার অশ্ব, এই অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করে ফিরে যাও; আমি তো সারারাত ধরে যেখানে যেতে চেয়েছিলাম সেখানেই এসে পৌঁছলাম। “

কন্দককে নিতান্ত বিষন্ন ও দুঃখিত দেখে রাজপুত্র তার হাতে একটি মহামূল্যবান রত্ন দিলেন, দিয়ে বললেন, “কন্দক! এই রত্নটি তুমি রাখ, একে নিয়ে আমার পিতৃদেবের কাছে যাবে, গিয়ে শ্রদ্ধাভরে তাঁকে প্রণাম করে এই রত্নটি তাঁর সামনে রেখে দেবে, এ তাঁর আর আমার অন্তরের নৈকট্যের প্রতীক। তারপর, আমার হয়ে তাঁকে বোল যেন তিনি আমার প্রতি যাবতীয় হৃদয়দৌর্বল্য পরিহার করেন, আর বোল যে, আমি জন্ম, জরা, মৃত্যু অতিক্রম করব বলেই গহন অরণ্যে কঠোর জীবনে প্রবেশ করেছি; আমি কিন্তু এ কাজ স্বর্গীয় কোন এক পুনর্জন্ম চাই বলে করিনি, আবার হৃদয় কঠোর বলেও করিনি, আমার কারো প্রতি কোন বিতৃষ্ণা নেই, আমি শুধু পরমাগতি চেয়েছি, চেয়েছি এক মহানিষ্ক্রমণ ।

“আমার প্রবল পরাক্রমশালী পূর্বপুরুষগণ মনে করতেন তাঁদের প্রতিষ্ঠিত রাজসিংহাসন অনড়, অপরিবর্তনীয়; তাই তাঁদের রাজৈশ্বর্য আমার হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন; আমি, কেবল ধর্মের কথা ভাবতে ভাবতে সেসব দূরে সরিয়ে দিলাম, কারণ ধর্মসাধনের ঐশ্বর্য অর্জনেই আমার আনন্দ!

“হয়ত ভাবছ, আমার বয়স অল্প, আমি নেহাতই অপরিপক্ক, আস্পৃহার সময় এখনো আসেনি, তবে জেনো প্রকৃত ধর্মের আস্পৃহায় অসময় বলে কিছু নেই। সকলই অনিত্য জীবনের কিছু খেলা, জীবনের প্রতি মৃত্যুর যে বিতৃষ্ণা, তা কোনদিনই আমাদের পিছু ছাড়ে না, আর তাই, আজকের দিন, এই মুহূর্তকেই আমি বেছে নিয়েছি, এখনি, এই মুহূর্তটিই, আস্পৃহার সময়।”

বেচারা কন্দক! সে তখন কাঁদছে।

“নিজেকে নিজেই সান্ত্বনা দাও কন্দক, এ নিয়ে দুঃখ কোর না; প্রতিটি প্রাণী, যে যার নিজের মত করে, মূর্খের ন্যায় তর্ক করে যাবে যে এ জীবন নিত্য, অপরিবর্তনশীল, আমাকে বোঝাবার চেষ্টা করবে যে আমি যেন আত্মীয় স্বজন পরিত্যাগ না করি; অথচ, মৃত্যুর পরে অশরীরি অবস্থায় কে আমাকে রাখবে, তারা বলতে পারবে কি?”

উজ্জ্বল উঠতি সাধুসদৃশ বাণী, অথচ কথাগুলো এক নম্র যুবা রাজপুত্রের মুখনিঃসৃত, এমন সব কথা যে, যারা তাঁকে ভালবাসত, তাদের কাছে পাষাণের মত ভারী শোনায়। কিন্তু আর তো উপায়ও নেই; সিদ্ধার্থের সঙ্গে জাগতিক সম্পর্কের ছেদ যে টানতেই হবে।

সিদ্ধার্থ বললেন, “আদিকাল থেকে মানুষ এই ভুল করে এসেছে, সামাজিক বন্ধনে নিজেদের বেঁধেছে, প্রেমের বাঁধনে নিজেদের আটকেছে, তারপর আবার স্বপ্নভঙ্গের মত কে কোথায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমার এই কথাগুলো জানিয়ে দিও যে, যখন আমি জন্ম-মৃত্যুর দুঃখ-বারিধি অতিক্রম করব, তার পরই আমি প্রত্যাবর্তন করব; কিন্তু আমি এও প্রতিজ্ঞা করেছি, যদি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হই, এই পর্বত সঙ্কুল জঙ্গলেই যেন আমার শরীর বিনষ্ট হয়।”

তখন শাণিত তরবারীর কোপে তাঁর সুন্দর স্বর্ণাভ কেশরাশি কর্তন করলেন, করে তাঁর তরবারী ও বহুমূল্য রত্নরাজি তাঁর প্রিয় বহুযুদ্ধের তুরগের পৃষ্ঠদেশে রাখলেন, রেখে তাকে বললেন, “এবার কন্দকের সঙ্গে চলে যাও। মনে দুঃখের উদয় হতে দিও না। হে মোর বীর যুদ্ধাশ্ব, তোমাকে ছেড়ে দিতে আমারও কষ্ট হচ্ছে। তবে তোমার কীর্তির আজ অবসান হল, তুমি নারকীয় জন্ম হতে দীর্ঘ মুক্তি পেলে !” তারপর সিদ্ধার্থ করতালি দিয়ে ভৃত্য ও অশ্ব উভয়কে বিদায় জানালেন। অতঃপর, রিক্তহস্ত, মুণ্ডিত মস্তক বিজয়ী এক বজ্রদেবতার ন্যায় একাকী অরণ্যে তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন।

“আমার যাবতীয় অলঙ্কার চিরকালের মত বিদায় হয়েছে, বাকী রইল পরণের রেশমী বস্ত্র, এও সন্ন্যাসীর পরিধেয় নয়!”

ছিন্নবস্ত্র পরিধান করে একটি লোক যাচ্ছিল সে পথ দিয়ে। গৌতম তাকে হেঁকে বললেন, “শুনুন, আপনার ওই পোশাক আমার ভারি পছন্দ হয়েছে, যদি কিছু মনে না করেন, আপনার বস্ত্র আমাকে দিন, আর আমার বস্ত্র আমি আপনাকে এর বিনিময়ে দিয়ে দিচ্ছি।” এই লোকটিকে গৌতম প্রথমে ভেবেছিলেন ব্যাধ, আসলে তিনি একজন সাধু, মুনি। পোশাক বিনিময়ের পরই গৌতমের খেয়াল হল “এ তো সাধারণ বেশ নয়। ইহজাগতিক বৈষয়িক মানুষ তো পরবে না!”

একাগ্রচিত্তে ঘুরতে লাগলেন। দিনের শেষে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত বোধ করলেন। সে কালের প্রথা অনুযায়ী, গৃহচ্যুত মানুষের যা কাজ, গ্রামের পর্ণকুটিরে দোরে দোরে ঘুরে অন্নভিক্ষা করতে লাগলেন। রাজপুত্র ছিলেন, রাজার পাকশালের রাজ-পাচকের হাতের রান্না করা সেরা খাবার খেতে অভ্যস্ত, সেই কেতাদুরস্ত অভিজাত জিহ্বায় যখন গরীব ঘরের সামান্য খুদকুঁড়োর স্বাদগ্রহণ করলেন, থু থু করে ফেলে দিতে লাগলেন। অমনি বোধ হল, এ কি অন্যায় কাজ, তখন যত কষ্ট হোক, জোর করে পুরো পাতের পুরো খাবারটুকু খেয়ে নিলেন। যা কিছু দানের মাধ্যমে তাঁকে দেওয়া হবে, নিতান্ত খারাপ হলেও তাকে অবহেলা অশ্রদ্ধা করা হবে না।

ধর্মে উৎসর্গীকৃত যে জীবন, পরম শান্তির সন্ধানে যার যাত্রা, সেই চিরন্তন সত্যের স্বাদ অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্বাদ আর কিছুই নেই! ইহজাগতিক যাবতীয় হার্দিক মানসিক সম্পর্ক চুকে গেছে, এখন জিহ্বার রসনার বন্ধনে থাকার সময়ও গত হয়েছে। একদা যে মানুষটির মাথায় তাঁর তৎপর অনুগামীরা শ্বেতশুভ্র ছত্র ধারণ করত, যে মানুষটির পরিধানে ছিল রেশমের মহামূল্যবান পোশাক, আজ সেই মানুষটিই ছিন্ন বস্ত্র পরিধান করে, যৎকিঞ্চিৎ আহার শেষে, নতমস্তকে অথচ হৃষ্টচিত্তে রৌদ্রতপ্ত অরণ্যপথে একাকী চলেছেন।

এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে নানান জনের কাছে সিদ্ধার্থ আলারা কালামার সন্ধান করতে থাকলেন। আলারা কালামা এক অতিবিখ্যাত সাধু, তাঁর সম্বন্ধে কত কিছু শুনেছিলেন। ইনি পরে সিদ্ধার্থের গুরু হবেন। আলারা কালামা শূন্যতার শিক্ষা দিতেন। তার সঙ্গে চূড়ান্ত আত্মপরিযাতনা অবলম্বন করতেন। দেখাতে চাইতেন যে তাঁর যাবতীয় শরীরবোধের উর্দ্ধে বিচরণ। শাক্যবংশের এই নতুন যুবা মুনিটিও মহোৎসাহে আলারা কালামার পদানুসরণ করতে লাগলেন। বহুকাল পরে শিষ্যদের কাছে তাঁর এই সময়কার চূড়ান্ত আত্মপরিযাতনার দিনগুলোর কথা বলবেন। বলবেন যে, “আমি সেই সময় শৈবাল, ঘাস, গোময় আহার করে শরীর ধারণ করতাম, বন্য ফলমূল, গাছ থেকে যে ফলটুকু নিজে থেকে মাটিতে পড়ত তাই খেয়ে জীবন কাটাতাম, কেশ আর কুশ পরিধান করে থাকতাম, শ্মশান মশান ছাইগাদা থেকে যা তা ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো পেতাম সেই সব পরে থাকতাম, বন্যপ্রাণীর ফেলে যাওয়া চামড়া গায়ে জড়িয়ে রাখতাম, ঘাসপাতা, বল্কল, জন্তু-জানোয়ারের লেজের টুকরো, পেঁচার ডানার পালক, যখন যা যা পেতাম তাই দিয়ে নিজের নগ্ন শরীর কোনমতে ঢেকে রাখতাম। টেনে টেনে নিজের চুল দাড়ি ছিঁড়ে ফেলতাম, মাথা, মুখ, দাড়ি গোঁফ থেকে চুল রাখব না এই প্রতিজ্ঞা করেছি সেই সময়। একবার ভাবলাম কেবল দাঁড়িয়ে থাকব, বসব না, শোব না। আবার একবার ভাবলাম সারাক্ষণ উবু হয়ে বসে থাকব। “কন্টকবিহারী” হয়ে গেলাম একবার। যখনই পাশ ফিরে শুতে যেতাম, কন্টকশয্যায় শরীর রাখতাম – একবার ভয়ংকর দুর্গম এক জঙ্গলে গিয়ে সেখানেই রয়ে যাব মনস্থ করলাম। সে এক ভয়াবহ অরণ্য, সামান্য কাণ্ডজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ সেখানে গেলে ভয়ে তার রোম খাড়া হয়ে যাবে। এহেন যে মানুষ, পরে যিনি বুদ্ধ হবেন, তিনি এমনি করে ছ’বছর, প্রথমে আলারা কালামার সঙ্গে, তারপরে আরো পাঁচজন ভিক্ষু-সাধুর সঙ্গে উরুভেলার কাছে তপোবনে এই সমস্ত মারাত্মক অর্থহীন সাধনা করে বেড়াতেন। তার সঙ্গে উপবাস। সে উপবাস এমন সাঙ্ঘাতিক যে, “আমার হাত পাগুলো ক্ষয়াটে শুকনো পাটকাঠির মত হয়ে গিয়েছিল, কোমরের হাড় উটের কুঁজের মতো বেরিয়ে থাকত, শিরদাঁড়া দড়ির মত পাকিয়ে গিয়েছিল, বাড়াবাড়ি রকমের উপোস করে করে পাঁজরার অবস্থা হয়েছিল পোড়োবাড়ির ছাদের মত ব্যাঁকাচোরা। পেটে হাত দিলে হাত চলে যেত শিরদাঁড়ায়, হাত ঝাড়া দিলেও মাথা থেকে চুল খসে খসে পড়ত।”

এমনি করে চলতে চলতে শেষে একদিন নৈরঞ্জনা নদীতে স্নান করতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে প্রায় ডুবে যাচ্ছিলেন। তখন বোধোদয় হল, এই যে বাড়াবাড়ি রকমের মুক্তির সাধনা চলছে, এও প্রকৃতপক্ষে যাচ্ছেতাই রকমের অজ্ঞতার নামান্তর; দেখলেন, এ সবই অস্তিত্ব নামক মুদ্রাটির এপিঠ ওপিঠ – একদিকে চূড়ান্ত ভোগবিলাস, একদিকে চূড়ান্ত ক্লেশ, উপবাস। একদিকে মাত্রাহীন, স্বার্থপরের মত, অবোধের ন্যায় বিলাস ব্যসন, বোধশক্তিরহিত; অপরদিকেও সেই বোধহীনতা, মাত্রাতিরিক্ত দারিদ্র্য-ক্লেশ-শারীরি-যাতনা নির্বোধতা, একই রকমের উল্টোপাল্টা অকারণ-অন্ধ কার্যকলাপ।

জনৈকা মেয়ে তাঁকে দেবতা মনে করে একবাটি পায়েস দিয়েছিল, তাতে বেঁচে উঠে, সিদ্ধার্থ বললেন, “এই যে এত কষ্ট, কেবলি যাতনা!”

monks
Image courtesy, The Life of Buddha

একটি মেয়ে তাঁকে দেবতা মনে করে পায়েস দিয়েছিল, তার হাতের সেই পায়েস গ্রহণ করে সিদ্ধার্থ বেঁচে উঠলেন। “এই যে এত ভোগান্তি, বড় খারাপ লাগে!” ঘোষণা করলেন তিনি।

সঙ্গী পাঁচ কঠোর তপস্বীর কাছে গেলেন, তাদের কাছে তাঁর উপদেশ,
“এই যে তোমরা! কেবল স্বর্গসুখ পাবে বলে বহিরঙ্গ শেষ করার তদবির করছ, নিজের শরীরের প্রতি যতরকমের বেদনাদায়ক অত্যাচার করা যায় তার কিছুই তো বাকী রাখলে না, এদিকে একটা স্বর্গীয় জন্মের খোঁজ করে বেড়াচ্ছ, আবার তো সেই ঝামেলা পোহানোর ব্যাপার, কোন এক ভবিষ্যত আনন্দের ছবি চোখে ভাসিয়ে, দুর্বল হৃদয় শুধুই মজে যায়, ডুবতে থাকে … আর সেইজন্যেই, ঠিক সেই কারণেই, আমি দেখতে চাই কোন পথে শরীরকে সুস্থ ও মজবুত রাখব, যাতে খাদ্য দিয়ে পানীয়ের মাধ্যমে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তাজা করে তোলা যায়, তাতে শরীরের তৃপ্তি, প্রাণের আরাম । প্রাণে আরাম আসুক, তাতে জীবনের শান্ত সমাহিত সমতার ভাবটিকে উপভোগ করি। এই শান্ত, সমাহিত সমতাবোধটাই তূরীয় অবস্থা প্রাপ্তির চাবিকাঠি। তূরীয় অবস্থাতেই সদধর্মের প্রকৃত উপলব্ধি হয়, তারপরই জড়বন্ধন থেকে মুক্তি আসবে ।

“ইহলোক, স্বর্গলোক, নরক – ত্রিভুবনের আওতা থেকে উত্তরণ চাই আমি। যে ধর্ম তোমরা পালন করছ, এ ধর্ম তোমাদের পূর্বতন গুরুদেবগণের কৃতকর্মজনিত উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছ। কিন্তু আমি, এই যে সব এর ওর মেলানো মেশানো জোড়াতালি দেওয়া, আমি, সেইসব যাবতীয় তালগোল পাকানো ধর্ম শেষ করতে চাই, আমি চাই এমন এক ধর্মের সন্ধান, যেখানে এইসমস্ত কোনরকম সমাপতন নেই। আর ঠিক সেই কারণেই, আর কোন অর্থহীন আলাপ আলোচনার, আর কোন তর্কের মধ্যে আমি নেই, চললাম, এই তপোবনে আর এক মুহূর্তও কাটাতে চাইনা।”

এইসব শুনে তো তপস্বীরা সাংঘাতিক চমকে গেল, বলতে লাগল, গৌতম হাল ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু শাক্যমুনি, এই পাঁচ কঠোর তপস্বীর প্রচলিত পন্থাকে “শূন্যে গ্রন্থি বন্ধনের প্রয়াস”, বলে ছেড়ে চলে গেলেন, আত্মক্লেশী তাপস আর রইলেন না, হয়ে গেলেন পরিযায়ী পরিব্বিজক (পরিব্রাজক)।

সিদ্ধার্থ নানা জায়গায় ভ্রমণ করছিলেন, এমন সময় তাঁর পিতার সন্তাপের কথা শুনতে পেলেন। ইতিমধ্যে ছ’বছর কেটে গেছে, এতদিন পরে এই সংবাদে তাঁর কোমল হৃদয়ে পিতার প্রতি অপার ভালবাসার উদ্রেক হল। যে লোকটি তার পিতার শোক-দুঃখের সংবাদ বহন করে নিয়ে এসেছিল তাকে বললেন, “তবে সবই স্বপ্নবৎ, সবই নশ্বর, সব শূন্যে বিলীন হয়ে যাবে … প্রিয়জনের ভালবাসা, সে এই বেঁধে রাখে, তো পুনরায় সে বন্ধন শিথিল হয়, এই যে ক্রমাগত দূর থেকে দূরে সরে সরে যাওয়া, কত আর এ নিয়ে দুঃখ করা যায়? এ নিয়ে যত আফশোষই হোক না কেন তার কোন নাগাল পাওয়া যায় না। কেননা তাবৎ বস্তু সমুদায়ের কালক্রমে লয় অনিবার্য, কারণ মৃত্যুই কালের নিয়ন্তা, মৃত্যুকে দূর কর, কালও লুপ্ত হবে …

“তোমরা চাও আমি রাজা হই … বাইরের এই রূপের বিষয় চিন্তা করলে আমার অন্তর বড় বিষন্ন হয় … ঐ যে অলঙ্কারের প্রাচুর্যে শোভিত রাজপ্রাসাদ , আমি দেখি তাতে সর্বত্র আগুন জ্বলছে, ঐ যে শত শত অমৃতের ন্যায় ব্যঞ্জন, যেন স্বর্গের পাকশালায় প্রস্তুত, তাতে যেন বিষ মিশে আছে। চক্রবর্তী রাজন্যগণ, তাঁদের বিষয় বিতৃষ্ণা হতে বিলক্ষণ অবহিত আছেন যে, ধর্মে নিবেশিত জীবনের যে স্থিতি, তার সঙ্গে রাজ্যপাট পরিচালনার ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটের কোন তুলনা চলে না। অন্তরের স্তব্ধভাব ও তার বিশ্রামই মুক্তির উৎস। একদিকে রাজসিক সম্ভোগ অন্যদিকে উদ্ধারপ্রাপ্তি, একদিকে গতি, অন্যদিকে স্থিতি, এই দুটিকে একত্র করা যায় না। আমার চিত্ত অচঞ্চল; বিষয়সম্পর্কের প্রলোভন আমি ছিন্ন করেছি, একনিষ্ঠ উদ্দেশ্য নিয়ে আমি গৃহত্যাগ করেছি।”

পথে অন্যান্য যে সমস্ত সাধু সন্ন্যাসীদের সঙ্গে দেখা হত, তাদের উপদেশ দিতেন,
“আত্মনিবৃত্তির পরম ধর্ম অনুসরণ করুন, পুরাকালে যে কথা বলা হত, তাকে অবধান করুন। পাপ হতে সন্তাপের উৎপত্তি।”
পূজ্যপাদ অশ্বঘোষ বুদ্ধের এই অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন,
“অটল উপস্থিতিতে ঋজু পদক্ষেপে তিনি নগরে প্রবেশ করে, মহাসন্ন্যাসীর প্রথানুযায়ী অন্নভিক্ষা করতেন, তৃপ্ত নিবিষ্ট মনে তদ্গত চিত্তে, কম ভিক্ষা পেলেন না বেশী ভিক্ষা পেলেন তা নিয়ে কোনরূপ চিন্তা ছিল না; যা পেতেন, মূল্যবান হোক, সামান্য হোক, তাকে ভিক্ষাপাত্রে রাখতেন, তারপর অরণ্যে ফিরে গিয়ে সেই অন্ন গ্রহণ করতেন ও তরণীর জলপান করতেন, অতঃপর আনন্দিত চিত্তে পর্বতে অধিষ্ঠান করতেন।”
(অলোলচক্ষুর্যুগমাত্রদর্শী নিবৃত্তবাক্যমত্রিতমন্দগামী ||
চচারভিক্ষম সা তু ভিক্ষুভার্যনিদায় গাত্রাণী চলঞ্চচিত ||)

Aswaghosa Poem

meeting
সূত্র: The Illustrated Jataka & Other Stories of the Buddha by C.B. Varma

 

তারপর, সিদ্ধার্থ রাজা মহারাজাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলাপ আলোচনা করতেন, তাঁদের নিজের মতের অনুগামী করে তুলতেন । একবার সিদ্ধার্থ অরণ্যে অধিষ্ঠান করছেন, মগধরাজ বিম্বিসার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলেন। মহারাজ বিম্বিসারের কৌতূহল, রাজপরিবারে জন্মেও কেন একজন মানুষ রাজ্যপাট শাসন করার অধিকার ছেড়ে দেয়।

“সাধারণের মধ্যে যা দান ও বিতরণ করা হয়, তাকেই রাজ্যের প্রকৃত সম্পদ বলা যেতে পারে, কেবল রাজকোষে সঞ্চিত বিত্তই সম্পদ নয়,”, সিদ্ধার্থ বললেন, “দান খয়রাত করতে গিয়ে অর্থসম্পদ অনেকটাই বিলিয়ে গেলেও একাজে কোন অনুশোচনা থাকেনা।”
মহারাজ বিম্বিসার তবু ছাড়লেন না, জানতে চাইলেন, এহেন মানুষ, যিনি রাজ্যশাসনের ব্যাপারে এমন সব বিধি বিষয়ে প্রাজ্ঞ, তিনি কি কারণেই বা রাজসিংহাসন পরিত্যাগ করেছেন, আর কেনই বা রাজপ্রাসাদের বিলাসবহুল জীবনের আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে রেখেছেন?
“আমি জন্ম, জরা, অসুস্থতা, মৃত্যু ভয়ে ভীত, তাই আমি মুক্তির এক নিশ্চিত উপায় সন্ধান করি। অতএব আমি পাঁচটি বাসনাকেও ডরাই – যে বাসনাসমূহ দৃষ্টির, শ্রবণের, স্বাদ গ্রহণের, ঘ্রাণের, স্পর্শের সম্পৃক্ত – এরা অনিত্য তস্করের দল, যারা মানুষের কাছ থেকে তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হরণ করে মানুষকে এক অলীক জীবনের বিহারী, অস্থিরমতি করে তোলে – মানুষের জীবনের শান্তি ছত্রভঙ্গ করে প্রবল প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।
‘স্বর্গের আনন্দই যেখানে এমন কোন প্রাপ্তব্য নয়, সেখানে মামুলি কামনা বাসনায় কাজ কি, উন্মত্ত প্রেমের তৃষ্ণানিবারণে যা মেলে, পরক্ষণেই ভোগের উচ্ছ্বাসে সে কোথায় হারিয়ে যাবে। এ যেন সেই সম্রাটের ন্যায় অস্থির, সসাগরা ধরিত্রীর পালনকর্তা হয়েও যিনি অতিরিক্ত কিছুর সন্ধান করতে থাকেন, ওপারে আর কি আছে তার সন্ধান, মানুষের কামনা-বাসনাও তদ্রূপ; অপার মহাসমুদ্রের তুল্য, এটুকুও জানা নেই কোথায়, কখন রাশ টানতে হয়। লোভ লালসাকে একটু প্রশ্রয় দিলেই দেখবেন শিশুর বাড়বৃদ্ধির মত সে ক্রমশ বেড়ে যেতে থাকে। যে মানুষ জ্ঞানী, যিনি দুঃখ কত তিক্ত তা জানেন, আর তাই তিনি কামনা বাসনার উৎপত্তি সমূলে নিষ্পেষিত করেন।
“এ জগৎ যাকে মহৎ গুণ বলে বিচার করে, সেও প্রকারান্তরে নিতান্তই দুঃখময়, মহারাজ!
“সমুদায় বস্তুকে মায়াবৎ জ্ঞান করে প্রকৃত জ্ঞানী তাই বাসনা কামনা রহিত; অপিচ বাসনায় নিমজ্জিত মানুষ কেবল দুঃখেরই কামনা করে। দুঃখের উন্মেষ হওয়া মাত্র জ্ঞানী তাকে পূতিগন্ধময় অস্থিবৎ পরিত্যাগ করে দূরে নিক্ষেপ করেন।
“যাকে জ্ঞানী কখনো গ্রহণ করার বিবেচনা পর্যন্ত করেন না, রাজা কিনা তাকেই আগুনে পুড়তে হলে পুড়ে, জলে সিক্ত হতে হলে সিক্ত হয়েও পাবার চেষ্টা করেন, সেই সম্পদ, যার সন্ধানে এত পরিশ্রম, সে যেন এক পচা গলা মাংসপিণ্ড!
“তাই যিনি প্রকৃত জ্ঞানী তিনি কখনোই ধন সম্পদ সঞ্চয় করেন না, তাতে বিষয়চিন্তায়, শত্রুভয়ে মন দিবারাত্র উদ্বিগ্ন হয়।
“ মহারাজ! কত না কষ্ট সয়ে মানুষ ধনসম্পদ লাভের ছক কষে, সেই ধনসম্পদ, যা কিনা বহু কষ্ট সয়ে উপার্জন করতে হয়, অথচ দেখুন, যেন স্বপ্নে প্রাপ্ত, এমন ভাবে কত সহজেই তাকে নষ্ট করা যায়; আঁস্তাকুড়ে যার স্থান হওয়া উচিৎ, প্রকৃত জ্ঞানী কেনই বা তিলে তিলে তাকে সঞ্চয় করে রাখতে চাইবেন! বিত্তবাসনা মানুষকে নিষ্ঠুর করে তোলে, দুঃখের তীক্ষ্ণ শলাকায় তার শরীর ভেদ করে যেন কর্কশ চাবুকের দ্বারা প্রহার করে; দীর্ঘ রাত্রি ছায়ে শরীর, অন্তরাত্মা নিংড়ে, আশা হরণ করে, লালসা যে মানুষকে অমানুষ করে তোলে।
“এ যেন মাছের বঁড়শিপ্রেম!
“লোভ চায় তার চাহিদা পূর্ণ করতে, কিন্তু দুঃখের যে অন্ত নেই। আমাদের কামনা বাসনাকে তৃপ্ত করতে গিয়ে আমরা তাদের শুধু বাড়িয়েই যাই। সময় বয়ে যায়, দুঃখ বার বার ফিরে আসে।
“অতএব অজস্র বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে কি লাভ বলুন, এতে উদ্বেগই শুধু বাড়ে। বাসনাকে তুষ্ট করতে গিয়ে যে দুঃখের উৎপত্তি, তার অন্ত করুন মহারাজ, মহাব্যস্ত জীবনযাপন হতে আত্মসংবরণ করুন, এতেই আপনার যথার্থ বিশ্রাম!”

মহারাজ বিম্বিসার, সেই কন্দক যেমন বলেছিল, তিনিও, আর না বলে থাকতে পারলেন না, শাক্যরাজকুমার, তোমার বাপু সংসার ত্যাগের বয়স হয়নি, তুমি নেহাতই ছেলেমানুষ।
“বলছেন বটে যুবাবয়সে মানুষ ফুর্তি করুক, বৃদ্ধ হলে ধর্মচর্চা, আমি কি মনে করি জানেন, বার্ধক্যের কাল এতটাই অনিশ্চিত, যে যুবাবয়সের মত আর ধর্মপালনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা থাকে না।”
বৃদ্ধ মহারাজ বুঝতে পারলেন ।
“চঞ্চলতা এক শবর, আয়ু তার ধনু, ব্যাধি তার শর, জীবনমৃত্যুর মহাক্ষেত্রে সে জীবিতের মৃগয়া করে; যখনই সে সুযোগ পায়, আমাদের প্রাণহরণ করে, বৃদ্ধ বয়সের জন্য কেই বা অপেক্ষা করে থাকবে?”
ধর্মপালন বিষয়ে সিদ্ধার্থ মহারাজকে প্রাণিহত্যা ও বলিদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিলেন, “প্রাণহত্যা করে ধর্মসাধন, মানুষের এ কেমন প্রেম? বলিদানের ফল যদি অক্ষয় হয়, তাহলেও প্রাণিহত্যা অনুচিৎ, তবে ক্ষণস্থায়ী ফলের আশায় সে কাজ বোধকরি আরো কত অন্যায়! প্রজ্ঞাবান মানুষ প্রাণহত্যা থেকে বিরত থাকেন। বায়ুপ্রবাহের ন্যায়, তৃণশীর্ষে বারিবিন্দুর ন্যায়, অনাগত ভবিষ্যতের ফলাফল ক্ষণস্থায়ী ও অনিশ্চিত নিয়মের বশবর্তী, আমি তাকে তাই দূরে সরিয়ে রাখি, কারণ আমি যে যথার্থ মুক্তি চাই!”

মহারাজ উপলব্ধি করলেন যে তাঁর চেতনার উদ্বোধন তাঁর অর্জিত সম্পদের পূর্বজ, অতএব এক্ষেত্রে তার গুরুত্বই অধিক। তিনি মনে মনে চিন্তা করলেন, “অনুধাবনের সময় নিতান্তই কম, আমি যেন ধর্ম রক্ষা করতেই সক্ষম হই।” চক্ষুন্মীলিত হল মহারাজের, আলোকপ্রাপ্ত বোধ করলেন, গৌতমের আজীবন সমর্থক হয়ে রইলেন তিনি।

জেগে ওঠ – ৩: সিদ্ধার্থের মহানিষ্ক্রমণ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments