(১)

গত তিনদিন হয়েছে। আজ চতুর্থ দিন। বাড়িতে ঢুকতে গিয়েই মনে পড়ল আজও ফোন করা হয়ে ওঠেনি। ঘড়িতে রাত ন’টা। এখন আর ফোন করতে ইচ্ছে করছে না। গত দু’দিন যা উত্তর দিয়েছে আজও সেটাই দিল। “নাহ, আজ হয়ে ওঠেনি, কাল করব আসলে নানা ঝামেলায় মনেই থাকছে না।’ এর জবাবটাও গতকালের মতই হল। ‘কি করে তোদের মনে থাকে না বুঝি না। একটা মানুষ একা থাকে, হসপিটালে ভর্তি, একবার ফোন করে জানবি ছেড়েছে কিনা, সেটাও মনে থাকে না’। এর উত্তরও প্রান্তিকের কাছে মজুত ছিল ‘তুমিও তো করতে পার’। প্রান্তিক কোনও জবাব না দিয়েই নিজের ঘরে চলে গেল।

প্রান্তিক যে নিজেকে যে খুব নির্দোষ মনে করে এমনটা নয়। বরং খবরটা না নিয়ে ওঠার জন্যে একটা অপরাধবোধ তাঁর মধ্যেও কাজ করে। অন্য কেউ হলে কি হত বলা মুশকিল, কিন্তু পরিজ্যেঠুর সাথে সে কি একটু বেশি নিষ্ঠুর ব্যবহার করে ফেলছে। আসলে পরিতোষ গাঙ্গুলি যে তাদের পরিবারের কেউ নন সেটা শুধু সে-ই নয়, তাদের প্রজন্মের প্রায় সবাই জেনেছে অনেক দেরিতে। জানবার সুযোগও তো কোনওদিন দেননি এই ভদ্রলোক। ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রদ্যোত ঘোষের পরিবার একরকম তাঁর নিজের পরিবারের মতই ছিল। সেই বন্ধুর কনিষ্ঠ ভাইয়ের একমাত্র সন্তান প্রান্তিকও পেয়েছিল তাঁর সেই অকৃত্রিম স্নেহচ্ছায়া। আজও তার বইয়ের র‍্যাকে সাজানো অজস্র বইয়ের প্রথম পাতায় লেখা ‘আদরের প্রান্তুকে – পরিজ্যেঠু’।

অকৃতদার পরিতোষ গাঙ্গুলির হার্ট অ্যাটাকের খবরটা বাড়ির পরিচারক পটলদা ফোন করে দেয় প্রান্তিককে। নার্সিংহোমে গিয়েওছিল। কিন্তু অকুস্থলে পৌঁছে শুধু পটলের সাথে বিস্তারিত কথা বলে কাজের দোহাই দিয়ে যে সে তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে এসেছিল তার পেছনে ছিল পরিতোষবাবুর আত্মীয়স্বজন। একটুখানি বোঝার বয়সে পৌঁছেই প্রান্তিকের মনে হতে শুরু করেছিল তার পরিজ্যেঠু ভুল করে ওই বাড়িতে জন্মে ফেলেছেন।

(২)

আজ আর প্রান্তিক ভোলেনি। মনে ছিল। লাঞ্চ সেরে উঠেই ফোন করল। ‘পটলদা, প্রান্তু বলছি, কি খবর, বাড়ি ফিরেছে?’

এই তো সকালে ফিরলাম, আসলে ডেথ সার্টিফিকেট তো দিল সাড়ে বারোটায়, চার ঘণ্টা না হলে তো দেবে না, তারপরে কেওড়াতলায় কাল………

টেলিফোন
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments