বাংলা ব্লগ, আর তাতে একটু তেল মালিশের কথা থাকবে না, তাই কখনও হয় নাকি? “বাংলার রান্নার মূল কথা হইল, সরিষার তৈল…” তবে শিরোনাম দেখে যে যাই ভাবে না কেন, এ তেল মাখানো সে তেল মাখানো নয় মোটেও। এ হল গিয়ে খোকা-খুকুর তেল মাখার গপ্প।আসলে হঠাৎ-ই কাল চর্যাপদ-এ ঘুরে বেড়াতে এসে আবিস্কার করলাম, গত এক বছর কিছু লিখে উঠতে পারিনি। তলিয়ে ভেবে বুঝলাম, আসলে এই একটা বছর মানে গোটা ২০১৪ টা সেই অর্থে কোন গঠনমূলক কাজ করিনি, কিন্তু যা করেছি, তার থেকে বেশি গঠনমূলক কিছু ইহজীবনে করেছি বলে মনে হয় না। আর এই একটা বছর যখনি ইন্টারনেট ঘেঁটেছি, সর্বদাই একটা বিশেষ বিষয়কে কেন্দ্র করে; শিশুপালন। তাই মনে হল, লিখতেই যদি হয়, আমার সেই নবলব্ধ জ্ঞান কেন উপুড় করে দি না, সেই সব সদা চিন্তিত, উৎকণ্ঠিত মায়েদের জন্যে যাদের হাতের কাছে মা নেই, কিন্তু একখান কচি খোকা বা খুকি আছে, আন্তঃরজাল আছে।
কখন তেল মাখানো উচিৎ?
বাঙালি মায়েদের হিসাবে স্নানের আধ ঘণ্টা আগে তেল মাখিয়ে রোদে ফেলে রাখা উচিৎ। আর অবাঙ্গালি মায়েদের হিসাবে শুধু দিনের বেলায় নয়, রাত্রেও একবার মালিশ করা উচিৎ। আমি শীতের সময় স্নানের আগে এবং রাত্রে শোবার আগে তেল মাখাতাম আর গরমের দিনে শুধু দিনের বেলা। জন্মের প্রথম এক মাস তেল না মাখানই ভালো কারণ অনেক সময় শিশুর অ্যালারজি হতে পারে।
তেল মাখানোর উপকারিতাঃ
সাধারনত নির্দিষ্ট সময়ের বেশ কিছু আগে জন্মানো মানে প্রি-টার্ম শিশুদের জন্যে তেল মাখানো দরকার কারণ তারা তেল থেকে পুষ্টি শোষণ করতে পারে। অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে পুষ্টির ব্যপার সেরকম থাকে না,তবে মালিশের সময় আদরটা তারা বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে। বিশেষত মায়েদের স্পর্শ শিশুদের বেশ আনন্দ দেয় এবং মা-শিশুর বন্ধন তৈরি করতে সাহায্য করে।
কি তেল মাখাব ঃ
নারকেল তেল- সাধারনতঃ নারকেল তেল-এ কোন রকম র্যা্শ বা চুলকানি হয় না, ত্বকের জন্যে নিরাপদ। একটু বড়দের জন্যে নারকেল তেলের সাথে হলুদ আর নিমপাতা মিশিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে এটি ঠাণ্ডা, তাই রাত্রে এবং শীতের সময় ব্যবহার না করাই ভালো।
সরিষার তেল- বাংলার ঘরে ঘরে এই তেলের জয়জয়াকার। ১০০ মিলি. তেলে ৮/৯ কোয়া রসুন, ১ চামচ কালোজিরে, ১ চামচ যোয়ান, অল্প কয়েকটি লবঙ্গ মিশিয়ে ঢিমে আঁচে ৫/৬ মিনিট ফুটিয়ে ছেঁকে মালিশের তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কালোজিরে এবং যোয়ান ঠাণ্ডা-লাগার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে এই তেল মেখে রোদ্দুরে বেরোলে ট্যান পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আর গরম কালে এটি শরীর গরম করে দেয়।
জনসন ও জনসন তেল- ভিটামিন ই যুক্ত, মিনারেল তেল। খুব তাড়াতাড়ি ত্বকে প্রবেশ করে। ট্যানিং-এর সমস্যা হয়; আর খুব শুকনো ত্বকের জন্যে খুব ভালো কাজ করে না।
ডাবর লাল তেল – এটিও বেশ গরম, গ্রীষ্মের দিনে ব্যবহার করা অসুবিধের। প্রাকৃতিক জড়িবুটি দ্বারা তৈরি, সুন্দর গন্ধ যুক্ত। ঘুমনোর আগে মাখালে ভাল ঘুম আনে। কম্পানি দাবি করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এই তেলের নিয়মিত ব্যবহারে শিশু বেড়ে ওঠে তাড়াতাড়ি এবং শক্তিশালী হয়। আমি বর্ষা থেকে শীত-এ রাত্রে এটি ব্যবহার করেছি।
জলপাই তেল – এটি না বেশি ঠাণ্ডা, না বেশি গরম। সমস্ত ঋতুতে উপযুক্ত। ত্বকে দাগ, ট্যানিং হয়ে গেলে বিশেষ উপকারি দাগ তোলার জন্যে। তবে এটি একটু বেশি ঘন, তাই গ্রীষ্মের দিনে রোমকূপের মুখ বন্ধ করে দিতে পারে। আর আসল জলপাই তেল অনেক সময় একটু দামি হয়ে যায়। এই তেলটিতেও কোন রকম র্যামশ বা চুলকানি হয় না।
আমন্ড তেল – এটিও একটু বেশি ঘন। মালিশের তেল হিসেবে বিশেষ প্রচলিত নয়। তবে দ্রুত ত্বকের ভিতর শোষিত হতে পারে। রোদে বের হলে ট্যানিং-ের সমস্যা হয়ে থাকে।
কিভাবে মালিশ করা উচিৎঃ
যদিও লেখা পড়ে শেখার থেকে ইউটিউব দেখে নেওয়া সুবিধা, তাও একটু বলে দি *২০-৩০ মিনিট মালিশ করা উচিৎ *প্রথমে তেল হাতে নিয়ে ঘষে ঘষে একটু গরম করে নিয়ে হাত বা পা থেকে শুরু করা উচিৎ *ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং তারপর ধীরে ধীরে শেষ করা উচিৎ; কখনই হঠাৎ করে শেষ করা উচিৎ নয় *হাত – কনুই-এর উপরের অংশ গোল করে ঘুরিয়ে, কনুই থেকে কবজি অবধি একবার গোল করে ঘুরিয়ে ও একবার লম্বা বরাবর, প্রতিটা আঙ্গুল কে টেনে টেনে মালিশ করা উচিৎ। পা – হাঁটুর নীচের অংশ গোল করে ভিতর দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে; উপরের অংশ গোল করে বাইরের দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এবং পায়ের চেটো সমান করে এবং আঙ্গুল গুলি টেনে টেনে করতে হবে। পেট- নাভির দুপাশে লম্বাভাবে দুটি হাতের তালূ রেখে অর্ধবৃত্তাকারে একবার ঘড়ির কাঁটার দিকে ও বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে করা উচিৎ। বুক –দেহের সমান্তরালে দুটি তালু রেখে বইএর পাতা সজা করার মত বাইরের দিকে ছড়িয়ে দিয়ে করা উচিৎ। পিঠ – শিরদাঁড়ার দুপাশে হাতের তালু রেখে বাইরের দিকে টেনে টেনে মালিশ করা উচিৎ।* কখনই খুব জোরে বা খুব আস্তে চাপ দেওয়া উচিৎ নয়। প্রতিটা স্ট্রোক হওয়া উচিৎ চাপমুক্ত কিন্তু দৃঢ়।
নটেগাছটি মুড়োলঃ
আমার কথাটি ফুরালো। তেল যে পাত্রে রাখবে, সেটি যেন কাঁচের না হয়, কারণ ‘তেলের শিশি ভাঙ্গলেও খোকা বা খুকুর প্রতি রাগ করা কিন্তু বারণ’ ।। শান্তি মনে তৈল মর্দন চালিয়ে যান।

তৈল মর্দন
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments