কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ তখন চলছে। যুযুধান দুপক্ষই রাতের খাওয়াদাওয়া সেরে বিছানায় যাওয়ার তোড়জোড় করছে। এমন সময়ে কৌরবপক্ষের দূত এসে হাজির হল পাণ্ডবশিবিরে। যুধিষ্ঠির নয়, সে এসেছে দ্রৌপদীর কাছে। ধৃতরাষ্ট্র জরুরী তলব করেছেন দ্রৌপদীকে। তখনকার দিনে সূর্য ডুবলেই যুদ্ধ থেমে যেত। তারপর এক শিবির থেকে অন্য শিবিরে যাতায়াতে কোন বাধা ছিল না। তবু দ্রৌপদী খুব ডাকাবুকো মহিলা না হলে এত রাতে জনমানবহীন কুরুক্ষেত্রের মাঠের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সাহস দেখাতেন না। অবশ্য কাকেই বা সঙ্গে নেবেন। যুধিষ্ঠির লুডো খেলায় ব্যস্ত। অর্জুনের ঘরে টোকা মারাটা ঠিক হবে না, রোজই যুদ্ধের পর নতুন নতুন সঙ্গিনীকে নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন। ভীমকে ডাকলেই যাবেন। কিন্তু কৃষ্ণ ওঁকে গুড়জলের নেশা ধরিয়ে দিয়েছেন, সবসময় টং হয়ে থাকেন। ধৃতরাষ্ট্রের কোন কথায় খেপে গিয়ে হয়ত গদার এক বাড়িই বসিয়ে দিলেন। সে আরেক ঝঞ্ঝাট। বাকি রইল নকুল আর সহদেব। ওদের তো স্বামীর চাইতে ছোট ভাই বলেই মনে হয়। মরুকগে যাক, সঙ্গে নিয়েই বা কি হবে, হস্তিনাপুরের রাজসভায় দুঃশাসন যখন কাপড় খুলছিল  তখন এরা কে কি করেছিল! তখন তো একজনই পাশে দাঁড়িয়েছিল! দ্রৌপদী একবার ভেবেছিলেন সেই বন্ধু কৃষ্ণকেই ডাকবেন। কিন্তু বেচারা সারাদিন অর্জুনের রথ চালিয়ে ক্লান্ত। তাছাড়া কদিন ধরে কৃষ্ণকে কেমন যেন অন্যরকম লাগছে। ঐ গুড়জলের নেশাটাই যত নষ্টের গোড়া! 

দ্রৌপদী অবশ্য এত কথা ভাবতে ভাবতে একাই বেরিয়ে পড়েছিলেন আর গুটি গুটি পায়ে ধৃতরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। আসলে একা যাওয়ার চেয়েও ধৃতরাষ্ট্র কি বলবেন সেটা নিয়েই দ্রৌপদী একটু চিন্তিত ছিলেন। যাই হোক ডেকেছেন যখন যেতেই হবে। ধৃতরাষ্ট্রের ঘরে ঢুকে দেখলেন বিদুরও রয়েছেন। দুজনেই সম্পর্কে দ্রৌপদীর শ্বশুর। তাই নিতমমত মাথায় ঘোমটা দেওয়া উচিৎ। কিন্তু ধৃতরাষ্ট্র দেখতে পান না আর দাসীপুত্র বিদুরকে উনি ধর্তব্যের মধ্যে আনেন না। তাই ঘোমটা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না। তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা বিশুদ্ধ সংস্কৃততেই হয়েছিল। কিন্তু পাপিষ্ঠ অ্যান্টি ন্যাশনালরা সংস্কৃত বুঝবে না বলে পুরোটা বাংলায় অনুবাদ করে দিলাম।

ধৃতরাষ্ট্রঃ এসো বৌমা, বস। পায়ের আওয়াজ থেকে মনে হচ্ছে তুমি একাই এসেছ?

দ্রৌপদীঃ হ্যা জ্যাঠামশাই। সবাই তো যুদ্ধ করে ক্লান্ত। তাই একাই এলাম। 

ধৃতরাষ্ট্রঃ আচ্ছা। তোমায় ডেকেছিলাম যেজন্য বলি। তুমি না কি গতকাল রাত্রে মথুরায় গিয়েছিলে? কি ব্যাপার বলত? তোমার পঞ্চস্বামী যখন যুদ্ধে ব্যস্ত তুমি তখন মথুরায় কি করছিলে? কিছু মনে কোরো না বৌমা, পাণ্ডু নেই। আমিই তো এখন তোমাদের অবিভাবক, সে যতই আমার ছেলেদের সঙ্গে যুদ্ধ কর না কেন! হায় রে আমার ভাইটা অকালেই চলে গেল গো!

এই বলেই ধৃতরাষ্ট্রের চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। ভাগ্যিস বিদুর একটা বড় দেখে রুমাল এগিয়ে দিলেন নয়ত ধৃতরাষ্ট্রের দামী পোষাক ভিজে যেত।

দ্রৌপদীঃ না জ্যাঠামশাই মনে করব কেন। আচ্ছা একটা কথা বলুন তো আমি যে মথুরায় গিয়েছিলাম তা নিশ্চয়ই সঞ্জয়ের কাছে শুনেছেন। তাহলে ওখানে কি হয়েছিল তাও তো আপনি জানেন?

ধৃতরাষ্ট্রঃ না তা জানিনা। কি জানো বৌমা, সঞ্জয় মথুরায় অনেক গুলো স্পাই ক্যামেরা বসিয়েছিল, কিন্তু পাজি যাদবগুলো কি সব কলকাঠি নেড়ে পুরো নেটওয়ার্ক অকেজো করে দিয়েছে। সঞ্জয় খালি এটুকু জানিয়েছে তুমি এক দঙ্গল নোংরা বাঁদরকে নিয়ে মথুরার দিকে গেছ। ব্যাপারটা একটু খুলে বল তো দেখি?

দ্রৌপদীঃ আচ্ছা বলি শুনুন। আপনি বোধহয় শোনেননি রামচন্দ্র সম্প্রতি টাইম মেশিনে চেপে দ্বাপর যুগে এসে পৌঁছেছেন। সঙ্গে তাঁর অনুগত বাঁদররাও এসেছে। তা বাঁদরদের গতকাল হঠাৎ বায়োস্কোপ দেখার শখ হয়। রামচন্দ্র জড়িবুটি নিয়ে ব্যাবসা খুলবেন, সেই নিয়ে ব্যস্ত। তাই জাম্বুবান সবাই কে সঙ্গে করে বায়োস্কোপ দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল।

এই সময় বিদুর ইন্টারাপ্ট করলেন।
বিদুরঃ আচ্ছা মা একটা কথা বলো তো। কি এমন বায়োস্কোপ যা দেখার জন্য বাঁদররা মথুরা ছুটে গেছিল? মথুরা কেন অন্য কোথাও কি দেখা যেত না?

দ্রৌপদীঃ কেন যে মথুরায় গেল তা আমিও ঠিক বুঝিনি। তবে বায়োস্কোপটার নাম ছিল "বুদ্ধ ইন এ ট্রাফিক জ্যাম" …

ধৃতরাষ্ট্রঃ (নাক কুঁচকে) বুদ্ধ!! সেই কুলাঙ্গারটা!!

দ্রৌপদীঃ কুলাঙ্গার??

ধৃতরাষ্ট্রঃ কুলাঙ্গারই তো। যে রাজসিংহাসন ছেড়ে তপস্যা করতে যায় সে কুলাঙ্গার ছাড়া কি? অথচ এমনই গ্রহের ফের ও ব্যাটাকেও এখন অবতার মানতে হচ্ছে! যাকগে, তা বুদ্ধ আবার কোথায় ট্রাফিক জ্যামে পড়ল?

বিদুরঃ হুমম এই বায়োস্কোপটার কথা শুনেছি। বুদ্ধদেব একবার ঘোড়ায় চেপে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন জঙ্গলের রাক্ষসদের একটা শোভাযাত্রা চলছিল। তাতেই না কি বুদ্ধদেবের রাস্তায় জ্যাম হয়ে গেছিল। রাক্ষসরা খুবই আপত্তি করছে এই বায়োস্কোপটা নিয়ে। ওদের নাকি খারাপ করে দেখানো হয়েছে!    

দ্রৌপদীঃ হ্যা জেঠু। এই রাক্ষসদের একটা দল এখন মথুরায় ঘাঁটি গেড়েছে। শুধু রাক্ষসরা নয়, মা দুর্গা যে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন তার ভক্ত অসুররাও না কি মথুরায় লুকিয়ে আছে। যাদবদের সঙ্গে মিলে ওরা দুর্গাপুজোর সময় মহিষাসুর স্মরণ উৎসব পালন করে!

ধৃতরাষ্ট্রঃ কি বলছ গো বৌমা! বিদুর, এসিটা কাজ করছে তো? এত গরম হচ্ছে কেন বলত!

দ্রৌপদীঃ যা বলছিলাম জ্যাঠামশাই, বাঁদরদের দেখে যাদব, রাক্ষস আর অসুররা চটে যায়। ওরা জাম্বুবানকে কালো পতাকাও দেখায়। তারপর ওরা আবার অন্য একটা বায়োস্কোপ চালায়। সেটার নাম "কিস্কিন্ধা বাকি হ্যায়"। ঐ বায়োস্কোপটায় শ্রীরামচন্দ্রকে কুৎসিৎভাবে অবমাননা করা হয়েছিল।

বিদুরঃ এটাও আমি দেখেছি। বালী আর সুগ্রীবের যুদ্ধের সময় রামচন্দ্র কিভাবে বালীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিলেন সেই নিয়েই ছবি।

ধৃতরাষ্ট্রঃ বিদুর, তোমার কি আর কাজ নেই না কি বলত? এইসব বাজে বায়োস্কোপ দেখে বেড়াচ্ছ? প্রেম আর যুদ্ধে অন্যায় বলে কিছু হয় না জানবে। আর যা-ই হোক না কেন আমাদের শ্রীরামচন্দ্রকে এভাবে অপমান করান ছি!

দ্রৌপদীঃ শুধু কি তাই যাদবগুলো বলছিল, বুদ্ধদেবের ঘোড়া শক্তিমানকে না কি রামচন্দ্রের ভাই লক্ষণই তীর ছুঁড়ে মেরে ফেলেছে। এতেই বাঁদরদের রামানুভূতি ভীষণ ভাবে আহত হয়। রামচন্দ্রের মর্যাদা রক্ষার্থে ওরা যাদবদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে। 

বিদুরঃ শুনছি না কি যাদবরা মথুরার কোতোয়ালিতে নালিশ করেছে, বাঁদররা ওদের মেয়েদের শ্লীলতাহানি করেছে?

দ্রৌপদীঃ আপনি তো যাদব মেয়েগুলোর মুখের ভাষা শোনেন নি জেঠু, তাই ওকথা বলছেন। ঐ বেহায়া মেয়েগুলোর শ্লীলতা আছে না কি যেঁ হানি করবে? তাছাড়া বাঁদররা রামচন্দ্রের সঙ্গে খুব টাইম মেশিনে চড়ে তো! কলিযুগে সিনেমা দেখতে গিয়ে অন্ধকার হলের মধ্যে ওরা খুব মেয়েদের টেপাটিপি করে। তাই একটু অভ্যেস হয়ে গেছে। জ্যাঠামশাই আপনিই বলুন, বুক টেপা মানেই কি শ্লীলতাহানি?

দ্রৌপদীর কথা শুনে দুই বৃদ্ধই অস্বস্তিতে পরে গেলেন। ধৃতরাষ্ট্রের চিন্তা নেই, চোখে দেখতে পান না। বিদুর মাটির দিকে দেখলেন। গান্ধারী আড়াল থেকে সব শুনছিলেন। এসব শুনেই চোখের ফেট্টিটা খুলে কানে বেঁধে নিলেন। দ্রৌপদীর অবশ্য ভাবান্তর নেই। তিনি বলে গেলেন …

দ্রৌপদীঃ আর এতেই শয়তান যাদবগুলো, সঙ্গে রাক্ষস আর অসুরগুলোও ছিলো, তেড়ে এসে চারটে বাঁদরকে আটকে রাখে। বাকিরা পালিয়ে আসতে পেরেছিল।

ধৃতরাষ্ট্রঃ তুমি তখন কোথায় ছিলে? 

দ্রৌপদীঃ আমি তো পাণ্ডবশিবিরেই ছিলাম। নকুল … না না সহদেবের সঙ্গে ছিলাম …

ধৃতরাষ্ট্রঃ আহ!! কার সঙ্গে ছিলে জানতে চাইনি। তারপর কি হল বল?

দ্রৌপদীঃ সেটাই তো বলছি। জাম্বুবান আমায় বার্তা পাঠালেন। পাণ্ডব-কৌরবরা তো যুদ্ধে ব্যস্ত, তাই আমাকেই ডাকলেন। আমি বাঁদরদের নিয়ে মথুরার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান শুরু করলাম। ব্যাটারা দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। অবশ্য ঐ টূকু পাঁচিল টপকে যাওয়া বাঁদরদের কাছে কোন ব্যাপার ছিল না কি?! কিন্তু ওরা ভয়েই আর ভেতরে ঢোকেনি। শেষ পর্যন্ত ঐ চার বাঁদরকে যাদবরা কোতোয়ালির পেয়েদাদের হাতে তুলে দেয়। পেয়াদারা ওদের নিয়ে বাইরে আসতেই আমরা রামচন্দ্রের নাম করে ওদের ছাড়িয়ে নিই। 

বিদুরঃ কিন্তু তুমি এত বড় এক রাজবংশের বধূ হয়ে কয়েকটা লম্পট বাঁদরের জন্য লড়তে গেলে? এটা কি তোমার সম্মানের উপযুক্ত কাজ হল?

দ্রৌপদীঃ সম্মান!! সেবার যখন রাজসভায় আমার কাপড় খোলা হচ্ছিল আপনারা কোথায় ছিলেন? তাছাড়া মা দুর্গাও তো একই কাজ করেছেন। সেবার বাবা ভোলানাথের ভূতগুলো গুণ্ডামি করছিল বলে ভবানীপুর কোতোয়ালিতে ধরে রাখা হয়েছিল। মা দুর্গা নিজে কোতোয়ালিতে গিয়ে ওদের ছাড়িয়ে আনেন নি? 

ধৃতরাষ্ট্রঃ মা দুর্গার ঐ স্যাঙাৎ গুলোর কথা আর বোলো না। নারদ ওদের কাঞ্চণমূল্য ঘুষ দিয়ে তার আবার ছবি তুলে এনেছে। আর ইন্দ্র অমনি একটা নীতি কমিটি না কি বানিয়ে আমায় সভাপতি করে দিয়েছে। আমি তো চোখেই দেখতে পাইনা, কি যে করব। বুড়ো বয়সে হয়েছে যত জ্বালা!

বিদুরঃ সে না হয় হল। ঐ চারটে বাঁদরের কি অবস্থা? মারধোর খায়নি তো? 

দ্রৌপদীঃ হতচ্ছাড়া যাদব মেয়েগুলো কয়েকটা চড় থাপ্পর মেরেছে। কিন্তু তার চেয়েও ওদের মানসিক আঘাতটা বেশী। বদমাসগুলো ওদেরকে বসিয়ে রেখে শ্রীরামচন্দ্রের নিন্দামন্দ করেছে। ওদের হেঁশেলে না কি মা ভগবতীকে কেটে রান্না করা হচ্ছিল, ওদেরকে অফারও করেছিল।

ধৃতরাষ্ট্রঃ ছি ছি এ কি শুনছি! এসব শোনার চেয়ে তো আত্মহত্যা করা ভালো ছিল! শ্রীরামচন্দ্রের ভুবন বিখ্যাত বাঁদরসেনা, তারাও মথুরার যাদবদের কাছে মার খেয়ে পালিয়ে এল! আবার শুনছি অসুর আর রাক্ষসরাও আছে! আমাদের কি হবে? হায় হায়!!

বিদুরঃ এখনই এত ব্যাকুল হবেন না মহারাজ। আরো বাকি আছে। একলব্যকে মনে আছে তো?

ধৃতরাষ্ট্রঃ সেই নিষাদটা তো? গুরুজি যার আঙুল কেটে নিয়েছিলেন? সে আবার কি গোলমাল করল?

বিদুরঃ গোলমাল করছিল বলেই অর্জুন ওর গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে।

ধৃতরাষ্ট্রঃ বেশ করেছে, আপদ গেছে।

বিদুরঃ না মহারাজ। আপদ যায়নি। ঐ একলব্যের সাঙ্গোপাঙ্গোরাও আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আর এসবের পালের গোদা কে জানেন?

ধৃতরাষ্ট্রঃ কে?

বিদুরঃ কানহাইয়া।

দ্রৌপদীঃ কানহাইয়া?!! তার কি হয়েছে? সে তো অর্জুনের রথ চালাচ্ছে?

ধৃতরাষ্ট্রঃ সে কি? মথুরার যাদবদের সঙ্গে কানহাইয়ার ঝামেলা চলছে না? 

বিদুরঃ সেসব মিটে গেছে। এখন যাদবরা কানহাইয়ার নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে। ভারতবর্ষের যত নিচ, অনার্য জাতি আছে সবাইকে নিয়ে ঘোঁট পাকাচ্ছে কানহাইয়া। সঙ্গে জুটেছে কিছু যবন আর ম্লেচ্ছও। মাঝখানে দুর্যোধন ওকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। পাণ্ডবরা সব জানে। ওদেরও রাগ আছে কানহাইয়ার ওপর। দ্রৌপদীর সঙ্গে ওর এত বন্ধুত্ব কেউই ওরা মেনে নিতে পারেনি। এখন কানহাইয়া আনশন করছে। শরীরের অবস্থা খারাপ, কিন্তু তেজ কমেনি। দ্রৌপদী যাতে বুঝতে না পারে সেজন্যে কেষ্ট নামে একটা লোককে কানহাইয়া সাজিয়ে অর্জুনের সারথি করে রেখেছে। লোকটার অক্সিজেন কম, ঐ জন্যে সবসময় গুড়জলের সাপ্লাই রাখতে হয়। 

"হায় কানহাইয়া" বলে মূর্ছা গেলেন দ্রৌপদী। আর ধৃতরাষ্ট্র বিলাপ শুরু করলেন।  
ধৃতরাষ্ট্রঃ হায় রে, এ কি হল গো বিদুর! আমরা হস্তিনাপুরের চন্দ্রবংশীয় রাজা, বিচিত্রবীর্যের বংশধর, আমাদের এ কি দুর্গতি ঘনিয়ে এল। ভাই পাণ্ডু রে, তুই তো ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি। যত জ্বালা এখন আমার।

বিদুর তাঁর রুমালটা এগিয়ে দিয়ে বললেন,
বিদুরঃ মহারাজ এখন কাঁদার সময় নয়। এক্ষুনি যুধিষ্ঠির আর দুর্যোধনকে ডাকুন। এখন আর নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার সময় নেই। কানহাইয়া অ্যান্ড কোম্পানি কৌরব পাণ্ডব দুপক্ষের কাছেই বিপদ। সনাতন ভারতের ঐতিহ্য বজায় রাখতে সবাইকে এক হয়ে অভিযানে নামতে হবে। এর নাম হবে অপারেশন গ্রীণ হান্ট।

এই পর্যন্ত লেখার পর গনেশের হাত থেকে কলমটা পড়ে গেল। প্লাস্টিক সার্জারি করে লাগানো হাতির মুণ্ডুটা মাঝে মধ্যে আলগা হয়ে যায়। মুণ্ডুটাকে ঠিক করে নিয়ে তিনি ব্যাসদেবকে বললেন, "হাত থেকে কলম পড়ে যাওয়া অশুভ লক্ষণ। এই অংশটা মহাভারত থেকে বাদ দিতে হবে।" এই বলে আগের দুটো পাতা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিলেন। সেটা কিভাবে আমার হাতে এল সে অবশ্য অন্য গল্প। কিন্তু এজন্যই ব্যাসদেবের মহাভারতে এই অংশটা পাবেন না।

দ্রৌপদী ধৃতরাষ্ট্র সংবাদ
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments