আমাদের মতন অ্যাকাডেমিকদের জীবনের একটা বড়ো সময় কাটে ক্লাসঘরে, আর ছোটো থেকে বড়ো হওয়া মানে আসলে প্রবল সংগ্রাম করে কোনোমতে টেবিলের একদিক থেকে আরেকদিকে এসে বসা – আজ থেকে দশ বছর আগের এই দিনে হয়তো কোথাও কাঁপতে কাঁপতে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, আজ হয়তো হাই তুলতে তুলতে গার্ড দিতে দিতে ভাবছি সময়টা কোথায় কেটে গেলো, টের-ই পেলুম না … ভাবতে ভাবতে মনে পড়লো ছোটোবেলার সেই পরীক্ষার দিনগুলোর কথা – জীবনে সব থেকে ভয়ের দুটো শব্দ, হাপিয়ার্লি আর অ্যানুয়াল … আর মনে পড়লো সেইসব দুর্যোগের দিনে কিছু অসাধারণ সাহস এবং তার চাইতেও অসাধারণ উদ্ভাবনী শক্তির গপ্পো …

বলাই বাহুল্য, সব চরিত্র কাল্পনিক … এবং সব ঘটনাও কাল্পনিক, আর তা ছাড়া আমার বয়ানে টুকলি বা হলে-ম্যানেজ করার গপ্পো মানে গাভাস্করের টি-টোয়েন্টির কমেন্টারি, মাঠে নামলে কি ছড়াতাম কেউ জানে না, তা-ও … বলতে কি আছে?

ইস্কুলে পড়ার সময়ে দেখতাম পরীক্ষার গার্ড দুই প্রজাতির হয়, প্রথম প্রজাতি মহা ঘোড়েল, হলে টুকলি ধরায় সাক্ষাৎ শার্লক, চোখে কালা চশমা পরে টহল দেন যাতে কার উপর শনি দৃষ্টি পড়ছে বোঝা দায় হয়, হিসু করতে গেলে পিছু নিয়ে টয়লেট অব্দিও যেতে থামেন না, আর ধরা পড়লে হয়ে গেলো … সে ট্রমা আর ইহজীবনে কাটার নয় … আরেক দল, নির্বিবাদী, সাতে-পাঁচে নেই, উদাস মুখে খাতা বিলোন, ব্যাজার মুখে বসে থাকেন, বড্ড টোকাটুকি হলে মৃদু গলায় বলবেন, 'এই তোমরা একটু আস্তে গোলমাল করো, পাশের ঘরেও পরীক্ষা হচ্ছে' … দুঃখের (মতান্তরে আনন্দের) বিষয় আমাদের ইস্কুলে প্রথম ক্যাটেগরির অনেক স্যার ছিলেন, কেউ কেউ হলে ঢুকলে চোতা করুন না করুন, মনে ঘাড় ঘোরানোর চিন্তা এলেও কেমন যেন শিরশিরিনি হতো … বাধ্য হয়েই বাঙালী শাবক অল্প কল্পনাপ্রবণ হয়ে পড়তো …

ইতিহাস পড়তে গিয়ে দেখতাম, পাতায় পাতায় গাদা গাদা নাম আর কোটেশান …  এই রোমিলা থাপার মহেঞ্জোদাড়ো নিয়ে কি বললেন, তো তারপরেই ব্যাশাম-সাহেবের কবিতার মতন উক্তি … সেসব গাঁত করতে গিয়ে সত্যি বলতে যতো ঐতিহাসিকদের নাম শিখেছিলাম, অতো অঙ্কবিদকে এখনো চিনি কিনা সন্দেহ … আর ইতিহাস একে ভারী রোম্যান্টিক সাবজেক্ট, তায় মাটির মতো নমনীয়, শেপ-শিফটার … এই বয়সে এসে বুঝি ইতিহাস শুধুই বিজয়ীর গল্প, বিজিতের নয় …

যা হোক, ইতিহাস পরীক্ষা চলছে, এক বন্ধু নীলু অনেক টেনে হিঁচড়ে সিন্ধু সভ্যতা-টভ্যতা নিয়ে অনেক কান্নাকাটি করে দেখলো, একটাও কোট মনে পড়ছে না, এমন কি লোকের নাম-ও না (সেই যুগে উড়ুক্কু কুমীর-ওয়ালা সিনেমাও বেরোয়নি) … কিং করিষ্যামি? কি বুদ্ধি এলো, পাশে পরীক্ষা দিচ্ছিলো একটা ক্লাস ফাইভের বাচ্চা, তাকে জিজ্ঞেস করলো, 'এই তো বাবার নাম কি?' নিরীহ ব্যাঙ্ক বাবু জানতেও পারলেন না, কতো গম্ভীর-জ্ঞানমারানি উক্তি সেদিন তাঁর নামের সাথে জুড়ে গেলো … অবিশ্যি আমাদের দ্যাশের ইতিহাসে পুষ্পক রথ এসে হরপ্পার খানা-খন্দরে পার্ক করতে শুরু করেছে এখন, সে তুলনায় এ আর কি এমন …

নাইন-টেনের সিলেবাস সেদিক থেকে বেশ সোজা, স্বাধীনতা আন্দোলন, বই না হয় পড়িনি, কিন্তু সিনেমা দেখেচি, টিভিতে দুর্দান্ত সিরিয়াল দেখেচি 'দেশ আমার দেশ', আমায় কে ঠেকায়? কিন্তু প্রশ্ন-ও তেমন বিটকেল, পাঁচ নম্বরের টীকা লেখো, 'তিনকাঠিয়া ব্যবস্থা কি?' মনে অনেক কাঠির কথা আসে, সে কি আর লেখা যায়? একবার টেস্টে এলো নব্যবঙ্গ আন্দোলন … তা আন্দোলন হবে, দু-চারটে বডি পড়বে না, সে কি হয়? ডিরোজিও বোধহয় সেই শীতে কবরে কয়েকবার এপাশ-ওপাশ করেছিলেন …

এক দিদির মুখে (কলমে বলা ভালো) এই নিয়ে একটা গল্প শুনেছিলাম, তাদের প্রশ্ন এসেছিলো থিওসফিক্যাল সোসাইটি … পাশে খোঁচা মেরে জানা গেছে শুধু দুটো নাম, অ্যানি বেসান্ত আর তিলক, ব্যাস ওইটুকুই … বললাম না কল্পনাশক্তি? সে উত্তর শুরু করলো 'থিওসফিক্যাল সোসাইটি শুরু করায় তিলক ও অ্যানি বেসান্তের ভূমিকা অপরিসীম', মাঝে অনেক কিছু হাবিজাবি, সাহেবদের ক্যালানি, কিছু বন্দেমাতরম, কিছু ডান্ডী মার্চ ঢুকিয়ে পাতা ভরিয়ে শেষে মহার্ঘ উক্তি, 'এইভাবে থিওসফিক্যাল সোসাইটির মধ্যে দিয়ে অ্যানি বেসান্ত ও তিলকের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে' …

ইতিহাস অবিশ্যি আমার সত্যি বলতে দারুণ লাগতো (এখনো লাগে) – ভয় পেতাম লাইফ সায়েন্স, কোচিং ক্লাস থেকে দিস্তে দিস্তে নোটস নিয়ে আসতাম, প্রকট ও প্রছন্ন বৈশিষ্ট্য কারে কয়? (উঃ প্রকট আমি ক্যাবলা, প্রছন্ন আমি অত্যন্ত হিংস্র), কানের ককলিয়ার কটা প্যাঁচ থাকে? (উঃ ২ পূর্ণ ৩/৪, গাঁত দেখেচো?) … মুখস্ত করতে করতে চোখে জল এসে যেতো, তাও নিস্তার নেই … এতো সব গেঁতে গিয়ে প্রশ্ন এলো, মেন্ডেল-সাহেব কেনো মটর গাছ নিয়ে পেয়াঁজি করেছিলেন? এবং নাঃ, তাঁর গীর্জার পাশে মটরের ক্ষেত ছিল লিখলে শুন্য পাবেন !

এর মাঝে ক্লাস সেভেন-এইটে অল্পদিনের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে চলে গেছে সংস্কৃত – আমাদের হিন্দি-ফ্রেঞ্চ বা জর্মন এর ব্যাপার ছিলো না, বটুকদা পান খেতে খেতে এসে বেত দিয়ে তশরিফ লাল করে চলে যেতেন, তাতেও অবশ্য কাজ হতো বলা যায় না … এক বন্ধু খেলার কথা ভাবছিলো, অতো খেয়াল করেনি কি হচ্ছে ক্লাসে, দেবনাগরী হরফ দেখে হিন্দি-র কিছু একটা জটিল ব্যাপার ধরে নিয়ে পরীক্ষার খাতায় ট্রান্সলেশন করে এসেছিলো, 'অযোধ্যাং মেঃ দশরথং নামশ্চ একং রাজন থাঃ' … হয়তো সে এখনো দুঃস্বপ্নে শব্দরূপ আর অনুস্বার-বিসর্গ দ্যাখে !

স্কুল পেরোতেই দেখলাম  সবাই মিলে হুড়ো তুলে এমন অঙ্ক-ফিজিক্স-বায়োলজি করে যে বেচারা বাংলা-ইংরিজি ফাঁকি পড়ে যায় … মাধ্যমিকে লোকে তা-ও যা পড়তো একটু নম্বরের লোভে, উঃমাঃ আর জয়েন্ট ফয়েন্ট এসে তার বাজার এক্কেবারেই মেরে দিয়ে গেলো … টুয়েলভের সিলেবাসে শরৎবাবুর গল্প ছিলো, 'মহেশ', ভারী কষ্টের … আমিও চোখ মুছতে মুছতে পাতা দুয়েক লিখে ঠাহর করলাম, গরুর নাম মহেশ না গফুর কিছুতেই মনে পড়ছে না, গল্পটা সেই ছোটোবেলার পরে আর পড়িনি … শেষমেশ লিখে এলাম, 'গল্পের শেষে এক করুণ বিয়োগের সুর বাজে, আর সেই সুরে গফুর আর মহেশ, গরু আর মানুষ, কোথায় যে মিশে যায় বোঝা যায় না … '

এদিকে অল্পদিন পরেই জয়েন্ট, তবে এক রামে রক্ষা নেই, লক্ষ্মণ দোসর, তাই আমি উজিয়ে শহরের অন্য প্রান্তে গিয়ে মক-টেস্ট দিয়ে বেড়াই। তো এরম এক মক-টেস্ট দেওয়ার আগে এক প্রাণের বন্ধু, (ধরে নেওয়া যাক তার নাম শিবু) সে-ও আমার মত দুর্ভাগা, বললো বায়োলজি আর অঙ্কটা একটু হেল্প করে দিলে সেও বাবার ক্যাল থেকে বেঁচে যায়, আমার-ও কপালে মহামায়াতলার দোকানের এগরোল নাচছে …

তো পরীক্ষা শুরু, দুটো হাফ, মাঝে টিফিন ব্রেক – ইনভিজিলেটার আসছে, এদিক-ওদিক দেখে চা নয় বিড়ি খেতে কেটে পড়ছে আর  আমি মাঝে মাঝে কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে রিলে করে যাচ্ছি, হঠাৎ শুনি আরেকটা মৃদু গুঞ্জন ঠিক ইকোর মতন কানে আসছে ! তাকিয়ে দেখি মহানুভব শিবু আমার থেকে জ্ঞান আহরণ করে থেমে থাকছে না, জনকল্যাণে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে । তা উদ্দেশ্য মন্দ নয়, কিন্তু বিধি বাম, কানে অল্প খাটো … তাই যা দাঁড়াচ্ছে তা এক অসামান্য চীনে-ফিসফাস, এই যেমন … প্রশ্ন একটি endangered species-এর নাম লিখ, শিবুকে স্পষ্ট বললাম ওয়ান-হর্ণড রাইনোসেরস, দু-সেকেন্ড পরে শুনলাম পিছনে রিলে হচ্চে ওয়ান-হর্ণড ডাইনোসরাস … ভেবে দেখলাম প্রতিবাদ করে লাভ নেই – endangered আর extinct এর মধ্যে ফারাক-ই বা কতটুকু? 

Rhino-Dino

অঙ্ক পরীক্ষা চুপচাপ কাটিয়ে দিলাম, হল থেকে বেরিয়ে শিবু একগাল হেসে বললো, ওই কি একটা অঙ্কে দেখলাম প্রত্যেক লাইনে একটা চাউমিন সিম্বল দিয়ে গেলি, আমি ওইটা কাটিয়ে বাকিটা হুবহু মেরে দিয়েছি … (বাসে উঠে বাড়ি ফিরতে ফিরতে বুঝেছিলাম, চাউমিন সিম্বল আসলে ইন্টিগ্রেশানের লম্বাটে S! )

(প্রসঙ্গতঃ, শিবু এখন একজন সফল ডাক্তার, আমাদের নিশ্চয়ই কোনোদিন দেখা হবে, হয় এপারে, নয় ওপারে, নয়তো আসা-যাওয়ার ঠিক মাঝে) …

আই-এস-আইতে তো এমনিতেই ক্রিয়েটিভিটির চাষ, উত্তর-ও সব আসতো বাঘা বাঘা – তবে সেসব গপ্পো ফেঁদে বসলে এই বুড়ো বয়সে ভাত-কাপড়ে মারা পড়ার সমূহ সম্ভাবনা, তাও গোটা দুয়েক না করে থাকা যাচ্ছে না, করেই ফেলি …

আমাদের পরের ব্যাচ, পড়ানো হয়েছে স্পুরিয়াস কোরিলেশান, মানে আপাত সম্পর্কহীন দুটো জিনিষের একটা বাড়লে অন্যটাও বাড়ে, আসলে হয়তো ভেতরে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে – চাদ্দিকে এর মেলাই উদাহরণ, এই যেমন আপনার মাইনেও বাড়ছে আর পাল্লা দিয়ে ব্লাড প্রেশার, হয়তো দেখা যাবে, মাইনে বাড়ছে বয়সের সাথে, রক্তচাপ-ও তাই … আবার কিছু মাথামুন্ডু নেই এমন জিনিষেও কোরিলেশান বেশি হতেই পারে, Zআনতি পার না … (অত্যুৎসাহীদের জন্য একগাদা উদাহরণ রইলো এখানে) … যা হোক, তা মিড-সেমেস্টার প্রশ্ন এসেছে, 'মানুষের উচ্চতাও যেমনি বাড়ছে, মাথার চুলের ঘনত্ব তেমনি কমছে … ক্যায়সে?' আমার এক প্রিয় জুনিয়র দুর্ধর্ষ উত্তর লিখে এলো, 'লম্বা লোকের টাক সূর্যের অনেকটাই কাছে, সেখানে গরম বেশী, খুব ঘাম … ঘেমো টাকে অল্প চুল যদি না-ই পড়লো, তা'লে আর ঘেমে লাভ কি?' (বলাই বাহুল্য, বোরিং লোক হলে আপনি ভাবতেই পারেন, না আসলে হয়তো হাইট আর জেন্ডার সম্পৃক্ত, কিন্তু তাতে কার কি?)

দুই, আমাদের অনেক অনেক পরের ব্যাচের এক ছাওয়াল, দেখি মনের কষ্টে ঘুরে বেড়াচ্ছে, গাদা ব্যাক পেয়ে অল্প ফুস অবস্থা, তাকে বললাম এতো শক্ত শক্ত কোর্সগুলো বেছে বেছে কেউ নেয়? সে রেগে গিয়ে বললো ,"কি করবো, যার থেকে টুকি সে ব্যাটাও ঐগুলোই নিয়েছে !"

বিদেশে এসে অবশ্য আর টোকাটুকি খুব দেখি না, হয় লোকে টোকে না, বা এত বুদ্ধি করে ম্যানেজ করে যে চট করে দেখা মেলে না … এখানে টুকলি-কে আর লোকে হল-কালেকশন বলে গ্লোরিফাই-ও করে না, সোজা বলে চিটিং … আর ধরা পড়লে ওইখানেই গর্ত খুঁড়ে ঢুকে পড়াই বোধহয় সবথেকে ভালো, বেরিয়ে বাকী জীবনে আর কিছু করার চান্স প্রায় নেই বললেই চলে …

তবে টুকলি তো সারাদিন-ই চোখে পড়ে, ফেসবুকে-হোয়াটস-অ্যাপে … কপি-পেস্ট করে পানু জোকস থেকে শুরু করে বিবেকানন্দ-র বাণী, সিনেমার খিল্লি, দেশাত্মবোধক টোটকা সব-ই ভেসে বেড়াচ্ছে নিরন্তর … সেই শিকলি-গাঁথার মতোন, কোনো এক খচড়া লোক কোনো এক স্টেপ লেখকের নামটা টুক করে মুছে লিখে দ্যান, #copied অথবা আরো এক কাঠি সরেস, ভুল বানানে লেখা থাকে #সংগ্রহীত !!

'গঙ্গা তুমি-কোথা হইতে আসিতেছো?'
Ctrl-C র জটা হইতে
'গঙ্গা, তুমি কোথায় যাও?'
Ctrl-V -র পদতলে

যে বয়সে করলেও করা যেতো, পারিনি … মিথ্যে বলবো না, সেই যৌবনের উপবনে বার দুয়েক চোতাও বানিয়েছিলাম … বানাতে বানাতে দেখলাম দিব্যি পড়া হয়ে গেলো, আর নিয়ে যাওয়ার দরকার পড়লো না … এখন এই বার্ধক্যের বারাণসীতে অনেক প্রশ্ন আসে সামনে, জীবনের পরীক্ষার হলের এপাশে বসে বসে ঘেমে যাই কলারের তলায়, এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখি গার্ডও নেই, বন্ধুরাও পাশ-টাশ দিয়ে অফিসের বড়োবাবু হয়ে বসে আছে … এদিকে দশ নম্বরের প্রশ্ন, না পারলেই লেটার মিস …

সেই ভয়েই গ্যাঁজাখুড়ি দিয়ে দিয়ে পাতা ভর্তি গল্প লিখে যাই আজকাল, সময় ফুরিয়ে গেলে খাতা জমা দিয়ে যেতে যেতে বলে দেবো, "যা পেরেছি লিখে দিয়েছি, এর বেশী আর কিছু জানিনা স্যার" !!

 

টুকি !
  • 4.00 / 5 5
1 vote, 4.00 avg. rating (81% score)

Comments

comments