একেকটা চরিত্র রূপকথার মত হয়।যেমন বহ্নিদি।সব দিকেই অদ্ভুত ঔজ্বল্য।এরা কখনই ভিড়ে হারিয়ে যায় না।শিক্ষার অসাড়তা নিয়ে বহ্নিদিদের পার্টির একটা স্ট্যান্ড ছিল,যদিও কোনো বিকল্প শিক্ষার স্বচ্ছ পথ ঐ মুহূর্তে কিছু দেখা যায় নি,যেটা দেখা যাচ্ছিল সেটা হল বুর্জোয়া,ফিউডাল আর সংশোধনপন্হীর মত শব্দগুলোর অপপ্রয়োগ।সংঘমিত্রা ইকোনোমিকসের ছাত্রী,সোশিওলজি আর পল সায়েন্স জেনারেল পেপার-তাই এগুলো হজম করতে বেশ কষ্ট হত। এদের বেশীর ভাগ ছেলেমেয়েরই থিওরির জ্ঞান সীমাবদ্ধ, তার সমর্থনে ওদের পলিটব্যুরো নেতা হাফিজ ইসলাম বলেই দিয়েছেন,”তত্ত্বের কচকচিতে বিপ্লব দূরে দাঁড়িয়ে থাকে।”
বহ্নিদি কিন্তু ঐ টালমাটাল সময়ে দাঁড়িয়েও রাজনৈতিক কাজের বাইরের পুরো সময়টাই কাটাতো লাইব্রেরিতে।সারাক্ষণ হাতে ফিজিক্স কি মেকানিকসের বই বা সায়েন্স জার্নাল।প্র্যাকটিকাল ক্লাস কখনও কামাই করত না।থিওরির ক্লাসও না কামাই করার চেষ্টা ছিল।মাস্টার্স বা আরো উচ্চস্তরের বইয়ে অবাধ যাতায়াত ছিল।যতদিন সে প্রথাগত পড়াশোনার মধ্যে ছিল ক্লাসে টপারের জায়গা থেকে তাকে কেউ টলাতে পারেনি।বিদেশ থেকে সেমিনারে আসা অধ্যাপকরাও ওর প্রশ্ন এবং বিশ্লেষণে আশ্চর্য প্রতিভার ছাপ দেখে মুগ্ধ হতেন।
এরকম একজন বিজ্ঞানসাধিকার জায়গা কি কখনও এই নিহিলিস্ট আন্দোলনে হতে পারে?
বহ্নিদির সাথে সংঘমিত্রার পরিচিতি সেই স্কুলের দিনগুলো থেকে।পড়াশোনায় ভাল,বেশ ওস্তাদি করা স্বভাব,কুইজ,ডিবেটে এবং গানের কম্পিটিশনে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া- দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত সব গুণই বহ্নিদির স্বভাবে ছিল।বরং ইদানীং কিছু বিশ্রী অভ্যাস আয়ত্ত করেছে।তার মধ্যে একটা অবশ্যই বিড়ি খাওয়া।সিগারেট হলেও একটা কথা ছিল।আরেকটা জিনিস হচ্ছে বহ্নিদির হাঁটাচলা বা বসার ভঙ্গী – কোনোটাই ঠিক নারীসুলভ নয়।তাছাড়া মাত্রাতিরিক্ত লম্বা হওয়ায় সম্ভবত তার একটা প্রচ্ছন্ন গর্ব আছে,ফলে একটা বদভ্যাস রপ্ত করেছে,যখন তখন লোকের ঘাড় চেপে ধরা।
কলেজে আসার মাসখানেকের মধ্যেই বহ্নিদি একবার ঐ বিশ্রী পদ্ধতিতে (মানে পেছন থেকে ঘাড়টা খপাৎ করে ধরে)তাকে ডেকেছিল,”এই মেয়েটা,তুই আমাদের স্কুলে পড়তি না?”
সংঘমিত্রা একটু লোকজন এড়িয়ে চলতেই ভাল বাসে।ক্লাসেও কথাবার্তা খুব কমজনের মধ্যে সীমিত।বহ্নিদি কেন তার প্রতি আগ্রহ দেখায় সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারে নি।হয়ত দলে টানবার জন্য,বহ্নিদি খুব সমাদৃত সংগঠক।

একদিন সুদীপ বলে ছেলেটা সংঘমিত্রাকে ডেকেছিল,”এই যে শুনুন,আপনার কাছে টিফিনবক্স আছে?”
-”হ্যাঁ কেন?”সংঘমিত্রা অপ্রতিভ ভাবে বলেছিল।এরা প্রায় চার পাঁচ জন,মানে পুরো টিফিনটাই নিয়ে নেবে।ছেলেগুলো সুবিধার নয়,অনেকেই ওয়ান শটার নিয়ে ঘোরে।
-”আমাদের একজন কমরেড কাল রাত থেকে খাননি।ওঁকে খাওয়াতে হবে।সিঁড়ির দিকটায় যান।”
খুব বিরক্তি সত্ত্বেও ওদের কথা শুনতে হল।একবার পিছন ফিরে দেখল ছেলেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না,বহ্নিদি পিঠে একটা ব্যাগ নিয়ে আস্তে আস্তে তার পিছনে হেঁটে আসছে।
-”টিফিনবক্সটা দে।”সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে আদেশের গলায় বলেছিল বহ্নিদি।
একটু অনিচ্ছাসহকারে সংঘমিত্রা বের করে দিয়েছিল বাক্সটা।
তিনটে রুটি,আলুভাজা আর নুন গোলমরিচ দেওয়া হাঁসের ডিমসেদ্ধ।
বহ্নিদি খুব সন্তর্পণে দেড়টা রুটি আর একটু আলুভাজা তুলে নিয়ে বক্সটা ফিরিয়ে দিয়েছিল।বহ্নিদি খুব গোগ্রাসে খেতে পারে না,গলার নলী নাকি একটু ছোট,স্কুলে পড়ার সময়ই শুনেছিল সংঘমিত্রা।তাও ওর খাওয়া দেখে বোঝা যাচ্ছিল খুব খিদে পেয়েছে।চোখটা ছলছলে,মুখে লালচে ভাব।জ্বর আছে হয়ত।
খানিকটা বিরূপতা সত্ত্বেও মায়া হচ্ছিল সংঘমিত্রার।মেয়েটা বাড়ী ঘর ছেড়ে খুব ভাল অবস্হায় নিশ্চয়ই থাকে না।
-”ডিমটা খেতে পারো।”বলল সংঘমিত্রা।
-”নাহ ঠিক আছে।”কথাটা বলার সময় বহ্নিদির তুষারশুভ্র গাল একটু লালচে হয়ে উঠল।সংঘমিত্রার নরম গলা শুনে সে লজ্জা পেয়েছে।আসলে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা এই ধরনের উঞ্ছবৃত্তিতে ঠিক অভ্যস্ত হয় না তো।
-”খেয়ে নাও,আমার অসুবিধা হবে না।”নরম গলায় বলল সংঘমিত্রা।
-”ন্যূনতম প্রয়োজনের বেশী কিছু আমাদের নেওয়া বারণ আছে।যাই হোক থ্যাঙ্কস ফর দ্য ফুড।”
একটু চুপ করে থেকে বলল,”রাগ হচ্ছে আমার উপর?”
সংঘমিত্রা আপত্তি করতে যাচ্ছিল,বহ্নিদি থামিয়ে দিয়ে বলল,”হতেই পারে,অস্বাভাবিক কিছু নয়।কাল রাত থেকে আমি কিছু খাইনি।জ্বরও হয়েছে,দেখ।”
হাত বাড়িয়ে দিল বহ্নিদি।সংঘমিত্রা ওর হাত ধরে বুঝল বেশ জ্বর আছে।এরপর আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ উঠে চলে গেছিল বহ্নিদি।
সেদিন বেরোবার সময় দেখেছিল ও দেবাঞ্জনাদির কোলে শুয়ে রয়েছে,রক্তিমদা মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে।
এই দিনের পর থেকে সংঘমিত্রা রোজ ওর জন্য একটু বেশী করে টিফিন নিয়ে যেত।বহ্নিদি ব্যস্ত মানুষ, বড় নেত্রী,সব সময় খাবার সময়ও মিলত না।আবার রোজ ইউনিভার্সিটি আসতেও পারত না।তাও যদি আসে,একবেলার লাঞ্চটুকু হয়ে যায়।
প্রথম প্রথম বেশ লজ্জা পেত,নিতে চাইত না।আজকাল নিজেই এসে বলে,”খাওয়া।”
খাওয়ার সূত্রেই নৈকট্য তৈরী হচ্ছে?কে জানে?তবে আজকাল অনেক গল্প করে।সংঘমিত্রাকে ইকোনোমিকসের অঙ্ক টঙ্কও দেখিয়ে দেয় সময় পেলে।
সেদিন লাইব্রেরিতে বসে টেবিলে রাখা একটা খাতার উপর নিবিষ্ট মনে বহ্নিদি কোয়েজাই কনকেভ প্রেফারেন্সের জটিল একটা ডায়াগ্রাম আঁকছিল।বাঁ হাতে তুষারশুভ্র সরু আঙুলে ধরা জ্বলন্ত চার্মিনার,ঢলঢলে মুখের উপর এসে পড়া লালচে বাদামি চুলের গোছা- কি সুন্দর লাগছিল বহ্নিদিকে।সূর্য থেকে চুরি করে আনা একটুকরো স্নিগ্ধ আগুন,সংঘমিত্রা মুগ্ধ চোখে তাকিয়েছিল বহ্নিদির দিকে।একটা মানুষের মাথার চুল থেকে হাতের নখ পর্যন্ত প্রি রাফেলাইট পেন্টিং এর মত সুন্দর।গোলাপি আঁচলের নীচে সামান্য উন্মুক্ত হয়ে থাকা ওর কোমরের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল মাঝে মাঝে।এত সাদা,এত মসৃণ,এত ক্ষীণ যে হাতের বেড়ে ধরা যায়।
আচমকা মাথার উপর একটা চাঁটি এসে পড়েছিল।সংঘমিত্রা চমকে উঠে তাকাতেই বহ্নিদি মৃদু ধমক দিয়েছিল,”এই পড়ায় মন দিচ্ছিস না কেন?”
-”না মানে..”স্বাভাবিক ভাবেই একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল।
-”এটা দেখছিস?”বহ্নিদি নিজের আঁচলে ঢাকা পড়া আগ্নেয়াস্ত্রটা খুলে এনেছিল কোমর থেকে।
তারপর গর্বিত মুখে, যেন নিজের সাথেই কথা বলছে এভাবে বলেছিল,”ছ ঘড়ার কোল্ট,ক্যাপ্টেন র‍্যাঙ্কের আর্মি অফিসারদের কাছে থাকে।”
এটা অন্য ছেলেদের কাছে যেগুলো থাকে তার থেকে একদম আলাদা দেখতে।ওগুলো পাতি পাইপগান,বহ্নিদি বলেছিল।
-”তুমি এটা কোথায় পেলে?”
-”এটা আমি বানিয়েছি,নিজের হাতে।”বহ্নিদি সন্তানস্নেহে ওটার গায়ে হাত বুলিয়ে বলেছিল।তারপর একটা মেয়েকে ওদিকে আসতে দেখে দ্রুত আবার যথাস্হানে রেখে দিয়েছিল বস্তুটা।
বহ্নিদির কথায় সংঘমিত্রা একটুও অবাক হয়নি।এক্সপ্লোসিভ আর ফায়ার আর্মসের ব্যাপারে বহ্নিদি স্পেশালিষ্ট। ওকে পার্টির মধ্যে কমরেড ই এস জি মানে এক্সপ্লোসিভ সেনগুপ্ত বলে ডাকা হয়।
বহ্নিদির মধ্যে পরস্পর বিরোধী কয়েকটা বৈশিষ্ট্য দেখেছে সংঘমিত্রা।নিজের প্রতিভা নিয়ে বহ্নিদির অহংকারটা প্রায় আত্মরতির পর্যায়ে ছিল।অথচ এই মেয়েটাই কি সহজ ভাবে যে কোনো শ্রেণীর লোকের সাথে মিশে যেত।ইউনিভার্সিটির পাশের ফুটপাথের এক বুড়ি আর একটা ফকিরের সাথে দারুণ ভাব ছিল বহ্নিদির।ফকিরটা রাতে থাকত না।বুড়িটার ওখানেই স্হায়ী আস্তানা।ওকে চাঁদা তুলে দুটো কম্বল আর টারপলিন কিনে দিয়েছিল বহ্নিদি।ওর রান্না করা খাবার ঐ নোংরার মধ্যে বসে আনন্দ করে খেত।আরো এমন কিছু কাজ করত যা দেখলে অতি বড় বিপ্লবী কমরেডেরও গা গুলিয়ে উঠবে।যেমন যে ধর্ষিতা পাগলীটা সর্বাঙ্গে ঘা নিয়ে এসে উঠেছিল,তার সুশ্রুষা করা।বা একটা কুৎসিত কানা মেনিবেড়ালের ঘেয়ো পায়ে ড্রেসিং করা।বহ্নিদির বিরোধী পার্টির ছেলেরা ঠাট্টা করে বলত বহ্নি ডিক্লাসড হতে গিয়ে ডিকালচারড হয়ে গেছে।
কিন্তু এর ভাল দিকও ছিল।বাড়ী ছেড়ে আসার পর বহ্নিদি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের মধ্যেই চাদর পেতে রাতে ঘুমোতে শুরু করেছিল।বেশ কিছুদিনের জন্য ওখানেই আস্তানা গেড়ে থাকার পর একদিন রাতে ওর খোঁজে পুলিশের খোঁচড় এসে ফুটপাথে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল।সেদিন ঐ বুড়িটা বহ্নিদিকে কায়দা করে বার করে দেয়।তারপর ও বরানগরের শেল্টারে চলে গিয়েছিল।
ঐ সময়টা সংঘমিত্রা একটা অন্য বিষয় নিয়ে খুব বিপর্যস্ত অবস্হায় ছিল। লোকাল থানার মেজোবাবু শ্যামল ভৌমিক রোজ সংঘমিত্রাকে জ্বালাতন করত।প্রেমের প্রস্তাব,সেটা ক্রমশ উৎপাতে পরিণত হচ্ছিল।বাবাকে জানালে বাবার সোজা উত্তর ছিল,”এত লোক থাকতে তোমাকেই কেন বিরক্ত করে?”
তারপর অবশ্য বাবা কয়েকদিন ইউনিভার্সিটি পৌঁছে দিয়ে গেছিল।কিন্তু তারপর বাবার কলেজে ঐ সময় নতুন রুটিনে ক্লাস অ্যালোটেড হয়ে যাওয়ায় সংঘমিত্রাকে একাই যাতায়াত করতে হচ্ছিল।আবার পুরোনো উৎপাত।সংঘমিত্রা সমস্যাটা বহ্নিদিকে একদিন জানিয়েছিল।কোনো সমাধানের জন্য নয়,এমনি,একটু হালকা হবার জন্য।ঐ সময় ইন্টিমেট কনভার্সেশনের জন্য আর কেউ তো কাছে ছিল না তেমন।
বহ্নিদি চলে যাবার মাস খানেক পর আবার তাকে ক্যাম্পাসে দেখেছিল সংঘমিত্রা।একটা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিল।বহ্নিদি ভাল স্পিকার,বেশ কিছু ছেলেমেয়েকে জড়ো করেছিল।বলা হয়ে যাবার পর কয়েকটা চামচা পরিবৃত হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল বহ্নিদি।হঠাৎ সংঘমিত্রাকে দেখতে পেয়েছিল সে।
-”এই এদিকে শোন।”চামচাদের থেকে একটু এগিয়ে এসে সংঘমিত্রার কাঁধে হাত রেখেছিল বহ্নিদি।তারপর তাকে একটা কোণের দিকে নিয়ে গিয়ে চাপা গলায় বলেছিল,”এসআইটা তোকে বিরক্ত করত না?”
-”শ্যামল ভৌমিক?”
-”আর করবে না।”
-”মানে?”
-”এতটা রিস্ক শুধু তোর জন্য নিয়েছি।নেতারা ডেসপেরেট হবার জন্য আমায় ঝাড় দিচ্ছেন। আমার কথাটা মাথায় রাখিস।”
বলে বহ্নিদি ঐ ছেলেমেয়েগুলোর সাথে দ্রুত পায়ে হেঁটে বেরিয়ে গেছিল।
তারপর থেকেই যত ঝামেলা শুরু হয়েছে।বাড়ীতে আসতেই বাবা খবরটা দিয়েছিল।শ্যামল বাবুকে নতুন লালপার্টির সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য এক্সপ্লোসিভ সেনগুপ্ত নাকি থানায় ঢুকে গুলি করে মেরেছে।
তার কিছুদিনের মধ্যেই ইউনিভার্সিটিতে পুলিশ গিয়ে সংঘমিত্রাকে বহ্নিদির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে।বোধহয় সংঘমিত্রা পার্টির মেম্বারশিপ না নেওয়ায় বেশীদূর এগোয়নি।
ভাগ্য ভাল ব্যাপারটা বাড়ী অব্দি যায় নি।বাবা এখনও কিছু জানে না।এর মধ্যে ইউনিভার্সিটিতে পুরোনো পার্টি মানে মাকুদের ছাত্রসংসদের ছেলেরা সংঘমিত্রাকে পরোক্ষ হুমকি দিয়ে গেছে।বহ্নিদির সাথে তার সখ্যটা কেউই ভাল চোখে দেখেনি।কিন্তু এটা কে বুঝবে যে পার্টি বা রাজনীতি নিয়ে ওদের মধ্যে সাধারণত আলোচনা হত না।সত্যি বলতে হলেও সেটা বহ্নিদি এতটাই সূক্ষ্ম পর্যায়ে শুরু করত যে বিষয়টা রাজনীতির দিকে বাঁক নিতে চলেছে বোঝা যেত না।অনেক বিষয় নিয়েই কথা হত,খুব ইন্টিমেট পর্যায়েও হত।এটাই হয়ত ভাল সংগঠকের বৈশিষ্ট্য।বহ্নিদি খুব ধৈর্যবান শ্রোতা ছিল,কথোপকথনের সময় সবচেয়ে ইন্ট্রোভার্ট ছেলে বা মেয়েটাকেও বাচাল করে তুলতে পারত।বহ্নিদি, কেউ খুব বাজে না বকলে সাধারণত কারোর কথার মধ্যে দাবড়ে ঢুকে নিজের বক্তব্য বলতে শুরু করত না। এই বহ্নিদির প্রতি আর পাঁচটা মেয়ের মত সংঘমিত্রাও মুগ্ধ ছিল,কিছুটা হয়ত আইডলাইজও করত।বহ্নিদি কোনোদিনই ‘ঝাণ্ডাই ডাণ্ডা’ গোছের সংগঠক ছিল না যাকে দেখলে মাথা ধরা এড়াতে লোকে পালিয়ে যাবে।
সে হঠাৎ ধূমকেতুর মত জানলা দিয়ে রাত এগারোটায় বাড়ী ঢুকে আসবে ভাবতেও পারেনি সংঘমিত্রা।তাছাড়া ওর বাড়ীর ঠিকানা বহ্নিদির জানার কথা নয়।

(ক্রমশ)

দ্রোহকাল ৩
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments