পুরো সতেরো দিন হয়ে গেল অনির্বাণ ইণ্ডিয়াতে আছে। সাকুল্যে বাইশ দিনের ছুটি নিয়ে এসেছে। আর মোটে পাঁচটা দিন হাতে আছে। সামনের শনিবারের রিটার্ন ফ্লাইটে টিকিটও কাটা আছে। সামনের মানডেতে জয়েন না করতে পারলে চাকরীটাই বাঁচানো দায় হবে। একেই এই রিসেশনের বাজারে রোজই অফিসে ঢুকে প্রথমেই ডেস্কে চোখ বুলিয়ে নেয় ভয়ে ভয়ে, কার কপালে যে কবে পিঙ্ক স্লিপ জুটবে কে জানে। তার ওপর আবার এই রকম দুম করে পুরো বাইশ দিনের ছুটি নিয়ে ইণ্ডিয়ায় আসতে হল। ছোট মেসোমশাই ফোনে এমন করে খবরটা দিল যে অনির্বাণ নিশ্চিত ছিল দিন পনেরোয় সব ঝামেলা সামলে নিতে পারবে। কিন্তু কোথায় কি? হসপিটালের আই.সি.ইউ-র সামনের ওয়েটিং রুমের সোফায় বসে ডাক্তারের অপেক্ষা করছে অনির্বাণ। মনে মনে ঠিক করল ডাক্তারের কাছে আজ ক্লিয়ার পিকচার চাইবে। ডাক্তার রুটিন চেক-আপ সেরে বেরতেই অনির্বাণ দ্রুত পায়ে গিয়ে ডাক্তারকে ধরল। অদ্ভুত কৌতূহলী স্বরে প্রশ্ন করলো,
- “ডক্টর, মায়ের অবস্থা এখন?”
- “একটু বেটার লাগলো আজকে, তবে বোঝেনই তো ক্যান্সারের পেশেন্ট এবং এডভান্সড স্টেজ, কালও কিছু হয়ে যেতে পারে আবার নেক্সট দশ পনেরো দিনও….”
ডাক্তারের মুখের কথা শেষ করতে না দিয়েই অসম্ভব অসহিষ্ণু গলায় অনির্বাণ বলে উঠলো,
- “ডক্টর! আপনি তো একদিন দুদিন বলে বলে পুরো সতেরোটা দিন কাটিয়ে দিলেন, সামনের শনিবারের মধ্যেও কিছু না হলে? আমায় যে ফিরতেই হবে ফিলাডেলফিয়ায়………”

দায় (অণুগল্প)
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments