সূর্যোদয় থেকেই, বহু যোজন অন্ধকার পথ পাড়ি দিয়ে;
টুকরো টুকরো আলোর কণা গুলো,
ক্লান্ত দেহে আশ্রয় নিচ্ছিলো পাতার সবুজে।

কাদা ভরা ধরাধাম, তার উপর আচ্ছন্ন ঘন বায়বীয় মেঘ;
পাখির ছানার মতো কার্বন-ডাই অক্সাইড খুঁটে খুঁটে খাচ্ছিলো ক্লোরোফিল।
তার শিকড় ভেজা জলে, শুষ্ক ফুটিফাটা ঠোঁটে কৈশোরের উদ্দাম শান্তি নেমে আসে।
প্রাণদায়ী অক্সিজেনের স্বপ্নে বিভোর উদগ্র প্রাণীকুল,
চেখে দেখে মায়ের হাতে সদ্য প্রস্তুত, মিষ্টি শর্করার স্বাদ।

এই সব রূপকথার মতো দেখতে দেখতে, ঘোর লাগা চোখে;
বিধাতা কখন হাই তুলে, বটের ছায়ায় দুপুরের এক পশলা ঘুম দিতে গেলেন।

তারপর সোনালী আলো মাখা বিকেলে
ঘুম ভাঙে অরণ্যের জয়গান শুনে।
বর্ষা প্রপাত, জলোচ্ছাস; স্বপ্নাবিষ্ট প্রাণ যৌবনের সৃষ্টি সুখে মদির।
বুক ভরা ভালো লাগায়, নিজের পিঠে হাত রেখে ঈশ্বরও হয়তো ভাবেন:
“লাগতা হ্যায় কি, আপুন হি ভগবান হ্যায়।”

অবশ্য ততদিনে, শাখা মৃগ দাঁড়িয়ে পড়েছে মেরুদণ্ডে ভর দিয়ে;
তার সুসভ্য হাতের দশ আঙুল জুড়ে শস্ত্র ও ধূসর রুদ্র বীণা।
বাইরে তখন, আকাশ জুড়ে গোধূলির মন খারাপ।
সূর্যাস্তের রক্তিম রাগে অপসৃয়মান হরিৎ আঁচল;
দিগন্ত বিভোর বেহালার করুণ রাগে।

দিন শেষের কবিতা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments