<br />

প্রাচীন পথ শ্বেতবর্ণ মেঘমালা

দ্বিতীয় অধ্যায় – মোষ চারণা

বেশ ঠান্ডা পড়েছে। মনোময়ভাবে দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে ভিক্ষুগণ যে যার পাত্র ধুয়ে মেজে ফেলেছেন। তারপর মাটিতে আসন বিছিয়ে বুদ্ধদেবের দিকে মুখ করে বসেছেন। বাঁশবনে বহু কাঠবিড়ালি ঘুরে বেড়ায়, তারা সাধুদের মাঝখান দিয়েই খেলে বেড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাঁশ গাছ বেয়ে ওপরে উঠে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখছে। স্বস্তি দেখতে পেল রাহুল বুদ্ধদেবের একেবারে সামনে গিয়ে বসেছে, সেও পা টিপে টিপে সামনে গিয়ে রাহুলের পাশে আসন বিছিয়ে বসল। দুই বন্ধু একসঙ্গে আসন বিছিয়ে পদ্মাসনে বসে রইল। শান্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশ, কেউ কোন কথা বলছে না। স্বস্তি ততদিনে জেনেছে যে সমবেত সমস্ত ভিক্ষু বুদ্ধদেব কখন কথা বলেন তার অপেক্ষায় থেকে মনোময়তায় আপন শ্বাসের প্রতি নজর রাখছেন।

বুদ্ধদেব একটি বাঁশের পাটাতনে বসে আছেন। পাটাতনটি বেশ উঁচুতে, যাতে সকলে তাঁকে ভালভাবে দেখতে পায়। পশুরাজ সিংহের মতন বুদ্ধদেব আলগা অথচ বেশ একটা রাজসিক ভঙ্গিমায় বসে আছেন। সভাস্থ সকলের প্রতি তাঁর দু-চোখভরা প্রেমময় করুণা । তাঁর চোখ দুটি যখন স্বস্তি আর রাহুলের প্রতি নির্দিষ্ট হল, তিনি শুরু করলেন:

“আজ আমি তোমাদের কি করে মোষ চরাতে হয় সেই কথা বলব — একজন দক্ষ রাখালের কি কি জানার ও করার সেই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। যে রাখাল তার মোষেদের যত্ন করে সে তার প্রতিটি মোষকে চেনে, সে জানে কোন মোষের কি লক্ষণ, কোন মোষের কি চরিত্র, কাকে কি রকম করে গা ধুইয়ে দিতে হয়, কেমন করে তাদের ক্ষতে প্রলেপ দিতে হয়, কেমন করে ধুনো দিয়ে মশা তাড়াতে হয়, কোন রাস্তা দিয়ে তাদের সাবধানে নিয়ে যেতে হয়, সে তাদের ভালবাসে, তাদের জন্য নদীর হাঁটুজল কোথায় তা দেখে সাবধানে নদীপার করায়, তাদের জন্য জল আর ঘাস জোগাড় করে, তাদের চারণভূমিরও যথাযথ যত্ন নেয়। বয়স্ক মোষ যাতে বয়সে তরুণ মোষেদের কাছে আদর্শ মোষ হয়ে উঠতে পারে তার দিকেও নজর রাখে।

“শোন ভিক্ষুরা, রাখাল যেমন তার মোষদের চেনে, ভিক্ষুও তেমনি আপন শরীরের প্রতিটি উপাদান চিনবেন। রাখাল যেমন প্রতিটি মোষের চরিত্র ও প্রবণতা সম্বন্ধে অবহিত থাকে, তেমনি ভিক্ষুও জানবেন শরীরের, মনের, বাক্যের কোনটি বিধেয়, কোনটি বিধেয় নয়। রাখাল যেমন তার পশুর শরীরকে চান করিয়ে পরিষ্কার করায়, তেমন ভিক্ষুও তাঁর শরীর ও মনকে বাসনা কামনা,ক্রোধ, ঘৃণা থেকে মুক্ত রেখে পরিষ্কার করে রাখবেন।”

এই কথা যখন বুদ্ধদেব বলছিলেন, তখন তাঁর চোখ স্বস্তির থেকে এতটুকু সরেনি । স্বস্তির বোধ হল যেন সে নিজে বুদ্ধদেবের এই বাণীর উৎস। তার মনে পড়ল, বহু বছর আগে, যখন সে বুদ্ধদেবের পাশে বসে থাকত, বুদ্ধদেব তাকে সে কি করে মোষের পরিচর্যা করে তা নিয়ে নানান প্রশ্ন করতেন। তা না হলে রাজপুত্র, যিনি রাজপ্রাসাদে বড় হয়েছেন, তিনি কি করে মোষ চরানো ও মোষ প্রতিপালন নিয়ে এত কিছু জানবেন?

বুদ্ধদেব সাধারণ ভাবেই কথা বলছিলেন। তবুও প্রতিটি বাক্য স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল:

“রাখাল বালক যেমন যেমন তার মোষের গায়ের ক্ষত হলে তাকে যত্ন করে, তেমনি ভিক্ষু তাঁর ষড়েন্দ্রিয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন — চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, শরীর, মন – যেন তারা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত না হয়। রাখাল বালক যেমন ধুনো জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরী করে যাতে তার মোষেদের গায়ে মশার কামড় না লাগে, ভিক্ষু তেমনি জাগ্রত হবার শিক্ষা গ্রহণ করে শরীর ও মনের অসুখের প্রতিকার করবেন। রাখাল বালক যেমন তার মোষেদের নিয়ে যাবার জন্য পথ খুঁজে ফেরে, ভিক্ষুও তেমনি যে পথে যশ, প্রতিষ্ঠা, কামোন্মত্ততা, শুঁড়িখানা, কামগৃহ, তাকে পরিহার করে চলবেন। রাখাল বালক যেমন তার মোষেদের ভালবাসে, ভিক্ষুও তেমনি ধ্যানের প্রশান্তিতে প্রীত হবেন। রাখাল বালক যেমন নদীর হাঁটুজল খুঁজে তার মোষেদের নদীপার করায়, ভিক্ষুও তেমনি এ জীবন তরণী চতুরার্য সত্য আশ্রয় করে পার হবেন। রাখাল বালক যেমন তার মোষেদের পুষ্টির জন্য তাজা তৃণ ও জলের ব্যবস্থা করে, ভিক্ষুও জানবেন যে তাঁর মনোময়তার চার স্তম্ভেই তাঁর মুক্তি। রাখাল বালক যেমন মোষেদের অতিরিক্ত চারণ না করিয়ে ক্ষেত্রের উর্বরতা রক্ষা করে, ভিক্ষুও তেমনি ভিক্ষাকালে সমাজের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণে যত্নবান হবেন। রাখাল বালক যেমন বয়োবৃদ্ধ মোষেদের অপেক্ষাকৃত যুবা মোষেদের কাছে আদর্শ রূপে তুলে ধরে, ভিক্ষুগণ তেমনি বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। হে ভিক্ষুগণ, যে ভিক্ষু এই একাদশ নিয়ম মেনে চলবেন, তিনি ক্রমাগত ছ’বছর ধরে পালন করলে অর্হতত্ব প্রাপ্ত হবেন।

স্বস্তি তন্ময় হয়ে শুনছিল। সে দশ বছর আগে বুদ্ধদেবকে যা যা বলেছিল, বুদ্ধদেব সব মনে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, পুঙ্খানুপুঙ্খ সেই সব কথা ভিক্ষুদের শিক্ষার জন্য বললেন। স্বস্তি যদিও বুঝতে পারছিল যে বুদ্ধদেব যা শিক্ষা দিচ্ছেন সবই ভিক্ষুদের জন্য, তার যেন স্পষ্ট ধারণা হল যে বুদ্ধদেব যেন তাকেই সরাসরি এইসব বলছেন। বুদ্ধদেবের থেকে সে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাতে পারল না।

এই সমস্ত কথা মানুষের হৃদয়ে ধারণ করতে হয়। অবশ্য এই যে সব কথা, “ষড়েন্দ্রিয়”, “চতুরার্য সত্য”, “মনোময়তার চার স্তম্ভ”, স্বস্তি এই সব কথা এর আগে শোনেনি, এসব কথার অর্থও তার কাছে স্পষ্ট নয়। সে মনে মনে ভাবল রাহুলের কাছ থেকে পরে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেবে, কারণ স্বস্তি জানে যে রাহুল বুদ্ধদেবের কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরতে পারে।

বুদ্ধদেব বলে চললেন। সমবেত সঙ্ঘে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, বুদ্ধদেব তাঁদের মোষেদের হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথের কথার বলছিলেন। পথে যদি কাঁটাঝোপ থাকে, তাতে মোষেদের গায়ে কাঁটা লেগে কেটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। রাখাল যদি ক্ষতের যত্ন কি করে নিতে হয় না জানে, তবে তার মোষেরা যে শুধু ক্ষতবিক্ষত হবে তাই নয়, মারাও যেতে পারে। অষ্টাঙ্গমার্গে পথ চলাও তেমনি। ভিক্ষু যদি যথার্থ পথ না অবলম্বন করেন, তিনিও শরীরে মনে ক্ষতবিক্ষত হবেন। কামনা বাসনা ক্রোধ তাঁর সেই ক্ষতে আরো বিষ ঢেলে দেবে, এতে তাঁর আলোকপ্রাপ্তির পথে বাধা পড়বে।

এই অবধি বলে বুদ্ধদেব একটু জিরিয়ে নিলেন। তারপর স্বস্তিকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে পাশে দাঁড়াতে বললেন। স্বস্তি হাত জোড় করে দাঁড়াল, বুদ্ধদেব স্মিত হেসে সভায় স্বস্তিকে উপস্থিত করলেন:

“আজ থেকে দশ বছর আগে, বোধিপ্রাপ্তির পূর্বে গয়ার কাছে একটি অরণ্যে আমি স্বস্তির দেখা পাই। তখন তার এগারো বছর বয়স। স্বস্তিই আমাকে দুহাতে কুশ এনে দিয়েছিল। আমি তার এনে দেওয়া কুশাসনে বোধিবৃক্ষের তলায় বসেছি। মোষ চারণ সম্বন্ধে আজ যা যা বললাম, আমি সব স্বস্তির কাছেই শিখেছি। তখন আমি জানতাম সে বেশ দক্ষ রাখাল বালক, আমি জানি যে সে একদিন ভাল ভিক্ষু হবে।”

সভাস্থ সকলের চোখ এখন স্বস্তির দিকে, সে বেশ টের পেল তার কান ঝাঁঝাঁ করছে, গাল লাল হয়ে আছে। সভাস্থ সকলে করজোড় করে স্বস্তিকে নত হয়ে প্রণাম করল, স্বস্তিও তাদের প্রতিনমস্কার করল। বুদ্ধদেব তখন তাঁর ধর্মকথা শেষ করলেন রাহুলকে সজ্ঞান শ্বাস প্রশ্বাসের ষোড়শ তত্ত্ব আবৃত্তি করতে বলে। রাহুল উঠে দাঁড়িয়ে করজোড়ে মধুর ঘন্টাধ্বনির মত গলায় আবৃত্তি করল। আবৃত্তি শেষ হল, রাহুল সভাস্থ সকলের প্রতি মাথা নত করল, বুদ্ধদেব তখন ধীরে ধীরে তাঁর কুটিরে ফিরে গেলেন। তিনি চলে যাবার পর অন্যান্য শ্রমণরাও যে যার আসন গুটিয়ে নিয়ে যার যার নিজের জায়গায় ফিরে গেলেন। কোন কোন শ্রমণ কুটিরে থাকতেন, অনেকে বাইরে বাঁশ গাছের তলায় শুতেন ও ধ্যান করতেন। খুব বৃষ্টিবাদলা হলে আসন তুলে নিয়ে কোন কুটিরে কি বক্তৃতা কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নিতেন।

স্বস্তির গুরু সারিপুত্ত স্বস্তিকে রাহুলের সঙ্গে বাইরে একটি জায়গা দিয়েছিলেন। রাহুল যখন ছোট ছিল তখন সে তার আরেকজন শিক্ষক-অভিভাবকের সঙ্গে একটি কুটিরে বসবাস করত, ইদানীং তার গাছের তলায় জায়গা হয়েছে। স্বস্তির রাহুলের সঙ্গ পছন্দই ছিল।

পরে সেদিন দুপুরে বসে ধ্যান করার পর, স্বস্তি হাঁটার ধ্যান অভ্যাস করল। একটি নিরিবিলি জায়গা বেছে হাঁটবে স্থির করল, কিন্তু কিছুতেই শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনঃসংযোগ করতে পারল না। কেবলই তার বাড়ির কথা, তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়তে লাগল, নৈরঞ্জনা নদীতে যাবার পথের কথা মনে হতে লাগল। সে যেন স্পষ্ট দেখতে পেল ছোট্ট ভীমা তার মাথা গুঁজে চোখের জল আড়াল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, রূপক একা একা রামভুলের মোষগুলোকে চরিয়ে বেড়াচ্ছে। যত সে মন থেকে এইসব ছবি মুছে ফেলতে চায়, ততই তারা প্লাবনের মতন ধেয়ে আসতে থাকে। এত লজ্জা লাগছিল যে অভ্যাস করতে পারছে না, মনে হচ্ছে যেন বুদ্ধদেব যে আস্থা তার ওপর রেখেছেন সে তার যোগ্য নয় একেবারেই। হাঁটার ধ্যানের পরে রাহুলের কাছে যাবে মনস্থ করল। ধর্মকথার সময় বুদ্ধদেব আরো কি কি সব বলেছিলেন সে সব সে বোঝে নি, রাহুল নিশ্চয়ই বুঝিয়ে দিতে পারবে। রাহুলের কথা মনে হতেই তার মন শান্ত হল, প্রতি পদক্ষেপে শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া তার কাছে সহজ হল।

স্বস্তি রাহুলের কাছে যাবার আগেই রাহুল নিজেই তার কাছে এসে হাজির। দুজনে একটি বাঁশ গাছের তলায় গিয়ে বসল। রাহুল বলল, “আজ দুপুরে একটু আগে আনন্দ কাকার সঙ্গে দেখা হল। জানতে চাইলেন তুমি কি করে বুদ্ধদেবের সঙ্গে প্রথম আলাপ করেছিলে।”

“আনন্দ কোন জন, রাহুল?”

“উনিও শাক্য বংশের একজন রাজপুত্র, ও বুদ্ধদেবের সম্পর্কে ভাই। সাত বছর আগে সন্ন্যাস নিয়েছেন। এখন তিনি একজন অন্যতম শিষ্য। বুদ্ধদেব তাঁকে খুব ভালোবাসেন। তিনি আমাদের প্রভুর স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখেন। আনন্দ কাল আমাদের তাঁর কুটিরে যেতে বলেছেন। আমিও বুদ্ধদেবের গয়ার অরণ্যের দিনগুলো সম্বন্ধে জানতে চাই।”

“বুদ্ধদেব তোমাকে বলেন নি?”

“বলেছেন, তবে খুব বিশদে কিছু কখনো বলেন নি। আমি জানি তোমার কাছে প্রচুর গল্প আছে।”

“আছে, তবে তেমন কিছু নয়। যা মনে আছে সব বলব। আচ্ছা রাহুল, আনন্দ কেমন মানুষ? আমার কেমন ভয় লাগছে।”

“আরে না না। তিনি অতি অমায়িক। আমি তাঁকে তোমার আর তোমার পরিবারের কথা বললাম, শুনে তিনি ভারি খুশি হলেন। বেশ, তবে কাল সকালে এই জায়গাতে মাধুকরীতে বেরোনর আগে দেখা হচ্ছে? এখন কাপড় ধুতে যাই না হলে কালকের আগে শুকোবে না।”

রাহুল উঠতে যাবে, স্বস্তি তার জামার হাতা ধরে টান দিল, “আরেকটু বস না? তোমায় কতগুলো বিষয় জিজ্ঞেস করার ছিল। আজকে সকালে বুদ্ধদেব ভিক্ষুদের পালন করার এগারোটা কি বিষয় বললেন, আমার সবকটা মনে নেই। আমাকে আরেকবার বলবে?”

“ও বাবা, আমি মোটে ন’টা মনে রাখতে পারি, তবে চিন্তার কিছু নেই, কাল আনন্দকে জিজ্ঞেস করলেই হবে।”

“তোমার মনে হয় আনন্দ কাকা সব মনে রাখতে পারবেন?”

“আলবৎ। এগারোর জায়গায় একশো এগারো হলেও আনন্দ কাকা মনে রাখতেন। তুমি আনন্দকে জান না তো, এখানে সকলে ওনার স্মৃতির প্রশংসা করেন। ভাবতে পারবে না। বুদ্ধদেব যা যা বলেন সব বলে দিতে পারেন, কিছু ভুল হয় না। এখানে বুদ্ধদেবের যত শিষ্য আছে, সবাই ওনাকে তাঁদের মধ্যে সব চেয়ে পণ্ডিত বলে মনে করেন। যদি কেউ কখনো কোন শিক্ষা ভুলে যান তো আনন্দের কাছে যান। মাঝে মাঝে এখানে বুদ্ধদেবের শিক্ষার পাঠচক্র বসে, আনন্দ সেখানে পড়ান।”

“তাহলে তো দারুণ ব্যাপার। আমরা না হয় কালকেই ওনাকে জিজ্ঞাসা করব। তোমাকে আরেকটা ব্যাপার জিজ্ঞাসা করার ছিল, হাঁটার ধ্যানের সময় মন শান্ত কর কি করে?”

“বলতে চাইছ হাঁটার ধ্যানের সময় অন্য চিন্তা মনে ভিড় করে এসেছে? বাড়ির কথা?”

স্বস্তি রাহুলের হাত চেপে ধরল, “তুমি কি করে জানলে? একদম! জানিনা কেন ভাইবোনের কথা এই সন্ধ্যেবেলা এত মনে হচ্ছে। বড্ড মন কেমন করছে, পথে মন বসাতে পারছি না। তোমার সামনে, বুদ্ধদেবের সামনে এত লজ্জা লাগে!”

রাহুল হাসল।

“লজ্জা পেও না। প্রথম প্রথম আমি যখন সঙ্ঘে এসেছিলাম, আমারও মার কথা ভেবে, দাদুর কথা ভেবে, মাসির কথা ভেবে খুব মন কেমন করত। কত রাত যে আমি বালিশে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে একা একা কেঁদেছি। মা, দাদু, মাসিরও আমার জন্য মন কেমন করত আমি জানি। তবে কিছুদিন পরে সব সয়ে গেল।”

রাহুল স্বস্তিকে উঠতে সাহায্য করল, তারপর আলিঙ্গন করল।

“তোমার ভাইবোনেরা খুব ভাল। তাদের জন্য মন কেমন তো করবেই। দেখ, তোমার ধীরে ধীরে এই নতুন জীবন সহ্য হয়ে যাবে। অনেক কাজ করার আছে আমাদের – অভ্যাস করার আছে, পড়াশোনা করার আছে। যাকগে শোন, সময় পেলে আমার পরিবারের কথাও বলব, কেমন?”

স্বস্তি নিজের দুহাতে রাহুলের হাতখানি চেপে ধরে মাথা নাড়ল। তারপর দুজনে দুদিকে চলে গেল, রাহুল কাপড় কাচতে গেল, আর স্বস্তি গেল একটা ঝাড়ু নিয়ে রাস্তা থেকে বাঁশপাতা সাফ করতে।

দ্বিতীয় অধ্যায় – মোষ চারণা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments