বেলা শেষের হাঁফিয়ে ওঠা সূর্যকে আলতো বাতাস করে
দূরে, আরও দূরে চলে যাচ্ছিলো কয়েকজোড়া ডানা ;
জব্বর রোম্যান্টিক দৃশ্য পাবো ভেবে জুম বাড়িয়ে
ধরে নিলাম ক্যামেরায় ।।

খুঁটিয়ে দেখব বলে যেই খানিক বড় করেছি সেই ছবি ,
অমনি বেরিয়ে পড়লো ফুটিফাটা -
পালকের ফাঁক গলে আসা বাউন্সড লাইট
মায়াবী লাগলো বটে ,
তবু হতাশ হলাম ।।
এরকমটা তো চাই নি আমি !!
এত ছিদ্র কেন সবখানে ??

এবারে চোখ পড়লো গিয়ে সিডার গাছের ন্যাওটা
লালবাড়িটার গায়ে ।
দেখলাম ম্যাচিং করে রোদ পড়েছে বেশ ;
রেট্রো ফ্রেমের আশায় তাই আরও একটা ক্লিক ।।

উঠতি পারদের মাথায় আঙ্গুল রেখে
এ ছবিটা আরও কষ্ট দিলো আমায় ।।
ঠিক যেখানে বিউটিস্পট টা পেয়ে তাক করেছিলাম ,
শ্যাডো-সুরক্ষিত কোনও এক ফাটল থেকে বেরিয়ে আসা
খোসা- ওঠা বেরসিক গিরগিটি সেখানেই এসে রাখল
শিরওয়ালা স্বার্থপর মাথা;
আর একজোড়া আধবোজা মতলবি চোখ ।।

একে তো ভুলেও নেমন্তন্ন করিনি !!
তবে এ অতিথি কেন এ সুন্দর অনুষ্ঠানে ?

মাথার ওপরে দেখলুম সন্ধের আকাশে
কিছু ছেঁড়াখোঁড়া কালো মেঘখণ্ড ।।
আজকের পূর্বাভাস আমি জানি ,
মেনে নিলাম জল আছে ওতে ।।

এ আসমানে ভাসমান অমন তো কতো থাকে -
এই ভেবে ফেরবার পথে পা রেখেই শুনলাম
বিশুদ্ধ মেঘমল্লারের মুখরা ।।
পবন দেবের জাদুছোঁয়ায় নিমেষে বুজে গেল
মেঘের ফাটল ।।
টিনের ছাত- ওয়ালা গ্যারাজে ঢুকে পড়ে
শুনলাম বাকিটুকু -
মেঘমল্লারের স্থায়ী – অন্তরা – দ্রুত ।।

ঘণ্টা আধেকেই ছিদ্রের প্রতি বিদ্বেষ উবে গেল ।।

দেরী করে বাড়ি ফেরা ব্যস্ত পাখির ঘরনীকে দেওয়া সাফাই-
টি- টু -টুই- টুই ,
আর কুটুরে পেঁচার উরররম- কুরররম মিলেমিশে
স্পষ্ট কানে এলো-
' বসুধৈব কুটুম্বকম' ;
গিরগিটির গর্তটিকেও হাত নেড়ে এলাম ,
বাড়ি ফেরার আগে ।।

দুর্বোধ্য ২

দুর্বোধ্য ৪

দুর্বোধ্য ৩
  • 4.00 / 5 5
2 votes, 4.00 avg. rating (80% score)

Comments

comments