ধৃতরাষ্ট্রের আসল নাম ধৃতরাষ্ট্র নয়। তার বাড়ির লোকেদের বার বার বলা সত্বেও, ছানি না কাটানোর অপরাধে নাম বদলের এই অপরবাস্তবীয় শাস্তিটুকু দিয়ে, জনৈক লেখক শুধুমাত্র নিজের নৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন! 

 

কাটাছেঁড়ায় তার বিষম ভয়। 

 

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে অমিতাভ বলেছিলেন নায়ক না হলে ইলাহাবাদে দুধ বেচতেন। আমাদের ধৃতরাষ্ট্র হিরো কি নিদেনপক্ষে ভিলেন না হতে পারার মনোকষ্টেই কি ভাগলপুর থেকে এসে দুধ বিক্রী করা আরম্ভ করে দিয়েছিল – সে কথা অবশ্য আজও জানা যায়নি। 

 

শহর থেকে খাটাল উঠিয়ে দেওয়ার পরে মুড়িচানাচুর নিয়ে বসতো। তারপর একেবারে বসেই পড়ল – বয়সের ভারে। সেও অনেক দিন আগের কথা, বুদ্ধ যখন দ্বিতীয় বার হাসলেন পোখরানে, সেই দশকের গোড়ার কথা।

 

গত কয়েক বছরের মতো এবারও বইমেলায় যাইনি। শীতের দেখা নাইরে শীতের দেখা নাই। শীতের দেখা নাইরে শীতের দেখা নাই। 

 

ধৃতরাষ্ট্রের পাড়ায় যেতে গেলে অশ্বমেধের ঘোড়াকে পেছনে ফেলে আসতে হয়।  কিনু গোয়ালার সেই গলি দিয়ে অল্টিস ঢোকে না। 

 

খোকাবাবু! 

 

আমার গলার স্বর শুনে তার মুখটা হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। 

 

তার বউ হাতের জিনিসটা মাটিতে নামিয়ে রেখে আমার জন্যে ছাতুর শরবত আনতে যায়। 

 

এতোক্ষণে ভালো করে দেখি। একটা কাঠের চিরুণী, বেশ কাজটাজ করা। 

 

আমার মুখ থেকে চিরুণীর প্রশংসা শুনে ধৃতরাষ্ট্র বলে কাল পরব আছে না।  ছেলের মুখ থেকে সেই কথা শুনে ওর বউ তার জন্যে একটা ভালো কিছু নিয়ে আসতে বলেছিল। 

 

কাল আবার কিসের পুজো হে? ছটের তো এখনো অনেক দেরী। 

 

বলতে বলতে খেয়াল হয় আজকের তারিখটা তেরো আর মাসটা ফেব্রুয়ারী।

 

ধৃতরাষ্ট্রের বউ তার সাদা চুলগুলোকে যত্ন করে আঁচড়ে দেয় আমার সামনেই। আমার বিস্ময় দেখে চিরুণীটা নিজে নিজেই হেসে ওঠে।

 

( প্রথম প্রকাশ : 2010 )

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ধৃতরাষ্ট্রের চিরুণী
  • 4.50 / 5 5
2 votes, 4.50 avg. rating (87% score)

Comments

comments