আমরা এখন রওনা দিয়েছি দার্জিলিং-এর উদ্দেশ্যে। এই গরমে কলকাতায় থেকে পচার কোনো মানে হয়না। তাই আমাদের দুজনের এই দার্জিলিং সফর। এখানে এই ‘আমরা’র পরিচয় দিয়ে রাখি। আমি অর্পন ব্যানার্জি, আর সাথে আমার সবথেকে কাছের বন্ধু শুভময় চক্রবর্তী। আমি শুভ বলেই ডাকি। শুভ আমাকে অপু বলে। শুভ বেশ লম্বা চওড়া মানুষ, উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট, বয়স ৩০ বছর। আমারও ওই একই বয়স, তবে উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। তবে অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে আমি ওর থেকে আলোকবর্ষ পিছিয়ে। কিসের অভিজ্ঞতা? হ্যাঁ মনে এই প্রশ্নটাই স্বাভাবিক। শুভ আসলে একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। আর আমার ওসব দিকে বেশ আগ্রহ আছে বলে আমিও ওর সাথ নেওয়ার সুযোগটা মোটেই হাতছাড়া করিনা। আমারও তাই শক হয় গোয়েন্দাগিরি করার। তবে নিছক শক মেটানো বললে ভুল হবে, প্রচণ্ড ইচ্ছার দৌলতেই শুভ’র আজ সাথ দেওয়া। আপাতত শুধু ছুটি কাটাতেই দার্জিলিং সফর।
এদিকে দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। বিকেল ২টো ১৫ হবে যখন ট্রেন থেকে আমরা নামলাম। এখান থেকে জিপ বা ট্যাক্সি করে যেতে হয় দার্জিলিং, মোটামুটি ৮০ কিলোমিটারের পথ। আমরা একটা ট্যাক্সি নিলাম, অবশ্য আরো এক ব্যাক্তির সাথে শেয়ার করে। এখানে এই শেয়ারের ব্যাপারটা বেশ ভালোই চলে। গাড়ি চলতে শুরু করলে শুভ হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞাসা করল,”আচ্ছা অপু বলোতো সামনের এই ভদ্রলোক জাতিতে কি?”
আমাদের সাথে যে ভদ্রলোক উঠেছেন তিনি সামনের সিটে বসেছেন। উনার বয়স মোটামুটি ৫০ হবে। চুলে হালকা পাক ধরেছে। চোখে গোল ফ্রেমের চশমা। উনি একটু বেঁটে গোছের। আমি ভদ্রলোককে দেখে একটু বোঝার চেষ্টা করলাম। কিন্তু পারলাম না। শুভ’র ডিটেকটিভ চোখ আমার হয়নি এখনো, তাই ইতস্ততভাবে বললাম-
-জানিনা, বলতে পারছিনা ঠিক।
-কবে মানুষ হবে! ওই দেখো উনার হাতের আংটিটা, ওতে স্পস্ট করে ত্রিশুল অংকিত রয়েছে। উনি বাঙালি। (শুভ ধীরস্বরে বলল)
সত্যি…শুভ’র অবজারভেশনের জবাব নেই। ভদ্রলোক উনার হাতদুটো মুড়ে মাথার পিছনে কিছুক্ষণ রেখেছিলেন, আর তখনই উনার আংটিটা শুভ লক্ষ্য করেছে নিশ্চয়। যাইহোক ভদ্রলোককে দেখে স্বল্পভাষী বলেই মনে হলো কারণ এখনো অবধি আমাদের প্রতি একটা কথাও উনার ঠোঁঠ দিয়ে গলতে দেখলাম না। তবে শুভ বেশ মিশুকে। তাই ও যেচেই জিজ্ঞেস করল-
– গুড আফটারনুন মিস্টার….
– আজ্ঞে অনুপ মিত্র। থাকি দক্ষিণেশ্বর, কলকাতায় আমার সোনার দোকান।
হাসিহাসি মুখ করে উনি উত্তর দিলেন।শুভ আবার জিজ্ঞেস করল
– ও, তা আপনি উঠছেন কোথায়?
– আজ্ঞে হোটেল ভিলা এভারেস্ট, ওই চৌরাস্তার কাছে। আপনারা? আপনাদের পরিচয়?
– আরে কি আশ্চর্য আমরাও তো ওই হোটেলেই উঠবো। কি দারুন ব্যাপার বলুনতো মশাই। যাকগে এই অচেনা জায়গায় এসে একটা সঙ্গী তো পাওয়া গেল। আগে আমাদের পরিচয় টা দিই, আমি শুভময় চক্রবর্তী, থাকি সল্টলেকে, আর এ আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু অর্পন ব্যানার্জি ধনিয়াখালীর বাসিন্দা। আপাতত ছুটি কাটাতেই এখানে আসা।

দার্জিলিং-এর আংটি রহস্য (প্রথম পর্ব)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments