আগের পর্বঃ পঞ্চম পর্ব

 

সকাল সকাল মেজাজটা তেতো হয়ে গেল। এসি মেকআপ ভ্যানে বসে একটা কোক খেতে খেতে এটাই ভাবছিলেন অনিকেত। তিনি এসেছেন টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়াতে শাক্যর সাথে দেখা করতে। শাক্য ছেলেটাকে আগে থেকে বলাই ছিল। তার এখন শুটিং চলছে বলে সে তাঁকে একটু অপেক্ষা করতে বলেছে। হঠাৎ অনিকেতের মনে হল গৌতমকে একবার সকালে নন্দিতার সাথে যে কথাবার্তা হল সেই সম্বন্ধে একটু আপডেট করা দরকার। তাই মোবাইলটা বের করে একটা টেক্সট করলেন গৌতমকে। – নন্দিতা টার্নড আপ হসটাইল! ওয়েটিং টু মিট শাক্য।

অথচ এরকমটা হবে আশা করেননি অনিকেত। নন্দিতার সাথে কথা বলার জন্যে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী পৌঁছে গিয়েছিলেন অচিন্ত্যের বাড়িতে। নন্দিতাও শুটিং পিছিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্যে। কফি, চানাচুর দিয়ে আপ্যায়নও করেছিল। কথাবার্তা শুরু হয়েছিল স্বাভাবিক সুরেই। নন্দিতাকে দেখে বেশ শোকসন্তপ্ত লাগলেও এর অনেকটাই যে অভিনয় সেটা ধরে ফেলতে অভিজ্ঞ অনিকেতের খুব বেশী সময় লাগেনি।

প্রাথমিক কিছু কথাবার্তার পরে অনিকেত প্রশ্ন করেছিলেন, – আচ্ছা মিসেস সরকার, মূলত যে কারণে আপনার সাথে দেখা করতে আসা, আপনি আপনার জবানবন্দীতে পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে বৃহস্পতিবার রাত্রে আপনি সাতটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত তাজ বেঙ্গলে একটা পার্টিতে ছিলেন। কিন্তু আমরা খবর পেয়েছি যে সেদিন আপনি কিন্তু সারাক্ষণ সেই পার্টিতে ছিলেন না। মাঝে প্রায় এক দেড় ঘণ্টার জন্যে আপনি পার্টি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। আমি জানতে চাই ওই সময়টা আপনি কোথায় ছিলেন?

শোনামাত্র একটু চমকে উঠেছিল নন্দিতা। এতক্ষণ মুখে একটা করুণ হাসি ফুটিয়ে রেখেছিল। নিমেষে সেটা মিলিয়ে গেল। একটু সময় নিয়ে বলল, – আমি জানি না কি করে আপনারা এই খবরটা পেলেন। কিন্তু পেয়েই যখন গেছেন, তখন আমি অস্বীকার করব না। সত্যিই আমি সেদিন পুরোটা সময় ওই পার্টিতে ছিলাম না। কিন্তু আমি বলতে বাধ্য নই সেদিন আমি কোথায় গেছিলাম। আয়্যাম সরি, মিঃ স্যান্যাল।

গম্ভীর গলায় বলেছিলেন অনিকেত, – কিন্তু মিসেস সরকার। আপনি বুঝতে পারছেন না, দিস ইজ আ মার্ডার ইনভেস্টিগেশন। এই ব্যাপারে পুলিশকে সাহায্য করাটা আপনার কর্তব্য। অ্যাট লীস্ট আপনার নিজের স্বার্থে।

কোমল মুখটা পাথরের মত হয়ে গেছিল নন্দিতার। – আমার পার্সোনাল ব্যাপারে কেউ ইন্টারফেয়ার করুক এটা আমি পছন্দ করি না।

– অ্যাজ অ্যা ওয়েল উইশার আপনাকে বলছি, পুলিশের কাছে কিন্তু কিছুই গোপন থাকে না, মিসেস সরকার। আজ না হোক কাল পুলিশ ঠিক খুঁজে বের করবেই সেই সময়টুকু আপনি কোথায় ছিলেন বা কি করছিলেন? ফর ইয়োর ইনফো তাজ বেঙ্গল থেকে আপনার বাড়িতে আসতে কিন্তু দশ মিনিটও সময় লাগে না। আপনি যতটা সময় অনুপস্থিত ছিলেন সেটুকু সময়ের মধ্যে খুব সহজেই পার্টি থেকে বেরিয়ে বাড়িতে এসে একটা মার্ডার করে আবার পার্টিতে ফিরে যাওয়া যায়। কঠিন স্বরে বলেছিলেন অনিকেত।

– আপনি এবার আসতে পারেন, মিঃ স্যান্যাল। কেটে কেটে উচ্চারন করেছিল নন্দিতা।

– কাজটা আপনি ঠিক করলেন না, মিসেস সরকার। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় কিন্তু আপনিও আছেন। শাক্যর সাথে আপনার মেলামেশার কথাটা পুলিশ জানে। তাছাড়া পুলিশ এটাও জানে যে আপনি প্রেগন্যান্ট। এবং সেটা এমন এক সময় যখন আপনার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে ছিলেন। দিস ক্যান বি অ্যা পোটেনশিয়াল মোটিভ ফর দিস মার্ডার। গলাটা যথাসম্ভব নরম করে বলেছিলেন অনিকেত, – আমি আপনাকে সাহায্য করতেই এসেছিলাম। আমাকে সব কথা খুলে বললেই ভাল করতেন।

বলে গট গট করে অনিকেত বেরিয়ে এসেছিলেন। পিছনের দিকে আর ফিরেও তাকাননি। তাকালে দেখতে পেতেন দুহাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল নন্দিতা। সেটা ছিল সত্যিকারের কান্না। কোনও অভিনয় ছিল না তাতে। 

অনিকেতের চিন্তাস্রোতে বাধা পড়ল। দরজা ঠেলে ভ্যানে ঢুকল একটি বছর সাতাশ আঠাশের ছেলে। ছ ফিটের কাছাকাছি হাইট। পেশীবহুল সুঠাম শরীরে একফোঁটা অতিরিক্ত মেদ নেই। দেখলেই বোঝা যায় নিয়মিত জিম করে। কালো রঙের একটা স্কিন টাইট টি-শার্ট আর ফেডেড জিনস পড়া। পায়ে সাদা স্নিকার্স। ঘাড় অব্দি লম্বা চুলে ভরা মাথায় একটা ব্যান্ডানা। গ্রীক দেবতাদের মত ফর্সা সুন্দর মুখে মিষ্টি একটা হাসি। হাত বাড়িয়ে দিয়ে করমর্দন করে বলল, – হাই মিঃ স্যান্যাল। দিস ইজ শাক্য হিয়ার। সরি আপনাকে একটু অপেক্ষা করতে হল।

বেশী কথা বলার মুডে ছিলেন না অনিকেত। হ্যান্ডশেক করে ভণিতা ছেড়ে সরাসরি তাকে প্রশ্ন করলেন নন্দিতার সাথে তার সম্পর্কের ব্যাপারে। কিন্তু তাঁকে অবাক করে কোনও রকম লুকোছাপার মধ্যে দিয়ে গেল না শাক্য। গাঢ় স্বরে বলল, – ওহ ইয়েস! আপনি ঠিকই শুনেছেন। উই লাভ ইচ আদার! নন্দিতা আর আমি একে অপরকে ভালোবাসি। উই আর গোইং টু গেট ম্যারেড সুন।

আশ্চর্য হয়ে গেলেন অনিকেত ছেলেটার আত্মবিশ্বাস দেখে। বয়সে নন্দিতার থেকে ছোটই হবে, তার ওপরে নন্দিতা কয়েকদিন আগেও বিবাহিত ছিল। তাও কেমন অবলীলায় স্বীকার করে নিল সম্পর্কের কথাটা। অচিন্ত্য মারা গেছে বলেই কি সে এই সাহসটা দেখাতে পারছে? বাঁকা সুরে বললেন, – তাহলে তো অচিন্ত্যবাবু মারা যাওয়ায় আপনাদের বেশ সুবিধেই হল। তাই না? তিনি বেঁচে থাকলে তো এই সম্পর্কটা মেনে নিতেন না।

– আই অ্যাম সরি স্যার! ইউ আর রং হিয়ার। মৃদু হেসে জবাব দিল শাক্য, – উনি বেঁচে থাকলেও আমাদের কিছু এসে যেত না।

– ওহ রিয়্যালি? আপনি কি বলতে চাইছেন অচিন্ত্যবাবু তাঁর স্ত্রীর এই অবৈধ সম্পর্কটা এক কথায় মেনে নিয়ে তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে দিতেন যাতে আপনারা বিয়ে করে বাকী জীবনটা সুখে শান্তিতে কাটাতে পারেন। অনিকেতের গলায় ব্যাঙ্গ ঝরে পড়ল।

– ডিভোর্স! বাট হোয়াই? শাক্যও কিছু কম যায় না। – ডিভোর্সের প্রশ্ন আসছে কোত্থেকে? কোন অধিকারে অচিন্ত্য নন্দিতাকে ডিভোর্স দেবে?

ছেলেটার স্পর্ধা দেখে রাগে গা জ্বলে যাচ্ছিল অনিকেতের। গলাটা সামান্য চড়ালেন তিনি – তার মানে?

– গেট ইয়োর ফ্যাক্টস স্ট্রেট, স্যার। অচিন্ত্য আর নন্দিতা কোনদিনই স্বামী স্ত্রী ছিল না। দে ওয়্যার জাস্ট লিভিং টুগেদার। শাক্য প্রাঞ্জল করল। – স্কাউন্ড্রেলটা নন্দিতাকে খালি ইউজ করত। আর কিছুই নয়।      

প্রচণ্ড একটা ঝটকা খেলেন অনিকেত। ব্যাপারটা হজম করতে একটু সময় লাগল তাঁর। বললেন, – কি বলছেন কি আপনি? আর ইউ শিয়োর?

– ইয়েস স্যার। আই অ্যাম হান্ড্রেড পারসেন্ট শিয়োর। ওদের কোনদিনই বিয়ে হয়নি। না আইনত না ধর্মীয়। এতক্ষণে খুলে বলল শাক্য। – স্রেফ মিডিয়া যাতে নতুন করে স্ক্যান্ডাল না করে তাই চোখে ধুলো দেবার জন্যে ওরা এই নাটকটা চালাত।  অবশ্য নন্দিতা বার বার রিকোয়েস্ট করত বিয়ে করে নেবার জন্যে। কিন্তু বুড়োটা কিছুতেই শুনত না। এই নিয়েই তো ওদের মধ্যে যত ঝামেলা।

– এই ব্যাপারটা আর কে কে জানে? গলার স্বরটা নরম হল অনিকেতের।

– আমি যদ্দুর জানি দিস ওয়াজ অ্যা ওয়েল কেপ্ট সিক্রেট। এমনকি ওদের বাড়ির লোকেরাও জানে না। নন্দিতা খালি আমাকেই জানিয়েছে। বুঝতেই পারছেন…। কথাটা শেষ করল না শাক্য।

– কিছু মনে না করলে একবার বলবেন কি আপনার সাথে নন্দিতার সম্পর্কটা ঠিক কতদিন হল শুরু হয়েছে?

একটু ভেবে উত্তর করল শাক্য, – হুমম তিন মাস… না না চার মাস হবে। এই তো এই ছবিটার কন্ট্রাক্টে সাইন করার জাস্ট আগে।   

তড়াক করে উঠে দাঁড়ালেন অনিকেত। তাঁর চোখদুটো উত্তেজনায় জ্বলজ্বল করছে। বললেন, – থ্যাঙ্কস অ্যা লট, শাক্য। আপনার সাথে আরও কিছু কথা ছিল। কিন্তু আমাকে একটা খুব জরুরী কাজে এক্ষুনি বেরতে হবে। আমি আপনাকে পরে কল করে নেব। বলে হতভম্ব শাক্যকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সটান দরজা খুলে বেরিয়ে গেলেন ভ্যান থেকে।

***

পয়লা মে তে সব অফিস কাছারি বন্ধ থাকলেও পুলিশের কোনও ছুটি নেই। তার ওপর যাচ্ছেতাই গরমও পড়ে গেছে। এসিটা চলা সত্ত্বেও ঘাম হচ্ছিল গৌতমের। অচিন্ত্যের কেসটা যে কোন দিকে গড়াচ্ছে ভেবে পাচ্ছিল না সে। ওপরমহল থেকে ক্রমাগত চাপ এসে যাচ্ছে। কাল অনিকেত এসেছিলেন সৈকতের সাথে দেখা করতে। সে চায় না অনিকেতের কাছে তার আর সৈকতের আত্মীয়তার সম্পর্কটা প্রকাশ হয়ে যাক। অনিকেত তাকে একজন বায়াস্ড পুলিশ অফিসার মনে করুক, এটা সে মেনে নিতে পারবে না। যদি মুখ ফস্কে সৈকত তার ব্যাপারে কিছু বলে দেয় এই ভয়ে সে অনিকেতের সাথে সৈকতের সামনে যায়নি। একই কারণে কাল অনিকেত সুরমার সাথে দেখা করতে যাবার আগে সে তার মাসী শ্বাশুড়ীকে ফোন করে তার সম্বন্ধে কিছু বলতে বারণ করে দিয়েছিল। রাতে আবার ফোন করে নিঃসন্দেহ হয়েছে যে সুরমা অনিকেতের কাছে গৌতমের কথা চেপে গেছেন। কিন্তু সৈকতের সাথে কাল বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেছেন অনিকেত। বেরনোর পর সে অনিকেতকে জিজ্ঞেস করেছিল, কিন্তু অনিকেত এড়িয়ে গেছেন। কি কথাবার্তা হল কিছুই জানাননি। কি যে ওঁর মাথায় ঘুরছে খোলসা করে কিছুই বলছেন না। ফলে গৌতমের টেনশন আরও বাড়ছে। তার ওপর একটু আগে মেসেজ করলেন যে নন্দিতা নাকি তাঁর সাথে সহযোগিতা করেনি। তাহলে কি নন্দিতাকে একবার থানায় ডেকে পাঠাবে? থানায় এলে আর কোনও জারিজুরি খাটবে না ম্যাডামের। কথায় বলে না বাঘে ছুঁলে আঠার ঘা, কিন্তু পুলিশে ছুঁলে…

হঠাৎ বুকপকেটে রাখা মোবাইলটা বেজে উঠল। কে করছে একবার দেখে নিয়ে ফোনটা ধরে বলল, – হ্যাঁ জ্যেঠু! বলুন। কথা হল শাক্যর সাথে।

উল্টো দিকে অনিকেত এক নিঃশ্বাসে যা যা বলে গেলেন মন দিয়ে শুনল সে। কিন্তু কিছুই বুঝল না হঠাৎ করে এরকম নির্দেশ কেন দিলেন অনিকেত। কখন যে কি ওঁর মাথায় চাপে ভগবানই বোধ হয় ভাল বলতে পারবেন। ফোনটা রেখে দিয়ে সাবঅর্ডিনেট প্রকাশকে ডেকে বলল, – প্রকাশ, তাড়াতাড়ি অচিন্ত্য সরকারের ফাইলটা নিয়ে এস। একটা ঠিকানা খুঁজে বের করতে হবে। আর হ্যাঁ, ইমরানকে বল গাড়ীটা বের করতে। এক্ষুনি বেরতে হবে। কুইক!

***

গৌতমের সাথে কথা শেষ করে পার্কিং লটে নিজের গাড়ীতে বসেই অনিকেত আরেকটা ফোন করলেন দিল্লীতে তাঁরই এক পুরনো সহকর্মীকে। খুব তাড়াতাড়ি একটা ইনফর্মেশন চাই তাঁর। আর তাড়াতাড়ি ইনফর্মেশন বের করতে ভারতবর্ষের যে কোনও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের থেকে সিবিআই অনেক বেশী দক্ষ। খুব সংক্ষেপে দরকারি নির্দেশগুলো দিয়ে তিনি তাড়াতাড়ি গাড়ীটা বের করলেন। সময় একেবারেই বেশী নেই তাঁর হাতে। মোবাইলটায় একটা শব্দ হতে পকেট থেকে বের করে দেখলেন গৌতম নির্দেশমত টেক্সট করে পাঠিয়ে দিয়েছে ঠিকানাটা। ঠিকানার দিকে গাড়ী চালাতে চালাতে মনে মনে একবার ভেবে নিলেন সবটা। হ্যাঁ, সবই খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে। শুধু বাকী রয়েছে একটাই তথ্য। যেটা জানার জন্যে তাঁর প্রাক্তন দপ্তরের সাহায্য নিতে হল। এই খবরটা পেয়ে গেলেই জিগ্ স পাজলের শেষ টুকরোটা তাঁর হাতে এসে যাবে এবং যবনিকা পড়বে অচিন্ত্য সরকারের মৃত্যুরহস্যে।

তাঁর মনে এতদিন ধরে যে খটকাটা ছিল সেটা দূর হয়েছে। খটকা না বলে সম্ভাবনা বলাটাই বেশী ভাল। কিন্তু এই সম্ভাবনাটা আগেই তাঁর মাথায় আসা উচিত ছিল। তাঁর অবচেতন মন তাঁকে একটা হিন্টও দিয়েছিল স্বপ্নে। কিন্তু তখন তিনি সেটা ধরতে পারেননি। সত্যি ব্রেনে মরচে পড়ে যাচ্ছে। ব্রাহ্মীশাক খেতে হবে তাঁকে। কোথাও একটা পড়েছিলেন যে ব্রাহ্মীশাক খেলে নাকি মাথা পরিষ্কার হয়।

সপ্তাহের মাঝে ছুটির দিন। রাস্তাঘাট তাই ফাঁকা। বেশীক্ষণ লাগার কথা নয় গন্তব্যে পৌঁছতে। ফাঁকা রাস্তায় আধঘণ্টাতেই পৌঁছে যাওয়া উচিত। বড়জোর পঁয়তাল্লিশ মিনিট লাগবে। কিন্তু রবীন্দ্র সদনের কাছে এসে দেখলেন কোনও একটা রাজনৈতিক দলের সভা ও মিছিলের জন্যে রাস্তা বন্ধ। মনে মনে বিরক্ত হলেন তিনি। এখন গাড়ী ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা ধরে যেতে হবে। আরও মিনিট পনের সময় বেশী লাগবে পোঁছতে। তবে লালবাতি লাগানো গাড়ীতে করে গৌতম নিশ্চয়ই আগে পৌঁছে যাবে। এই ভেবে নিশ্চিন্ত হলেন তিনি।

আরও কিছুদূর এগোনোর পরে যে ফোনটার জন্যে অপেক্ষা করছিলেন সেটা এসে গেল। গাড়ীটা একটু সাইড করে রেখে রিসিভ করলেন কলটা। হ্যাঁ! তিনি যা ভেবেছিলেন তাই। নিজেরই নিজের পিঠ চাপড়াতে ইচ্ছে করল তাঁর। কিন্তু সেটা না করে চাপ বাড়ালেন অ্যাক্সিলারেটরে।

গৌতমের পাঠানো ঠিকানা অনুযায়ী একতলা বাড়িটার সামনে এসে দেখলেন প্রচুর ভিড় বাইরে। কিছু পুলিশও নজরে এল। সবার দৃষ্টি বাড়ির দিকে। গাড়ীটা রাস্তার পাশে একটু ছায়ায় পার্ক করে ঢুকতে গেলেন বাড়িতে। কিন্তু গেটে পাহারারত পুলিশটা বাধা দিল তাঁকে। কি হয়েছে আবার এখানে? একটা অজানা আশঙ্কায় মনটা দুলতে লাগল। মোবাইলটা বের করে কল করলেন গৌতমকে। রিং হচ্ছে। কিন্তু সে ধরছে না। সে কি পৌঁছয়নি এখনও?

না! ওই তো ঘরের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে গৌতম। ফোনটা তার হাতে বেজেই চলেছে। অনিকেত কেটে দিলেন ফোনটা। গৌতমের মুখটা থমথমে। কাছে আসতেই তিনি উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, – কি হয়েছে গৌতম? এনিথিং রং?

হতাশ ভাবে উত্তর দিল গৌতম, – আই অ্যাম সরি জ্যেঠু! আমাদের দেরী হয়ে গেছে।

– তার মানে? অনিকেতের গলাটা প্রায় চিৎকারের মত শোনাল।

– তন্ময় ঘোষ কাল রাতে মারা গেছে। যতটা সম্ভব শান্ত গলায় বলল গৌতম, – হি ইজ ডেড!

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

পরের পর্বঃ অন্তিম পর্ব

দায়।। (ষষ্ঠ পর্ব)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments