রোজই খবরের কাগজের ফাঁকে নানা রকম রঙচঙে বা সাদাকালো বিজ্ঞাপন গোঁজা থাকে। আজকে একটা নতুন খোলা রেস্তোঁরা আর দাদ চুলকানি যৌনরোগের ডাক্তারের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে একটা হলুদ রঙের কাগজ বেরিয়ে এল। কাগজটার ওপরে লেখা, "হিন্দু সংহতির আহ্বানঃ বাংলার মানুষ সাবধান / এদেরকে কি বাংলার মানুষ চেনে না?" দুই পাতা জুড়ে শুধুই কমিউনিস্টদের গালাগাল। কমিউনিস্টরা যে কত দেশদ্রোহী তা বোঝাতে অকাট্য সব প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। যেমন ওরা ভারতমাতা কি জয় বলে না, জেএনইউ তে মহিষাসুরের পুজো করে, মুসলমানদের এমপি করে ইত্যাদি। হিন্দু সংহতির পর্যবেক্ষণ, "আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই বাম ও কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য মরীয়া। ভোটের জন্য মুসলিম তোষণের সব সীমাই এরা পার করে দেবে। কিন্তু মার্কসবাদী কালচারের শ্বাসরোধকারী রেজিমেন্টেড শাসনের ফলে মানুষ মুখ খুলতে পারবে না" খুব স্পষ্টভাবে বামপন্থীদের হারাতে বলা হয়েছে। সেটাই স্বাভাবিক। আশ্চর্য্য় হলাম অন্য জায়গায়। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভুল করেও বলছেনা হিন্দু সংহতি। মোদির কথা মাত্র একবার বলা হয়েছে: "বামপন্থীদের ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতির কল্যানে আজ বাংলা থেকে শ্রমিকরা চাকরি করতে যায় নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে।" (ওনারা ঘুরিয়ে মেনেই নিলেন গুজরাটটাই মোদির, গোটা দেশটা নয়!) তাহলে বামপন্থীদের হারাতে কাদের ভোট দিতে হবে? উত্তরটা জানা। মহম্মদ সেলিম, মজিদ মাস্টারকে বলা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী, অথচ সিদ্দিকুল্লা বা হাসান ইমরানের নাম নেওয়া হয়নি। ইমামভাতা, খাগড়াগড় নিয়ে টুঁ শব্দ নেই। ওদের দোষ দেওয়া যায়না। ৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকার একদিকে জামাত, সিমি অন্যদিকে আরেসেস, হিন্দু সংহতির মত ধর্মান্ধ উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দুধকলা দিয়ে পুষেছে। এখন বাম-কংগ্রেস জোটের জয়লাভের সম্ভাবনা তৈরী হতেই ওরা প্রমাদ গুণছে। দিদিভাই-মোদিভাইয়ের সেটিং আর কোন গোপন বিষয় নয়। তাই বিজেপিকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করার চাইতে সব বামবিরোধী ভোট যেন তৃণমূলের বাক্সে জমা পড়ে সেটাই আপাতত এরাজ্যের হিন্দুত্ববাদীদের লক্ষ্য।

দাদ, চুলকুনি, হিন্দু সংহতি
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments